ঋত্বিক, আনজালদুয়া, বালিবার: বর্ডার, নো ম্যান্‌স ল্যান্ড — হারানো অক্ষর, অভিজ্ঞান

অমর্ত্য মুখোপাধ্যায়

তমাল নির্দেশ দিলেন বর্ডারের তাঁরকাটা আর তাকে পেরিয়ে ‘নো ম্যান্‌স ল্যান্ড বিমূর্ততায় যে অর্থে ধরা দেবে তাই নিয়ে’ লিখতে। ‘তথাস্তু’ বলেও আমি ‘নিয়ে’-টা বাদ দিলুম। কারণ উত্তর-কাঠামোবাদী আর উত্তর- আধুনিকতাবাদীরা যে হারে বহুদিন ধরে পাঠকৃতিমূলক আন্তঃক্রিয়া (textual interplay) তথা আন্তঃপাঠকৃতির (intertextuality) উদাহরণ ও ক্ষেত্র হিসেবে রাইটিং সভরেনেটি, রাইটিং সিকিউরিটি, রাইটিং দ্য স্টেট ইত্যাদি লিখে যাচ্ছেন তাতে রাইটিং বর্ডার কোনো কথাই নয়! বিশেষ করে’ মার্কিনী সাহিত্যসমালোচকদের অনেকেই একেবারে সাফসুফ একমত এ বিষয়ে যে গ্লোরিয়া আঞ্জালদুয়া-র Borderlands/La Fontera (১৯৮৭)এর প্রভাবে সীমানার কাঁটাতারের জগৎ পেরিয়ে বর্ডার সমাজবিজ্ঞানের বইতে মেটাফর — পরোক্ষ উপমা বা রূপকালঙ্কার বললাম না— হিসেবে নেমে এসেছে একপাথুরে কাঠামোগুলির (monolithic structures) ভাঙনের কেন্দ্রস্থল হিসেবে। অবশ্যই ঋত্বিক ঘটকের দেশে এই কথা শুনে কারুর মনে পড়ে যেতেই পারে ক্লাস সেভেনের ইতিহাসের পরীক্ষায় সামনের ভালো ছেলের খাতা দূর থেকে আদ্ধেক দেখে আদ্ধেক কল্পনা মিশিয়ে শের শাহর রচনা লেখা গুঁইরামের কথা, যে কিনা ‘শের শাহর আমলে প্রথম ঘোড়ার ডাক প্রবর্তিত হয়’ এই বাক্যটি টুকে লেখার পর ‘আপন মনের মাধুরী মিশায়ে’, লিখেছিল ‘ইহার আগে ঘোড়ারা ডাকিত না!’ আমাদের বর্ডারের মেটাফর শিখতে হবে বাইরে থেকে? ‘এরে কয় পার্টিশন’, ঘোষণার পর ঋত্বিক যখন আড়াআড়ি জোড়া দুটি স্লিপার দিয়ে আচমকা গলাকাটা রক্তাক্ত রেললাইনটিকে দেখিয়ে দেন তার পর কটা লোকের বুকের পাটা থাকে ওপারের নো ম্যান্‌স ল্যান্ডের তত্ত্বতালাশ নিতে? সদ্য বলি হওয়া পাঁঠার মত ছটকাচ্ছে কাটা রেললাইন! আর ঠিক যেমন আঞ্জালদুয়া-র প্রভাবে গড়ে ওঠা চিকানো স্টাডিজের সূত্রে মার্কিনী সাহিত্যসমালোচকরা যখন দেখাচ্ছেন কিভাবে ‘অ্যামেরিকান’ শব্দটির পিতৃতান্ত্রিক আর অ্যাংলোকেন্দ্রিক সংজ্ঞার নিগড় আর বাধাবন্ধ ভেঙে মার্কিন দেশেও অস্তিত্বের তথা আত্মপরিচয়ের বহুমাত্রিকতার দ্যোতনা, আর তাকে ব্যঙ্গ করে’ বর্ডারের মেক্সিক্যান ওপারের মানুষরা বুঝিয়ে দিচ্ছেন বর্ডার কেবল মেটাফর নয়; তেমন ‘নাগরিক’ থেকে ‘যুক্তি তক্কো গপ্পো’ মায় ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’-তেও ঋত্বিক ক্যামেরায়/সংলাপে/শব্দ ্যবহারে দেখিয়ে দিচ্ছেন আগের আইডিলিক অবিভক্ত বাংলার পূর্বাংশের আর পশ্চিমাংশের মধ্যে এবং ভিতরে বর্ডার-ক্রসিং কি অসম্ভবই না হয়ে গেছে। দীপেশ চক্রবর্তী তাঁর একটি প্রবন্ধে (১৯৯৮) দেখিয়েছেন কিভাবে স্মৃতিবিধুরতা তথা নস্ট্যালজিয়া আর ট্রমা তথা মর্মাঘাত তখন দেশভাগের ক্ষতপীড়িত মানুষগুলির ইতিহাসের বা অতীতের প্রতি সংবেদনে পরস্পরবিরোধী অভিমুখিতার জন্ম দিয়েছিলো। ফলে ট্রমাটাইজড বা ঘাতজনিত স্মৃতির আখ্যানিক কাঠামো কোনো ঐতিহাসিক ন্যারেটিভকে সুস্থিত হতে দেয়নি। ‘নাগরিক’ থেকে ‘যুক্তি তক্কো গপ্পো’ অবধি বর্ডার বাস করছে কলোনিতে; খাটিয়ে, উপদ্রুত মেয়ের সংসারস্বপ্নের দুর্লঙ্ঘ্য অর্থনৈতিক, লিঙ্গ-অসাম্যভিত্তিক বাধায়। বর্ডার-ক্রসিং-এর তারা শেষে মেঘেই ঢেকে গেলো! ঋত্বিকের বর্ডার তাই চিহ্ন বা চিহ্নক হিসেবে অনেক বহ্বর্থবোধক কিম্বা polysemic। সীমানায়িত বাস্তবতার থেকে যে কয় ‘মাইল শান্তি কল্যাণ হয়ে’ ওঠার ভাণ করছে, তার ‘agonism’ ঋত্বিকের ছবিতে যেমন ধরা পড়েছে তেমন আর কোথায়?
আরো অনেক দশক পরে ইঁতিয়া বালিবার তাঁর ‘The Borders of Europe’ প্রবন্ধে শোনালেন মেক্সিকোর Pátzcuaro-র এক মাছধরার সঙ্গে বিয়র আর চকোলেট নিয়ে আড্ডার সময় বর্ডারের দ্যর্থবোধক আর দোলায়মান প্রকৃতির প্রথম সুলুক সন্ধান পাওয়ার কথা। জেলেটি বোঝাচ্ছিলো কেন সে বারবার চেষ্টা করেও আমেরিকার দিকে তার উত্তরের বর্ডার পেরোতে পারেনি। তার যে মায়ের দিকের ভাষা Taraska, তাতে একটি অক্ষর হারানো বা হারিয়ে যাওয়া, ‘hace, falta una letra, entiendes amigo’। স্মরণাতীত অতীত থেকে হারিয়ে যাওয়া এই বর্ণ বা অক্ষর কক্ষনো ফিরে পাওয়া যাবে না। অথচ এই বর্ণটাই তার উত্তরের বর্ডার পেরোতে পারবার অ-আইনী পাসপোর্ট। বালিবার বলছেন, এই হারানো অক্ষরের উদ্ধারের অসম্ভাব্যতা আর তার সঙ্গে আমেরিকার উত্তরের বর্ডার পেরোনর সামর্থ্য পারস্পরিক বা ব্যতিচারী নয়। কারণ কোনো ‘gringo’— মানে মার্কিন, বা অন্ততঃ অ-হিসপ্যানিক বা অ-ল্যাটিনো — টুরিস্ট কখনো তার ইংরিজি, ফ্রেঞ্চ বা জার্মান ভাষায় এই হারানো অক্ষর খুঁজে পাবে না! তবুও সে পৃথিবীর সব বর্ডার এতো অনায়াসে, যতদিন ইচ্ছে, যতবার ইচ্ছে, পেরোবে যে বর্ডার সব বস্তুতা হারাবে! কিন্তু ভারতীয় উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ চিত্র পরিচালক তো বালিবারের বা আঞ্জালদুয়ারের অনেক আগে বর্ডারিত বাংলার সেই হারানো অক্ষর খুঁজে মরেছিলেন। কমলেশ্বর মুখার্জি ‘মেঘে ঢাকা তারা’ ছবির শেষ দৃশ্যে বর্ডারের মাঠ পার হয়ে তাঁর সারা জীবনের খোঁজা নায়িকার সঙ্গে ফেড আউট করিয়ে দিলেন বটে! কিন্তু তাতে কি ঋত্বিকের হারানো অক্ষরকে ফেরানো গেলো!
এই সীমানাচিহ্নিত পৃথিবীতে কোনো বর্ডারের পাশেই থাকতে পারে নো ম্যান্‌স ল্যান্ড? কারণ উত্তরাধুনিকরা বুঝিয়েই দিয়েছেন হিংসায় (violence) নিজের নির্মাণ, সীমানাঙ্কন (boundary inscription), নিরাপত্তা আর বিদেশ নীতির প্রতর্কে স্বরূপত্ব আর আত্মপরিচয়ের অবনির্মাণ (identity deconstruction), আর রাষ্ট্র(পরি)চালন (statecraft)— এই চার উপাদান নিয়ে তৈরি রাষ্ট্রের আধা-অবভাসবিদ্যা (quasi-phenomenology)। কোনো কারণ নেই কেন বৈশ্বিক স্থল এমনকি বৈশ্বিক রাজনৈতিক স্থল এইভাবে ভাগ হয়ে যাবে। কিন্তু তাই হয়, হয়েছে আর তার বিরুদ্ধেই মুখর ঋত্বিকের ছবি, আঞ্জালদুয়া-র Borderlands/La Fontera বা তার থেকে আসা চিকানো স্টাডিজ, বালিবারের হারানো অক্ষর। সীমানা অঙ্কন যে স্থায়ী ‘অভ্যন্তর’ ও ‘বাহির’ চিহ্নিত করে দেয়, সেটা বৈশ্বিক স্থলের সামাজিক অঙ্কনের ফল। ভুগোলের আগাগোড়া ক্ষমতার গল্প, যা সেই বৈশ্বিক স্থলের সামাজিক অঙ্কনের সাহায্যে পরিচ্ছন্ন, ঘেরা রাষ্ট্রগুলির মধ্যে ডেভিড ক্যাম্পবেলের বলা জাতীয়তাবাদী কল্পনার (nationalist imaginary) চারধারে মুছে দিয়েছে পৃথিবীর প্রাকৃতিক রূপ। ‘বুড়িচাঁদ গেছে বুঝি বেনো জলে ভেসে।’ এই অঙ্কিত সীমানার মধ্যে ‘নো ম্যান্‌স ল্যান্ড’, এমনকি ছিটমহলের ছিটের গল্প শুনে মন খারাপ করে। থাকবে কী করে’ ‘নো ম্যান্‌স ল্যান্ড’? রাষ্ট্র সব চে বেশি উপস্থিত তো বর্ডারেই। একথা জানে যেমন সিয়াচেন গ্লেসিয়ারে বুকের ভিতরে বুখারি জ্বালিয়ে রাখা ভারতীয় পাক জওয়ান, তেমনই ওয়াগা সেক্টরে প্রতিদিন সকাল-বিকাল কটমটানো, ঠ্যাং তোলা মোরগলড়াইয়ে সামিল উরদিধারীরা। গ্যাব্রিয়েলা বোয়াংলু আর ইভানজেলিটা মাতসুকি লিখছেন জাতীয়তাবাদের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বর্ডারগুলোকে দেখা শুরু হয়েছে জাতীয় রাষ্ট্রগুলির আশ্রয়স্থল হিসেবে। তবুও একটা liminal space বা পরীক্ষানিরীক্ষার যায়গা, আমরা বলতে পারি বালিবারের ভাষায় দোলাচলে ভরা। অ্যালবানিয়ার বর্ডার ক্রমাগতঃ বিভিন্ন চিহ্নের মধ্যে আবির্ভূত আর অদৃশ্য হয়েছে। যেমন সমাজতন্ত্রী যুগে দেশকে বাকি পৃথিবীর থেকে রক্ষা(মতান্তরে বিচ্ছিন্ন)করতে, আর একুশ শতকের প্রথম দশকের শেষেও অ্যালবানিয়ায় বর্ডার রয়ে গেছে অন্যদের ইচ্ছেবিলাস। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য অ্যালবানিয়া বনাম নেটো সদস্য অ্যালবানিয়া। অ্যালবানিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা ও চিহ্নগুলির সর্ব সময়ের উপস্থিতি এরকম একটা স্ট্রাটেজি। সবচেয়ে মজার সীমানাচিহ্নগুলো বোধহয় সেগুলো যেখানে বহুসীমানার অতীত ও বর্তমান চিহ্নগুলো একে অন্যের পাশাপাশি থেকে একে অন্যকে কাটছে। যেমন একটা খালি বাঙ্কারের উপর পতপত করছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর অ্যালবানিয়ার পতাকা। অনেক আগে একটা একদিকে ইউরোপ আরেকদিকে এশিয়া লেখা চ্যাপ্টা পাথর সোভিয়েত রাশিয়ার দুভাগের পার্থক্য করতো কোথায় সে! তখন বুঝি মার্কিনী লেখক রেবেকা সলনিট যখন বলেন ‘The border is also a migrant’, তার অর্থ, কিম্বা অভিবাসনের অধিকার আন্দোলনের জনপ্রিয় স্লোগান ‘We didn’t cross the border, the border crossed us’, এর মর্ম। হারানো অক্ষরের খোঁজে Pátzcuaro- মাছধরা আমেরিকার উত্তরের বর্ডার পেরোতে না পারুক বা না পারুক, জিঙ্গো টুরিস্টের জন্যে আমেরিকার দক্ষিণ পশ্চিম আর উত্তর মেক্সিকোর প্রামাণ্য রান্নার বই লেখা হতে থাকবে!
বর্ডারে হাজির রাষ্ট্র। কোথা খুঁজবো নো ম্যান্‌স ল্যান্ড? সত্যি নো ম্যান্‌স ল্যান্ড থাকলে ২১শে আগস্ট ২০১৫য়, হ্যাঁ গতকালই, গ্রিস-ম্যাসিডোনিয়া বর্ডারে যে গ্রিক মাইগ্র্যাণ্টরা দুই দেশের কাঁটাতারের মধ্যে ম্যাসিডোনিয় পুলিশের আক্রমণের, গুলির মুখে পড়লো, আক গ্রিক বাবা তার ছেলেকে পুলিশের গুলির থেকে রক্ষা করার জন্যে আকুল হোলো, তারা কি আর ভাবতো! নাকি ভাবতো ভিয়েতনাম, লাওস, কাম্বোডিয়ার নৌকো-মানুষরা? করিমপুরের ভারত-বাংলাদেশের বর্ডারের মাঝখানে ঘাসে আগাছায় ঢাকা নো ম্যান্‌স ল্যান্ড দেখে হাসি পেয়েছিলো আমার! নো ম্যান্‌স ল্যান্ড তো সব দেশের ভেতরে ছড়ানো! ঋত্বিক তাকে খুঁজেছেন উদ্বাস্তু কলোনিতে, নস্ট্যালজিয়া আর ট্রমার মধ্যে দোলায়মান রিফিউজি কলোনিগুলিতে। কিন্তু নো ম্যান্‌স ল্যান্ড তো কেবল স্থান বা place বোঝায়না! সেটি একটি স্থল বা space যার বিশেষক অ-স্বাভাবিক মানুষ: নারী, এলজিবিটি, গে, এইডস রোগী এরকম আরো অনেকে। স্টিফেন শেক্টার তাঁর এইডস-এর ইতিবৃত্তে বলছেন নো ম্যান্‌স ল্যান্ডকে বোঝা যেতে পারে সেই স্পেস হিসেবে, যেটা আমাদের অস্তিত্বের রূপকীয় চরিত্রের উপর আর এই রূপকের অস্তিত্বের পূর্বশর্ত হিসেবে সেই অস্তিত্বের বিরোধাভাস বা অ্যাণ্টিনমিগুলির (antinomies) উপর জোর দেয়। ফুকো রাষ্ট্রের যে ‘বায়ো-পাওয়ারের’ কথা বলেছেন, সেখানে সমকামী, লিঙ্গপরিবর্তনকামী তো নো ম্যান্‌স ল্যান্ডে বাস করেই! কিন্তু স্বাভাবিক মানবী। সেও কি তার বাসিন্দা নয়? সান্দ্রা গিলবার্ট আর সুসান গুবার আবার সব মহিলা লেখককেই এই নো ম্যান্‌স ল্যান্ডের বাসিন্দা বলেছিলেন।
এসব নতুন কথা অবশ্য অনেক পুরোনো কথার জের। ভারজিনিয়া উলফ সেই কবে বলেছিলেন যে একটি নিজের ঘর না থাকার জন্য কোনো মহিলা শেক্ষপিয়ারের মতো লেখক হননি। তখন কি উলফ নো ম্যান্‌স ল্যান্ডের কথা বলছেন না? আবার থ্রি গিনিজ-এ তিনি লিখছেন:
‘সে দেখবে যে তার হয়ে তার ভাইকে “আমাদের” দেশকে রক্ষা করতে বলার কোনো ভালো কারণ নেই তার। “আমাদের” দেশ, সে বলবে, নিজের অস্তিত্বের অধিকাংশ জুড়ে আমার সঙ্গে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করেছে; আমাকে শিক্ষা বা তার সকল সম্পদের ভাগ দিতে অস্বীকার করেছে। “আমাদের” দেশ আমাদের থাকবেনা যে মুহূর্তে আমি কোনো বিদেশীকে বিয়ে করবো! “আমাদের” দেশ আমাকে রক্ষা করার সমস্ত উপায় থেকে আমাকে বঞ্চিত রেখেছে, আমাকে বাধ্য করেছে আমাকে রক্ষা করার জন্য একটা বড় রকমের টাকা প্রতি বৎসর অন্যদের দিতে, কিন্তু, তবুও, আমাকে রক্ষা করতে এত কম সক্ষম যে আমার বাড়ির দেয়ালে এয়ার রেড প্রিকশন্স সর্বত্র সাঁটা। ... তাই যদি তুমি আমাকে বা “আমাদের” দেশকে রক্ষা করতে যুদ্ধ করার উপর তবু জোর দাও, তবে এটা আমাদের মধ্যে খোলাখুলি, যুক্তিসহভাবে এবং শাদা চোখে বোঝাবুঝি হয়ে যাক যে তুমি লড়ছো একটা যৌন প্রবৃত্তি চরিতার্থ করতে যার ভাগ আমি নিতে পারিনা; কিছু উপকার সংগ্রহ করতে যার আমি ভাগীদার হইনি, কখনো হবোনা; কিন্তু আমার প্রবৃত্তি সমূহ চরিতার্থ করতে নয় বা আমাকে কিম্বা আমাদের দেশকে রক্ষা করতে নয়। কারণ’, বহিরাগত/আগন্তুক বলবে, ‘বস্তুতঃ, একজন মেয়ে হিসেবে আমার কোনো দেশ নেই। একজন মেয়ে হিসেবে আমি কোনো দেশ চাইনা। একজন মেয়ে হিসেবে আমার দেশ সমগ্র পৃথিবী’।
আমরা কি এখানে লিখতে পারিনা, ‘একজন মেয়ে হিসেবে আমার দেশ সমগ্র পৃথিবী, যার কোনো বর্ডার নেই, নো ম্যান্‌স ল্যান্ড নেই; যেখানে অস্তিত্বের অভিজ্ঞান অঙ্গুরীয় হারিয়ে গেলে বিপদে পড়তে হয়না’, ইত্যাদি! নো ম্যান্‌স ল্যান্ড তবে কোথায়? অ্যাডর্নো নিগেটিভ ডায়ালিকটিক্স বইতে বলছেন ‘As long as the world is at it is, all pictures of reconciliation, peace and quiet resemble the picture of death. The slightest difference between nothingness and coming to rest will be the haven of hope, the no man’s land between the border posts of being and nothingness’.
সূত্রগুলি

David Campbell, Writing Security: United States Foreign Policy and the Politics of Identity (Minneapolis : University of Minnesota Press, 1992).
Cynthia Weber, Simulating Sovereignty: Intervention, the State and Symbolic Exchange (Cambridge; New York: Cambridge University Press, 1995)
Lynne Hanley, Writing War: Fiction, Gender and Memory (Amherst: University of Massachusetts Press, 1991)
Gloria Anzaldúa, Borderlands/La Fontera: The New Mestiza (San Francisco: Aunt Lute, 1987).
Dipesh Chakraborty, ‘Remembered Villages: Representation of Hindu-Bengali Memories in the Aftermath of Partition’, Economic and Political Weekly 31:32 (August 10, 1996): 2143-51.
Étienne Balibar, ‘The Borders of Europe’, translated by J. Swenson in Pheng Cheah and Bruce Robbins (eds.), Cosmopolitics: Thinking and Feeling Beyond the Nation (Minnesota: Minneapolis University Press, 1998), pp. 216-29.
Gabriella Boanglu and Evangelita Matsouki, ‘Lived Borders— Between Belonging and Daily Crossing’, in Basilēs G. Nitsiakos, Balkan Border Crossings: Second Annual of the Konitsa Summer School (Münster: LIT Verlag, 2011), p.157.
Rebecca Solnit, Storming the Gates of Paradise: Landscapes of Politics (Berkeley: University of California Press, 2008), p.76.
Cheryl Alters Jamison, Bill Jamison, The Border Cookbook: Authentic Home Cooking of the American Southwest and Northern Mexico (Boston, Mass.: Harvard Common Press, 1995).
Stephen Schecter, The AIDS Notebooks (Albany, N.Y.: State University of New York Press, 1990).
Sandra Gilbert and Susan Gubar, No Man's Land: The Place of the Woman Writer in the Twentieth Century, vols. 1 and 2 (New Haven: Yale University Press, 1988).
Virginia Woolf, Selected Works of Virginia Woolf (Ware, Hertfordshire: Wordsworth Editions Ltd., 2007),p. 861.
Theodor Adorno, Negative Dialectics (New York: Continuum, 1983, 1973), p. 381.