বন্ধ্যা

জয়শীলা গুহ বাগচী


এক টুকরো তালা বন্ধ জমি । কখনো পৃথিবীর চেয়ে বড় । কখনো খুব ছোট , বিন্দুর চেয়েও হালকা । কত পাহারা সেখানে , পাহারাদারের চোখ এড়িয়ে সামনে এসে দাঁড়ায় না এক টুকরো ছবি । শুধুই তলিয়ে যাওয়া ঈদ । কত অবহেলায় কত সযত্নে আমরা লালন করছি , তাই না রে ?
বিকেলের মেঘলা রঙ মাখে মাধ্যাকর্ষণ । আমাদের দরজা ছিল চৌকাঠও । চৌকাঠ ডিঙোতে গেলেই পা জড়িয়ে যেত । সেই দরজা আজো আছে । কিছু ক্ষয়াটে মেঝে । মান্না মানবেন্দ্র হয়ে উঠত যে সব জামার ভাঁজ তাদের ভেতর ছিল চাঁদের তেষ্টা । অপলক সুর মজে কেমন গজলের ধুন । ছিল অল্প অল্প জড়োয়ার দ্যুতি । চারটে চায়ের কাপে জলতরঙ্গের ঝর্ণা । শুরু থেকে বড় তাড়াতাড়ি চলে গেল শেষ স্তবকে । মেহেদী হাসান গেয়ে চলেছেন “ তনহা তনহা মত শোচা কর ” ......
তোর চিঠি আসত আমাদের কাছে । কমতে থাকা জলে ভৈরবের ছায়া । টলমল করত পুজোর সকাল । এখনো করে । ঐ স্পেসে ফাঁকফোকর গলে যেখানে দুধের গন্ধ ওঠে সেখানে তোর হাত ধরে আমি ছুটতে থাকি হাওয়ায় । কিন্তু পায়ের নীচে কোন আবেগ না থাকলে ঘরময় শুধু চুনকাম আর চুনকাম । এই পর্বটা পুরনো টেলিফোন রিসিভারের মত ভারী । ফোটার সময় তরল হলে আকার পায় না কিছু । বোকা ঘোড়ার দাপাদাপিই সার । মাঝখান থেকে গাড়িটা ভেঙেচুরে একশা । তুই তো দেখেছিলি .........। দেখতে দেখতে দূরের মহাদেশ । সেখানে চিঠি পৌঁছল না , টেলিফোন না , টেলিপ্যাথিও না । নিঝুম হয়ে গেল অন্তর্বর্তী রক্তের স্রোত । মান্না দে শ্বাস টেনে ফিরে গেলেন । সব গানগুলো কেমন কান্নার মত বেঁকে গেল । একটা ক্ষয়ে যাওয়া বিশ্বাসের কিই বা প্রমাণ করার থাকে । তোর গ্রাফের কাছে নিতান্তই ম্যাড়মেড়ে বেঁচে ওঠার এই ফিরতি পথ । অভিমান কতটা দীর্ঘ হতে পারে ঠিক কতটা ঘাতক ? দারিদ্র বড় নির্লজ্জ হয় । লজ্জা চাপা দিতে দিতে মেরামতির কাজ তুই দেখিস নি রে ...। মেরামতির দরকারই বা কি ছিল ! ওপাশের আলো এসে পড়লে শুকনো হাড় কঙ্কাল কেমন যেন আকুতি নিয়ে তাকিয়ে থাকতো । ওর হাতে অন্নপ্রাশনের চিঠি । চিঠির ভেতর অজস্র ট্যারেনটুলা । অর্জিত দীর্ঘশ্বাস গুলো জমা ছিল সেই তালা বন্ধ জমিতে । নিস্তব্ধ হয়ে যাওয়া স্পেসটুকু জমা খাতা , খাতার ভেতর জ্যামিতিগুলো অচেনা , কেউ জাগতিক নয় । “অপরিচিত” শব্দটায় কত কারুকাজ । যে পিঁপড়েগুলো কামড়াচ্ছিল তাদের একটা একটা করে টিপে মারতে মারতে জিজ্ঞেস করি “রক্তের নাম কি গো? রক্ত?” গানের কোন ছাপ থাকে? কোন ছায়া ? তুই যে জাদুঘরটায় নিয়ে গিয়েছিলি সেখানে হাজার হাজার বছরের অপেক্ষা দেখেছিলাম। অপেক্ষা শব্দটায় এখন কেজো পোশাকের মহড়া ।
মহড়া কক্ষ
দৃশ্য- ১

একটিই স্পট লাইট । কোন চরিত্র নেই । তাই সংলাপও নেই । কোন চেয়ার বা বেঞ্চও পাতা নেই । কেউ আসে না । কেউ যায় না ।


দৃশ্য- ২

প্রায় অন্ধকার সবুজ আলোয় একটি চরিত্রের ঘোরা ফেরা । শকুনের শ্যেন দৃষ্টিতে দুদিক দেখে । তারপর কালো চাদর ডানার মত মেলে দেয় ।

দৃশ্য- ৩

উইংসের দুপাশে অনেক কথা । কিন্তু কেউ কারুর উদ্দ্যেশে কিছু বলে না । রেডিও বাজতে থাকে । টেলিফোন । মোবাইল । “ইনফরমেশন” লেখা টুকরো টুকরো কাগজ মঞ্চ জুড়ে উড়তে থাকে ।

দৃশ্য- ৪

ফ্রয়েদ ইয়ুং ইত্যাদিরা বসে আছেন বই এর মত । দুপাশে দুই চেয়ার । ফাঁকা । মাঝে পেপার ওয়েট ঘুরছে এক যুগ ।

ফুলমণি ও করুণার বিবরণ লেখা হচ্ছে। তারপর.........