ছক্কা

মালিনী ভট্টাচার্য

সমস্ত ঈশ্বর পেরিয়ে এগিয়ে আসছে লাল বল।
সপাটে হুক শট মারতে গিয়ে সামান্য টপ এজ হয়েছে ব্যাটসম্যানের। বলটা উঠে গেছে অনেক উপরে। তারপর ডানা মেলে নেমে আসছে তীব্র গতিতে, ঠিক যেন আগুনপাখি। সীমারেখা প্রায় ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইন্দ্র। হাত পুড়বেই, পুড়তে বাধ্য। তবু বন্দী করতে হবে ওই আগুনপাখিকে। নাহলে যে উড়ে যাবে তার সমস্ত স্বপ্ন! একটা সুযোগ, একটা নির্দিষ্ট দল, একথালা গরম ভাত, একটা গোটা শাড়ি পরা তার মায়ের শুকিয়ে যাওয়া শরীরটা, বাবার ওষুধ, বোনের বিয়ের পণের টাকা। এই বল বাউন্ডারি টপকে গেলে বিপক্ষ জিতবে কি না তা সে জানে না, কিন্তু সে হেরে যাবে। থমকে যাওয়া হৃৎপিণ্ড ঠেলে সে আরও একটু পিছিয়ে আসে। তার চোখ স্থির বলের উপরে। সে নেমে আসছে, তার নাগালে, প্রায় তার হাতের মুঠোয়।
হঠাৎ, একেবারেই আচমকা, নীচে শুয়ে থাকা সাদা রঙের হিলহিলে সাপটা নড়ে ওঠে। তার পা জড়িয়ে ধরে সেই সাপ। ঠিক এই ঘটনাই তো বরাবর ঘটে এসেছে তার সঙ্গে। সে যখনই রামধনু আঁকত, বিষরক্তে ভরে উঠত তার হাত। এবারেও সে পড়ে যায়। মাটিতে। সাদা দড়িটার ওপারে। আগুনপাখি নেমে আসে নীচে— তবে হাতে নয়, তার খোলা মাথায়। অজস্র রামধনু নিমেশে ভরে তোলে আকাশ। সে ক্রমশ উপরে উঠতে থাকে, যেমন ফ্যানদের কাঁধে চড়ে নায়ক। সে উড়ছে, ওই আগুনপাখির মতোই। সে উড়ে যায় সমস্ত সীমানা পেরিয়ে। মৃত্যুর মাঠ গর্জন করে ওঠে— ছক্কা!