একদিনের...

স্বপন রায়

একদিন,একদিনের জন্য ওই একদিনই শুধুমাত্র একটি দিন হয়েছিল....যেভাবে একদিন পাখি উড়ে বা একদিন প্রতিদিন...

একদিন নিয়ে ওই একদিনই একেকটা দিনের এক দিনলিপি হ’য়ে একদিন কা সুলতান কেন একদিনেরই...

-ফাঁতরামো হচ্ছে?
-একদিনই তো,করি?
সবাই হাসে,একদিন যে ভাবে কেউ একবার....হেসেছিলো!
সবাই কারণ সেমিনার চলছে,সেমিনারের কোন কারণ নেই,একদিন সেমিনার করতে হবে এটাই যদি কারণ হয়,তো হোক!বিষয় হোক,”একদিনের ক্রিকেটে কবিতা!”
আমি কবি,কারণ কারণবারি একদিন,প্রতিদিন!
কারণ আমি জিয়াকে বলেছিলাম,বালমের পিচকারি আছে,বালমার কি আছে?
জিয়া বললো,কি বাল বাল করছো,এমন দেবো না একদিন!

না এরপরে একদিন আমরা বালেশ্বরে যাইনি!সেমিনারেও যেতে চাইনি,আমি!জিয়া বললো,চলোই না ওখানে ইয়ে আসতে পারে...দাদা আর কি...
বহুদিন পরে সেই একদিন আমার মনে হল জামাটা খুলে ফেলি,ওড়াই,গেয়ে উঠি,জন্ম আমার ধন্য মাগো আমি জন্মেছি এই দেশে/ধন্য আমি ধন্য হে,পাগল তোমার জন্য হে!
-মানে কি?তুমি দেশ’কে দেশপ্রেম’কে এভাবে গুলিয়ে ফেলছো?ভেবেছিলাম,একদিন তোমার কিছু অন্তত হবে,পিল্টু সেই একদিন কবে আসবে বলতে পারো?

এরপরে সেই ক্রিকেট ও কবিতা বিষয়ক সেমিনারে আমি বলতে থাকিঃ
একদিন,একদিনের জন্য ওই একদিনই শুধুমাত্র একটি দিন হয়েছিল....যেভাবে একদিন পাখি উড়ে বা একদিন প্রতিদিন বা..

একদিন নিয়ে ওই একদিনই একেকটা দিনের এক দিনলিপি হ’য়ে একদিন কা সুলতান কেন একদিনেরই...

-ফাঁতরামো হচ্ছে?এটা বিভাস দা বললো,একসময় বি ডিভিশনে খেলতো,তো খেলতে খেলতে একদিন পাখি উড়ে গেল...পাখিটির নাম ছিল রঞ্জনা!এরপরে বিভাস দা নেতা হয়ে যায়,প্রোমোটার হয়ে যায়,মাঝে মাঝে সিঙ্গাপুরে যায় মাসাজ করাতে...
বিভাস দা’কে তো আমি চোখ টিপে বলতেই পারি,একদিনই তো,করি?

ফলে করা নিয়ে একদিন কে কি ভাবে কি কি করেছিল চলতে থাকে!
-আমি একদিন যা একখানা মেরেছিলাম না....অনড্রাইভ আর কি...চিরে বেরিয়ে গেল..
-হনুমান নাকি,চিরলেই বেরোবে?
-দিল চির ক্যা হ্যায় আপ মেরে জান লিজিয়ে
-ওটা দিল চিজ ক্যা হ্যায়
-একদিনের ইয়েতে সব বদলে যায়…উইকেটকিপারের মাথার ওপর দিয়ে স্পুনিং করা,এ সব ছিল গাভাস্কারের সময়?
-আচ্ছা মারসেলিনের বয়স কত হল?
-তোমার চেয়ে একবছরের ছোট...পঁয়ষট্টি
-যা আমার চেয়ে ছোট কেন হবে..দিদির চেয়ে একবছরের ছোট...আর আমি দিদির চেয়ে ছ’বছরের না না সাত বছরের...
-সত্যি কত ছোট তুমি?
-আচ্ছা বিরাট আর অনুষ্কার ব্রেকআপটা কত তাড়াতাড়ি হয়ে গেল না?
-অনুষ্কার ইয়ে দুটো বেশ,না?
-ইয়ে দুটো?
-মানে পা দুটো’র কথা বলছি...ও যদি স্প্রিন্ট করতো...ভাবা যায়না!
-তুমি অনুষ্কার পায়ে পড়ে যাবে মনে হচ্ছে যে...তোমার মেয়ের বয়েসি..ছি ছি...পা দেখে বেড়াচ্ছো এখনো?

সেমিনার প্রতিদিন তো হয়না,তাই একদিন হয়,এদিন যেমন!
কবি অনঙ্গ বসু বললো,ক্রিকেট মানে একদিনের ক্রিকেট, কবিতাকেও একদিনের কবিতা করে তুলছে,আমিই প্রথমে এটা ভাবি,কি রকম হবে একদিনের কবিতা?
১.টক/কট/কটক
২.কাট/কেট/কেতকী
৩.বাথরোব/রবে না
৪.কোজংমশরন/কোমরজংশন
এই কোডেড কবিতাই ভবিষ্যতের কবিতা,আর যেদিন এমনটা হবে কবিও খেলবে ক্রিকেট,ক্রিকেটারও লিখবে কবিতা!

-ফোকটের মাল খাচ্ছে সকাল থেকে আর আটভাট বকে যাচ্ছে
-আঃ বেচারা কবিরা খুব গরীব হয়,আগে তো কমিউনিস্টও হত...একটু মদই না হয় খাচ্ছে,খেতে দাওনা!
-কেন ছেলেটাকে চাই নাকি?তোমার তো আবার কচির দিকে ঝোঁক?
-আচ্ছা ক্রিকেট কি সত্যিই কালো টাকা চালাচ্ছে?
-হতে পারে..এত কেলেঙ্কারি যখন..আছা রুবি,আপনাদের ওদিকেই তো কি একটা মধুচক্র না কি যেন ধরা পড়েছে না?
রুবি এগিয়ে এসে নিচু গলায় বলে,আপনাকে তো আমি কয়েকবার দেখেছি ওখানে!
-আমায়?
-আপনি দেখেন নি আমায়..ওখানে?

বিভাস দা এসে বললো,সেমিনারটা জমে গেছে যাই বল....বাঙালির এই কালচারাল ব্যাপারটা আনপ্যারালাল..এটা সিঙ্গাপুরেও নেই...তবে ওখানে মাসাজ আছে!

ভেতরে এবার প্রচুর উইকেট পড়বে...হাই হচ্ছে সবাই...আমি আর জিয়া বেরিয়ে আসি...আজ আবার সেইদিন,একদিন আমরা এটা ভেবেই তো শুরু করেছিলাম!
আমি আর জিয়া,জিয়া আর আমি,একদিনের রোজাগার ছড়িয়ে এবার আমাদের ঠেকে বসবো!

আমরা বসে আছি...চারটে ওয়ালেটে প্রায় কুড়িহাজার টাকা...দুটো হীরের আংটি..তিনটে স্মার্টফোন...নট ব্যাড!

আমরা দুজনের দিকে তাকিয়ে একদিনের হাসিটা দিই....ওয়ার্ম-আপ শুরু করি..খেলা তো সবে শুরু!