ছবির নাম জননী

চিত্রালী ভট্টাচার্য

ট্রলির ওপর বাঁ থেকে ডানদিকে ঘুরে গিয়ে স্থির হল ক্যামেরা । নতুন পরিচালক এক্সাইটেড। ক্যমেরাম্যানের দিকে তাকিয়ে খুশির চোখে বলল- ইয়েস, ঠিক এই পজিসনটাই চাইছিলাম। পারফেক্ট। এই পজিসন থেকে তুমি ক্যরেক্টারকে ক্লোজ আপে ধরবে –বলতে বলতে চেঁচিয়ে বলল-রেডি, লাইট-ক্যামেরা এন্ড একশান। অমনি ট্রলি থেকে ক্যামেরা ক্লোজ হল ক্যরেক্টারের মুখের ওপর।এক্সান বলা শেষ হতেই ক্যরেক্টার চেয়ার ছেড়ে উঠে সেটের কৃত্রিম জানলার সামনে দ্রুত হেঁটে গেল, উদ্বেগ নিয়ে তাকাল দূরের দিকে। যেন কেউ আসবে কথাছিল অথচ আসছে না। তারপর আবার ফিরে তাকাল ঘরের দিকে। চোখে কয়েকবিন্দু গ্লিসারিন চিক চিক করে উঠল। তাকাল ঘরের ছোট্ট টেবিলটায় ঢাকা দেওয়া রাতের খাবারের দিকে--- অমনি ডিরেক্টার চেঁচিয়ে উঠল কাট্--- কাট্---আঃ, আপনি ঠিক ব্যাপারটা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছেন না।
--কোন ব্যাপারটা বলুনতো? ক্যারেক্টার বিরক্ত, এতদিন ধরে আমি এই লাইনে আছি, এ পর্যন্ত কোনো ডিরেক্টার একবারের বেশি টেক নেয়নি ,অথচ আপনি----
--একমিনিট, একমিনিট--- আপনি অন্যভাবে নেবেন না, মানে আমি বলতে চাইছি আপনি আর একটু ক্যারেক্টারের ভেতর ঢুকতে চেষ্টা করুন--- আসলে কিচ্ছু না আপনি মনে করুন না আপনি একজন পারফেক্ট মাদার । গ্ল্যামারহীন, অসহায়, ছেলের জন্য নিবেদিত প্রাণ। সংসারের ঘানি টানতে টানতে যার জীবনটা বিরামহীন এক সংগ্রামের ছবি—তেমন একজন মায়ের ক্যারেক্টার পোর্ট্রে করতে হবে আপনাকে। অনেক রাত হয়ে গেছে--- ছেলে ফিরছে না, একদিকে উদ্বেগ অন্যদিকে বাবার উত্তাপ থেকে ছেলেকে বাঁচানোর প্রয়াস। মানে বুঝতে পারছেন তো আপনি?
--না পারছি না।
--পারছেন না ! সেকি! এতদিন ধরে অভিনয় করছেন অথচ একটা আদর্শ মাকে -----!নিজের মার কথা মনে পরছে না ? সেই শান্ত, ক্লান্ত,ডিগ্ল্যামারা অথচ সুন্দর স্থিতধী একটা মুখ ! কি ধৈর্য--! মনেপড়ছে? সারা সংসারটাকে যিনি ঘাড়ে করে--- । যিনি আপনার প্রত্যেকটা বিপদে , প্রত্যেকটা ব্যথায়, প্রতেকটা ঘুরে দাঁড়ানোতে ছায়ার মত----- মনে পড়ছে না! একটুও মনে পড়ছেনা ,না?
ক্যামেরাম্যান চেঁচিয়ে বলল—আর কতক্ষণ দাদা? আলো যে কমে আসছে ।
ডিরেক্টারের আর্তনাদ ভেসে এল—প্যাক আপ।