বিষাদছায়ার ধরন

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য

ভূমি থেকে উদ্ভিদের মতো উদ্গত হয়ে আকাশের দিকে ছুটে গেছে রেখা। রেখাকে উলম্ব বিভাগ করে ভরে দিই দীর্ঘশ্বাসে। তার মধ্যে থাকি। ডানদিকে ক্ষত ও ফিসফাসের মধ্যে কাঠ-ঠুকরা মাছিদের নীরবতা নেমে আসে। এবং যেখানে রাতে কাঠবন বিষয়ে যারা জানে না, যাদের হাত মৃত্যুধরা পাগলের হাতে বন্দী—তারা অদেখা লুকিয়ে থাকে, হতে পারে। খোলা মাঠেও মিথ্যা পরিলেখ ঘুরে ওঠে লুতবৃক্ষের ছায়ায়। এটা দীর্ঘনিঃশ্বাস তার শাখায় ঝুলে থাকে। ওই বৃক্ষ তার গজকর্ণ পত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে নরকের বিপরীতে। অথবা একটি স্রোত বন্ধ করার চেষ্টা, সুদৃশ্য নদী পরিবেষ্টিত বিষাদছায়ার সুন্দর ধরন এখানে অনুমোদিত।

এই নীরবতার ভিড়ে উপাসক হওয়ার সুযোগ আছে, কোনোটায় ভয় আছে। অবাঞ্ছিত পুষ্পেরা গোপনে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি বিষণ্ন এবং শূন্যতা ছাড়া মনে কিছু নাই। তাই জীবন আমার ওপর পরিণত হয়েছে। যদি আমি কিছু হারাই এবং বোধ নীল থাকে তবে রাতের কণ্ঠ নীল হয়ে যায়। আর আমার ওপর সব শব্দ পরিষ্কার। আমার স্পৃহা এক জায়গায় ফিরে আসে, আমাকে গ্রহণ করে। ওই যে গিলিয়াদ পাহাড়ের পাদদেশ চরে বেড়ায় যে দুধশাদা মেষপাল— আমিতো তাদেরই রাখাল ছিলাম। এবং সভ্যতার রং আমি শুনতে ব্যবহৃত হয়েছি চিরদিন। সেই সময়ের এর বৃত্তাকার বাঁধন, একটি হিমায়িত হাত, কারো নাক, একটি ঠান্ডা পরিখা এখনো মুখর রাখে প্রতিবেশ।

লাল রঙে আঁকা একটি ক্ষেত্রের মধ্যে বিস্ফার ও উগ্রতা নিয়ে চুর থাকে রাত্রির একাকিত্ব। এমনকি নীরবতা ভেঙে পড়ে হয়ে যায় কোনো গহন দেশের হদিস। আমি ডুমুরের মধ্যে বাতাসের দায় দেখি। আমার ক্ষতছোঁয়া এই প্রেমময় অস্ত্র, বৃত্তাকার আলিঙ্গন আমাকে ছেড়ে যায় না। দিনের চেয়ে বড় হয়ে বাজে সেই বৃক্ষ থেকে ঝুলন্ত কর্তিত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। যন্ত্রণা থেকে কোন ত্রাণ নেই। আমি আটকে আছি কোন দেশে জানি না। সীমার পরে কী থাকে তাও জানি না। একটি ধূসর সূর্য অস্তহীন হয়ে ঝুলে থাকে দুপুরের চিবুকে। লালক্ষেত্র বা নদী বা বনের মধ্য গলে পড়তে চায় তার রস। সূর্যের রসে ঘৃতকুমারির স্বেদ আছে।

সব ভুল হয়ে যায়। লুতবৃক্ষের পাতা হাতির কান, কল্পতরুর শক্তি ড্রাগনের চোখ, ব্ল্যাকআউট, আহত সমুদ্রের ঢেউ এই প্যারাবনে এসে মিশে যায় মৃগনাভীতলে। আমি চিরদিন ঘুমিয়ে পড়ি, জাগরণের বিপরীতে।