থার্সডে নাইট

সুমী সিকানদার


\'তুমি কি সীবিচে যাবে না কি এখন?\'
বের হবার আগে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল তমার উদ্দেশ্যে ।কিন্তু তমা তার ছেলেদের নিয়ে শোবার আয়োজন করছে। সারাদিন দু\'পায়ের উপর দিয়ে অনেক ধকল গেছে। ফলে একরকম বাধ্য হয়েই তমা রুমে রয়ে গেল ।মুখে নাইট ক্রিম ঘষে, প্রেসারের ওষুধ খেয়ে ছেলেদের নিয়ে শুয়ে পড়ল তমা।

তপু একাই রওনা দিয়েছে। বিয়ের পর তারা আরেকবার এসেছিলো পেনাং এ। এই সমুদ্রতীর বড় মনোলীনা, মন বোঝে। সারারাত জল মৃদুভাষায় কথা বলে, জোৎস্না তাদের দেখার জন্য টোলপরা আলো মেলে ধরে। সেই আলোয় নিজেদের চেনা যায় না। যেন প্রত্যকেই অন্য কেউ । যেন এখানে তাদের জন্মের দেয়া নাম কাজ করে না।জীবনযাপন আচ্ছন্ন করে না। যেন এখানে কনফেস করা য়ায়। নিজের গাঢ পাপ স্বীকার করে একামনে নিভৃতে কাঁদা যায়। এখানে সৌন্দর্য আর ভাললাগা জড়িয়ে গড়ায় ঢেউয়ের সাথে সাথে। তারা চাঁদকে ডাকে কিম্বা চাঁদ তাদেরকে। জলের দিকে অপলক নিশ্চুপ তপু। সে কি মনে মনে কনফেস করেছে অদৃশ্য কোনো ফাদারের কাছে!
কুয়ালালামপুর থেকে টানা চার ঘন্টার বাসজার্নি সেরে সকালেই পেনাং বিচসাইডে এই কটেজে এসে উঠেছে তমারা । গাছগাছালি ঘেরা ছিমছাম করে বানানো কটেজ।খুব জীবন্ত। সারাদিন \'মাংকি আইল্যান্ড\'এর প্যাকেজট্যুর ছিলো।। সেখানে বানর খুঁজতে গিয়ে প্রচুর হাঁটা হয়েছে। লাঞ্চে ছিলো প্রচুর গ্রিল্‌ড সী-ফিশ, গ্রিল্‌ড চিকেন ও সালাদ। প্রমাণ সাইজের একটা ডাব খেয়ে এখন দারুণ ঘুম পাচ্ছিলো তমার । ঘুমাতে গেলেও মন পড়ে আছে সীবিচে, তপুর কাছে...।
পরদিন ঘুম ভেঙ্গে আবার দৌড়ানি আরম্ভ হলো।দুই যমজ বাচ্চা মহা দস্যি। তাদের সব খেলার সরঞ্জাম, কাপড় চোপড়, সুইম স্যুট, খাবার সবকিছু ঠিক মতো নেয়া হল কিনা শেষবারের মত তদারক করে রওনা করলো ওরা চারজন। চারদিন অসহ্য সুন্দর দেখেই চোখ ক্লান্তিহীন ভেসে ভসে যাচ্ছে। তমা খুব উচ্ছ্বল খুব প্রাণবন্ত আজ। সারদিন তপু কেমন শান্ত। সে মোবাইলে গেইম গেলে। একটু কেমন যেন একা সবার মধ্যে। তমা খেয়াল করে; কিছু বলে না। হয়তো অফিসে অনেক চাপ যাচ্ছে। তমা সম্পর্কের স্পেস ভালবাসে। বলার হলে তপুই বলবে।
রাতে ছেলেদের ঘুমাতে বলে নিজেদের ঘরে ঢূকলো তমা।
\'\' চলো আজ সীবিচে যাবো... ছেলেরা ঘুমিয়েছে।\'\'
তপু যেন শুনতেই পায়নি কিছু।
বলছে \'\'শুয়ে পড়ো, সকালে আবার হুড়োহুড়ি লাগবে। ওদের একা রেখে না যাওয়াই ভাল।\'\'
\'\'আরে সীবিচ তো লাগোয়া, হাত বাড়ালেই জল ছোঁয়া য়ায় ... চলো গো খুব হাওয়ায় ডানা মেলতে ইচ্ছে হচ্ছে।\'\' \'আরে না ঘুমাও তো! আমি ধোঁয়া গিলে আসছি।
তপু একাই চলে গেছে। সে রাতে প্রায় একঘণ্টা পর তপু খুব নিঃশব্দে ঘরে ঢূকেছে।দরজায় খুট্‌ শব্দ হল। সামান্য শব্দ কিন্তু তমা টের পেলো। সে জেগেই ছিল।
দেশে ফিরে আবার নর্মাল লাইফ, বোরিং...। বাচ্চারা স্কুলে। গুচ্ছের কাপড় ময়লা। সবার কাপড় লন্ড্রি করার জন্য আলাদা করলো। কিছু ড্রাইওয়াশে যাবে। মনোয়ারার মাকে রান্নারমেনু বুঝিয়ে দিলো। তপুকে কি একটা জরুরি কথা বলতে গিয়ে ফোনে কল দিলো, কিন্তু তার ফোন বিজি। পেল না। তপুর ফোনে ইদানীং ঢোকাই য়ায় না। সারাক্ষণ ব্যস্ত। ‘‘কি সারাক্ষণ ফোন বিজি কেন আপনার? প্রেম নয়তো? সন্দেহ সন্দেহ,\'\' বলে চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মজা করে কথা বলে তমা।
ফেসবুকে ক’দিন ঢোকাই হয়নি।।বেড়ানোর ছবিগুলো আপ্লোড করবে বলে চা-হাতে ল্যাপটপে বসেছে তমা। ওমা ল্যাপটপে ভেসে উঠলো তপুর ওয়াল। লগ আউট না করেই চলে গেছে সে। তমা নিজেই লগ আউট করে দিল। তবে নিজের আইডিতে আর গেল না। অদ্ভুত কিছু সংলাপ চোখে পড়ে গেছে।তপুকে মেসেজ করা ৩/৪টা লাইন। না চাইতেই কিছু সত্য তমার সামনে শুদ্ধস্বরের আলাপের মত দৃঢ ভঙ্গীতে চলে এলো। মেসেজ করেছে আনিলা। তপুর কলিগ।
তপুর চাকরীর বয়স প্রায় পনেরো। খুব চমৎকার পরিবেশ। ছেলেমেয়ে সবাইকেই তপু ‘আপনি’ করে বলে কিন্তু খুব দারুণ আন্ডারস্ট্যান্ডিং সবার সাথে। তমা নিজেও খুব ভালবাসে তপুর কলিগদের, কিন্তু আজ আনিলা কেন তপুকে তুমি করে লিখেছে সে জানে না। তপুও তাকে তুমি করেই লিখেছে। মনে মনে প্রচণ্ড অবাক হলো তমা। ‘তুমি’ করে বলতেই পারে, তাকে লুকিয়ে কেন?
তমা কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকল। টেবিলে রাখা পানিভর্তি জগ থেকে কুরুশের ঢাকনা সরিয়ে সে গ্লাসে পানি ঢালে। পানি গ্লাসেই পড়ে আছে। তমা পানি খেতে ভুলে গেছে।
তপু বারান্দায় সিগারেটের শেষ টান দিয়ে জ্বলতে-জ্বলতে থেমে আসা অংশটুকুকে ছাইদানে চেপে ধরে। প্রায় অর্ধেক সিগারেট বাকি।ছাইদানি তয়ে আরো ৫/৬টা সিগারেটের ভাগ্যেও একই দশা। কোনো কিছুতে মন নেই তপুর। সে ঘরে ঢুকতেই তমা বিছানায় উঠে বসে আছে। কি অদ্ভুত সুন্দর মেয়ে সে, মোমের আলোর কমনীয় রঙ লুটিয়ে পড়েছে তার দেহে। শুধু তমার চোখজোড়া আজ শান্ত।
\'\' ঘুমাওনি তুমুনি... ঘুমাও ।\'\'
\'\'তুমি এসো। তুমি না এলে ঘুম আসে না তুমি জানো।\'\'
\'\' তুমি ঘুমাও একটু খবর দেখি। সারাদিন দেখিনি।\'\'
\'\' খাটে এসে দেখো। \'\'বলতে বলতে গায়ের পাতলা চাদর সরিয়ে খাট থেকে নামে তমা। শরীরে তার বেবি-পিংক নাইটি। তার ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছে ফ্লোরাল প্যাটার্ন। তপু বোঝে তমা আজ একা শোবে না। গিয়ে শুয়ে পড়ে তপু। তমা তার হাতের ওপর শুয়েছে। নিজের শরীরকে ঠেলে ঠেলে আরো ঘন সুষমায় ডুবছে। গলার কাছে ঠোঁট দিয়ে স্পর্শ করলো তমা।
তপু হঠাৎ সরিয়ে নিয়েছে নিজেকে। \'ঘুমাও তো কাল সকালে অফিস আছে\' । নিবু নিবু ডিম টাইটের আলোয় তপুর মুখের সবক’টা রেখা পড়তে পারে তমা। শীতল হতে থাকে...সেও।
আস্তে করে বলে \'\'আজ তো থার্সডে নাইট। ভুলে গেলে? \'\' মূহূর্তে বোকামি বুঝতে পারে সে। তমা একদম স্বাভাবিক। \'\'আচ্ছা আনিলা তোমাকে ‘তুমি’ করে ডাকে কবে থেকে? আমি তো শুনিনি?\'\' তপু একদম চুপ।স্থির তাকিয়ে আছে তমার দিকে। \'\'ইনফ্যাক্ট তোমাকেই শুনিনি কলিগদেরকে ‘তুমি’ বলতে। হঠাৎ করে আনিলা --এতো ছোট একটা মেয়ে-- তোমাকে ‘তুমি’ বলে শুনতে কানে লাগে তপু।\'\'
\'আরে কিছুই না!\'\' নিজেকে সাহস দিতে জবাব দেয় তপু। \'\'মাঝেমাঝে বলে ফেলে। ধুর এসব সিলি ব্যাপার নিয়ে ভেবো না। চলো শুয়ে পড়ি আজ\'\'। বলে তমাকে এক হাত দিয়ে নিজের বুকের কাছে টেনে নেয়।কিছুক্ষণ আগের ঊর্মি হয়ে ওঠা জোয়ার উধাও। তমা গুটিশুটি শুয়ে পড়ে। মনে মনে আওড়ায় \'তপু তোমাকে বিশ্বাস করি। তুমি ছাড়া আর কেউ নেই গো।\' কিন্তু না চাইতেই কেন সব কিছু ফর্সা হয়ে আসছে ।কখনও কখনও ঘোলাটে রঙ্ ছায়ামূর্ছনা তৈরি করে। তমা সেই ছায়ায় থাকতে চায়।
তপু-তমা বরাবরই বন্ধু । কোনো কথার আড়াল নেই। সারদিন কি হয় না হয় সব গড়গড় করে বলতে হবে। শোনো না, আজ অফিসে এক মহিলা এমন ট্রান্সপারেন্ট ড্রেস পরে এসেছে যে ব্রা-এর ডিজাইন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে...। তমা হাসতে হাসতে শেষ। তোমরা সব শয়তান একেকটা। এভাবে বুঝি মেয়েদের দেখো। আরে ভাই \'নজর কি সামনে... জিগার কি পাস.\'.. বলে আবার হাসা আরম্ভ করে তপু। সেই হাসির আওয়াজ মনে করে এখন আবার হেসে ফেলে তমা। নাহ তপু তেমন ছেলে নয়। তাকে ট্রাস্ট না করাটা অন্যায়।
ছেলেদের স্কুলে নামিয়ে দিয়ে এসে দেখে তপু বেরিয়ে গেছে। কি যেন জরুরি কাজ আছে তার। তমা ঘুরে ঘুরে ঘর গোছায়। ফুলের টবের পানি বদলায়, ঘরের প্ল্যান্টগুলোকে পানি খাওয়ায়, ঝাড়মোছ করে। বিছানার চাদর বদলাতে গিয়েই রিং বেজে উঠলো।ওমা তপু ফোন ফেলে গেছে। ধরার আগেই থেমে গেলো।তমা চাদর পাল্টে দিয়েছে। মিনিট পাচেকের মধ্যেই ফোন আবার বেজে উঠেছে... এবার তমা ফোনের দিকে তাকায় নাম ভেসে উঠেছে ‘আনিলা’। কল রিসিভ করে না সে।
দশ মিনিট যায়নি আবার আনিলার ফোন, তমা ভাবলো ইমার্জেন্সি তো কিছু হতে পারে। সে ফোন হাতে নিয়ে হ্যালো বলার কোনো সুযোগ পেল না। তপু মনে করে অনর্গল কথা বলে যাচ্ছে আনিলা। উচ্ছ্বাস ধরে রাখতে পারছে না । কথাগুলো শোনার পর ফোন ডিসকানেক্ট করে দিল তমা।
যেন কিছুই হয়নি। আজ তপু ফোন ফেলে যায়নি। আনিলা ফোন করেনি। তমা কিছুই শোনেনি... তার জীবনে কোনো এলোমেলো কিছু ছিলো না, নেইও। সবটাই ভুলভ্রান্তি, অলীক । তপুকে সে ১৬ বছর ধরে চেনে।তমা তাকে এতটুকু মিথ্যা চেনে না।
মাস্টার্ড কালারের জয়পুরী বেডকভার খিলখিল হাসে তমার দিকে তাকিয়ে। নামকরা আঁকিয়েদের কেনা ছবিগুলো চুপচাপ তমাকে দেখছে।উডেন ফ্লোর, চা খেতে খেতে আরামে বসার জন্য দোলনা। ভারি সুন্দর কাঠের কাজের এই দোলনা আনিয়েছে ময়মনসিংহের নবাববাড়ি থেকে। যেখানে যাকিছু ভালোলাগে সবকিছু দিয়ে ঘর সাজিয়েছে তমা। তার সূর্যরঙ ঘর, তার জোৎস্নাবরণ ঘর। বারান্দায় একা হাতে তৈরি করা বাগান তাতে শুধু অর্কিড আর অর্কিড। সমস্ত সংসারে তমার হাত আর আরেক হাত ধরে থাকা তপু।
দুইটা দেবশিশু তাদের ঘরে অনেক বছর পর এসেছে। তপোলব্ধ সন্তান তাদের। দুনিয়াজুড়ে ডাক্তারের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে তারা। মা হওয়া ভাগ্যে ছিলো ভাবেনি। তমা যে মাসে সে পিরিয়ড প্রথম মিস করেছে তপুকে জানায়নি। পরের মাসেও যখন মিস করল তখন তমা কনফার্ম। আসছে নতুন বার্তা তাদের সংসারে । \'মা হচ্ছি গো।\'

তপুরঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে দু’চোখের পানিতে ভাসে তমা। এই মুখ সে ভালবাসে। শিশুর মত সরল এক মুখ। তার সমস্ত পৃথিবী একদিকে আর এই মুখ একদিকে। তপুর কপালে আলতো করে চুমু খায় সে। আনন্দেরা যখন কান্নায় গড়াতে থাকে সেই কান্না থেকেও বিভোর সুরেলা মৃদঙ্গ বেজে ওঠে। অনেক বছর পর সে অনন্ত মাধুর্যের সন্তান পেয়েছে।
সেই তপুকে একটু একটু করে হারিয়ে ফেলাটা টের পায়নি তমা। আজ বুঝলো যখন বেশ দেরি হয়ে গেছে। যত ইঙ্গিত সে পেয়েছে সব মুছে ফেলেছে, কোনোভাবেই তপুকে কেন অবিশ্বাস করেনি তা ভেবে নিজের ওপর আর বিশ্বাস থাকছে না তমার। নিজের মনের কথাও শোনেনি সে। শুদ্ধ মননে যদি চাওয়া য়ায় ঈশ্বর তাকে তা দেন। তবে কি মন থেকে সংসার চায়নি সে! সন্তান চায়নি ? তবে কেন ঈশ্বর তাকে ফেরালেন? বিন্দু বিন্দু জমে ওঠা টানটান বিশ্বাস আজ টলে গেছে। তমা কিছু ভাবছে না, নাকি ভাবতে পারছে না ,বুঝতে পারছে না।
ধীরে ধীরে ঘোরগ্রস্তের মত স্নানঘরের দিকে যায় সে। বাথটাবে হেলান দিয়ে বসে, গুনগুন ইমন গায়। জলের কাছে আদর চায়।যে আদর সে থার্সডে নাইটে চেয়েছিলো তপুর কাছে। তপু নির্মম অছিলায় ফিরিয়েছে। এখন সে বোঝে কেন তপু ফিরিয়েছে। আনিলার লাভচাইল্ড তো কোনো এক্সিডেণ্ট হতে পারে না। এই অরাজকতার জবাব আছে তপুর কাছে?
জল তাকে প্রবল আবেগে জড়িয়ে ধরে।তাকে আশ্রয়ের খোঁজ দিতে থাকে।একসময় চোখের জলের সাথে শাওয়ারের ফোঁটা ফোঁটা জলের আর পার্থক্য থাকে না।শিশুর মত তুমুল কাঁদতে থাকে সে। জলের শব্দ আর কান্নার শব্দের মিলিত কোরাসে ঢাকা পড়ে য়ায় বানভাসি আর্তনাদ, জামদানী বুনন থেকে আলগা হয়ে যায় অপরাজিতা আলিঙ্গন।
এক্ সময় তমা নির্জনে তলিয়ে যেতে থাকে। বাথটাব উপচে জল ঘরের মেঝেতে ছাপচিত্র আঁকে। দরজা পেরিয়ে মূল বাড়ির ভেতর দ্রুত আগাতে থাকে। কেউ জানে না। কেউ জানেনি। কি হয়েছিলো তমার।
প্রায় দু’ঘন্টা পর বাথরুম থেকে তমার শান্ত শীতল দেহ উদ্ধার করে তমার দুই ছেলে। তাদের সাথে পাশের বাড়ির প্রতিবেশী।স্কুল থেকে ফেরার পর মা কিছুতেই দরজা খুলছিলো না। শুদ্ধই বাবাকে সংবাদ দেয়... \'\'বাবা, মা বাথরুমে পড়ে আছে ... শাওয়ার খোলা, সারাবাড়িতে জল...\'\' দিব্য হাহাকার করছে, \'\'আমার মা এতো ঠাণ্ডা কেন বাবা? মা অনেকক্ষণ ভিজেছে ।বেলস পলসির পর থেকে মা তো ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করে না বাবা!\'\'
তমা হঠাৎ নেমে আসা বর্ষণের খেই সামলাতে পারেনি।সে চেয়েছে যেন তার মন কেউ টের না পায়। যেন অমরাবতীর ধারাজলে ধুয়ে য়ায় পরাজিত মুখ। যেন কোনো ফাদার আছেন আড়ালে, তমা কনফেস করছে তপুর হয়ে। ফাদার সে আমার সন্তানের বাবা, সে আমার পৃথিবী। আমি যাকিছু শুনে ফেলেছি, তা যেন সে জানতে না পারে। তার কষ্ট আমার কষ্টের চেয়ে বেশি হবে ফাদার।...... তপু তমার একটা হাত ধরে বসে আছে। এই রৌদ্রলুকানো আলোয় তমার ভিজে যাওয়া অরুণিমা মুখ কী অসম্ভব কারুকার্যময় লাগছে।