হাউজ্‌জ্যাট

জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়

হঠাৎ করেই যদি দেখা যায়, একটা দিন অস্বাভাবিক রকমের গরম। কিংবা একটানা বৃষ্টি পড়ছে, হাঁটুজমা জল... অসহ্য বিরক্তিকর পরিস্থিতি। অথবা তীব্র ঠাণ্ডা... যাই হোক। আপনি কিন্তু রয়েছেন আপনারই বাড়িতে। আপনার ঘরে। আপনার প্রিয় শহর... মফঃস্বল কিংবা গ্রামে , যেখানে আপনি বছরের পর বছর কাটিয়ে দিয়েছেন। কাটিয়েছেন এমন আবহাওয়ার পরিবর্তন আর চরম অনুভূতিগুলো পেতে পেতেই। অথচ আপনার বিরক্ত আসে, প্রতিবার আসে... আসেই। এই তাৎক্ষণিক বিরক্তি, অসহ্য পরিবেশের মধ্যে দর দর করে ঘামতে ঘামতে অথবা ছাত থেকে চুঁইয়ে চুঁইয়ে জল পড়া দেখতে দেখতে, অথবা এক জোড়া অবাঞ্ছিত বগলের সামনে ঝুলতে ঝুলতে বাসে ফেরার পথে... এই সময়তেও কি নিজের শহর, নিজের জায়গার প্রতি এই ‘নিজের’ আবেগ টা অতটাই থাকে? ভালবাসাটা একই রকম আছে কি না, ঝুলিটা হাঁতড়ে দেখে নেন? যদি থাকে... আবার যদি নাও থাকে; মনে হয় না এ এক অদ্ভুত বিস্ময়? আমাদের ভাল থাকা, ভাল লাগা আর ভালোবাসার বোধ, আর তাদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অনুভূতি আর ইচ্ছেগুলো কী ভাবে দুমড়ে মুচড়ে নিজেদের পুনরগঠন করে চলে... কোথাও বিবর্তন, আবার কোথাও পরিব্যক্তি ঘটে যায় – তা হয়ত আমরা সচেতন ভাবে টেরই পাই না। ভাবিও না সে ভাবে। আলগা আলগা, ভাসা ভাসা ওপর থেকে স্পষ্ট টের পাওয়া ব্যাপারগুলোই অনেক নিশ্চিন্ত এবং সরল। এর বাইরে কখনও দু দণ্ড একটু বেশি ভেবে ফেললে, রাত ঘুম আসছে না বলে দু’চোখের পাতা এক করেও এই নিয়ে সাত-পাঁচ ক’টা প্রশ্ন এলে নিজেকেই ভীষণ অপরিচিত মনে হবে শেষ মেশ। অথচ ‘আনকম্‌ফোর্ট জোন’ আমাদের কারও পছন্দ নয়। অস্বস্তি হলেই আমরা চেষ্টা করব যাতে ঘুম আসে... কোনও মতে ঘুমটা এসে যাক, তারপর সকাল হলেই লেগে পড়া যাবে একটা কিছু নিয়ে... প্রতিদিনের মত।

কেরালার কোভালাম সৈকতে একবার একটা ভোরের অনেকটা সময় কেটেছিল। ওখানে সূর্যোদয় না, সূর্যাস্ত দেখা যায়। তাও ভোরবেলা টা বেশ। অনেকগুলো জমানো বোল্ডারের আর ঢেউ ভাঙা পাথরের ঢিপি পার করে একটা উঁচু মত জায়গায় উঠলাম যেখান থেকে কোস্টলাইন এর অনেকটা দেখা যায়। সে কোস্ট লাইন দেখা গেল, কিছু সামুদ্রিক পাখিও দেখলাম, সৈকতে ভোরবেলা ঘুরতে আসা পর্যটকও ছিল বেশ কিছু। কিন্তু এর সঙ্গেও দেখা গেল একটা লম্বা রেখা... তীর থেকে প্রায় আধ কিলোমিটার দূরে সমূদ্রের জলের ওপরেই ভাসতে থাকা, দুলতে থাকা একটা দীর্ঘ লাইন সোজা চলে গেছে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত, যতদূর দেখা যায়... ঠিক সকৈত রেখাকেই আউটলাইন করে। কেমন একটা ঘোলাটে সাদা ফ্যানা জমাট মোটা রেখা। দূষণ... আরব সাগরের দূষণ ঘিরে রেখেছে সমস্ত পশ্চিম উপকূল। রোজ এত লোক চান করতে আসছে, মজা করছে...খাচ্ছে, নাচছে, ছবি তুলছে... অথচ সবাই দেখেও দেখছে না। এমনই অভ্যেস হয়ে গেছে পচনশীলতার সঙ্গে সহবাস। অয়েল স্পিল বা তেলের ট্যাঙ্কার থেকে সমুদ্রে তেল পড়ে যাওয়ার ঘটনা নাকি মাঝে মাঝেই ঘটে। তার ওপর শিল্পাঞ্চলের বর্জ। একটা দেশের সামুদ্রিক পরিসীমা মাইলের পর মেইল এমন বর্জ দিয়ে ঘেরা, অথচ এই নিয়ে কোথাও কারও কোনও হেলদোল নেই! আরব সাগর আর ভূমধ্য সাগরের ট্যাঙ্কার বিপর্যয়ের পরে মাসের মাসের পর মাস কী ভাবে সামুদ্রিক পাখির মৃতদেহ সমুদ্রে ভেসে বেড়ায়, সামুদ্রিক প্রাণীর মৃতদেহ সৈকতে এসে বালিতে আটকায়, মনে হয় মরক লেগেছে। কিছুদিন আগে এই সুন্দরবনেই জলে ফার্নেস তেল ছড়িয়ে ভয়ানক দূষণ হ’ল। বাংলাদেশ অন্তর্গত শীলা নদী থেকে দূষণ, তাই সুন্দরবন কার সেটাই তখন বড় প্রশ্ন। স্থানীয় গ্রামের মানুষগুলো হাফ প্যান্ট পরে হাতে করে করে তেল ছাঁকছে, এমন ছবি দেখেছিলাম। কিন্তু কে ‘বাঘ’ আর কে ‘বাঘের বাচ্চা’ এই নিয়ে বড়াই করা দুটো দেশ কী সহজে ওই ভয়ানক ক্ষতির কথা ভুলে গেল। গোটা ২০১৫ সাল কেটে গেল আর ধীরে ধীরে বিস্মৃত হয়ে গেল অত বড় বিপর্যয়ের ঘটনা। সেই অঞ্চলের প্রাণীজগতের যা ক্ষতি তা তো হলই, মানুষগুলো কেমন আছে? কী করে সামলালো? কিছুই সঠিক জানতে পারলাম না। সরকারী ভাবে যা জানানো হয়েছিল, তা হল – ২০% তেল উদ্ধার করা গেছে স্থানীয় মানুষদের সাহায্যে, এমন দূষণ থেকে বাঁচার মত উপায় সরকারে জানা নেই আর সাধ্যেও কুলোবে না। ব্যাস!
না... যখন কোভালামে গেছিলাম, তখন বাংলাদেশ অন্তর্গত সুন্দরবনের এই বিপর্যয় ঘটে নি। ওই দূষিত রেখা দেখতে দেখতে ভেবেছিলাম ভারতে এমন বিপর্যয় এলে কী ভাবে ঠ্যাকাবে, কে ব্রেকিং নিউজ ছড়াবে, সেই নিয়ে রাজনৈতিক চুলোচুলির বাইরে আর কি কি হতে পারে। বুঝলাম, বেড়াতে এসে পাওয়া একটা সুন্দর সকাল চলে গেলে আর আসবে না... এত ঘাঁটাঘাঁটির এই নীট ফল। এক বিদেশী পর্যটক দম্পতির একটি সুন্দর ছবি তুলে টিলা থেকে নেমে এলাম। টিলার ওপর লোকটির কাঁধে মাথা রেখে বসে আছেন ভদ্রমহিলা... সামনে বিশাল সমুদ্র, সোনালী আকাশ। সেই ছবিতে কোনও দূষণ রেখা নেই।

কালপাক্কাম, তারাপুর, নারোরা, কোটা... এই নামগুলো পর পর শুনলে কিছু মনে হয়? এগুলো সব ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত এক একটি পারমানবিক কেন্দ্র। এবং খোঁজ নিলে দেখবেন প্রত্যেকটার সঙ্গে সঙ্গে এক একটি গুরুতর দুর্ঘটনার ইতিহাস জড়িয়ে আছে। সেই সত্তরের দশক থেকে এই কয়েক বছর আগে অবধি, কোনও না কোনও দুর্ঘটনা ঘটেইছে যা মারাত্মক আকার ধারণ করলেও করতে পারত। পোখরানে পরীক্ষামূলক বিস্ফোরনের এত বছর পরেও গ্রামবাসীদের অভিযোগ আসতেই থাকে, গিয়ে দেখাও যায় দুর্দশা নেহাৎ গপ্পো কথা বা ‘বিরোধীদের চক্রান্ত’ নয়। একটা চেরনোবিল বা একটা ফুকুশিমা নিয়ে বিস্তর আলোচনা, তথ্যচিত্র, জিভ চুক চুক ইত্যাদি প্রভৃতি বিস্তর দেখি। আচ্ছা, সেরকম বিপর্যয়ের যদি সিকি ভাগও এখানে ঘটে, রাষ্ট্রের কী ব্যবস্থা আছে তা সামলানোর? কেউ প্রশ্ন করে দেখব আমরা রাষ্ট্রপ্রধানদের? রাশিয়া, জাপান এর মত দেশ এখনও সামলে উঠতে পারেনি সেই বিপর্যয়... এখানে সামান্য কিছুও হলে কি বলবেন? ‘অ্যাক্ট অফ গড’? আর সেই সব বিপর্যয়ের তথ্য, দুর্দশার প্রমাণ নিপুণ ভাবে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে, আড়ালে সরিয়ে রাখা। কই... কোত্থাও তো কিছু হয় নি? সব বিচ্ছিন্ন ঘটনা। পরমাণু-শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করতে না পারলে কি রাষ্ট্র সংঘে কোনও প্রেস্টিজ থাকে?

যতই ভাববেন, দেখবেন ওই বাসে ধরা পড়ে যাওয়া পকেটমারটা ছাড়া বাকি সব কিছুই আপনার নাগালের বাইরে। আপনি যতই যা ভাবুন বা বলুন... এই দেশে আপনার চাওয়া বা না-চাওয়ার ওপর নির্ভর করে কিছুই হচ্ছে না। বরং যা হচ্ছে, যা ঘটে চলেছে, যা পরিস্থিতি – সেই মত আপনাকে আপনার চাওয়া-পাওয়া গুলো একটু এদিক-ওদিক করে নিতে হবে। বুঝলেন কি না? যেমন কোথাও একটা হরকা বান এসে শ’খানেক লোক শেষ হয়ে গেল, কিংবা উৎসব করতে করতে বাজি পুড়িয়ে বেশ কিছু লোক রাতারাতি ছাই হয়ে গেল, কোথাও একটা ভূমিকম্প হয়ে বেশ কিছু ঘর-বাড়ি ধ্বসে পড়ল, কোথাও ভূমিকম্প ছাড়াই বিল্ডিং কিংবা ব্রীজ ভেঙ্গে পড়ল... ‘গড ফিয়ারিং’ দেশে সবই তো অ্যাক্ট অফ গড! তাতে কি খুব বেশি কিছু পালটায়? কই... সবই যেমন চলছিল ঠিক তেমনই চলছে। খেলা, নির্বাচন, উৎসব... কোথাও এতটুকু খামতি নেই। আমি অনেক কে বলতে শুনি... এই যে নির্বাচনী প্রচার, বড় উৎসব, খেলার আয়োজন, চলচ্চিত্র পুরস্কার দেওয়ার ধুন্ধুমার অনুষ্ঠান ইত্যাদি... এগুলোও এক সামাজিক অঙ্গ। এগুলোর দরকার আছে। এগুলো আছে বলেও অনেক মানুষ করে খায়। ঠিক তামাক জাতীয় নেশার বস্তু বিষ জেনেও যে কারণে ব্যান করা হয় না... ওই শিল্পতেও অনেক করে খাচ্ছে বলে। এ তবু এক দেশের কথা। এর বাইরেও দেখা যায় বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ নিউ ইয়র্ক থেকে বেইজিং পর্যন্ত, বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার গালা অনুষ্ঠান, একের পর এক রিয়েলিটি শো-এর মেগা ফিনালে... কোটি কোটি ডলার, পাউণ্ড, ইউরো, ইয়েন, রুপি উড়ে যাচ্ছে... উড়েই যাচ্ছে। অথচ যে পৃথিবী নিজেই সংকটের মুখে... ভারসাম্য হারানোর পথে এক পা এক পা করে রোজ এগিয়ে চলছে, যেখানে উষ্ণায়ন সামলানো যাচ্ছে না, পানীয় জলের জন্য কোটি কোটি মানুষ কষ্টে আছে, দূরারোগ্য ব্যাধি আর অনাহারে এখনও তৃতীয় বিশ্ব ধুঁকছে, সেখানে কি একেবারেই সম্ভব নয় এতরকম বিশাল মোচ্ছব থেকে কিছুকাল চোখ সরিয়ে এই সঙ্কট-পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে কিছু করা? পুঁজিবাদ দিয়েই নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে সব কিছুই যে প্রথম বিশ্বের পুঁজিবাদীদের হাতে চলে যাচ্ছে... সেই শোষণের থিয়োরি বহু বার ভাবে আলোচিত এবং প্রমাণিত। এখন এই তৃতীয় বিশ্বতেও একই ভাবে, একই ফর্মুলায় চলছে অর্থের মেরুকরণ, ক্ষমতার মেরুকরণ। অথচ, মানুষ চাইলে এই ‘করে খাওয়া’র হাজার রকম ঢালাও ব্যবস্থা থেকে অর্থ আর লোকবল সরিয়ে অন্য কাজেও নিয়োগ করতে পারত। সেই সব কাজ করেও হয়ত ‘করে খাওয়া’ যায়, পরিকল্পনা আর পরিকাঠামো যদি সেই ব্যবস্থার অনুকূলে তাকে। আসলে, সব কিছুর মূলেই থাকে একটা সদিচ্ছা। যা নেই। হাজার একটা অসুবিধে থাকবে, আমরা ভাবিতোও হব... আলোচনা আর বিতর্ক চলবে কে কতটা দায়িত্ব নিচ্ছে তা নিয়ে। কিন্তু উৎসবে-ফূর্তিতে কোনও ভাঁটা চলবে না। অথচ এই দেশের সব উৎসব-অনুষ্ঠানের আয়োজক বা হোতারা নির্ধারিত বাজেট থেকে ১০% যদি কোনও গঠনমূলক বা সমাজকল্যানমূলক কাজে ব্যয় করত... সব কিছু না হলেও, কিছুটা তো পালটাতোই। এই আইসিসি, অলিম্পিক কমিটি বা ফিফার মত ক্রীড়া সংস্থাগুলো এক একতা ধনকুবের হয়ে বসে আছে। এদের থেকেই একটা ছোট্ট কল্পিত উদাহরণ দিই। এই যে একজন ক্রীড়াবিদকে অনেক সময় জরিমানা করা হয়, ম্যাচ ফি থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয় কিংবা সরাসরি আরও বড় অংকের টাকা দাবী করা হয় শাস্তি স্বরূপ – পৃথিবীর একাধিক ক্রীড়া সংগঠনের এ বহু পুরনো প্রথা। এখন, এই শাস্তির মুধ্যে দিয়ে একটি ধনকুবের সংস্থা আরও টাকা চাইছে... কিংবা যে টাকা দেওয়ার কথা তা দিচ্ছে না... তাই তো? অথচ যদি এমন নিয়ম হত... প্রতি বছর এইরকম শাস্তির জরিমানা হিসেবে যতটাকা সংস্থা পাবে তা পুরোটাই দিয়ে দেওয়া হবে WHO, UNICEF, কিংবা UNESCO কে?
বিসিসিআই কি পারে না, এমন জরিমানার টাকা দিয়ে ত্রাণ তহবিল গঠন করতে? এ তো পুরোপুরি উপড়ি রোজগার, বাজায় আদায়ের মত ব্যাপার! সেও নিজের উদরেই ঢোকাতে হবে? আর শুধু বিসিসিআই কেন... খুঁজতে বসলে এমন অনেক নাম আসবে, লম্বা লিস্ট হয়ে যাবে। কিন্তু ওই যে বললাম – “আপনি যতই যা ভাবুন বা বলুন... এই দেশে আপনার চাওয়া বা না-চাওয়ার ওপর নির্ভর করে কিছুই হচ্ছে না। বরং যা হচ্ছে, যা ঘটে চলেছে, যা পরিস্থিতি – সেই মত আপনাকে আপনার চাওয়া-পাওয়া গুলো একটু এদিক-ওদিক করে নিতে হবে।”

এমন পরিস্থিতিতে আপনি কোথায় কার কাছে আবেদন করবেন? কত বার বলবেন হাউ’জ্‌ দ্যাট? রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী... এই দপ্তর, ওই দপ্তর... ক’টা চিঠি লিখবেন? আর কী উত্তর আশা করেন সেই সব চিঠির? খেলার মাথে সমবেত কণ্ঠে একটা আন্তরিক আবেদন, একটা গলা ফাটানো অ্যাপিলের কিছু ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আশা করা যায়। আম্পায়ারের আঙুল ওঠে, আবেদন নাকচও হয়। কিন্তু এখানে? কি জানি... মনে সব কিছুর মাঝে এখন একটাই মূল মন্ত্র – “যা চলছে চলুক, তুমি কিছু একটা নিয়ে মেতে থাকো!”
আর এই আবেদন বা অ্যাপিলের কথা বলতে ইংল্যান্ডের উইকেট রক্ষক জ্যাক রাসেল-এর কথা মনে পড়ে গেল হঠাৎ। ইনি কট বিহাইণ্ড বা স্টাম্পিং-এর আবেদন করতে হলে অন্যদের মত ‘হাউ’জ দ্যাট’ বা ‘হাউজ্‌জ্যাট’ এসব বলতেন না... ইনি সরাসরি চিৎকার করে খাস ব্রিটিশ অ্যাক্সেন্টে বলে উঠতেন ‘ইট’স অ্যাঅ্যাঅ্যাউট!’
“আমরা মনে করিয়াছিলাম, মাটির উপরে ঘটি ঠুকিলেই জল আপনি উঠিবে। জল যখন উঠিল না কেবল ধুলাই উড়িল তখন আমাদের বিস্ময়ের সীমাপরিসীমা রহিল না। আজ পর্যন্ত সেই কূপখননের কথা ভুলিয়া আছি। আরও বার বার মাটিতে ঘটি ঠুকিতে হইবে, সেই সঙ্গে সে-ঘটি আপনার কপালে ঠুকিব।” – এই কথাগুলোও এক কালে বার মনে পড়ত, অনেক কিছু দেখেই। তবে এখন অন্য অংশগুলো মনে পড়ে না, শুধু ওই ঘটি কপালে ঠোকার কথাটাই বেশি করে মনে পড়ে চাদ্দিক দেখে।