সাবস্টিটিউট

চিত্রালী ভট্টাচার্য

“ এ যে জাদুকরের খেলা রে মন
যার খেলা হয় ,সে জানে
ও মন, কখন শুরু কখন যে শেষ কেজানে।,
ছোট্ট একটা প্লাটফর্ম।ষ্টেশনের নাম- জনাই রোড। নামি-দামি এক্সপ্রেস ট্রেন দাঁড়ায় না সেখানে,ধুলো উড়িয়ে,ষ্টেশন কাঁপিয়ে চলে যায়। লোকাল ট্রেন দাঁড়ায় কিছু কিছু।জনা কয়েক লোক নামে-উঠে । একটু সরগরম হয় তখন,তারপর আবার যে কে সেই। ধুলোময় একলা প্লাটফর্মে তখন ভাঙ্গাচোরা সিমেন্টের বেঞ্চের সঙ্গে ক্লান্ত কুকুরের একটা সখ্যতা গড়ে ওঠে।ভিখিরিরা দ্যখে, মজা পায়।
আজ অবশ্য চিত্রটা একটু অন্যরকম।আজ সেই বেঞ্চে বসে আছে দুজন মানুষ। একজন গেঁয়ো যোগী ,আর অন্যজন ব্যর্থ ভোগী।দুজনেই নেশাগ্রস্ত এবং কিঞ্চিত্‌ উর্দ্ধগামী ।কথা হচ্ছে খেলা নিয়ে।শ্রোতা বলতে চারটে ভিখিরি আর গোটা পাঁচেক নেড়ি।কথা শুরু করে যোগী-
-এ এক অদ্ভুত খেলা রে ভাই,খেলতে হয় সকলকেই। কার খেলা কোথায় শেষ হবে কেউ জানেনা। কে হারবে আর কেই বা জিতবে তা কিন্তু পূর্ব-র্নিদ্দিষ্ট অথচ তুমি জানোনা।কাকে তুমি দায়ি করবে বল? যাকে দোষ দেবে বলে তুমি টিপ মেরে বসে আছো সে তো ওই অনন্তে। অদৃশ্য। মেঘের আড়ালে বসে কলকাঠি নাড়ছেন।তুমি হয়ত মদন-বান ছুড়ে ভাবছো কি করিনু, উনি তখন মেরে বসলেন অগ্নিবাণ,ব্যস তুমি ভষ্ম!
--কিন্তু আমার মতো যারা খেলতেই নামতে পারল না কোনদিন ,তাদের জন্য কি বিধান? সারাটা জীবন সাইডলাইনে তোমার ওই অদৃশ্য কোচের পাশে বসে যারা শুধু চেয়ে থাকল মাঠের দিকে,দেখল মাঠের মধ্যে তোমার ওই অন্যতম এগারোর অসাধারণ নৈপুণ্য ,কখনও ড্রিবল করছে,কখনও ছোট ছোট পাসে একেবারে গোলের মুখে –আঃ সে যে কি অসহ্য পরিস্থিতি ! মন বলছে পারি, পারি, আমিও পারি কিন্তু সুযোগ বলছে নেই। দরজা বন্ধ।বলো বৈরাগী বলো এর কি বিধান ?
-তুমি বৃথাই কান্না করছ গোঁসাই –মনখারাপে মন মজেছে,মন্দ-ভালো ঠিক জানোনা/ ওরে মন দেখ দেখি কান্ডকারখানা !আরে বাবা সেরা খেলাটা খেলবে বলেই তো তোমাকে মাঠের ধারে এতদিন ধরে বসিয়ে রাখা হয়েছে।
-তুমি যে কি আবোল-তাবোল বকো বুঝতে পারিনা।শুনতে ভালোলাগে কিন্তু—
--মনে মনে বোঝো বলেই তো ভালোবাসো। চলো এবার যাওয়া যাক ,রাত নেমে এল,এবার শেষ খেলাটা খেলতে হবে তো ।
দুজনে উঠে দাঁড়ায়।হাঁটতে থাকে।ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায় অন্ধকারে। খেলা কিন্তু চলতে থাকে---------