কোথায় হারাল আহা সেই উপত্যকা !

যশোধরা রায়চৌধুরী


কে না জানে যে নারীমাত্রেই পুরুষের ব্যবহারের জন্য তৈরি। শৈশবে মায়ের রোল প্লে করার জন্য, যৌবনে প্রেমিকার, আর বার্ধক্যে অন্ধের যষ্টি সেবিকা-কন্যার । মা আর কন্যার কেস জটিল, কেননা দায় থাকে, ভালবাসা এট সেটেরা। তবে প্রেমিকা তো ইউজ অ্যান্ড থ্রো। বিয়ে করে নিলে আবার জটিল। কেননা তখন যা হবে, সব খারাপ।
খারাপ নয়? বলেন কি? আজ সকালে যেকটা ওয়াটস্যাপ জোক পেয়েছেন, তার কটার মধ্যে স্বামী ইস্তিরির সম্পক্কোর ওপর টিপ্পুনি পেলেন? ৯৯%। হ্যাঁ, ওই একটি সম্পর্ক ভেঙ্গে রামায়ণ মহাভারত ইলিয়াড ওডিসি।
সবই উপত্যকার আধিপত্যের গল্প। আরে বাবা উপত্যকা বুঝলে না? আধিপত্য বিস্তার করবেন, তাই আর্যরা এসেছিলেন গাঙ্গেয় উপত্যকায়। সেই ট্র্যাডিশনের গোড়ায় জল ঢেলেছি আমরা আড়াই হাজার বছর। আপাতত সেই কাশীও নেই সেই কাঞ্চীও নেই। সেই নারীও নেই সেই আধিপত্যও নেই। মেয়েরা এখন সর্বত্র মারকুটে, খেঁকুরে, এমনকি তারা নিজেদের অঞ্চল থেকে পোস্টকার্ডও পাঠাচ্ছে!!! উফফ। আর পারা যায় না।
ফলত নো ম্যানস ল্যান্ড তো হয়েই গেল জায়গাটা। কী আর করা। লেডিস ট্রেন বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে ওদের “সংরক্ষণ” করতে, আর সেই ট্রেনে উঠলে ওরা পুরুষদের মেরে তাড়াচ্ছে, চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলেও দিচ্ছে। এই মারকুটেপনাটা ওরা অবিশ্যি শিখেছে পুরুষদের থেকেই। যদিও সব্বাই জানে সেই পুরাকালেও কালী তারা মহাবিদ্যা এই সব মা দুগ্‌গার অবতারেরা মারকুটেই ছিল। গন্ডা গন্ডা অসুর মারত। বছরে দশবার ধরে তাদেরই পুজো করা হচ্ছে, মহিলারা বর্শা গিঁথে দিচ্ছে পুরুষ অসুরদের বুকে, এই দৃশ্য দেখে দেখে আমরা অভ্যস্ত। তাই বলে সংসারে, বাসে ট্রেনে সর্বত্র ওইভাবে মারে? ছিঃ । মানবাধিকার কমিশন কী বলবে?
উপত্যকা যতদিন করায়ত্ত ছিল, উপনিবেশ যতদিন অধীনস্থ ছিল, ততদিন ছিল মহা মজা। সব্বাই মিলে গৃহবধূর ওপর চড়াও হও, গায়ে কেরোসিন ঢেলে পোড়াও। ও মা , কোত্থেকে কী সব বাজে বাজে আইন এসে হাজির হল। ৪৯৮ এ ধারা না কী একটা। অমনি শুরু হয়ে গেল অপব্যবহার। ছিরকুটে মেয়েরা আর মেয়ের বাবা মায়েরা নখ দন্ত নিয়ে নেমে পড়ল পুরুষদের ওপর অত্যাচার করতে।
তা, আপাতত আর কোন পথ নেই। মেয়েরা এখন নিজেদের এলাকাটা একেবারে গন্ডি কেটে আলাদা করছে যে! আহা, ওই পন্ডিতগুলোরও খেয়ে কাজ নেই। ওদের তাতিয়ে দিতে, আরো আরো লিখতে লেগে গেছেঃ

“জীবের সঙ্গে জীব মিলে মিশে যে ডাঙায় জীবনের যৌথতা চালায় সেই চলাচলের ক্ষেত্রই ‘অঞ্চল’। আলাদা এক খন্ড ভিটেমাটি বলে সে ডাঙাকে যদি চাক্ষুষ চেনা না যায়, তাহলেও। যে কোন অঞ্চলেরই ন্যূনতম একটা আত্মশক্তি চিহ্নিত সার্বভৌমতার দরকার থাকে।
যেমন ধরুন নারীবাদ যে সম্ভব হচ্ছে তার কারণ, মেয়েরা এই অর্থে একটা অঞ্চল। তাঁরা যে আলাদা কোনো ভূখন্ডে থাকেন না, পুরুষদের সঙ্গে এক বারিতে এক পাড়ায় এক দেশেই থাকেন, সেটা নারী অঞ্চলের সংহতির অন্তরায় নয়। নারী অঞ্চলের স্বাতন্ত্র্য চাওয়া মানে ছেলেদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো ভূমিতে থাকতে চাওয়ার অলীক কল্পনা নয়। মেয়েদের স্বাভাবিক স্বপ্নের পুরোন দাবিরই পরিস্ফুট রূপ। যে পরিস্ফুটনের ধরণটা অধুনান্তিক পর্বের আঞ্চলিকতার লক্ষণে চিহ্নিত। “ (প্রবাল দাশগুপ্তের “অধুনান্তিক এলাকা” প্রবন্ধ থেকে)
তো, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত মেয়েদের হাতে এইসব অস্ত্র তুলে দেওয়ার কী যে অর্থ? আরো বেশি বেশি করে লেখার মধ্যে দিয়ে মারকুটে হয়ে নিজেদের অঞ্চল বিভাগ, সীমানা নির্ধারণ করছে মেয়েরা। যা হোক, করুক গিয়ে, কিন্তু ওরা যেই “আমাদের এলাকা” বলে ভাগ করে দিল, অমনি তো সেটাই হয়ে গেল এক একটা লেডিজ স্পেশাল ট্রেন, তাই না? অমনি বোঝা হয়ে গেল, ওখান পুরুষের প্রবেশ নিষেধ।
যেন বা ওটা লেডি সঙ্গীত পার্টির সেই অসভ্য অসভ্য মেয়েলি আচার, বিয়ের আগে গো বলয়ের হিন্দি ভাষী মেয়েরা যেটা করে , ছেলেদের ঢুকতে না দিয়ে নিজেরা ভাবী বধূটির কানে পুরুষসঙ্গ , স্বামীকে দাবিয়ে রাখা , মেয়েদের সম্বন্ধে নানারকম বিতিকিচ্ছিরি যৌনরসিকতা ঢেলে দেয়। বলে, এটা মেয়েদের নিজস্ব ব্যাপার।

কিন্তু সেই লেডিজ মার্কা কাজগুলোকে আবার শিল্প বলতে হবে? বলে দিলেই হয়, “বুঝিনা!” বল্লেও হয়, ওই এলাকায় আমার প্রবেশাধিকার নেই। তাহলেই চোকে, আর কোন দায় নিতে হয়না।
উরিব্বাস, তাহলেও “নীরবতার রাজনীতি” না কী যেন বলে নারীবাদীগুলো তেড়ে আসছে। এভাবেই নাকি প্রতি যুগে মেয়েদের যা কিছু অ্যাচিভমেন্ট সেগুলোকে খেলো আর খাটো করে দেখানো হয়েছে। কই , মারী ক্যুরি যে আবিষ্কার করলেন, সেটাকে আমরা খেলো করেছি? বা কাদম্বিনী গাঙ্গুলি যে ডাক্তারি করেছিলেন সে লাইনে প্রথম মহিলা হয়েও, তাঁর নামও তো মনে করে রেখে দিই। শুধু, উকিলবাবু যাঁরা, আমাদের মধ্যে , জজ ম্যাডামকে নিয়ে হেসে বলে ফেলি, কী আর আরগুমেন্ট করব, ওই তো মহিলা জজ। অথবা অফিসের কেরানিরা, চোখ ঠেরে, মোবাইল ফোনে ছবি তুলি মহিলা বসের, যখন পিকনিকে উনি হিন্দি ছবির গানের সঙ্গে নাচছিলেন। বাব্বাঃ কত ঢং। এদিকে তো বসগিরির খুব শখ। দাবড়ে কথা বলেন।
তখন আমরা ভাবি, একটু ক্ষমতা হাতে পেলেই মহিলারা সব মাথায় চেপে বসেন। পটাপট খুন করে দেন এমনকি নিজের ছেলেমেয়েদেরও। সফল মহিলা তো, করতেই পারে। অনেকগুলো বিয়ে, অনেকগুল সম্পর্ক। যাদের সঙ্গে সম্পর্কটা করে তারা, তারা অবিশ্যি পুরুষ, কিন্তু পুরুষদের তো এসব দোষ ধরতে নেই কিনা! আর মেয়েটা, মেয়েটা, মা হয়ে কী করে পারল বলুন তো?
আচ্ছা পুরুষ খুনি হতেই পারে, তা বলে মহিলাও খুনি হবে? আবার তার ওপর যে মহিলার চরিত্র খারাপ, অনেক বয়ফ্রেন্ড অনেক বিয়ে, আর যে, আজ্ঞে হ্যাঁ, জীবনে সফল?
জীবনে সফল হলেই মহিলারা সব ব্যর্থ মা , এই মডেলটা খুব খুব প্রমাণিত হয়ে গেল, এটা বড্ড সুখ দিয়েছে ভাই, আমায়।
ওই মাতৃজাতির অবমাননা তথা , কেরিয়ার ওয়োম্যানটিকে দেখিয়ে, আমি বলতেই পারি, ওই দেখো, ওই মেয়েটার নাম নো ম্যান্স ল্যান্ড। ওর কোন ঠাঁই নেই। না স্বর্গে, না নরকে। ও ঘুরে মরবে ত্রিশঙ্কু হয়ে, মহাপাতকী কিনা!
ওই কবিটিকে দেখিয়ে, আমি বলতেই পারি, ওই কবির সব লেখাই তো মেয়েদের লেখা। আর মেয়েদের লেখার ব্যাপারটা একেবারেই , ইয়ে, মানে আলাদা। আর সেখানে তাই পুরুষের প্রবেশ নিষেধ। যা লিখল, লিখল, পড়ার দায় কারুর নেই। যদি ক্ষ্যামাঘেন্না করে কেউ পড়েও, তা থেকে একটা কুয়োর মত চাপা মেয়েজগতকেই খুঁজে পাবে শুধু। আর কিচ্ছু নেই । এদের না আছে অভিজ্ঞতা, না আছে বড় মাঠে ফুটবল নিয়ে ছোটার মত ধক। ছোট্ট একটা চৌহদ্দির মধ্যে ঘুরে বেড়ায় এরা।
আবার আমরা এগুলো বলব জেনেই অনেক মেয়ে কষ্টে সৃষ্টে ছেলেদের মত করে লিখছে আজকাল। নিজেকে ছুপা রুস্তম করে রাখার চেষ্টায় আছে। কেন থাকবে না, জানে তো, মেয়েলি লেখা মানেই আমাদের দূরে সরানো। তাই আমাদের মাঝে ঠাঁই পেতে ওদের চেষ্টা করতেই হয়, আমাদের বয়ানে লেখার। তারই ভেতর আবার কেউ কেউ উপদ্রুত অঞ্চলের কথা ঠুশে দেয়, যেভাবে স্মাগলাররা আস্তিনের ভেতর লুকিয়ে নিয়ে যায় নিষিদ্ধ ওষুধের পুরিয়া।
জানে তো, পোস্টার লিখলেই ধরা পড়ে যাবে। আর নিক্ষিপ্ত হবে ঐ নো ম্যান্স ল্যান্ডে। তাই পোস্টার নয়, বরং নীরবে পাঠানো পোস্ট কার্ড লেখে তারা। নারীদের জগৎ, যে জগৎ পুরুষনারী অধ্যুষিত এই বড় জগতটার মধ্যেই জায়গা করে নিয়ে চুপিচুপি মুখ লুকিয়ে বেঁচে বর্তে আছে, ঠিকই; যে জগৎ বয়ে যাচ্ছে এই বৃহত, ইতিহাস-লেখা , পলিটিক্স করা, নেতা-পুলিশ-আমলা-জনগণ সর্বস্ব খুব চীৎকৃত দুনিয়ার তলায় তলায়, কলপাড়ে, রান্নাঘরে, বারান্দায়, বাথরুমে, কুয়োতলায়, শোবার ঘরে, যে যে স্থলে সে দুনিয়ায় ঘটে যাচ্ছে নানা নীরব চীৎকার, কষ্ট, ঝগড়া, মনখারাপ, জ্বালা যন্ত্রণা, আর, মধ্যে মধ্যে গল্পের পর গল্প ...। যে জগতে পুরুষ আছে, পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক আছে, আবার পুরুষহীনতাও আছে, তার নিষ্কৃতিও আছে, তার কষ্টও আছে, কিন্তু সবকিছুর তলাতে তলাতে আছে নারীর সঙ্গে নারীর সম্পর্ক, জড়াজড়ি করে আছে নারীত্বের নাড়ীর টান, তেতো কষায় তীব্র আবেগী আবার নিস্তেজ হয়ত, সেই যোগগুলো , সবসময়ে চোখে পড়েনা, কখনো কখনো পড়ে। যখন আবহমান কালের পরাজিত মেয়েরা একজায়গায় হয়, তখন একটু বেশি করেই পড়ে...
ওই কেয়া চক্রবর্তী নামের এক অভিনেত্রী, যাঁর মৃত্যুকে ঘিরে আবার বেশ হৈচৈ শুরু হয়েছে, ছবিটবি হচ্ছে, ওঁর একটা কথায় চোখ আটকে গেল আমার। লেখাটা যেন এক, নো ম্যান্স ল্যান্ড থেকে লেখা পোস্ট কার্ড। “অজিতদা বলেছিলেন, ‘অভিজ্ঞতার পরিধি বাড়াও। জীবনকে, মানুষকে যত জানবে, অভিনেত্রী হিসেবে তত বড়ো হবে। ‘যাই ভাত বেড়ে দিই দেওরকে। অজিতদা, কী করে অভিজ্ঞতার পরিধি বাড়াব? সামান্য আকাদেমি অফ ফাইন আর্টস থেকে রাত করে ফিরতে মানা আমার। সংসার বসে আছে। অভিজ্ঞতার পরিধি বাড়ানো মেয়েদের কে চায়? চাহিদা না থাকলে জোগান দেব কাকে? তা ছাড়া সময় কই? সুতরাং আমি, মিসেস আর পি সেনগুপ্ত, এঁটো পেড়ে, চায়ের বাসন ধুয়ে , সোজা স্টেজে চলে যাব। “
লেখাটা কেন যেন সপাং করে এসে মুখের ওপর পড়ল। যেমন কটা দিন আগেই পড়েছিল একটা কবিতা, ইংরিজি কবিতা। বেশ প্রাচীন অবিশ্যি, ভাষাটাও পুরনো পুরনো। আবেগটাও ধামাচাপা গোছের। তবু ধামার ভেতর থেকে ফুটে বেরোচ্ছিল আগুন।
কবির নাম, এডনা সেন্ট ভিনসেন্ট মিলে ( ১৮৯২-১৯৫০)


আমি যখন তাকিয়ে ছিলাম তোমার মুখের দিকে
সেখানে ছিল কত অবাধ সপাট উজ্জ্বলতা...
ছিল খানিক কুয়াশা , ওই ঝলমলানির থেকেই
তোমার ভয়ঙ্কর সে রূপের বিপুল অসহ্যতা ।
মুখ ফেরাই অনিচ্ছায় ও-আলোর থেকে, স্বামি!
ডুবেছি ভ্রান্তিতে, আর মনেও আতান্তর
চোখ-ধাঁধিয়ে-অন্ধ একটা আবোলতাবোল আমি -
অনেকক্ষণ সূর্যপানে চেয়ে থাকার পর।

তারপরে ফের দিনগত পাপক্ষয়ের ঘর
ছোট্ট, ফিরে অনিশ্চিত, কাটাই খানিকক্ষণ
দুর্ভেদ্য আবছা ধোঁয়া অন্ধকারের সর
চারপাশে, আর জিনিষগুলোও অচেনা অচেতন -
হাতড়ে হাতড়ে ঘরের মধ্যে, হাঁটার এবং থামার
যতক্ষণ-না চোখ সয়ে যায় অন্ধকারেই আমার।
(‘আমি যখন তাকিয়ে ছিলাম তোমার মুখের দিকে’-সনেট)

ওই যে এডনার কথা, সেই কথাটার মোদ্দা মানেটা তো ঐই... মেয়েদের এলাকা, সেটা খুব চাপা বদ্ধ ছোট্ট একটা ঘর। সেখানে সব কিছুই আধো আলো আঁধারে । তাই জোরালো আলোয় কী করে আসবে মেয়েটি। এলেই তো চোখ যাবে ধাঁধিয়ে। তাই সে আসে না। অন্ধকারে চোখ সইয়েই সে কাজ করে। আর যদি সে কখনো বাইরে বেরোয়? তাহলে যেটা হয় সেটা আর এক মেয়ে কবি, বুলগেরিয়ার ব্লাগা দিমিত্রোভার লেখা ওই “একলা মেয়ে, রাস্তায়” তেই বলা আছে, হুবহু।
সত্যিই ঝুঁকির , অসুবিধের ব্যাপার এটা।
এ ‘পুরুষের’ পৃথিবীতে ।
অবাস্তব সব মোলাকাতের আক্রমণ
প্রতিটি বাঁকের মুখে।
সড়কেরাও কৌতূহলী চোখে বিঁধে দিচ্ছে
তোমায়।
তুমি একাকী নারী, রাস্তায় ।
তোমার একমাত্র প্রতিরোধ
তোমার প্রতিরোধহীনতাই।

কোন পুরুষকে তোমার ক্রাচ
করে নাওনি।
গাছের গুঁড়িতে ভর দাও।
দেওয়াল তোমাকে ঝড় থেকে বাঁচাক।
একা রাস্তায় নেমেছিলে
তার সঙ্গে সমানে সমানে মিলবে বলে
তাকে সত্যিকারের ভালবাসবে বলে।

তুমি কি নিজের গন্তব্যে পৌঁছবে,
না কি কাদামাখামাখি হয়ে পড়ে যাবে?
চোখ ধাঁধিয়ে যাবে দৃশ্যপটে?
জানা নেই এখনো, তবু তুমি একগুঁয়ে।
পথে ওরা তোমাকে ভেঙ্গে মুচড়ে দেবে হয়ত
তবু এই বেরিয়ে পড়াটুকুই
তোমার সাফল্য।
রাস্তায় একাকী নারী
তবু তুমি চলেছ
তবু তুমি থামনি।
একজন পুরুষ
কখনো এতটা একা হয়না
যতটা একজন একাকী নারী।

তোমার সামনে গোধূলি দড়াম করে
বন্ধ করে দিল একটা দরজা।তালা দেওয়া।
রাতের বেলায় একাকী নারী
কখনো নেমো না রাস্তায়।
সকালে যদিও সূর্য তোমার চোখের সামনে খুলে দেয়
দৃশ্য, তবু তোমাকে ছায়াও মাড়াতে হয়।

কাঁধের ওপর দিয়ে পেছনে তাকিও না
প্রতিটি পদক্ষেপ নিচ্ছ
সেই ছায়াচ্ছন্ন মূর্তিটিকে বিশ্বাসের শপথ নিয়ে
যার ভয় ওরা তোমাকে বহুদিন দেখিয়ে এসেছে।
পাথরে পদক্ষেপের শব্দ ওঠে।
একাকী নারী , রাস্তায়
সবচেয়ে পেলব আর সবচেয়ে সাহসী পা ফেলাটা
অপমানিতা ধরিত্রী মায়ের বুকে।
সে, যে আর এক একাকী নারী। রাস্তায়।


নাহ, এদের আর কিসসু হবার নয়। একেবারেই লস্ট কেস। যতক্ষণ না একটা ‘মেয়েদের প্রজাতন্ত্র’ পাচ্ছে , থামবে না। এসব ভুলভাল ব্যাপারে আমি নেই স্যার। চললাম। জীবন্ত মেয়েদের এসব ফ্যাচাং বুঝিনা, তাই ভার্চুয়াল মেয়েদের নিয়ে ইরোটিক স্বপ্নটুকু থাক। ওয়াটস্যাপ-এ দেখা যাক দু একটা পানু জোক্স এবার।