মেডেন ওভার

সিদ্ধার্থ বসু

ছিলাম ওপেনিং ব্যাটসম্যান| টি টুএনটির যুগ তখনও বহুদূর| আউট হতে চাইতাম না কিছুতেই| অথচ ভালো স্ট্রোক নেওয়ার প্রতিভা বা কব্জির জোর দুটোরই অমিল| ফলে দেদার মেডেন ওভার পেত বোলাররা| আর আমি সইতাম বিষাক্ত গালিগালাজ, টিটকিরি: কেন যে আমি খেলতে নামি, বা নামলেও কেন গোড়াপত্তন করি ইনিংসের--এই সংক্রান্ত ভরপেট চব্য-চোষ্য আমার নিতান্ত অভ্যেসে দাঁড়িয়ে গেছিল| ওতে আর কিছু আসত-যেত না তেমন| না মারলে আউট হয়ে যেতে পারি, অথচ ব্যাটে খেলারও ক্ষমতা নেই এমন অনেক দুরস্ত ডেলিভারি নিজের কাঁধ-বুক-পেট দিয়েও নামাতাম মনে আছে| সবাই হাসত, কিন্তু কেন জানি না, বেশিরভাগ সময়েই আমাকে খেলতে নিয়েও নিত, ঠাট্টা-বটকেরা-খিস্তি-খ েউর-অভিসম্পাত সমেত|
স্কুলে পড়তে অংক, ইংরেজি, ভূগোল, বা কেমিস্ট্রি, ফিসিক্স ক্লাসে টিকে ছিলাম আগাগোড়াই| ক্লাস থেকে বের করে দেওয়ার শাস্তি খুব বেশিদিন পেয়েছি বলে মনে পড়েনা| কিন্তু মাস্টারদের চোখা চোখা বাউন্সারগুলো সামলাতে ক্রমাগত ডাক করে যাওয়া ছাড়া আর কোনো রাস্তাই আমার জানা ছিল না| কতশত অংক কষার সাক্ষী আমি, কতশত ইকুএশন, হিসেবনিকেশ যন্ত্রপাতি কত না, কত কারনট চক্র, হেবারের পদ্ধতি, ভ্যান দ্য গ্রাফ জেনারেটর ব্যাখ্যাত হয়েছে আমার উপস্থিতিতে| মারকুটেরা সেসব নিমেষে বুঝে নিয়ে পরীক্ষাতে বাজিমাত করেছে, মাঝারিরাও স্কোরবোর্ড সচল রাখতে ভুল করেনি| আমি শুধু পরের পর মেডেন ওভার| আমার এক বন্ধু ছিল—নাম ঋত্বিক—ঝলমলে হাত ছিল তার| দেদারে ফাঁকি দিত সারাবছর, কিন্তু ম্যাচে নামলেই সেন্চুরি বাঁধা| আরও মহারথীরা ছিল যারা ফাঁকিও মারত না, ফাঁকেও পড়ত না| তেমন অনেক ব্যাটসম্যানেরই খোঁজখবর পাই আজকাল, মাঝেমাঝেই| কোচিং করে সবাই| কেউ বড় বড় ইনস্টিটুশনে, আবার কেউবা বাড়িতে, পথে-ঘাটে-জমায়েতে, সভা-সমিতি বা সোশ্যাল মিডিয়ায়| আমি কিন্তু আজও ব্যাট করে চলেছি| ব্যাটসম্যানশিপ আমার রক্তে| ক্রিকেট আমার ধর্ম|
কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় আমলেও সংসর্গ পেয়েছি অঢেল তুখোড় এবং কিছু-কিঞ্চিত মাঝারি মানের ব্যাটসম্যানের| বিশেষ করে মনে আছে বিশ্ববিদ্যালয়বেলার কথা| ক্লাসে বসেও কেমন অস্বস্তি হচ্ছে ঘন্টা কে ঘন্টা: সোজা আমার দিকে তাকিয়ে ক্রমাগত বাউন্সার দিয়ে যাচ্ছেন মধুবাবু, অভিজিতবাবুর খরশান লেগস্পিন আর গুগলি বোকার মতো বসে বসে সইছি, যুক্তস্যার তো একটা আস্ত রহস্য, ক্রিকেটের পরিভাষায় ‘মিস্ট্রিবোলার’| অথচ ক্লাস ছেড়ে যে চলে যাব, সেটা হবে ক্রিকেটবিরুদ্ধ: আমি না ব্যাটসম্যান? আমি কিনা পিচ ছেড়ে পালাব? ফলে ক্লাস কেটে ক্যান্টিন কিম্বা ইউনিয়ন করতে চলে যাওয়াও আমার আর হয়ে উঠত না| আমি সাক্ষী থাকতাম ডিএনএ তৈরির জটিল কর্মসূচির, প্রোটিন সংশ্লেষের ঘোলাটে পরিক্রমার| নিউক্লিয়াস নিয়ে এক মারকুটে ব্যাটসম্যান একবার গুছিয়ে তুলেছিল প্রায় ৫০ পাতার এক নোট—আমি ঠিকমত ডাক করতে পারিনি| পাতার পড় পাতা নোট জেরক্স হতে দেখেছি চোখের ওপর: বড় ম্যাচের প্রস্তুতি: ফলে আমিই বা সরে থাকি কি করে| জুতে গেছি| ঘন্টার পড় ঘন্টা নেট প্র্যাকটিস, বিপক্ষ বোলারদের বৈশিষ্ট্য অনুসরণ করে সেইমত তৈরী হওয়া—কিছুই বাদ পড়েনি| এবং ম্যাচে নেমে যথারীতি মেডেন ওভার| কারা সব যেন আমায় বুঝিয়েছিল যে পরীক্ষায় শূণ্য পেলে আর উইকেটে টিকে থাকা যাবে না| সেই যাতনায় আমি রাশিকৃত মেডেনের মাঝেও দুয়েকটা শর্ট রান নেওয়া শুরু করি| আর এ বাবদে খেলতে থাকি ম্যাচের পড় ম্যাচ: ওপেনার এবং ধ্রুপদী ঘরানার, যদিও আমার টেকনিক ঠিক তত ভালো ছিল না: এমনকি এই আদ্যপ্রান্ত উইকেটে পড়ে থাকার প্রবণতা, এছিল আদতে আমার স্কোর না-করতে পারার দুশ্চিকিত্স্য রোগ-ব্যাধির একমাত্র নিরুপায় উপশম| এদিকে অন্যান্যদের মধ্যে ছিল অনন্যা: সিক্সার বিশেষজ্ঞ| আমায় বলেছিল: ‘সেল সাইকেলে’র নোটের মধ্যে এমন কি আছে? নোটটা ছিল ৪০ পাতার| আমাদের বছরে প্রথম হয়েছিল ও|
তবে শুধুই হোম গ্রাউন্ড তো নয়| আমার মত প্লেয়ারকেও লোকে খেপ খেলতে নিয়ে যেত| ছাত্র রাজনীতি আম্মো করিচি| ইউনিট মিটিং এ ঠাঁই আমার জুটেছিল| এবং সেখানেও লম্বা-চওড়া সব প্লেয়ারদের পিছে-পশ্চাতে উইকেট কামড়ে ঠায় পড়ে থেকেছি| অবাক হতাম এই দেখে যে ধারাবাহিক মেডেন দেওয়ার পরেও এরা কেউ আমায় ছেড়ে কথা বলত না| মানে সবতাতেই ডাক পাঠাত| কলেজ ইলেকশনে প্রার্থী হয়েও পড়লাম একবার, আওয়ে ম্যাচ খেলবার লোভে| যথারীতি মেডেন| আমার অনেক ভোটার ছিল, কিন্তু তারা একজনও সময়ের মধ্যে হাজির হতে পারল না| তারপর ডাক পড়ল নাটকের মহলায়| ফের আওয়ে ম্যাচ, আমি এক পায়ে খাড়া|ফি নাটকে মাঝারি স্বাস্থের একটা করে রোল পেতাম| আমার চোখের সামনে কত নভিস অভিনেতা হয়ে উঠলো, হাততালি কুড়োল, কত সুন্দরী পুত্তলি ভালো অভিনেত্রী হয়েই এলেন এবং সেখানেই না থেমে কত ডবকা অভিনেতার সেন্চুরীর কারণ হয়ে উঠলেন| এমনকি এই ব্যাটসম্যানদের স্বর্গে দুয়েকবার নিজের ধ্রুপদী ঘরানা ত্যাগ করে সেন্চুরির দিকে দৌড়নোর হাঁকুপাঁকু লোভ আমায় কম বিপাকে ফেলল না| তবু আমি ক্রিজে সেঁটে রইলাম| কিন্তু নাট্য আন্দোলন আমার এই সাবেকি ঘরানার উত্পাত মেনে নিয়ে চলতে আর পেরে উঠলো না| টিম থেকে ছাঁটাই হলাম শেষতক|
ফের রাজনীতি ধরলাম| সঙ্গে সাহিত্য| দেখলাম এখানেও দোর্দণ্ড বোলারের কমতি নেই| তেমনি আছে উচ্চাঙ্গের সমস্ত ব্যাটসম্যানেরাও| যেমন তাদের সাহস তেমনি তাদের কায়দা-কসরত| প্রথমদিকে ‘আমার সীমার বাঁধন টুটে’ হুরুদ্দুম চালাতে গিয়ে একবার পুলিশের হাতে ধরা খেলাম| এবং ‘কেলিনু শৈবালে ভুলি কমলকানন’ বুঝে নিয়ে ঘরে ফিরে এলাম| চুপচাপ পোস্টার সাঁটতাম(লিখতে শেখাটা হয়ে ওঠেনি), পত্রিকা বা লিফলেট হাতে ঘন্টা কে ঘন্টা চক্কর কাটতাম, একটাও বিলোতে পারতাম না, মিটিং করতাম মাঝে-মধ্যেই: একটিও বাক্যব্যয় না করে নাতিখর্ব সব সভা-সমিতি আমি বিলকুল চালিয়ে যাচ্ছিলাম| বোলারের মেডেন পাচ্ছিল, যেমন পেত আগেও| বক্তা ও পরিকল্পনাকারেরাই ছিল প্রধান বোলার| তাদের অভিনব বলত্কৌশল ও সুপ্রশস্ত আত্মবিশ্বাসের নজির দেখে আমি মস্ত আর ভারী সব ব্যাটের আড়ালে গুঁড়ি মারতাম| আর সেইসব সময়ই—আরো তাজ্জ্বব ব্যাপার—ওই দুর্দমনীয় বোলারদের ডেলিভারিগুলিও বাউন্ডারির গায়ে আছড়ে পড়তে দেখতাম কতবার| পোস্টারিং এর ডেট কিম্বা মিছিলের সময়, স্লোগানের বয়ান কিম্বা অনশনের কর্মসূচি, বক্তৃতার ঢং কিম্বা বুলেটিনের বিষয়বস্তু—সবকিছু নিয়েই এন্তার গুলিগোলা চলত| আর ‘আমি তো চাহিনি কিছু/বনের আড়ালে দাঁড়িয়ে ছিলেম নয়ন করিয়া নিচু’| এরকমই চলেছিল| কত সব মতাদর্শ, কত শত ইতিহাসচেতনা ও তার আলোকে বর্তমানকে বিচার করবার অব্যর্থ সব কৃতকৌশল| দাঁড়িয়ে-যাওয়া ব্যাটসম্যানদের মানুষের গলা ধরে সটান উত্খাত করে দেওয়াও কত রাজনৈতিক, নৈতিক ও উন্নয়ন্মুখীন| আবার প্রতিবাদী বোলারদের গলার স্বর বাঁকিয়ে ‘বন্ধুঊঊঊঊঊউ.... আম্মাদেএএএএএএএএর’ এর মত ইন স্যুইন্গিং ইয়র্কারেরও কি ঝাঁজ|
এরই পাশাপাশি চলছিল সাহিত্যকীর্তি| কাব্যচর্চা| এই কবিতাটা হয়নি, ওটায় কাব্যরসের অভাব, এবারকার লেখাগুলো সব ভুল(কাঁচা বা দুর্বল নয়, ভুল, ভ্রান্ত)—ইত্যাকার বিমার-বাম্পার যত্পরোনাস্তি চলেছিল খুব| আমি লিখলুম কবিতা, তুরন্ত সেসব ক্লিন বোল্ড হয়ে গেল| আমি শুনলাম গান, ঝরাকসে সেসব আমার ব্যাটের কানা নিয়ে কিপারের হাতে| যেমনটা একবার হয়েছিল লালন শাহের গান নিয়ে| আজও খুব মনে পড়ে| এক চ্যাম্পিয়ন বোলারের হাতে নাকানি এবং চোবানি খেতে হয়েছিল: কোন অধিকারে আমাহেন নিরীশ্বর এক ব্যাটসম্যান লালন শাহ স্মৃতি পিচে নামে ব্যাট বগলে? ‘নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়’| এবাবদে শিখতে পেলাম অর্থনীতি এক অর্বাচীন ব্যাটিংশৈলী| এবং আকাশ-বাতাস-মাটি-মানুষ( া নয়)এর পারম্পর্যে কোনো রাজনীতিই আসলে জায়গা পেতে পারে না| অর্থাৎ মানুষ আর প্রকৃতির নিরন্তর ফ্রেন্ডলি ম্যাচে রাজনীতি নেহাত বহিরাগত, অতিরিক্ত খেলুড়ের জায়গাও তার নিতান্ত অমিল| ভারী তাজ্জব লেগেছিল| আসলে আমার মত এক খুঁটে খাওয়া ক্রিকেটারের কাছে মাঠের ওপর দুই-পা রেখে বেঁচে-বততে থাকাটাই কি অশৈরণরকম রাজনৈতিক—আমি ভেবেছিলাম| ভুল ভাঙ্গলো| এমন তো কতই ভেঙ্গেছে| কত পিচের চরিত্র উপলব্ধি করলাম, ভারী ভারী বোলার, মারকুট্টা দুঁদে সমস্ত ব্যাটসম্যানদের চলন-বলন, হালুক-চুলুক সব আমার নখাগ্রে| কিন্তু তাতে করে আমার বিশুদ্ধ প্রলক্ষণে কেউ কোনো বদল ঘটতে দেখেছে কি কখনো? যাই হোক, ঘন ঘন ফরম্যাট বদলে উইকেটে টিকে থাকাও বড় জটিল হয়ে উঠছিল ক্রমেই| নাটক আমায় ছেড়ে গেছে, রাজনীতি আমায় দুধু-ভাতু, এবার যে সাহিত্যসমাগমেও আমার জল অচল হতে চলল| এমত বয়েসে আর কে আমায় খেলতে ডাকবে?
অতঃপর প্রেম| প্রনয়্কথা ভাবি| সেখেনে তো খোলা ময়দান| কেউ কারুক্কে আটকাতে আসছে না| অনায়াসে ব্যাটিং চালাও যতক্ষণ খুশি| এই তবে আমার মোক্ষ| ‘তরবি যদি ভবনদী নারীসঙ্গ কর’| এ প্রতিভা গোড়া থেকেই আমার ছিল বটে| খেলাপাগল আমি ঠিক ফোকাস করে উঠতে পারিনি| অথচ কি আশ্চর্য, আসল খেলা তো সেখানেই| অর্থাৎ সেঞ্চুরিদোষ| এ আমার ইতিহাসে বাসা বেঁধেই ছিল| পনেরতে প্রথম উল্লম্ফন| সতেরয় ভুমিসজ্জা| উনিশ থেকেই আসলে আমি ব্যাটসহ ক্রিজে ছিলাম| কলেজকালে যখন কলজে লড়িয়ে প্রফেসরদের বাউন্সার কাটাচ্ছি, সেই সময় থেকেই ‘দিবসরজনী আমি যেন কার আশায় আশায়’ ব্যাট ঠুকচিলুম| ঠায়| সেই ‘কে’ অর্থাৎ অলক্ষুনে সেঞ্চুরির ধাক্কা সামলাতে চলে যায় আরো পাঁচ-সাতটা বছর| ‘আমি তখন ছিলেম মগন গহন ঘুমের ঘোরে’| অন্য সব হোম এবং ওভারসিজ ম্যাচে লড়ে চলছিলাম, অথচ নিজের ঘরেই চলছিল সবচাইতে বেশি ক্রিকেটীয় মনোস্তাত্ত্বিক লড়াই| টিকে থাকতে রীতিমত কসরত করেছি তখন, অনিদ্রা থেকে ওভারমেডিকেশন পর্যন্ত টানা ছিল সেই চুনৌতির সীমা| সঙ্গে অবিশ্বাস্য পেটের গোলমাল| অতঃপর একের পর এক ম্যাচ খেলতে শুরু করলাম, ফোকাসে ফেরার ঠিক পর থেকেই| আজন্ম উইকেট টিকিয়ে রাখা ‘স্ট্রোকলেস ওয়ান্ডার’ এই আমি আসলে যে কি অনিবার্য সেঞ্চুরিপ্রবণ তা জানতে আর কারুর বাকি রইলো না(আমার তো নয়-ই)| ‘এমন মানবজমিন রইলো পতিত’ বুঝে যা নয় তাই করে আবাদ শুরু করলাম| সোনা অবশ্য ফললো না| বরং বিদর্ভের চাষীদের মতই ক্ষরে যাওয়া আবাদের শোভাযাত্রা শুরু হলো| সবুজ বিপ্লবের শুরুর দিকের মতই তুরন্ত সেঞ্চুরি এবং তারপর দিন না ঢলতেই জ্বলে-যাওয়া ফসলের চূড়ান্ত সন্ত্রাস| বেলা বয়ে চলল| একেবারে আউট হতে হতে বেঁচে ফিরলাম বেশ কয়েকবার: ব্যাটের কানাও ছুঁলো, ফিল্ডারের হাতেও পৌঁছুলো, কিন্তু সে দেবদূত খসিয়ে দিল এমন লোপ্পাইকে| মৃত্যুর দরজা থেকে ফেরত আসা গেল| জল যতদুর গড়াবার গড়ালো|
সুস্থ হয়ে উঠতে না উঠতে একটু একটু করে আমার পুনর্বার জ্ঞানচক্ষুর উন্মীলন ঘটতে লাগলো| আমিও বুঝতে শুরু করলাম যে নিজের অক্ষমতাটুকুই আমার আদত প্রতিভা| কমবয়েসের নাচার সিদ্ধান্ত বলে যাকে পায়ে ঠেলেছিলুম তারই স্নেহচ্ছায়ায় নিজেকে সঁপে দিলুম ফের| লজ্জার কথা, যারপরনাই নির্লজ্জার কথা এই যে আমিও তদ্দিনে একটা কোচিং-এর চাকরিতে জুতে গেছি| কলোনির একটা ইস্কুলে মাস্টেরি নিলাম| শান্ত, সুবাধ্য পিচ| ঘুমন্ত জন্তুর মতো দিন গুজরান হয়| হাতের ব্যাট হাতে থেকে যায়, উইকেট পড়ে না| ছেলেমেয়েরা কথা শোনেনা, পড়াশুনো করে না| খুব বেশি কথা আমি ওদের বলিও না, ধম্মে বাধে: আমি তো বোলার নই, ছিলাম না কোনকালে| স্কুল থেকে খুবই কম প্রথম ডিভিশন বেরোয়, সেঞ্চুরির প্রশ্নই নেই| এভাবেই বাকি জীবনটা কেটে যাবে| লম্বা লম্বা ওভারের পর ওভার| সব মেডেন|