যেভাবে নির্মাণ হয়,আলো বা আঁধার, গান,অথবা দোসর যাপন...

তমাল রায়



ধর সে আলো বা আঁধারে বড় একা অথচ, নৈঃশব্দ্য যখন খুঁজে নিচ্ছে আশ্রয়, সে বড় বেদনায় একক সংঘাতে নিরুচ্চার ঘোষণায় জানাচ্ছে তার স্বাভিমান সঙ্গীত। যে কোনো শিল্পই আদতে একক। উপত্যকা বল বা পাহাড়, এ আদতে কোনো এক স্বপ্নের নির্মাণ। ধর এ নির্মাণ আদতে নারীর মতই শৈল্পিক। বর্ণ সুষমাময়, বিচ্ছুরিত হচ্ছে আলো, যা আঁধার ভেদ করে গড়ে তুলছে তেমনই কোন ভাস্কর্য, র‍্যাঁবো বা রামকিঙ্করের নির্মাণ অপেক্ষাও তীব্র অথচ বেদনাময়, সুশীল অথচ নিঁখুত। পাশ দিয়ে নদী বহমান। পুস্প সকল কুসুমিত হচ্ছে নির্দ্বিধায়। গান বল অথবা স্তোত্র, এ পবিত্রতার কোনো অনিমিখ যতি চিহ্ন নেই, কেবল বহমান এক অপরূপ শিল্পকলা! তুমি তাকে ডাকনামে চিনেছো যেমন সর্বনাম। আলো আসুক, আলো। পূর্ণ জ্যোতিঃ বলয়ে যার শিখা আজও অনির্বাণ! স্বর্গ যদি কোথাও থেকে থাকে-আছে এই সৃষ্টিতেই। কে যেন দিব্য দর্শনের মতই তাকে স্বনামে ডাকলো, আর পাখী চঞ্চু হতে সে নির্গত হবার পথেই সুর হয়ে গেল, সা থেকে সা। কোমল ও কড়িতে এ বিশুদ্ধতাই ধর আকাশ, নীল আকাশে কিছু শ্বেত বর্ণ মেঘ প্রবাহমানা,আর আলো আসিতেছে…ডাকনামে কবিতা...

ধর, এ দীর্ঘতম বদ্বীপ আসলে তোমার বা আমার বা আমাদের পূর্ব বা উত্তর বা সমকালীন অধিবাসীর বিচরণ ক্ষেত্র। আর জল, হাওয়া অনুপম সঙ্গীতময়তায় কী করে যেন ফুটে উঠছে কুঁড়েঘর, বাতায়নে প্রবেশিল বাতাস, প্রস্কুটিত দ্বিপ্রাহরিক মৃদঙ্গ ব্যঞ্জন। তাল আছে, সুর আছে তবু প্রকাশিত এ সকল আহৃত ব্যপ্তি যেন আদিগন্ত বিস্তৃত, প্রকাশিত মৃদু থেকে মৃদুলা প্রারম্ভ, যেভাবে ভোর বিস্তার পায় সকালে, শিশির মিলালে গড়ে ওঠে স্পষ্ট রেখা ও বাঁধুনির অবয়ব রেখা, রেখা চিত্রে যেভাবে রঙ ও রঙের বিস্তারে নির্মিয়মান আলো বা আঁধার সমন্বিত জীবনের আবহমান বিন্যাস। প্রসারিত সঙ্গীত, মুর্ছনায় যেভাবে আঁকছে উচ্চ বা নিম্ন মাত্রিক কৌশলী আবহ,আর প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠছে কান্না, হাসি, হাসিরা, মেঠো পথ যেভাবে উড়াল দিলো রাজপথে, আর ট্রাক যাচ্ছে, পণ্য বা পরিবহণীয় সে অমোঘ সন্ন্যাসে শ্বাস নিচ্ছে শস্ত্র পরিব্যাপ্ত সন্ত্রাস, কৃষ্ণ গহ্বর থেকে জাগতিক ত্রস্ত বিস্তৃতির সেই একক বা বিষণ্ণ সমন্বয়কে তুমি যেভাবে চিনছো, হয়তো তাও শিল্প, তবে গাম্ভীর্যহীন, চিত্র তবু সম্প্রসারণে, যার তীক্ষ্ণতার হ্রাস বলেই তুমিও ভাবছো, ডাকনামে সেও শূন্যতার বিপরীত পৃষ্ঠ, কালোর বিপ্রতীপে যে স্মৃতিচিহ্ন নিয়েই এঁকে রাখলো সমুজ্জ্বল গাম্ভীর্যমালা, আর সেও পথ ও পথিকের আড়ম্বরপূর্ণতার বিকল্প প্রতিস্থাপন, সেও বিকশিত হল, আলো ও আঁধারের মধ্যবর্তীতায়...ধীর অথচ গভীর, কলতান সঙ্গীত…ডাকনামে গদ্য…

পাহাড়ের উচ্চতম শৃঙ্গের আরোহণে, কি জানি প্রবল সে বিতন্ডায় জড়িয়েছিলো উভয়তই। ফল আকাশে তুমুল ঝঞ্ঝা, বিদ্যুৎ শিহরণমালা, বানভাসি...ধর সে কেমন জানি বিপর্যয় আসন্ন…প্রবল স্বপ্নের সে রঙে কি করে যেন মিশেছিলো বেদনার ভয়ার্ত অনুভব…

কাছে বা দূরের সব জীব ও দৈবকূলেই তখন আর্তি, আর্ত চীৎকার, আর আঁধারে ডুবিছে সকলই। তুচ্ছ , প্রবল তুচ্ছ কেউ, কেউ কেউ কি করে যেন বলে বসলো-মহোদয়, এ অশনি তীব্রতার শ্লেষ, ঠেক, বিদ্রুপ মালার বাহিরে, মূলগত আপনেরা এক। যা কিছু পৃথক, তা কেবল বহিরঙ্গের তুচ্ছতাই, এর বেশীও নাই,কম ও নাই। অনুভব করুন। সি মাইনরে সঙ্গীত তখন অধোমুখ হইতে উচ্চতর পথে, ধর সে কোন পাহাড়িয়া রুট মার্চ...আর আলো বা আঁধার থেকে দূর, বিষণ্ণতার কোনো নৈর্ব্যক্তিক বিস্তার…
আলো জ্বলিলো, যেভাবে জ্বলে, বাতাস যা স্থির ছিলো আশঙ্কায়, সেও তমসো জ্যোতির্বলয় হতে নিষ্ক্রান্ত করিল অমোঘ আশ্বাস, আর হাতে হাত, কপোলে কপোল রাখিয়া অগ্রসরমান হইল বিকেলের আলোয়, কিছু পর সন্ধ্যা নামিবে, আঁধার রাজ্যে একলা পাগল যখন সব ঝুট হ্যায় বলিতে উদ্যত, পাশ দিয়ে বহমান হইল, ডাকনামে দোসর, কবিতা ও গদ্যের এই ক্যারাভানের নাম ধরা যাক ‘দোসর’।
বাকি কথা ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে আলোচিত আলখাল্লা,বা জীবন…
পাঠ হোক, ঐহিকে, আজানু নামাজ, বা প্রণাম সম্বলিত নুড়ি ও পাথরের দিনলিপি সমগ্র...