“ম্যান্স- নো ম্যান্স”

শৌনক চ্যাটার্জ্জী

১)
অরুণ,আমরা সবাই তোর সাথে।
এগিয়ে চল অরুণ।তুইই পারবি।#
আজ ওরা পঞ্চমবারের জন্য আলোচনায় বসলো। ওদের হাজারো কথা।তবে অলিখিত দাবি একটাই – কোম্পানি ওরা চালাবেনা।এহেন ইঙ্গিত যখন প্রবলতর ঝরের মধ্যে দাঁড়িয়েও ওরা দিয়ে যাচ্ছে, তখন মানে টা জলভাত। তবে কি এবার নেগোসিয়েসনে আসার পালা? হিসেবের থেকে বেশী প্রাপ্য বোঝবার পালা,যাতে প্রত্যেকটা বিষয়ে যেন ওরা ঠকিয়ে না যেতে পারে? নাহলেতো এমন পাহাড় কাটা সিদ্ধান্ততো একদল পাগল মিলেও নিতে পারবেনা যখন সে লাভের চূড়ায় বসে আছে।
পরবর্তী কর্মসূচি কি? ভাবতে বসে ঢোঁক গেলে অরুণ।কানের সামনে অবিরত প্রতিধ্বনিত-
অরুণ,আমরা সবাই তোর সাথে।
এগিয়ে চল অরুণ।তুইই পারবি।
না,না,না।কিছুতেই মনকে একথা লিখে দিতে পারবেনা সে।এ দাবি স্বার্থান্বেষীর।মিটি ং রুমের বাইরে যে ৭০০ মানুষ কোমরে পিঠে বাত লাগানোর রক্ষার্থে দাঁড়িয়ে আছে- তাদের সুরের সাথে এ ভাষা তো কোন ঋতুতেই মেলেনা।লড়াই তবে অনিবার্য।অরুণের কাছে তাই এ নিজের মন কে অবুঝ বানানোর লড়াই।সবাইকে একা না হতে দেওয়ার লড়াই।শ্রমমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী সবার কাছেই গিয়ে গিয়ে জুতোর শুক্তারা খুইয়েছিল অরুণ। এবার তবে মুখ্যমন্ত্রী, রেলমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী......
এবার প্রশ্ন একটাই, এ শহরে কি কোন ক্ষমতাশীল অথচ মানুষ বাস করেনা?
কেউ কেউ এগিয়ে এল। ৭০০ উদ্বিগ্ন জনতার সামনের ষ্টেজটায় দাঁড়িয়ে গলায় জড়াল অরুণ কে। লড়াই লড়াই লড়াই চাই।এ মন্ত্রে হাততালির ঢেউ উঠল। মিটিঙের ভেতরে চারবার টেবিল চাপড়াল। “দাদা,আমার এই সোনার বাংলাকে শ্মশানে পরিণত হতে দেবনা। আপনি ফ্যাক্টরি চালান।কোনও কথা শুনবনা।”
যাকগে, এসব তো আজকাল প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। এসব ফোলানো ফাঁপানো মহামানবিক বাণী তো আকাশে কান পাতলেই ধরা দেয় বারবার।আবার সময় ই এদের সদিচ্ছার প্রমাণ দিয়ে যায় ফসিল রূপে। সময়ের স্লাইডশো কে কি আর ঘুশ খাওয়ানো যায়। সে তো নদীর মতো, বেঁকে চললেও সত্য কি সে ভোলে? তবে যা ধরা দেয়না চিরকালই,তাকে অণুবীক্ষণে ফেললে বেজে যাবে অনেক বেহালারই সুর।সামনে থেকে তা সামনে থেকে ততোধিক কঠিন।
একটু ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে দেখলে,বছর পনেরোর অরুণ যখন তার গ্রাম ঘেরা নদীগুলো পেড়িয়ে পালাচ্ছে তখন তার জ্ঞান ছিল নেই শহর-গ্রাম-পূর্বপশ্চিম বাপ-মার কি সে জন্ম থেকেই জানেনা,আপনজন বলতে এক কাকা ও পলকে পলকে তার থেকে পাওয়া অসহায়তার বার্তা। শুধু সে চোখ বুজে দৌড়ায়, স্বাধীন হওয়ার তাগিদে।আর সেই গ্রামে থেকে যাওয়ার বাকি কারণগুলো বুঝে ওঠার শিক্ষাটাও তাকে দিতে ব্যর্থ তার বিকৃত মাতৃভূমি।মাতৃভূমির দোষ নেই,কারণ সে নিজেও জন্মেছে বিকৃত।সে এমন এক দেশ যেখানে অনুসন্ধিৎসা তো আছে, তবে তার উত্তর নেই। অজানাকে জানার ইচ্ছা তো আছে, তবে তা চাপা পড়ে বয়সের সাথে সাথে। পরিবর্তনকামীরাও থিতিয়ে পরিবর্তিত।যারা যারা প্রতিবাদ করার নামে ছটফট করছে, তারাও সময়ের পার্থক্যে বোবায় পরিণত হচ্ছে অথবা অজ্ঞাত মন্ত্রবলে ভ্যানিশ...... ক্ষেতের ধারে বসে লালচোখো তিন-চারটে বুড়ো খালি নেশাতুর কায়দায় একই বুলি আওড়ায় আর থেকে থেকে হেঁসে ওঠে।
“বাবা মূর্খ ছিল,বিয়ে করেছিল।আমি তো মূর্খ নই।”
ভণিতা করে লাভ নেই, অরুণের জন্মস্থল দুই মুলুকের মধ্যবর্তী অঞ্চল, “নো ম্যানস ল্যান্ড”। মানে বুঝতে না পারাটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যে সেখানে।তাই দম বন্ধ হয়ে আসাটাও স্বাভাবিক।অরুণও তাই দৌড়ায়,সঙ্গী হাজার কিলো ক্যালোরি ঝরানো গতিপথ।ষ্টেশনে রাত, চায়ের দোকানে বিস্কুট চুরি।পালাতে পালাতে ললাট তাকে এনে ফেলেছে আমাদের এই কসমোপলিটান শহরে।তথাকথিত মানুষের ভিড়ে।চানাচুর মার্কা শহর প্রথমেই তাকে ভয় দেখায়। তবে রাস্তার ধারে অসংখ্য হাততালির মঞ্চে দাঁড়িয়ে যখন একটা লোক বিজ্ঞ ধাঁচে চশমা খুলে বলছে, “২০০০ কিমি দুরের ভিনভাষী লোকটা আমার দেশি,আর ৫০০ কিমি দূরের বাঙালি আমার বিদেশি। না না দাদা এ আমি মন থেকে মেনে নিতে পারবনা।”পরক্ষণেই আবার “এ গড়িবি আমাদের লজ্জা।” শুনে ও ভাবতে থাকে এ শহর হয়তো উত্তরটা দিতে জানে।হয়তো উঠে দাঁড়াতে জানে,একমত হয়ে নিজের ভাষায় প্রতিবাদ করতেও পিছপা হয়না।শহরটা অরুণের ভালো লেগে গেল।অতঃপর অরুণ ভিড় হয়ে যায়, এখানকার বাকিদেরই মতো নতুন সূর্যোদয়ের তাড়নায়।
আজ অবশ্য নথির ভাষায় অরুণ এ শহরের আপনার।নথির ভাষায় সে গঙ্গাপারের কোন এক মিলের কর্মী, কোন এক রাজনৈতিক শ্রমিক সংগঠনের সেক্রেটারি।এদিকে কিন্তু সপ্তার পর সপ্তা যেতে থাকে,কোম্পানিও জপতে থাকে টাকার অঙ্ক।অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রথম অঙ্কটা, বিশ্বাসঘাতকতার।অরুণ এবং তার স্থানীয় অন্যান্য দের জন্য বরাদ্দ।আজকের দিনে দাঁড়িয়েও এ পথটা অরুণের মাড়ানোর ছিল না। আর বাকিদেরও কাউকে নিতে দেখা গেল না।অবশ্য একথা সে গোপন রাখিয়েছিল,রেখেওছিল মিটিংরুমের বাইরে।হয়তো পাশে থাকার অভয় প্রধানেরই উদ্দেশ্যে। পরবর্তী অঙ্ক গুলো অবশ্য সবার জন্যই।ধীরে ধীরে লহমা যায়,পলক পড়ে, এলাকায় মদ্দপান ও বাড়তে থাকে।টের পেতে দেরী হয়না যে এতদিনের কাঁধে হাত রেখে লড়াই করা অন্যান্য ইউনিয়ন গুলোর কণ্ঠ এখন অনেক নরম। কিছু মানুষ যারা অরুণের মুখ চেয়ে বসেছিল, তাদের কথা ভেবেই লড়াই ছাড়তে চায়নি অরুণ। সাহায্যের হাতগুলোও যে হাড়ে পরিণত হতে থাকে দিনে দিনে। দুমাস আগে ফোন নাম্বার দিয়ে যাওয়া দ্বিগ্বজদের আর ফোনে পাওয়া যায়না, দপ্তরে গেলে শুনতে হয় “উনি কয়েক দিনের জন্য বাইরে গেছেন।” তবে হঠাৎ (হঠাৎের মানে হঠাৎ হয় না) কোন এক সকালে সে জানতে পারে দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়েছে হাইকমান্ড।তারপর থেকে রোজ টলমল পায়ে ফ্যাক্টরি গেটের বটতলায় এসে বসে অরুণ। হয়তো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘুঘু দেখার অপেক্ষায়।মাস চারেক লেগেছিল সব মিলিয়ে,চত্ত্বরটা পরিণত হয়েছিলো “নো ম্যান্স ল্যান্ডে”।
তবে আর কোন সহকর্মীর সাথে কথা বলেনি সে।যখন এটাই হবে এ শহরের উত্তর।যখন এই সংহতির জন্যই নাকি সে ভেঙেছিল হাজার পথ। আর এখানকার সুস্বাদু প্রতিবাদ?তাই আজ বহু বছর পর আচমকাই তার মনে উদিত হল জন্মভুমির স্মৃতি। ভাবার মতোই কাজ।কিছু দিন পরই সে ফিরেও গেল সেই গ্রামে।গিয়ে শুনল,নথির ভাষায় নাকি এ গ্রাম স্বাধীন ভারতের অংশ।নথির ভাষা অবশ্য বুঝত অরুণ,বুঝত স্বাধীনতার মাত্রাও।
আর বুঝত “নো ম্যান্স ল্যান্ড”, অথবা “ম্যান্স”????
২) হঠাৎের মানে হঠাৎ হয় না
ছোট্ট অরুণের এ শহরে প্রথম আস্তানা হয়েছিলো তৎকালীন ক্ষমতাশীল কোন এক পার্টি অফিস।যেখানে সব বিজ্ঞেরা বসে আদর্শের বুলিতে দাঁত মাজত,সংগ্রামে মাখা মুড়ি চিবত হত আর তাদের শ্রমজীবী উচ্ছিষ্ট ঝাঁটের দায়িত্ব থাকত অরুণের কাঁধে যা অরুণকে একটু রাতের ঘুম আর দুবেলার পাকস্থলীসেবার সুযোগটা কিনে দিত।তবে অরুণ এসব তর্কের কাঁধ ঝাঁকানি তে ছিলনা।শুধু কষ্ট করাটা শিখে গিয়েছিল।কোন এক নেতার উদ্যোগে চাকরিটাও পেয়ে গেছিলো কিছুদিনের মধ্যে,জন্মমৃত্যুর পরোয়ানাটাও লিখে দিয়েছিল পার্টি।ইউনিয়ন করাটাও তাই বাধ্যতামূলক হয়েছিল।তবে আজ্ঞাবহতার সঙ্গে সোজা শিরদাঁড়া,তেলকালো মুখমন্ডলে ভরপুর মাটি কামড়ানো জেদ আর উত্তরণের আকাঙ্ক্ষা- এমন শ্রমজীবী বিজ্ঞাপনকে তো পাগলেও চিনতে ভুল করেনা।তাই মজদুর ইউনিয়নের ঝান্ডা ধরার সাথে সাথে দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগটাও লেজুড় হয়ে জুটে গেছিলো কয়েক বছরে।
ভালই এগোচ্ছিল।ভাড়ায় হলেও মাথার ওপর ছাদ জুটেছিল এই কয়েক বছরে।মধ্য তিরিশে দাঁড়িয়ে সংসার পাতার ভাবনাটাও উঁকি মারছিল মনের কোণে। তবে আচমকা বজ্রপাতের মতো মিলটা যখন বন্ধ হল,তখন তো নাওয়া খাওয়ার সময়টুকু নেই। কারণ কি অরুণ সেই পার্টি অফিসে বসেই মিলকে বাঁচানোর প্রতিজ্ঞা করে বসেছিল। নাক কুঁচকে চেয়ার আগলে রাখা তথাকথিত পাকাচুল গুলো অবশ্য বলেছিল,
“ চেষ্টা করো অরুণ,তবে কিনা আমরা সদ্য বিরোধী হয়েছি তো। দেখ, আমাদের কথা কজন শোনে?তবে তুমি হাল ছেড়ো না।” হাল যে তখন ছাড়ার কথা নয় সেটা অরুণের জানা,সর্বোপরি সকলের মতো কাজটা তারও।আর এক্ষেত্রে বিপদের দিনে প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনগুলোও কাঁধে কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে। তাই পাগলের মতো একের পর এক ক্যাম্পেন,ধর্না-অনশন। ন্ত্রীদের রুমের বাইরে জড়ো হওয়া জুতো থেকে অবিন্যস্ত চেয়ারগুলোর প্রত্যেকেই তাদের অসহায়তার গন্ধ পাচ্ছিলো। জনৈক মন্ত্রী বলেও ছিলেন,
“অরুণ, এই নাও আমার কন্ট্যাক্ট।আর নিজেদের একা ভেবোনা দয়া করে।নতুন সরকার বাকিদের মতো হাতটা অন্তত গুটিয়ে রাখবেনা।”
শুনে যাদের ছাতিটা ছাব্বিশ ইঞ্চি হওয়ার যোগাড় হয়েছিলো, সত্যটা তারাও খুব শীঘ্রই বুঝতে পেরেছিল। যে ব্যবসায়ীর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা এতদিন ধরে কালো পতাকা দেখিয়ে আসছিলো তাকে ইদানিং খবরের চ্যানেলে শীর্ষস্থানীয় নেতা-নেত্রীদের পাশে প্রায়ই দেখা যায়।কানাঘুষো শোনাই যায় নাকি বিভিন্ন সম্মেলনে তাকেই নাকি এখানকার নতুন শিল্পোদ্যোগের কাণ্ডারি বলে ঘোষণা করা হয়েছে। কেউ কেউ আবার এও রটায় যে তিনি কোন বড় জমিদারের হাতের তৈরি ছেলেমানুষি শিল্পকর্মকে কিনে নিয়ে তাকে গডফাদারের জায়গায় বসিয়ে রেখেছেন।অবশ্য সেসব বাপু আমি জানিনা, আমি যা দেখেছি তাই বলছি। তাই গল্পেই ফিরে যাচ্ছি।
তা বলে নিস্তব্ধতা কি আর সময়কে দাঁড়াতে বলে?অর্ধেকের বেশি চাতকের শারীরিক ভাষা বিদ্রোহ বললেও মনটা কাঁদতে শুরু করেছিল।বেঁচে থাকলো শুধু অরুণ আর বাকি কয়েকজন একটু শক্ত যাদের মেরুদন্ডটা। কিন্তু কত আর চালাবে যখন সত্যি সত্যিই আপেলটা ওপরের দিক থেকেই দাগ হয়ে আসছে তো। আস্তে আস্তে ৭০০ থেকে৫০০, ৩০০ করে করে আর ১৫০ জন মতো রইলো দাবিতে অনড়।বাকিরা ক্লিন বোল্ড।কেউ হয়তো প্রাপ্যও হারানোর ভয়ে আর চালাতে পারছেনা। কেউ হয়তো সত্যি বুঝেই ক্লান্ত। সুতরাং এইটা পরিষ্কার হয়ে গেছিল যে জীবন্ত ফ্যাক্টরির দৃশ্য আর তাদের চোখে ভেসে উঠবেনা।অরুণ কিন্তু এবার বাধ্য হয়েই হালকা দমে তার সংগঠনের সবাইকে প্রাপ্য বুঝে নিতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে দিল।কারণ মন্ত্রীরা অ্যাবসেন্ট, প্রাপ্য বিতরণও শুরুর পথে, এখনও যুদ্ধের বার্তা দিয়ে তার অনুগামী বাকি মজদুরদের সে আর বঞ্চিত করে রাখতে পারবেনা। জনাকয়েক অনড় রয়ে গেলো। যাদের নিয়ে বিপ্লবে আঁটল হঠাৎ করে নতুনোদ্দমে উজ্জীবিত অরুণের পার্টি। তাদের শ্রেণীশত্রু দের ডিসিশন তারা মন থেকে মেনে নিতে পারবেনা এই মনে করে। এক সুন্দর সকালে অরুণকে তাই হঠাৎ করে পার্টি ছাড়তে হয়, না আসলে পার্টিই ওকে বহিষ্কার করে কোন এক ছুতোর কামড়ে। তো এখন কি আর ফাটা তরণিতে বসে ঘোলা জলে বিদ্রোহ ধরা যায়। অতএব খেলা শেষ। রাখে হরি মারে কে? সে হয়তো জানেনা যে সে নিজেই কতটা একা।
খালি কয়েক বছর পরে অরুণ শুনেছিল কোন এক পাশের পাড়ার উঠতি যুবককে ধরে সেই দিনের কন্ট্যাক্ট দেওয়া জনৈক মন্ত্রীটি জ্ঞান দিয়েছেন,
“তোমরা তো নতুন লেখালেখি করছ, বলতে পার বাংলা থেকে নতুন কোন শিল্পোদ্যোগী বের হচ্ছেনা। এটা নিয়ে তোমরা কাজ করতে পারনা? বাঙালিদের কি সত্যিই কলজের জোর কমে গেল। নাকি শুভবুদ্ধি সম্পন্নরা সবাই নো ম্যান্স ল্যান্ডে বিরাজ করছেন?”