হনিমুন – একটা ফ্ল্যাশব্যাক

শুভ্র ভট্টাচার্য্য

আমার ঘামবিন্দু থেকে তোমার কপালের ঐ সিঁদুর-লাল বিন্দি – ট্রেকিং রুট আপাত নন ভার্জিন। রুটম্যাপে ডেস্টিনেশন...............অক্ষ- দ্রাঘিমার জ্যামিতি কিছু অবিন্যস্ত, যেমন তোমার লাল-কালো-সাদা নকশাদার গার্ডেন সিল্ক আঁচল এবং আমার লাপাতা-নেটওয়ার্ক N-সিরিজ নোকিয়া। ফলতঃ ভুল রাস্তার বাঁক থেকে ঠিকরে আসা রোদের ফেরতাই জুড়ে জুড়ে কিছু এবড়ো-খেবড়ো অবসাদ এবং আমাদের রোদচশমার কাচে প্রতিফলিত সতেজ রডোডেনড্রনের রঙ্গিলা উচ্ছাস।

জুতোর নীচে নরম ফার্ন মাড়িয়ে যাবার মতো কিছু নাগরিক ব্যস্ততা, যা একান্তই আমাদের দুজনের পারস্পরিক অবকাশে হাঁটু ছড়িয়ে ঋজু পাইনের গুড়িতে ঠেস আমি – অলস তামাকের অবসর যতটুকু। নিজেকে গুছিয়ে নেবার সেইসব টুকরো-টুকরো মুহূর্তগুলো, যা আমার হাঁপর ঠ্যালা ফুসফুসে মূলতঃ হাওয়া ও নিকোটিনের যুগপৎ আয়োজনে ব্যপ্ত ছিল।
সংলগ্ন ইউক্যালিপটাস বনে ক্রমশ নিবিড় হচ্ছিল পর্ণমোচী শব্দরা আর দূরাগত জলপ্রপাতের চপল হারমোনী অবিরল। তুমি তখন ধূপছায়া মাখা একটা আপাত তেকোণা বাদামী পাথরে বসে ঠোঁটের মগ্ন রূপটানে এবং রূপটান অবসরে কোনো একটা ভাটিয়ালী সুরের মরমী উদাসীনতায়।

আমি তোমাকে দেখছিলাম অপলক এবং অনুভব করছিলাম তোমার ঐ সুরেলা বিষাদ কি অসহ্য অবয়বী হয়ে উঠেছিল সেই বনপাহাড়ী চালচিত্রে। তোমার সব শরীরি প্রগলভতা চুঁইয়ে ঝরে পড়ছিল এক অপার্থিব মায়াকারু আর সেই অ-শরীরি মায়ায় এবং তোমার সুরের নির্ঝরে ডুবে যেতে যেতে আমি...............অথচ আমার লোলুপ দু’চোখের অস্থির মাংসাসী প্রতীক্ষা......... প্রতীক্ষা শুধুই তোমার ঐ নরম শরীরটাকে নিজের দখলে পাবার............অবিকল এক স্বাপদের মতই...............তারপর............
তারপর পাহাড়ে চাঁদ উঠেছিল আর আমাদের শরীরি খনন ও ক্ষরণের খেলা বা না-খেলা অনেকক্ষণ ধরে একটানা – আমার যৌন উল্লাস ও তোমার সোহাগী শীৎকার অযান্ত্রিক। পাহাড়িয়া চাঁদের বুনো জ্যোৎস্নায় তখন ভেসে যাচ্ছিল চরাচর আর আমাদের মিথুন অনুগামী সব দগদগে কলঙ্ক চিহ্ন............!