মা বিষয়ক ২টি কবিতা

ফেরদৌস নাহার

দাঁড়িয়েছে সোনার প্রতিমা

আমাকে পুড়তে দাও গতজন্মের অভিজ্ঞতা
শিল্পের হাত ধরে সমকামী সতীদাহে পুড়ি
জ্বলুক আগুন এই সহমরণ পথে
ঘটা করে বিয়ে হবে কবিতার সাথে, অথচ
একটিই কবিতা এতকাল লেখা হল বাংলাদেশ
চিলি এবং আফ্রিকাতে ...

মা তোমার নাম পলাতক পাখি হয়ে উড়ে উড়ে ঘুরে বেড়ায় মর্নিংসাইডের বারান্দায়। মা তুমি কবুতর, বাকুম-বাকুম উষ্ণতায় আমার বারান্দায় ফুটিয়েছ শান্তিশিশু। ঘুমভাঙা জীবনের আয়োজন খুব বেশি নয়, তবু নতুন গল্প এসে হুইসিল মারে
আমাদের আকাশে আজ ওড়ে না কবুতর, তাই তারে খুঁজতে এলাম পরদেশে তুমি মা শান্তিময়ী আহারে! আহারে! কতদিন ডাকনি কোনো প্রিয় নাম ধরে মা আমার মরমিরানি, তোমাকে ভালোবেসে বাচ্চারা খেলা করে, উড়ায় ঘুড়ি






আমার মায়ের সংসার

আমার মায়ের একটা সংসার ছিল। সেই সংসার ভরে ছিল থৈ থৈ অসংখ্য আসবাব ও আমরা। সেগুন মেহগনি আর আয়রনে কারুকাজ করা সব বনেদি ক্ল্যাসিক কিংবা সরল নক্সায়। ছিল আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধাপত্র। আমার মায়ের স্নেহময় চুলায় দিনরাত রান্না হতো রসনা তৃপ্ত করা যত কায়দা কলা। ফ্রিজ খুললেই ঠান্ডা পানীয় সংরক্ষিত মজাদার খাবার, আরো কত কী! সদ্যজাত আকাশপ্রযুক্তির ঘোর আনন্দে পুরো সংসার জুড়ে মা মা গন্ধ! আমরা ডুবে ছিলাম সেই গন্ধমাতন দিনগুলোতে মায়ের সংসারের সকল সুবিধা নিতে নিতে একদিনও ভাবিনি ফুরিয়ে যাচ্ছে মা শেষ হয়ে আসছে তার সংসার

আগুনের দিকে তাকিয়ে আজ সেসব দিনের কথা তীব্র বকুলের গন্ধে দোলায় মগজ
মাকে ফেলে এসেছি আজানুলম্বিত এক জোব্বার অন্তরালে। সংসারের দরজায় মস্ত তালা ঝুলে আছে পরম অনাগ্রহে। মাঝে মাঝে শব্দ তোলে, মনে করিয়ে দেয় ভেতরের অতীত। মধ্যাহ্নের চড়া রোদে ঘোড়া দাবড়ে ছুটে আসছে কোনো এক নিধিরাম সর্দার