রিফিউজি

তমাল রায়


আজ বড় সুখের দিন রামতনুর জন্য। একটি ছোট সভা ডাকিয়াছেন তিনি। সভার উদ্দেশ্য বিধেয় অবশ্য সভায় আগত ব্যক্তিবর্গের জানা নাই। কেবল তার ছাত্র বর্গের কেহ কেহ জানিতে পারে। ইহা শহর কলিকাতা নয়। মফস্বল অঞ্চল। তার ধার বা ভার আচার বা ব্যবহার শহর স্বরূপ নহে। তবুও ধীরে ধীরে ব্যক্তি সমাগম হইতেছে। অতঃপর বাবু রামতনু মহাশয় আসিলেন সভায় নিজ স্থান অলংকৃত করিতে। সনৎ তার শিক্ষক রামতনুর জন্য প্রাতকাল হইতেই প্রভূত পরিশ্রম করিতেছে। ভিতর ভিতর সেও প্রবল ব্যাগ্র কারণ রামতনু ব্যতীত কেবলমাত্র দুইজন ব্যক্তি কি ঘটিবে তাহা সম্মন্ধে জ্ঞাত।সনৎ তাহাদের একজন।রামতনু উঠিয়া দাঁড়াইলেন প্রভূত শিক্ষাবিদ ও ধর্মবেত্তাদের মধ্যভাগে।এবং নিজ অঙ্গ হইতে শরীর আবরক ঊড়নি খানি সরাইয়া নিজ উপবীত সকল কে প্রদর্শন করিলেন। ধার্মিক মানুষজন খুশী হইলেন প্রভূত। কিন্তু অল্প কিছু মুহুর্ত পরেই তিনি তার কন্ঠ হইতে খুলিয়া ধরিলেন তাহার আপন উপবীত।এবং জানাইলেন যে এই আয়োজিত অনুষ্ঠানের আসল উদ্দেশ্য এই উপবীত পরিত্যাগ করা,এবং তাহা জনসমক্ষেই।কারণ এই উপবীত আসলে জাতি বা ধর্মের ইন্ধনপ্রদানকারী বস্তু।সভায় ইতিমধ্যেই বহু সোরগোল আসিতেছে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের বহুল অংশই প্রবল ক্ষিপ্ত।তারা অধিকাংশই এবার রামতনুর দিকে ঢিল ছুঁড়িতে লাগিল।একটি আসিয়া লাগিল তাহার কপালে লাগিল।রক্তাক্ত হইয়া লুটিয়া পড়িতে পড়িতেও তিনি আদি সনাতনী হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে ঘোষণা বজায় রাখিলেন। যদিচ তিনি তার জ্ঞান হারাইয়াছেন।সন ১৮৫১।
না এপ্রিল মাস,সন ২০১৫। রামতনু এলিয়াস শিবতোষ মুকুজ্জে আপাতত জ্ঞান হারিয়েছেন নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে গলির মোড়ে যে ল্যাম্পপোস্টটা আছে তাতে মাথা ঠুকে। পাড়ার ছেলেরা তাদের কাকাবাবুকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে এসে বিছানায় শুইয়ে দিয়েছে।ছেলে অভি মুখের কাছে হাঁ করে তাকিয়ে। বাপ শিবতোষ কী যে ঠিক বলে চলেছে সে তার অর্থ উদ্ধার করতে পারছে না মোটেই। আপাতত শিবতোষ তার পুত্র অভি কে জড়িয়ে ধরে বলে চলেছেন -Me poor boy, have pity on me, me take in your school.,ছেলে অবাক। এ আবার কি। অভি বাপকে জিজ্ঞেস করল,বাবা আমি কে? বাপ প্রথম দু বার উত্তর করেন নি,এবার বলল ক্যান হেয়ার সাহেব। বিদ্যালঙ্কার বাবু তো বললেন আপনার পালকির পাশে পাশে দৌড়লে তবে আপনি ইস্কুলে নেবেন। নিন না স্যার। অভির হাসি পেলো না।মুখ গম্ভীর হল।বলল- বাবা আর?
বাবা বলে চলেছেন- আরে রাধা(রাধানাথ শিকদার) এয়েছে,হর(হর চন্দ্র ঘোষ) আর সাথে প্যারিচাঁদ ও। ওদের বসতে দাও বিমলা। অনেক কথা বাকি আছে। ডিরোজিও স্যার ডেকেছেন আজ বাড়িতে যেতে হবেই। ওঠার চেষ্টা করলেন।পড়ে গেলেন। বিমলা কাঁদছেন। বাড়িতে সোর গোল খুব। অভি উঠে দাঁড়াতে গিয়ে চোখ পড়ল বাবার মাথার বালিশের কাছে রাখা একটা বই,হাতে তুলে নিলো- রামতনু লাহিড়ি ও তদকালীন বঙ্গসমাজ,শিবনাথ শাস্ত্রী।
It is a chronic neurodegenerative disease that usually starts slowly and gets worse over time The most common early symptom is difficulty in remembering recent events (short-term memory loss).
এখন আলো আসছে,মানে আসার কথা।কিন্তু আসে কই।ঝিঁ ঝিঁ ডাকছে,কেন? দূর থেকে ভেসে আসছে চার্চ বেল।শিবতোষ হেঁটে তো চলেছেন একা। একাই হাঁটতে হয়,এ আপ্ত বাক্যে তার বিশ্বাস ছিল চিরটাকালই। আর পথ চলতে পেছন পানে যে ঘুরতে নেই এ বাক্য একদিন চলার পথেই শিখিয়েছিলেন ভুলু স্যার। উনি ফিরতেনও না। কেনই বা ফিরবেন।জলে যখন প্রবল টান জোয়ারের তখন কে আর পেছন ফিরে তাকায়,কিন্তু গতি কমে আসলে যখন জলে জমতে থাকে পানা,মিশতে শুরু করেছে গু মুত,নর্দমার কালো জল,লুক ব্যাক শিবু,লুক ব্যাক প্লিজ । প্লিজ বলার দরকার হয় না।শিবুকে ফিরতেই হত। এখন শিবু কুমীর ডাঙা খেলছে। এ বিকেলের আলোয় কুমীর ডাঙা এক মনোজ্ঞ খেলাই বটে,কিন্তু মুশকিল হল কুমীর কে চেনা যাচ্ছে না। কে কুমীর? আর ডাঙাই বা কই,এ তো শুধুই জল থই থই। ভাগ্য ভালো পুরো ফ্ল্যাট জলে ভাসে নি। ভাসলে শিবুর কানের কাছে বিমলা চীৎকার করে কানের পোকা বের করে দিত। অভির পুত্র আয়ান বয়স সাত,কিন্তু দাদুর ওপর মায়া অসীম,সে ব্যাপারটা আঁচ করে বন্ধ করে দিয়েছিল সিঙ্কের কল,ভাগ্যিস।নইলে যে কী কেলেঙ্কারিই না হত।সামলানো যেতো না পুরো ব্যাপার টা। তবু মেঝে জুড়ে জল থই থই। শিবু কিছু একটা বোঝাতে চাইছেন আয়ান কে,কিন্তু বোঝাতে পারছেন না ঠিক। মানে বলতে চাইছেন কুমীর ডাঙা,কিন্তু বলছেন কল,কূয়ো,কাকলী,কামার,কা ুন্দি... আর আয়ান ছুট্টে গিয়ে একে একে দেখানোর চেষ্টা করছে যা ও দেখাতে পারে,-বাট দাদাই কান্ট সে এনিথিং ক্লিয়ারলি। হোয়াটস রং ইন দাদাই বাপি? অভি মাথা নাড়ছে। আর শিবু হাত নেড়ে আলো গুলো সরে যে অন্ধকার আসছে তাকে হাত দিয়ে তাড়ানোর চেষ্টায়,ঠিক যেভাবে মাছি তাড়ায় লোক। As the disease advances, symptoms can include problems with language, disorientation (including easily getting lost)। গান ভেসে আসছে খুব ক্ষীন সুর,কানে এসে ঢুকছে কই? তবু আসছে,আসতেই থাকছে। অনেকটা মশার গুণগুণুনির মত। - খেয়ে নাও দাদাই। দাদাই খাচ্ছে কিন্তু হাতের খাবার মুখে না ঢুকে পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। এমনটা আয়ানের ও হয়। বল গোলে মারলেই তা গোলে না ঢুকে,কত্ত দূর দিয়ে চলে যায়। ও ব্যাপারটা ফিল করে দাদাই এর হাতটা মুখের কাছে এনে দিলো। হ্যাঁ দাদাই এবার মুখ চিনতে পেরেছে নিজের।এবার আর কষ্ট নেই।মুখেই খাবার ঢুকছে।কিন্তু এতো এক মেকানিকাল একশনের মতই। মুখে খাবার ঢুকছে।কিন্তু মুখেরও তো আছে আলাদা ফাংশন তা কই হচ্ছে। সে চুপ।সে আবার ঘুমিয়ে গেছে।আয়ান এবার শিখিয়ে দিলো খুব কাছে গিয়ে নাও দাদাই, নাউ লেটস চিউ দা ফুড। এবার প্র্যাকটিকাল ডেমো দিচ্ছে ও। হ্যাঁ দাদাই এবার চিবোচ্ছে। এই তো সোনা ছেলে।ওমা আবার কাঁদে কেন দাদাই ! দাদাই ইউ আর বিগার এনাফ।ডোন্ট ক্রাই প্লিজ। দাদাই হাসছে এবার।
symptoms can include mood swings, loss of motivation

কাল রাতে অমল বলছিল ঠারে ঠোরে অনেক কথাই। এন্ড্রুজ পল্লী দিয়ে হেঁটে আসার সময় ও শুনেছে সে কথা। পাত্তা দেয়নি। কেন দেবে? যা সত্যি নয় তাকে যে গুরুত্ব দিতে নেই গুরুদেব তো তাই শিখিয়েছিলেন। আর দুঃখ সে তো তোমার হাতের ছেনি বাটালিকে উসকে দেয়।নে দেখা এবার কেমন পারিস, কিরে এ সব কথায় ভেঙে পড়বি না নিজেকে আরও নিয়োজিত করবি শিল্পে? কিন্তু এই রাধা তা বোঝে কই।ঘরে ফিরলেই এক কথা। অমুক এই বলছিল,অমুক সেই বলছিল। -আরে বাবা শিল্পীর জীবন এমনই হয়। কত কথা শুনতে হয়েছে তো গুরুদেবকেও।কত শোক তাপ। তা বলে থেমে গেছেন? তুমি বলো রাধা? রাধা কি ছাই অত বোঝে ? সে বোঝে এই মানুষটা কে লোক যেমন শ্রদ্ধা করে তার কাজে তেমন টা তাকে তার পারিবারিক জীবনের জন্য ও করুক। তুমি তো বাবা নিজের দুনিয়া নিয়ে আছো। আমায় একটু সম্মান দেওয়া যায় না। ব্যস, গেল কিংকর খেপে। হন হন করে বেরিয়ে পড়ল। সারা দিন খাওয়া নেই দাওয়া নেই,কাজ আর কাজ। পারেও বটে। সত্যি রাধা তোর মরণ হয় না কেন রে বাপু। এত ভালবাসিস যাকে,তাকে না হয় একটু সোহাগ করতে করতেই বোঝাতিস। আশ্রম থেকে ফেরা মাত্রই বলতে হল। বাইরে ঝেঁপে বৃষ্টি এয়েচে। এখন কী করে রাধা। ঘরের পাশ দিয়ে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিল একজন আশ্রমিক ছেলে। তাকে দাঁড় করিয়ে সব বোঝালো। সে পাবে কিংকরদার টিকি খুঁজে? হায় রে। কিংকর কোথায় থাকবে এখন সে জানে? ধুর। নিজেকে চড় মারতে ইচ্ছে করে। রাত বাড়ছে ঘরের পুরুষ ফেরেনি। চিন্তায় মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে। আজ ফিরুক গলায় দড়ি দেবে সে। ওই যে বাবু এলেন বোধ হয়।একা হাঁটতেই পারে না।এমন নেশা করেছে। সাথের লোকটা নিয়ে এসে ঘরে শুইয়ে দিলো। হুঁশই নেই। জল নিয়ে আসো মুখে জলের ঝাপটা মারলো, হাত পাখা নেড়েই চলেছে। পাক্কা দু ঘন্টা পর চোখ খুললেন মহারাজ।– রাধা। ব্যস এই ডাক টা শোনার জন্য হাপিত্যেস করে থাকে সে। আর রাগ নেই।গলে জল। - রাধা আমি আর বেশী দিন... চুপ। মুখ চেপে ধরলো রাধা।দরকার নেই বিয়ে করবার। যেমন আছো তেমনটাই থাকো। রাধারাণির সাথে কত্ত গুলো দিন কেটেই গেলো এমনি এমনি। কাল ঋত্বিক আসবে খবর দিয়েছে। আমায় সেজেগুজে নিতে হবে। ও আবার কি সব ফিল্ম টিল্ম বানাবে বলছে আমায় নিয়া। রাধা শুনছো?
এতক্ষণ এক নাগাড়ে বকে যাচ্ছিল শিবতোষ। বিমলার বকা খেয়ে থামল। হ্যাঁ গা রাধা তোমায় আমি বিয়ে করিনি বলে কি খুব দুঃখ পেয়েছো? ওমা বিমলা শুনেই কান্না। একিগো। কি যা তা কথা বল গো।তাহলে এই চল্লিশ বছর কার সাথে সংসার করলাম? এই ছেলে মেয়ে গুলো কার?
দিবাকর কই? ওকে ডাকো তো।
দিবাকর টা আবার কে?
হ্যাঁ গা তুমি কি সিনেমা বানাচ্ছো মনে মনে নাকি।
আরে ভাইপোর কথা বলছি।আমার আবার ছেলে মেয়ে কই !
মানে? অভি তাহলে কে?
মুখ দিয়ে কেমন শব্দ করছে শিবতোষ।ওঠার চেষ্টা করলো।পারলো না পড়ে গেল। এখন বিছানাতেই পেচ্ছাব করছে।
বিমলা কাঁদছে আবার।
রাধা এসো আমার হাত টা ধরো তো। আমায় কলাভবন যেতে হবে। ঋত্বিক আসছে।আমায় নিয়ে ফিল্ম বানাবে।
কলা তো মর্তমান, কাঁঠালি তার আবার ভবন কি। আর শোনো আমি রাধা টাধা নই। কি সব ফালতু বকছ।
শিবু উঠে দাঁড়ালো।পাজামা ভিজে,সেখান দিয়ে জল পড়ছে টুস টুস করে।মানে হিসি।
অভির বৌ পরমা নাক টিপে সরে দাঁড়ালো। আজ অভিকে বলতে হবে হয় বাপ কে ডাক্তার দেখাও,ঠিক কর না হলে আমি আয়ান কে নিয়ে বাপের বাড়ি চললাম।কে থাকবে এই পাগলের সং সারে। ধুর। কোনো সেন্স অব হাইজিন নেই। সারা ঘর এখন নোংরা করবে। আর শাশুড়িও হয়েছে তেমন। কিছুতেই তার হেল দোল নেই। কেবল কান্না ছেলে ফিরলে ,ও অভি কি হবে রে তোর বাপটাকে নিয়ে।
অভি বাড়ি ফিরেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটাই ভালো। আপাতত কিছুদিনের জন্য অন্তত পরমা আর আয়ান পরমার বাপের বাড়ি গিয়ে থাকুক।এর মধ্যে ও দেখছে কি করা যায়।
Symptoms can include not managing self care, and behavioural issues.As a person\\\'s condition declines, they often withdraw from family and society.
রামতনু ওরফে কিংকর ওরফে শিবতোষের কদিন হল ন যযৌ ন তস্থৌ অবস্থা। না এগনো,না পিছনো। এমন অবস্থা আগেও হয়েছে শিবুর সে তখন অনেক ছোট। মার সাথে মামা বাড়ি যাচ্ছিল নৌকা চড়ে। জষ্টি মাস। পথিমধ্যে কালবোশেখী এল। আর কী ঝড় কী ঝড়। আকাশ কালো করে ধেয়ে এলো দত্তি দানো সব। মাঝি ছিল বাবার চেনা হারান মাঝি। হারানকাকু নৌকো মাঝ নদীতে দাঁড় করিয়ে রাখল। বলেছিল তীরে আরো ঢেউ। ডুবে যাবো বৌঠান। মা থর থর করে কাঁপছে ছই এর নীচে গিয়ে সাত বছরের শিবু আর তার দাদা ন’ বছরের হাবু কে ধরে। ঝড় আর থামেই না।মার বুকে মুখ গুঁজে শিবু দেখছিলো ঝড়,নৌকা দোলা, নদীর প্রবল ভয়ানক রূপ। তা প্রায় ঘন্টা খানেক হবে। খড় থামল। চার দিক কি নীরব ও শান্ত। হারান কাকু নৌকো নিয়ে এগিয়ে চলল আবার। শিবু সেদিন খুব ভয় পায় নি। কারণ মা ছিল সাথে। মার আঁচল আর বট গাছ তো একই। কিন্তু আজ বড় অসুবিধে তার। মা কই? কান্না পায় খুব। কাঁদতেই বসল সে। আর যথারীতি বিরক্ত হল আসপাশের ঘরের বাকি লোক যারা। বাকি বলতে অভি আর আর তার মা। অভি তো নেই।অফিস গেছে,বিমলা এসে শাপ শাপান্ত করল খানিক। আর কি বিরক্তিতে বলে ফেলল – এবার মরলে শান্তি পাই। বলেই তার খুব অপরাধ বোধ জাগ্রত হল। আর সেও কাঁদতে লাগল খুব। আর অফিস থেকে ঘরে ফিরে অভি দেখল তার বাপ আর মা দুই জনই হাত ধরাধরি করে কাঁদছে খুব। অভির প্রথমে খুব ভয় লেগেছিল। এখন কেটে গেছে। এবার বকা শুরু করল দুজনকেই। আর হ্যাঁ বাপকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল সেদিন ও। পাড়ার ডাক্তার খানিক ক্ষণ দেখে টেখে গোটা দুই ভিটামিন আর নিউরোসিটাম টনিক দিল। বেরিয়ে আসার আগে অভিকে বলল –অভি মন খারাপ কর না ভাই। এই হল বুড়া বয়সের রোগ। আমার বাপের ও হয়েছিল। না আমরা কিছু চিকিৎসা করাইনি। কি হবে করে।ভীমরতি একবার পেয়ে বসলে সহজে কি ছাড়ান দেয় গা।
It is characterised by loss of neurons and synapses in the cerebral cortex and certain subcortical regions. This loss results in gross atrophy of the affected regions, including degeneration in the temporal lobe and parietal lobe, and parts of the frontal cortex and cingulate gyrus Degeneration is also present in brainstem nuclei like the locus coeruleus
আলো ক্রমে আসিতেছে না। বাতাস ভারি। গলায় চেপে বসছে কী এক প্রবল কষ্ট। পায়ের তলা থেকে বালি সরে যায় কেন। পাখীটাকে ও মারেনি। পাখী দেখা ছিল তার স্বভাব,যেমন সালেম আলির। কত রঙ কত বিচিত্র ডাক।অজয় হোমের বইতে যেমন,ঠিক তেমনই কত পাখীই তো সারা জীবন ধরে দেখে চলা। দাদু মহীতোষ বলতেন পাখীদের দেখো নাতি। কি স্বাধীন বল। এই যে দেশ ভাগ হল আমাদের। প্রাণের বন্ধু রশিদ চলে গেলো ওপারে, আর আমি এপারে জোয়াল ঠেলছি পরিবারের। কষ্ট বুকে খুব। কেবল এই পাখী গুলান কে দেখি ওরাই কেবল স্বাধীন। ওরা ইচ্ছামত পরম প্রতিবেশী,যে আজ পর তার দেশেও,ওতো আমাগোও দেশ ছিল গো উইড়া যায়।আর আমি দু চোখ ভরে দেখতে থাকি। তুমিও দেখো ভাল লাগবে। একটা ধনেশ এর পেছন পেছন দৌড়চ্ছিল শিবু। কোথায় যে উড়ে গেল,কে জানে। শিবু খুঁজতে খুঁজতে এখন সেন বাড়ির মাঠে,যেটা বালির মাঠ ও বলে লোক। এমা নেমে যাচ্ছে কেন শিবু,তল পায় না, নেমে যাচ্ছে,নেমে যাচ্ছে।সন্ধ্যে ঘনিয়ে এসেছে লোক নাই জন নাই।খুব ভয় পেয়ে চীৎকার করছে শিবু বাঁচাও,বাঁচাও। কে শোনে কার কথা। একটু বেশী রাতে শিবুকে উদ্ধার করেছিল মহীতোষই। গলা অবধি বালির নীচে ঢাকা। উফফ। আজও ঠিক তেমনটাই। খুব ভয় করছে ওর। কেউ কোথাও নেই। দাদু কে খুব ডাকছে,কিন্তু দাদু ই বা কই। কে বাঁচাবে ওকে।
Both amyloid plaques and neurofibrillary tangles are clearly visible by microscopy in brains of those afflicted by Plaques are dense, mostly insoluble deposits of beta-amyloid peptide and cellular material outside and around neurons. Tangles (neurofibrillary tangles) are aggregates of the microtubule-associated protein tau which has become hyperphosphorylated and accumulate inside the cells themselves
একটা ছবির মত,ধর পাখী। কাক?
গাছ। পুটুশ?
নদী। নর্দমা?
আকাশ । ধূসরিত পাখসাট।
শিবু সকাল সকাল বেরিয়ে পড়েছিল। আসলে সেই প্রথম সকাল যেখানে আলো আর আঁধার মিশছে,সেই সঙ্গমস্থলে কেমন তো সকাল আর বিকেলের তেমন ফারাক থাকেনা,যেমন থাকেনা আলো আর আঁধারের,সেই তেমন যদি পরিস্থিতি হয়েই যায়। আসলে এটা সকাল,নাকি বিকেল ঠিক ঠাওর করতে পারছেন না শিবু।পার্কের দিকে হেঁটে চলেছেন,পার্ক বন্ধ। কেন? কেউ মারা গেছেন? দাঁড়ালেন। ঘুরলেন পেছন দিকে, না কেউ নেই কোথাও। দু একটা গাড়ি হুস হুস বিটি রোড ধরে। তারাও চলেছে আলো জ্বেলে।তাহলে কি রাত হয়ে গেছে অনেক ? কিন্তু আলো তো এখনো আকাশে। বরং বাড়ছে। তাহলে কি? শিবু? মনে হয় মেঘ করেছিল খুব।এখন কেটে যাচ্ছে। নাতিটা স্কুলে যাবে ।ওকে তো ডেকে দেওয়া হল না। তাহলে কি ওর স্কুল ছুটি ? নাতির নামটা মনে করবার চেষ্টা করল। আমান? জাপান? ধুর… মনে পড়ছে না কেন? ধাঁই ধাঁই করে মাথায় মারলো তিন বার মনে এলো না। এবার নিজের নামটা মনে পড়ে কিনা দেখি? রামতনু।মনে পড়েছে, মনে পড়েছে। নাচছে আপাতত শিবু। আর পদবী? লাহিড়ি? কি জানি।সেটা আবার মনে পড়েনা কেন। ভালো লাগছে না।একে একে লোক জন রাস্তায় বাড়ছে।চায়ের দোকানে উনুন ধরালো । ধোঁয়া উঠছে। চা এর দোকানের বেঞ্চে গিয়ে বসলো। চাওলার এ সময়ের খদ্দের হল জেলে মালারা। ওরা শ্যালদা বা পাতিপুকুর যাবার আগে চা খেয়ে যায়।তাই শিবুকে পাত্তাই দিলো না। শিবু চা চাইল। দোকানের মালিক পাত্তাই দিচ্ছে না। শিবু সরি রামতনু চা দিতে বললেন। মালিক এবারেও পাত্তা দিলেন না। শিবু এগিয়ে গিয়ে মালিকের কাঁধে টোকা মারল। সে একবার ঘুরে তাকালো। - কিছু বলবেন? শিবু হাসল। হাসি কি এমন হয়? কে জানে। লোকটা কিন্তু হাসি দেখে হাসলো না। বলল – সকাল বেলা বৌনি হয়নি বিনি পয়সার ধান্ধায়। দেখে তো মনে হয় ভদ্রলোক। ধান্ধা খারাপ কেন এত? যান তো এখান থেকে। কি বুঝলো কে জানে। শিবু ফিরে চললো।কিন্তু কোথায়?
শিবু বাড়ি ফেরেনি। গেল কই? অভির আজ ছুটি। ঘাঁটছিলো ইন্টারনেট। যদি কিছু পায়। জানতে তো ক্ষতি নেই। যা দেখল তাতে তেমন কিছু আশাপ্রদ পেল বলে মনে হয় না।
how disturbances of production and aggregation of the beta-amyloid peptide give rise to the pathology of is not known The amyloid hypothesis traditionally points to the accumulation of beta-amyloid peptides as the central event triggering neuron degeneration. Accumulation of aggregated amyloid fibrils, which are believed to be the toxic form of the protein responsible for disrupting the cell\\\'s calcium ion homeostasis, induces programmed cell death (apoptosis)
কিংকর ওরফে রামতনু ওরফে শিবু এখন হাঁটছে ফিফথ এভিনিউ ধরে। পাশে পাম গাছের সার হাত ধরে,এ সব রাস্তায় আগে অনেকবার এসেছে শিবুর এমনই তো মনে হল। সিটি হার্ট এ গিয়ে ছোট যে ট্রায়াংগুলার পার্ক ওখানে বসবে, একটা কফির অর্ডার করে গা এলিয়ে দেবে ল্যাশ গ্রিন এ। কিন্তু একি ও তো ঢুকে পড়েছে পাশের বিল্ডিং এ। সোজা উঠে এসেছে ছ তলা।পা গুলো আর নিজের পা নয় কেমন যেন বিচ্ছিন্ন শরীর থেকে।এই যে হাঁপাচ্ছে তাতেও কিন্তু ওর মস্তিষ্কে কোনো ক্লান্তির সিগানিলং যাচ্ছে না। ও এখন যে দরজায় বেল বাজাচ্ছে সেটি এক বাংলা ফিল্মের সেমি নায়কের বাড়ির। বাউন্সার পাহারা দিচ্ছে দরজায়। না শিবু তেমন কিছু করেনি। ওর ফ্ল্যাট তো ছিল আটতলায়।কিন্তু এ বাড়িতে আর কোনো তলা ও দেখতে পারছে না,ছ তলাতেই শেষ।তাই ও এসেছে একটা দড়ি চাইতে।যদি পায়,ও না হয় দড়ি বেয়েই পৌঁছাবে আটতলায়...
আপাতত বাউন্সারের মার খেয়ে শিবু হাসপাতালের বিছানায়। খবর গেছে অভির কাছে,সে আসছে।ইতিমধ্যে শিবু ইঞ্জেকশন দিতে আসা সিস্টার কে বিমলা বলে ডাকছে। আর ডাকছে দাদু মহীতোষকে। ওই লোকটা নিশ্চিত তাকে বাঁচাতে পারবে। বাকিরা এমন তাকিয়ে আছে যেন ও বিদেশী ভাষায় কথা বলছে।

many older individuals develop some plaques and tangles as a consequence of ageing, the brains of people with the disease have a greater number of them in specific brain regions such as the temporal lobe
ধর টেম্পোরাল লোবগুলো ঢাকা পড়ে যাচ্ছে,প্রবল ধূসরতায়।আর কুয়াশা প্রবল। আর সে প্রবল ভাবেই চেষ্টা করছে কুয়াশা সরাতে,প্রাণপন চেষ্টা, এ সময়ে কোনো এক তিব্বতীয় সুর বেজে উঠল। এক পাহাড়িয়া সুর। যা ডাক পাঠায়। আসলে এ নিস্তব্ধতায় সুর আছে,শব্দ নেই।শব্দ আসলে কোলাহলপ্রিয়তা, সুর হল আপনজন, যে ডেকে চলে,বেরিয়ে এসোও...। আর ওর তো কোনো ফগ লাইটও নেই যা জ্বেলে পৌঁছে যাওয়া যায়,কেবল দুহাতে ও সরাচ্ছে পাথরের মত জমাট বাঁধা কুয়াশা। আর যত সরাচ্ছে প্লেক এসে ঢেকে দিচ্ছে সব। আর ও শুনছে তিব্বতীয় সুর।ও মানে শিবু বা দীপঙ্কর। সাল ১০১৩ থেকে ১০১৫। মহীপাল ডাক পাঠিয়েছেন ওকে। বিক্রমশীলা মহাবিহারের দায়িত্ব নিতে। ও না করেনি,বাংলাদেশের বিক্রমপুরের মুন্সিরগঞ্জ থেকে মালয়েশিয়া ঘুরে সে পৌঁছল ভাগলপুর,বিহার। ও নয়াপাল কে শেখাচ্ছিল মেডিটেশন। মহীপালের এ পুত্রটি ও অত বড় রাজা হলে কি হবে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলছিল তার উপদেশাবলী। লক্ষ্মীকর্ণের সাথে তার যে প্রবল শত্রুতা আর থেকে থেকে যুদ্ধের সম্পর্ক তা শেষ হল,কারণ শান্তি ক্রমে আসিতেছে,আর নয়াপাল তা গ্রহণ করছে অক্ষরে অক্ষরে। তিব্বতরাজ লাহ লামার কাছে পৌঁছেছে এ খবর। তিনি ডাক পাঠিয়েছেন। দীপঙ্করের বয়স হয়েছে। কোথা থেকে জার্নি শুরু করে আজ সে কোথায়,কোথায় একমনে পড়াশুনা,আর মেডিটেশন ভগবান তথাগতর প্রদর্শিত পথে তা’না আবার ডাক। দীপঙ্কর রিফিউজ করেছেন। বলে দিয়েছেন যাবেন না তিনি। কিন্তু সে নয় বোঝানো গেল লাহ লামাকে,কিন্তু তার মৃত্যূর পর তো সিংহাসনে ভাইপো চ্যাং চুব। সে তো আবার ডাক পাঠালো। সেটা কি করে রিফিউজ করে দীপঙ্কর,অগত্যা জার্নির শুরু। দীপঙ্কর শুরু করল যাত্রা,রক্সৌল পৌঁছতে কষ্ট হয়নি মোটেই।এতো কোনো ভোগীর জীবন নয়। ত্যাগী মানুষ পারে ঠিক। নেপালে কদিন কাটল রাজকীয় অভ্যর্থনায়। আবার শুরু করল যাত্রা,এবার তিব্বতের উদ্দেশ্যে। এ তো নিছক কোনো যাত্রা নয়,তিব্বত যাত্রা। স্বয়ং ঈশ্বরের বাস সেখানে। যে কেউ পৌঁছতে পারে? উহু,পারে না। প্রয়োজন ধৈর্য্যের। মাথা ঠান্ডা রাখার। আর প্রবলতম কুয়াশায় ঘিরেছে পথ। পথ ভুল হয় প্রায়ই। মনে পড়ে যাচ্ছে মহাপ্রস্থানের পথে আগুয়ান যুধিষ্ঠিরের কথা। আসলে জানো কুয়াশাই। কুয়াশা সরলে রোদ আসে এ কথা যেমন সত্য,তেমনই এই কুয়াশা সরানোও এক কঠিনতম কাজ। প্লেকস এর আতিথ্যে যেমনটা শিবুর ব্রেন এর অবস্থা। তাই সে কিঞ্চিত দূর্বল। কিন্তু মনের সাহসও তো আছেই। নইলে কি করে হেঁটে এলো এতগুলো পথ। কিন্তু মাথার মধ্যে এখন শুম্ভ-নিশুম্ভের লড়াই। শিবু বলেই চলে কত কথা। চুং চ্যাব কে ও আর কিছু জানায়নি আর জানাবেই বা কি করে । তবু যাবে ও। আপাতত পাখী হুস। আপাতত পাখীর ওড়া দেখে গন্তব্যের দিক নির্দেশ। ও সাথে নিয়েছে তার ভুলু কুকুর কে,যেমনটা যুধিষ্ঠিরএর সাথী ছিল এক কুকুর। শিবু ডাকছিল ভুলু কে আয় আয়। কারণ ভুলু তো পিছিয়ে যায় অনেকটা থেকে থেকেই। তবু তাকে নিয়েই তো পেরোতে হবে এ মহাপ্রস্থানের পথ। লাইফ ইজ আ জার্নি,ফিনিশ ইট। ফিনিশ কি হয় গা। শিবু ওরফে দীপঙ্কর এখন ডেকেই চলেছে ভুলুকে। আর কেউ না শুনুক এ ডাক শুনেছিল বিমলা। - আজ কি তাহলে কুকুর ডাকা? শিবু উত্তর করেনি। সব কথার উত্তর যে করতে নেই। ও কেবল হাসল। আর বিমলা শুরু করল কাঁদতে প্রবল। ছেলে কে ফোন করে সব বললেন বিমলা। শিবু ক্ষ্যান্ত দেয় নাই। সে নেড়ে চলেছে পা,ডেকে চলেছে ভুলুকে। আসলে এও তো এক মহাপ্রস্থান। নইলে কি করে এসে জুড়ল ভুলু,প্লেকসরা ও চলেছে অনেকটা মেঘের মত তার সাথেই,মাঝে মাঝে ঢেকে দিচ্ছে শিবুর আকাশ। আবার রোদ উঠছে।
no cure for disease; available treatments offer relatively small symptomatic benefit but remain palliative in nature. Current treatments can be divided into pharmaceutical, psychosocial and caregiving.
শিবু লেফট রাইট লেফট। যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধটা আসলে চলে,চলতেই থাকে। একটা পাখীও উড়ে চলেছে ওরই সাথে,ওকে শৈশব বলে ডেকো। মন যখন স্ফটিক স্বচ্ছ শরীরে যখন নব কিশলয়ের আমোদিত সৌরভ,সে উড়ে চলে নতুন কোনো দিগন্ত সন্ধানে। এই শিবুও ওপরের দিকে তাকায়,মাঝে মাঝে উড়ে আসে প্লেকস,ট্যাঙ্গল এর মেঘ, সরে গেলে দেখা দেয় নীল আকাশ, আর নীলকন্ঠ শৈশব পাখী। শিবু হাত নাড়ে। ডানা মেলে তিব্বত পৌঁছতে হবে। মানস সরোবর,ওখানে সবাই অপেক্ষা করছে, পাহাড়িয়া সুর কানে আসছে, চোখ দিয়ে নেমে আসছে অশ্রু বিমোহিত শ্রাবণ,ইটস আ জার্নি,জার্নি টুওয়ার্ডস ইটারনিটি। মা গো মা এ কেমন বেঁচে থাকা,শান্তি দাও, সুখ তো পড়শীগৃহের ঈর্ষার কারণ।শান্তি দাও। প্লিজ। মাথার বালিশ ভিজে মন্ড। শিবু উঠে বসছে। অন্তত চেষ্টা করছে।
আজ সকাল থেকেই কেমন একটা গোমড়ামুখো আবহাওয়া। যেমনটা হঠাৎ কারফিউ বা বনধ হলে হয় লোকজনের। মুখ থমথমে। আজ খুব অস্থিরতা। শিবু এখন বলতে চাইছেন কথা,র‍্যাদার অনেকক্ষণ ধরেই,আজ পিসতুতো দাদা এসেছে দেখা করতে,পিঠোপিঠি বয়স,আনন্দ নগরের ছোটবেলায় ওরা একসাথে কত কি করেছিল। আচার চুরি,বই চুরি,সাঁতার কেটে পুকুরের এপার-ওপার। আজ ও মনোতোষ আসার পর থেকে শিবু পুকুরে নেমেছিল তাকে নিয়ে। দিব্যি সাঁতার কাটছিল দুজনে। হঠাৎ যে কী হল মনা চলে গেল ওপারে,আর শিবুর পা জড়ালো পানায়, শিবুও তো পাকা সাঁতারু। কিন্তু এক একদিন হয় না,কিছুতেই পা অসাড়,হাত অসাড়। আর এগোতে পারছেই না, পানকৌড়ি গুলো দিব্যি আসছে জলের নীচে ডুব মারছে,ভাসছে,শিবুকে দেখে ভয় ই পায় না। শিবু এক জায়গাতে দাঁড়িয়েই পা থেকে পানা সরানোর চেষ্টায়। অনেকক্ষণ হল আর পারছে না শিবু,এবার এলিয়ে যাচ্ছে শরীর,ডুবে যাচ্ছে নীচে পুকুরের নীচে। মনা ডাকছিল –‘এই শিবু ভাই আমার কি বলছিস? এই তো আমি।তাকা আমার দিকে’ শিবু তাকালো,হাসল। এখন শিবুর সাথে পুকুরের নীচে দেখা হয়েছে রুমার। সেই যে সেই দত্ত বাড়ীর রুমার, যাকে শিবু ভালবাসত। কিন্তু কি জানি কেন রুমা পুকুরে স্নান করতে গিয়ে আর ওঠেইনি। আজ ওর সাথে দেখা পুকুরের নীচে। রুমা মারমেড হয়েছে এখন,কি সুন্দর দেখতে ঠিক যেন আগের সেই রুমা। জলের নীচে থাকে তো,তাই গায়ের রঙ কী ফর্সা এখন। কেবল একটু আঁশটে গন্ধ। গায়ে। রুমা এগিয়ে এসে হাত ধরেছে শিবুর,শিবুর মুখে হাসি। - ‘এই শিবু হাসিস ক্যান বলতো’। শিবু বলতে গেল – রুউউউউউমা, শব্দ বেরুলো না। গলা দিয়ে একটা ঘড়ঘড়ে শব্দ। অভি বলেছিল তার মনা জেঠু কে বাবা আর কোনো শব্দই ঠিক করে বলতে পারছে না,তাই মনা পরখ করতে জিজ্ঞেস করল,’তোমার নামটা একটু বলতো ভাই আমার,দেখি কেমন পারো’। শিবু বলতে গেল রামতনু লাহিড়ি,বেরুলো – রররররর।চেষ্টা করছে।খুব চেষ্টা,পারে কই।মনা হাত ধরলো শক্ত করে,’বল পারবি ঠিক চেষ্টা কর,ঠিক পারবি’শিবু আপ্রাণ চেষ্টা করছে – কিংকর বলতে,পারছে না কিছুতেই। ককককক...। মনা মুখের কাছে মুখ নিয়ে এসেছে,শিবুর মুখ দিয়ে লালা গড়াচ্ছে গড়াক, \\\' ভাই বল ঠিক পারবি’। দীপঙ্কর অতীশ বলতে গেল। এবার পেরেছে বলল – অ তিইইইইইইইইইশ। এবার হাসি ফুটেছে মুখে। মারমেড রুমাও খুব হাসছে। মনার মুখ কালো হল। সরে গেল।
At the advanced stages, the patient is completely dependent upon caregivers Language is reduced to simple phrases or even single words, eventually leading to complete loss of speech Despite the loss of verbal language abilities, people can often understand and return emotional signals. Although aggressiveness can still be present, extreme apathy and exhaustion are much more common symptoms. People with Alzheimer\\\'s disease will ultimately not be able to perform even the simplest tasks independently; muscle mass and mobility deteriorate to the point where they are bedridden and unable to feed themselves.
বিকেলে ঈশ্বরচন্দ্র এসেছিলেন বর্ণ পরিচয় নিয়ে। অনেক চেষ্টার পর তিনি ফিরে গেছেন। ঈশ্বরচন্দ্রের এমনটা স্বভাব নয়,তবে এত কাজ তার এখনো বাকি,যে এক জায়গায় বসে থাকলে তার চলে না। হ্যাঁ ডাক্তারও এসেছিল। মুখ গোমড়া করে তিনিও ফিরে গেছেন অ্যাডমিশনের কথা বলে। অভির মুখ আরো কালো। বিমলা কেবল কাঁদতে কাঁদতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আজ ফ্রাইডে,কাল পরশু স্কুল ছুটি।তাই আয়ান ও এসেছে তার প্রিয় দাদাই এর কাছে। শিবু আয়ান কে চিনতে ভুল করেনি মোটেই। ‘দাদাই...’ বলে ডাক পাড়তেই শিবুর দিল খুশ। শিবু আজ এই রাত আটটার সময় ঠিক তিন দিন পর উঠে বসলেন। ঠিক পাশটিতে আয়ান। আয়ান জিজ্ঞেস করছিল দাদাই আজ একটু ক্যারাম খেলবে? না না থাক। কার্ডস? গাধা পেটা পিটি খেলবে? শিবু মাথা নাড়ল। আয়ান এক দৌড়ে কার্ডস নিয়ে এসেছে। খেলছে শিবু। ভুল করছে। আর আয়ান বকছে খুব। ‘দাদাই ইউ আর ভেরি মাচ এবসেন্ট মাইন্ডেড টুডে। আই উইল স্ক্লড ইউ’। শিবু হাসছে বকা খেয়ে। চা এনে দিলেন বিমলা, বিমলা কে ইশারা করল,বাকিদের চা দিতে। বিমলা বলল আর কাকে দেব? নাতি কি চা খায়? বুদ্ধি শুদ্ধি পুরো লোপ পেল গা। হাত দিয়ে দেখালো না না আরে পাশে তো আরো তিন জন বসে,কিচ্ছু খেয়ালই করে না। বাম পাশে বসে বাবু রামতনু লাহিড়ি, সামনে রামকিংকর, আর ডাইনে ঠিক ঘাড়ের কাছেই বসে দীপঙ্কর অতীশ।শিবু শুধু আয়ান এর সাথেই নয় তাস খেলছে ওদের সাথেও। তাস খেলা শেষ হলে ওরা বসবে জরুরী বৈঠকে। কাল ভোরে ওদের বেরুনো। এক সাথে। কিংকর নেবে ছেনি হাতুড়ি,রামতনু বই আর দীপঙ্কর অতীশ নেবে দড়ি,লাঠি,বাইনোকুলার। ওরা কাল যাচ্ছে পর্যটনে। সিদ্ধান্ত নেওয়া যা বাকি তা হল ওরা শুরুটা কিভাবে করবে, স্থল না জলপথে।

Ultimately, plaques and tangles spread throughout the brain, and brain tissue shrinks significantly. Near the end, the person may be in bed most or all of the time as the body shuts down.
এত মেঘ আর মেঘ না’কি কুয়াশা ঠিক ঠাহর হয় না। শিবু রাত থাকতে উঠেছে। ব্রাশ করেছে। আসলে অনেকদূরের পথ। যেতে হবেই যখন আর দেরী করে লাভ কি। মারমেড রুমা ডেকে দিয়েছিল ঘুম থেকে। শিবু বাথরুম গেছে দেওয়াল ঘষে ঘষে। নাইট ল্যাম্পের আলোয় এতদ অঞ্চল বা ফ্ল্যাটকে এখন ভূস্বর্গের মত দেখতে লাগছে। ১৪১৪০ ফিট উঁচু এই সিল্ক রুট ধরে সোজা হাঁটলেই লাসা,তিব্বত। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ। তাই থামতে হবে। এই অঞ্চল দিয়ে এক সময় নিয়মিত ব্যবসা বাণিজ্য হত ভারত চীন আর তিব্বতের মধ্যে দিয়ে। ৫৬৩ কিমি অঞ্চল জুড়ে প্রবেশাধিকার নেই কারোর। যেতে গেলে পারমিট করানো জরুরী। সাথে দীপঙ্কর আছে সেটাই বাঁচোয়া। কিংকর এর আবার হাঁপানির সমস্যা।তাই সে থেকে থেকে দাঁড়িয়ে পড়ছে। ঠান্ডা তো খুব। রামতনুও কাতর প্রায়। কেবল ঠিক ঠাক লাগছে, শিবু আর দীপঙ্কর কে। কুয়াশা ঘেরা পুরো অঞ্চল। ওক, ম্যাপল,রডোডেন্ড্রন ওরা বেরিয়ে পড়েছে অনেকক্ষণ, বেরুনোর আগে শিবু কেবল একবার আয়ান আর বিমলার দিকে তাকিয়েছিল, মায়া রেখে কি পথ চলা যায়। এতো এক জার্নি। ভূস্বর্গে যাচ্ছে সাথে এমন সব কাল্ট মানুষ যারা স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। শিবুই কেবল তেমন কিছু নয়,হাইকোর্টের পাতি কেরানি ছিল। সামনে কুপুপ লেক। এখনো বরফের চাদর ঢাকেনি। শিবু বায়না ধরল স্নান করবে। আসলে মারমেড রুমার সাথে ফাইনালি দেখা করবার ইচ্ছে। কিংকর বারণ করবার লোক নয় করেনি। রামতনু নিজে অনেক নিয়ম ভেঙ্গেছে বটে তবে বয়স হয়েছে তো সেই বারণ করল। দীপঙ্কর অন্যমনস্ক। শিবু নেমে গেল। জলে।কন কনে ঠান্ডা। কিন্তু শিবুর এত ঠান্ডা লাগছেই না। সে দিব্যি আছে। রুমার সাথে দেখাও হয়ে গেল। রুমাই বুদ্ধি দিল চল ওরা যাক পাহাড় ভেঙ্গে,তুমি আর আমি সাঁতার কেটেই যাব। পাশে রাখব জেলেপ্লা পাসকে।ঠিক পৌঁছে যাব।ওমা ফুর ফুরে শরীর দিব্যি সাঁতার কাটছে ওরা দুজন, এগিয়ে যাচ্ছে তর তর করে,ওরা হাঁফায় হাঁফাক। এই বার ওরা প্রবেশ করছে না ভারত না চিন এক মধ্যবর্তী অঞ্চলে,আর কেমন জানি তল নেই,আর হাত পা ভারি,রুমাও ভ্যানিস,জায়গাটা হতে পারে সিরিয়া আর বা টার্কির মধ্যে কোনো এক অঞ্চল,এখন শিবুকে আশ্রয় দেবে কে? ইরাক? ইজিপ্ট? জর্ডন? ফ্রান্স? জার্মানি? ...
কিন্তু শিবুতো তল ই পাচ্ছে না, কুমীর ডাঙা খেলতে নেমে এ কি বিপত্তি। উফফ। দীপঙ্কর কে দেখা যায় না,কিংকর ও নেই,রামতনু ও বিচ্ছিন্ন। বিমলা ঘুমাচ্ছে,বিমলার কোল ঘেঁষে আয়ান। অভি সকালে আসবে।মনা তো নেইই। এমন কি রুমা ও পালিয়েছে। শিবু ডাকছে একে একে সক্কল কে। কেউ শুনতে পাচ্ছে না কিচ্ছু। কুয়াশা চেপে বসছে। বাথরুমের কল খুলে নর্দমা গুলো বুজিয়ে দিয়েছিল শিবুই। এখন আর বাথরুমের দরজা খোলে না। আর শিবু কুপুপ কিম্বা বাথরুম কিম্বা সিরিয়া থেকে রওয়ানা দিল কোনো এক ত্রান শিবিরের উদ্দেশ্যে।

ঋণ - দেখি নাই ফিরে - সমরেশ বসু
রামতনু লাহিড়ি ও তদকালীন বঙ্গসমাজ
Atiśa Dipankar Srijnan: Eye of Asia by Deba Priya Barua
GOOGLE -Alzheimer\\\'s disease - Wikipedia, the free encyclopedia