নো ম্যানস ল্যান্ড

ওবায়েদ আকাশ


হৃৎপিণ্ডের ঘুম


সুখী মানুষের হৃৎপিণ্ডের ভেতর বড় হচ্ছে হৃৎপিণ্ডের ঘুম

জানালায়, প্রলম্বিত নির্জনতায় ক্লান্ত স্নায়ু এলিয়ে পড়েছে
মাইনে শোধ করে দেয়া ভৃত্যেরা এই দৃশ্যের সৎকার করে গেল

তাদের দাঁতের ভেতর দিয়ে লুকিয়ে থাকা স্মৃতি
এক্ষুণি খুলতে পারছে না
তারা ঘুমিয়ে পড়া হৃৎপিণ্ডের অভিলাষ হতে
নিজেকে লুকাতে পারছে না

সুখের সম্বন্ধগুলো ফুলেফেঁপে আয়ুষ্মতি হলো
নদী ও নাব্যের ভেতর বড় হচ্ছে ঢোলকলমির ঝাঁক



আজো ওড়ে প্রত্ন প্রজাপতি

ঘুমের চাতাল থেকে উড়ে গেছে খসে পড়া ঈগলের ডানা

রাতের বল্লমগুলো প্রাণান্ত উন্মাদনা নিয়ে
দাবদাহের আগুনের মতো কাঁপছে

নির্দিষ্ট বাতায়ন থেকে ভেসে আসছে বিদ্যালয়ের ভাষা
উরুর নিচে কলকে রেখে তুমি আমি ঘুমিয়ে পড়েছি

মেঘের ওপর মেঘ থেকে শুরু হচ্ছে জাগরণের ব্যথা

চাতালের ধান খেয়ে উড়ে গেছে প্রত্ন প্রজাপতি




যে যার গায়ে চিমটি কেটে

গাভীর ডাকের ওপর দাঁড়িয়ে পড়েছে রাত্রির গভীর প্রক্ষেপণ
থৈ থৈ জলে ফসলের অংশগ্রহণ জুড়ে উচ্ছ্বসিত যত মাছ

জলের ওপর লাফিয়ে পড়া ফুটবলগুলো
ফিল্মের আর্কাইভ থেকে ছুটে এসে শোনাচ্ছে রাত্রির গুনগুন

গাভীর ক্রন্দন ভেঙে ভেসে উঠছে মাছ ও শস্যের অবয়ব
মাকড়সার ফসিলগুলো ভেসে যাচ্ছে শীত রাত্রির জলে

যে যার গায়ে চিমটি কেটে সারারাত্রি ঘুমাচ্ছে মানুষ



প্রিয় নারীর মন
চক্রাকারে একটি বিচ্ছিন্ন খুলি শনাক্ত করে
শুরু হলো প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা

নিমীলিত ঠোঁট থেকে ঠিকরে বেরুচ্ছে হাসি। দাঁতগুলো
ঝুলন্ত মার্বেলের মতো হেলেদুলে অনায়াসে ঘুমিয়ে চলেছে

তার কাছে প্রেরিত পত্র, ট্রাকভর্তি দালিলিক স্মারক
আদিঅন্ত চোখের মসনদ ভেঙে
অবিভক্ত সমুদ্রের দিকে পাচার হয়েছে

শুধু সময়ের স্পন্দনগুলো পরিখার অবসরে টুপটুপ করে ঝরছে

তার কান্না ও কল্পনার প্রশাখা শুধু
দাবদাহের বিপন্ন ফুলকির মতো ঘুমিয়ে পড়া মাতৃত্বের অহঙ্কার

এছাড়া আর কোনো অভিব্যক্তিকে বিশ্বাস করা যায় না

ভিনদেশী যুবকের হাতে লুট হয়েছিল প্রিয় নারীর মন

প্রাচীন সিন্দুক, গোপন অস্ত্রাগারে তার কোনো ব্যবহৃত ছাইদানি নেই
...............