কাঁটাতারের ব্যাটা

কৌশিক দত্ত

সন্ধেবাতি জ্বলে ওঠার সময় ধুলো পায়ে
“মা” বলে খুব ডাক দিলেও, সেই পুরোনো আঁচল
আর দোর খুলে এসে দাঁড়ায় না। ফুরিয়েছে মুড়ি ও বাতাসা।
আমার মা এখন ঘরের বদলে উঠোনে, উঠোনের বদলে
কাঁটাতারের বেড়ার ধার ঘেঁষে থাকে।
বেড়ার এপাশে থাকে এবং বেড়ার ওপাশে থাকে।
ঘর জুড়ে সন্ধে হয় শঙ্খ আর প্রদীপ ছাড়াই।

মা পশ্চিমে চলে গেছে। মা পূর্বদিকে চলে গেছে, দিগবিদিক
হেথা হোথা। মায়ের কিছুটা ওরা উত্তর দিকে নিয়ে গেল।
কিছুটা ঈশান কোণে, খানিক দক্ষিণে। এখন আর কোনোদিকেই
আমার সেই আস্ত মা-টা নেই।
অনেক দেওয়াল পেরিয়ে, অনেক বন্দুকের পাশে কাঁটাতারে আটকে আছে
মা।

কাঁটাতারের এপাশে আর কাঁটাতারের ওপাশে
আমি আর আমার অনাত্মীয় মা নিয়ে টানাটানি করি।
কাঁটাতারের এধারে আর ওধারে থাকতে গিয়ে...
এধারে আর ওধারে স্থান না পেয়ে শেষে
কাঁটাতারেই বাসা বাঁধল বুড়ি।

আমার মা দরজা খোলে না। মা এখন কাঁটাতারে থাকে।
বেড়া হয়ে থাকতে থাকতে মা
ধীরে ধীরে তার হয়ে গেছে। বড় বড় মাংসখেকো কাঁটা সারা গায়ে।
মা ক্রমশ কাঁটা হয়ে গেল! আর আমি সন্তান?

এখন আমি আর দোরের কাছে এসে “মা” ডাকতে পারি না।
এখন আমি সন্ধেবেলা বাড়ি ফেরার রাস্তা ভুলে যাই।
যার মা কাঁটাতার হয়ে যায়,
সে আর সন্তান থাকে না।