দা লাস্ট রান অথবা চিৎকার করো মেয়ে…

মাসুদুজ্জামান

চিৎকার করো মেয়ে। সুতীক্ষ্ণ কামড়। ছোট্ট একটা সুইং। বাঁক নিয়ে ঢুকে গেল তোমার শরীরে। গ্যালারিতে যারা জয়ী হচ্ছে বলে উল্লাস করছে তাদের কেউ কেউ শিশ্নজীবী। তোমাকে নিয়ে খেলছে। তোমার শরীরে অসংখ্য আগুনের সূঁচ। স্নায়ু দিয়ে শির শির বয়ে যাচ্ছে কুয়াশা। মনোলীন ব্যাট দিয়ে স্বর্গীয় বলটাকে এবার ৯৮ মিটার দূরে গ্যালারিতে আছড়ে মারো। ছক্কা। যারা শরীরজীবী তাদের উরুসন্ধিতে চালাও ধারালো ব্লেড। মিড উইকেটের ওপর দিয়ে কী মসৃণ পুল। আত্মরক্ষার মিহি ইস্পাত।
শুধু কি পুরুষ? নারীরও প্রণয়ের রাবীন্দ্রিক ফাঁদ আছে। মুঠো মুঠো পিল গলাঃধকরণ করে নাভিচক্রে ঘুরতে ঘুরতে পুরুষের শরীরে ছোবল দেয় রোমশ নিঃশ্বাস। কোহলির ম্যাজিক্যাল শট। তামিমীয় তুণ। স্বামীপ্রবরের সঙ্গে সহবাসের সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে প্রেমিকের দিকে লালা জড়ানো মিথুন ইয়র্কার ছোঁড়ে। নিজের দিকে জোর করে প্রেমিককে টেনে নেয়। আত্মঘাতী রান আউট হয়ে ফিরতে ফিরতে জিঘাংসার জুপকাষ্ঠে নিজেরই হৃৎপিণ্ড শূন্যে ঝুলিয়ে রাখে। ব্যাটে-বলে না হতেই আম্পায়ারের আঙুল উঠে যায় শূন্যে – বোল্ড!
চিৎকার করো মেয়ে। গলা চিরে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হোক। শ্লগ ওভার। তিন বলে দুই রান। শক্ত চোয়াল, স্তন, অগ্নিপিণ্ডের মতো উইকেট লক্ষ করে ছুঁড়ে দাও। বাউন্সার। মাথা বরাবর ছুটে আসতেই ব্যাট ফসকে কীপারের হাতে ক্যাচ। গ্যালারিতে এবার নারী দর্শকের প্রচণ্ড উল্লাস।
চিৎকার করো মেয়ে। পুরুষেরা পুরুষতান্ত্রিক প্রেতজীব। তুমি ছলাকলার অন ড্রাইভ দিয়ে আ্উট হবার পরিবর্তে শেষ বলে শেষ রানটা করো। আহা, কী টেনশন। তনু…এইতো সেই ম্যাজিকাল শট আর স্নায়ুক্ষয়ী রান। পুরুষেরা উড়ে গেল।

একরান…একরান…জীবনজয়ী হলে তুমি।

একরান…একরান…জীবন জয়ের গান।