শালী হারামী

অর্পিতা বাগচী

কোন রকমে মাথা মন্দিরের চৌকাঠে ঠেকিয়ে,বাঁ হাতের তর্জনী কপালে আর তারপর রিফ্লক্সে কেমন বুড়ো আঙ্গুলটা বুক অব্দি বোতাম খোলা সার্টের ঠিক মাঝে ছুঁয়ে যায়। এই সবে শীত গেল, এখনি যা গরম পড়ছে এর পর রাত্তিরে আর কেউ ঘুমবে!!! সকাল সকাল গিয়ে মামার কাছ থেকে যা গাল খাওয়ার খেয়ে নিয়ে পরে হিসেব বুঝে নেবে।তারপর সারাদিন খাল্লাস। গনেশের চায়ের দোকানে বসে মেয়ে মাপবে। বাচ্চা গুলোও হয়েছে হার হারামি । কাজ শেখার থেকে চোখ চালানোর দিকে নজর বেশী। দুগ্গাটারও শালী বুহুত ঘ্যাম হয়েছে । নতুন বাড়িতে কাজে ঢোকার পর থেকে এক নাখরা।আজ না কাল কাল না পরশু। সেদিন শালী দেখা করতে এলো ওবাড়ির ছেলেটার বাইক চেপে। বললে বলে, “আমরা বন্ধু, ওরা সবাই কত ভালবাসে। তোর মত না”। বাইকে চড়ান ভালবাসার মানে শিব জানে।রোজ মায়ের কাছে মাথা না ছুঁইয়ে কাজে আসে না। তবু একটা বাইক হাতে লাগে না। কার্তিকের গ্যারেজে সব ফিট করা আছে। একরাত্তিরে রঙ পালটে নুতন নম্বর লাগিয়ে দেবে। মাঝে মাঝে তো ইচ্ছে করে ওই বাইকটাই হাতাতে। মা হেব্বি কোথা শোনে শিবের। কাল শালা মাথা ঠুকে চেয়েই ফেলব তারপর যা থাকে কপালে। মেয়ের পাল্লায়ে পড়েছ কি লাইফ শালা ইল্লি করে ছেড়ে দেবে। কত বার ভেবেছে কি এমন আলিয়া ভাট,তাকাবে না। খুব জোর সাতদিন তারপরই আবার ঘেও কুত্তার মত কুই কুই। শালী সব বোঝে। এতো বার বাওাল হয়েছে, একবারও যদি আগে কথা বলেছে। সকালের চা আজ কেমন পানসে লাগছে।কাল শালা একটুর জন্য হল না। আলমারি খুলেই ফেলেছিল অমনি পাশের বাড়ির লক্ষ্মীর মা উঠে গেল। শুধু শুধু মামার কাছে সক্কাল সক্কাল ব-কার শ-কার শুনতে হল। দুগ্গা বলেছে , মাথা ঠাণ্ডা রাখতে। কেউ জেগে গেলে আর সামনে পুলিশ দেখলে আজকাল আর ভয় আসে না। মাথা ঠাণ্ডা রেখেই কাল আর এগেোয়েনি।আজ সালটাবে।বাড়ি খালি। বিয়ের পর পুরী গেছে। বিয়েতে নেমন্তন্ন খেয়েছিল, আসলে মেয়েটাকে ভাগিয়ে বিয়ে করেছিল তাই পাড়ার ছেলেদের লেগেছিল বাওয়াল সামলাতে। দুগ্গাই বুদ্ধি দিয়েছিল “মেয়ের বাপ হেভি বড়লোক অনেক লোক খাইয়েছে কিছু গয়না চুরি গেলে অতো থানা পুলিশ করবে না , তবে শালা রাত বিড়েতে যদি মাল খেয়ে চুরির হার আমার কাছে এনে সোহাগ ঝেড়েছ”।মেয়েটা যে কি দিয়ে তৈরি, কে জানে! যেদিন ধান্দা খারাপ যায় , সেদিন শালীকে আরো দেখতে ইচ্ছে করে, আর সেদিন ই ঝোলাবে। বেশী বললে বলবে,“অতো কিসের? একটু দেরী হতেই পারে আমি কি অন্য কার সাথে ছিলুম” কেমন এক মেয়ে মাইরি ! ঘ্যান ঘ্যান ও করে না। কার্তিকের বউটার হেব্বি নখরা। রোজ শালা কুত্তার মত দুটোতে মিলে ঘেউ ঘেউ করে। “আমার টাতে কোন গন্ডোগোল নেই তো! তবে, খেয়াল রাখে খুব। একদিন যদি ঝুলেছি তো রক্ষে নেই”।সেকেন্ড হ্যান্ড এ যত অরুচি। কিছু দিয়েছ তো শালা হাজার কৈফিয়ত। সব জিনিষের বিল দেখে, তবে নেবে। প্রথম প্রথম বিল ও ফিট করা থাকতো আজ কাল আর হয় না। নজর ও শালীর আকাশে।উঁচু উঁচু ফ্ল্যাট ভাল গাড়ি দেখবে আর বলে, “একদিন দেখবি আমরা ওখানে থাকব।” মাঝে মাঝে ভয় হত না দিতে পারলে যদি না থাকে!!! একদিন মা কে পেন্নাম ঠুকে বলেই দিলাম, “কেন আমার ভাড়ার ঘর, পুকুর ধার বিকেল বেলা কত হাওয়া , তোর ভাল লাগে না?” “না, তুমি শালা মাল খাবে আর আমার জন্য হাওয়া!” পর দিন আবার ঝুলে গেছি।পুকুর ধারে এল দেখা করতে। সেদিন ত আমি টোপ গিলেই আছি। জানি শালী ল্যাজে খেলাবে।পুলিশের মার আর প্রেমিকার ঝাড় সেদিন একই। আমাকে দেখে মাগী হাসছে। কেরসিন এনে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারি মনে মনে ভাবছি । অন্যদিন কাছে আসবে না আর সেদিন শ্যাওরা গাছের পেত্নীর মত ঘাড়ে বসে পা দোলাবে।“ সকাল থেকে গেলা হয়েনি ?” বলে একটা বাংলার বোতল আর এক থালা ভাত সামনে রেখে আবার সেই হাড় জ্বালানো চোখে তাকাবে। আমি শালা বাংলার বোতল নিয়ে উঠতে যাব, “ না, আগে ভাত খা তবে”। তুই শালী বেশ্যা এর ওর সাথে ঢলে বেড়াস , কেন খাবো আমি তোর হাতে?” “আগে খা। বলছি”।আমি জানি হারামি মানবে না বেশী ঘেঁটে গেলে আমিও শালা কেমন তোতলে যাই।
পাঁচ কি সাত হবে , মা টা মরে গেল । তারপর থেকে ওই মন্দিরের আসে পাশে বেড়ে উঠছিল। গরমের দিনে বাইরে আর শীতে মন্দিরের চাতালে। অনেক জ্বর, ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামলে মাথা ছিড়ে যেত “মা গো,” বলে বন্ধ মন্দিরের দিকে চোখ চলে যেত। সকালে লালচোখে চেয়ে । মায়ের সাথে বাচ্চারা আসতো মন্দিরে পূজোর মিষ্টি খাইয়ে ফুল ছুইয়ে বাড়ি চলে যেত। জ্বর এমনি এমনি কমে যেত কোন একদিন।
শালী হাজারবার না করা সত্ত্বেও মাখা ভাত মুখের কাছে আনবে। কেটে পুঁতে দেবেো একদিন। কেউ লাশও পাবে না। “ ঠিক আছে, পুঁতে দিবি।এখন তো খা”। একে মাথার ঠিক নেই , ধাক্কা ধাক্কিতে ভাতের থালা ছিটকে পুকুর পাড়ে। একটুর জন্য চোখের কোনা জ্বলে উঠেই, “ হল শান্তি? আমি ভেতরে গেলাম, ভাত বসাচ্ছি”। কেমন যেন শীত শীত করছে। এই সময়ে হাওয়াও ভালো না। রাত্তিরের বাকি কাজ আজই সালটাতে হবে। সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে বিড়ি ধরিয়ে পুকুর পাড়ে বসে। পিছন থেকে একটা হাত কপালে, “ কিরে ! গা তো আগুন”। চোখ বন্ধ করে কেন
তোকে দেখা যায় ? তুই কে আমার?