ফাঁক- এ বেড়ে ওঠা ফাঁকি

তানিয়া চক্রবর্তী

ঠিক ঐ ফাঁকটুকু
করায়ত্ত থেকে নাশকতা
নাভিদেবী কারো নামে ভাঙায় না
খালি গায়ে ছেলেটা শঙ্খ খেলে
অ্যাফ্রদিতির স্তাবকবিদরা ওকে ক্লীব বলছে
আশ্চর্য কডেট নিউক্লিয়াস
একটা মাইগ্রেন দ্বিমেরু প্রেমকে সঙ্গমে ধরে
সবাই কাতরাচ্ছে --- জমি কার
ওটা অবিনশ্বর ফাঁক (নো ম্যানস ল্যান্ড)
ফাঁকে, আড়লে, গোঁজামিলে যে মিল নামের দত্তাপহারী হয়ে বেঁচে আছি সবাই সেখানে সমস্ত বৃত্ত –এর পরিধি রচনা করলে তাঁর ফাঁকে এমনিই জন্মায় ফাঁক। যে ফাঁক কারোর নয়...যুদ্ধ, আইন, প্রান্তিক ব্যবস্থা যাকে রচনা করেছে তার নাম নো ম্যানস ল্যান্ড। কি এই নো ম্যানস ল্যান্ড? শুধুই কি দেশজ আইনের বেড়াজাল... কিন্তু হাস্যকর বিষয় হল এ ভূমি কার ! আসলে নশ্বরতা কে মানলে পুরোটাই নো ম্যানস ল্যান্ড।
তুমি করায়ত্ত করবে
আমি ফাঁক বুঝে উড়ে যাব
বাড়তি কোলাজে বাঁধা প্রেক্ষকর মন
সীমান্তের দুই ধারে অন্ধ গুহা
গুহা জুড়ে মানবিক ঢেউ
যারা অধিকার মানে দীর্ঘ শ্বাসে ঘাত নিয়ে মরে
যারা অধিকার মানে না
তারা ছটফটে ঋদ্ধের অনন্ত সুর
তুমি করায়ত্ত করবে
আমি ফাঁক বুঝে উড়ে যাব...
দেশজ সীমা কিম্বা ততোধিক --- ওই ফাঁকে গড়ে ওঠা জীবন, গাছ-গাছালি--- যেন স্রোতের মুখে এসে জমা আঁটোসাঁটো পাথর ---হ্যাঁ ওরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় --- হ্যাঁ ওরা নশ্বরের অর্থ জানা জীবন-মৃত্যুবাদী বেহিসেবী --- ফকিরজীবনের মতো আসন পাতা সময় ওদের ,ঘর ওদের --- হ্যাঁ ওরা প্রেম মেখে শরীরে শরীর মিশিয়ে জন্ম দেয় শিশুর --- নামহীন, গোত্রহীন রবিঠাকুরের সেই ফুল--- কে করে বিচার সীমানার ?আগে সৃষ্টি,উৎস,বীজ, জন্ম --- তারপর কাঠামোর হোতা প্লাস্টিক সমাজের দেশ এনেছে বিভাজ্য লালনের কাকবন্ধ্যা নিয়ম বানিয়ে।
শরীর এক গাঢ় ব্যাপ্তি তাকে ধারণ করে শরীরই, সীমানা ঘুরে ঘুরে সীমানার ব্যাপ্তি পড়ে যায়, এই শরীর ক্রমশ বিকশিত হতে হতে সীমানামুখী হয় , আদরে ধার্য হয়, হয় সমাহারে, করে দায় পালনের অভিসার তারপর তাকে নিয়ে রচিত গণ্ডির মাপজোখ শুরু হয়, এত অবধি শিশুর, এত অবধি স্বামীর, এত অবধি, অবধি আর শেষ হয় না, যে ফাঁকটুকু থাকে ওরা চামড়ার সমকালীন সমান্তরাল দায়...এই আর্য বা অনার্য বা নামহীন চামড়া প্রাণহীনে শুকিয়ে যেতে গিয়ে মিশছে মাটিতে, পুড়ছে বাতাসে... সমস্ত ব্যাপ্তি যেন সময় লুন্ঠন করে নিল, পড়ে রইল জন্মচক্র ---মা ক্রিয়া ও মা কুন্ডলী, যদি বলি নাভি , জন্মতে ক্রিয়াশীল জন্মদাগ, যেখানে সে নিজেই যেন পৃথিবী , অবশিষ্ট ও শক্তিশালী গঠন নিয়ে স্বকীয়তাকে জয় করেছে , সে নাভি---সে নো ম্যানস ল্যান্ড, এই নাভি যেন শরীরের নো ম্যানস ল্যান্ড, সে যেন সমস্ত মাপজোখের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ একটি মীমাংসা জন্মকে বাঁচিয়ে রাখার ও হিসাবের প্রান্তিকতাকে মিথ্যে করার প্রতিবাদ--- হ্যাঁ এই শরীরের শুরু নাভিরজ্জু ধরে, এই শুরুও শেষে গিয়ে শেষ হয় না... অনন্ত হয়ে সমস্ত দাগকে দাগী করে রাখে , আহা এই নাভিজন্ম, ঐহিকের ফাঁক ও জালে শুধু সীমানা আঁকছি , কালীন রূপান্তরের এক মূর্খ যাপন, যেখানে সৃষ্টিই সীমান্তকে স্বীকার করে না সেখানে সীমান্ত কি কিছু নির্ধারণ করতে পারে? অর্থাৎ এ নাভি বার্তার শরীর বলে সে নো ম্যানস ল্যান্ড, অর্থাৎ এ সমস্ত পূর্ণ গোলক পৃথিবী বলে সে নো ম্যানস ল্যান্ড---
যারা প্রথম থেকে হিসেব ছেড়ে ঘাসের চটে ঘুমিয়েছে, যারা বৈধ ছকের চাল জানে না, যারা দানাপানির অধিকার ছেড়ে হাঁটছে --- এমন কোনো মানুষ,গাছ, পাখি,পোকা যে ফাঁকে হয়ত বসে আছে সেখানে তারা বিচ্ছিন্ন ও প্রান্তিক কেন হবে? আসলে পুরোটাই নো ম্যনস ল্যান্ড ---মানুষ জন্মেছে মানুষের গোঁড়ায়--- মানুষ বানিয়েছে মানুষের নিয়ম --- মানুষ বুঝেছে মানুষের জীবন --- মানুষ বানিয়েছে নিয়মের অনিয়ম --- সেই নশ্বর লিলিপুট দেশের লিলিপুট মনের মানুষের নিয়মে নো ম্যানস ল্যান্ডে থাকা মানুষই বিড়ম্বিত,জর্জরিত ও প্রান্তিক বার্তায় পরিচিত... তাই এই মূর্ত প্রান্তিকতাকে সরিয়ে হেঁটে যাব বিমূর্ত-এর ঘরে... যে শক্তিরাজ্যের সীমানা কেউ না বাঁধলেও তার ঘরে অজান্তে রচিত হচ্ছে অজন্তার মতো কোনো গুহাচিত্র,সময়ান্তরে যা ফেটে বেরোবে বা লুকিয়ে লুকিয়ে হা্রিয়ে যাবে কিম্বা বিরতিপর্বে খুঁজে নেবে পথরেখা , হ্যাঁ যেমন নদী পরিকল্পনাহীন ভাবে শুধু স্রোতের লালিমায় নিজস্ব গতি,বাঁক আর বিরতিপর্ব নিজেই রচনা করে তেমনি মনের নো ম্যানস ল্যান্ড নিজেই বিরচিত হতে থাকে।
ভালোলাগা, ভালোবাসা, অর্জন,অধিকার সমস্ত সচেতন শেকল একটা নৈশপর্দা বিদারকের মতো সীমানার বাইরে নিজেই বেড়ে ওঠে অনর্গল,বৈধতার বাইরে বেরোলে সে অবৈধ... এই অবৈধ পবিত্রতায় হয়ত গড়ে ওঠে মুক্তির মন--- মুক্তির নো ম্যানস ল্যান্ড।
যেমন সমস্ত বৃত্ত গঠনের গঠিত তাগিদকে ছিন্ন করে ফাঁকে ফাঁকে জাগিয়ে তোলে জায়গা--- যে কারোর অধীনস্থ নয় --- সে মনের মালিক ও সেই জায়গার কেউ নয় --- সেই নো ম্যানস ল্যান্ড যেখানে প্রান্তিকই প্রান্তিকতাকে রক্ষা করে...
“তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা মন জানো না” --- কেন জানে না মন ? কারণ এই গোটা মনের চত্বর ই নো ম্যানস ল্যান্ড...
এর এখানে তার কোনো প্রতিষ্ঠা সূত্রের প্রয়োজন নেই... এই ঘরের বাইরে যে প্রান্তিক এসে বসে সেই রাজা সেই ফকির... তার রাহাজানির গায়ে প্রান্তিকের তকমা লাগে না --- কিত-কিত খেলতে খেলতে সেই সমস্ত দেশের ক্ষ্যাপা রাজত্ব গুলে খায়--- তাই শিল্পী আসে --- শিল্পীর শহর গড়ে ওঠে ---গড়ে ওঠে নো ম্যানস ল্যান্ড থেকে ম্যানস ল্যান্ড--- জোয়ারে লুটিয়ে লু খেয়ে ধসের সঙ্গে সঙ্গম করে মাটিতে, বিছানায় নয়, তাই অবৈধ প্রেমের পুরুষ-নারী ভেঙ্গে দেয় কংক্রিটের খেলাঘর --- জ্যোৎস্না রাতে হিসেব রসাতলে ঢুকিয়ে ক্যাবলা হয়ে পাগল হয়ে পৃথিবী রস শোষে--- সবচেয়ে বড় বোধের সামনে দাঁড়িয়ে চালাক ক্যাবলাদের দেখে...
হ্যাঁ এই মন সবচেয়ে বড় নো ম্যানস ল্যান্ড --- সে যেন বলছে...
ফুটো চালের পিঠ দিয়ে ঢুকছে কাকের আকুতি
আমি ভস্ম হই না---
আমি তিনদিন বিরতিপর্বের নারীশরীর নয়---
মুহুর্ত বেগে খসে পড়ে অজস্র পুচ্ছের মালিকও নয়---
আমি তৃতীয় সত্তাকে লালন করে কোনো মিশেল বানাতে জানি না
আদি থেকে অন্ত অবধি আমি একটি চারণক্ষেত্র অবাধ
ক্রমশ ঢুকে,কুঁচকে,অগ্ন্যুৎপ তে,কম্পনে পরিবর্তিত---
ওরা আমার পিঠে চড়েছে কেবল ---
সর্বত্র আমারই পিঠ ---
পিঠের কোনো দ্রাঘিমা নেই
আমি শূন্যতায় সবচেয়ে রাজকীয়,ইতর ও বন্ধনহীন
অনন্তের প্রেক্ষক হয়ে লুটিয়ে আছি --- জরিপহীন পথরেখা---
এ অবিনশ্বর ফাঁকে বেড়ে ওঠা ফাঁকির গভীরতা
---নো ম্যানস ল্যান্ড ...