ঔম্ প্রাঙ্মুখ

হিজল জোবায়ের

হুহুম হুহুম না
মধ্যাহ্নের শববাহকেরা শব ফেলে গ্যাছে আধঘাটায়
হুহুম হুহুম না
হঠাৎ বৃষ্টি শ্রাবণ মাসের দিকে

একূলে তরঙ্গ বহে অসীমের ধরা প্রেক্ষাপট
ওকূলে বহিয়া চলে নাতিধীর গোষ্ঠশকট

হুহুম হুহুম না
জংলা নদীর বিপরীত স্রোতে শার্দূল সাঁতরায়

কেঁপে কেঁপে ওঠে এপিলেপটিক
ঘুমের মধ্যে তাড়িখোর মানুষেরা,
শ্লেষ্মায় বাঁচে, ঘুমের মধ্যে কাশি;
বাঁধ ভেঙে যায় বন্যাপ্রবণ নদী—
নদী ঘিরে রাখা বিদ্যুৎ-কাঁটাতারে
বিপরীত স্রোতে গুলবাঘ ফিরে যায়

আলো নিভে গ্যাছে, পাহাড়ে এসো না
মাহুত বনের হাতি নিয়ে গ্যাছে মেঘালয় পাড়ি দিয়ে—
আরও দূর দূর অবহ সুদূর পাহাড়িয়া বন্দরে

হুহুম হুহুম না
হাহাকার হয়ে ডগিয়ে উঠছে লতা,
তোমার লতানো বাহু বেয়ে যেন রাতে চাঁদ নেমে আসে
হুহুম হুহুম না
তোমার লতানো বাহু বেয়ে যেন সূর্যটা উঠে আসে

ঔম্ প্রাঙ্মুখ
সব্বে সত্তা সুখিতা ভবন্তু
অউম প্রাঙ্মুখ
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ

সময় আসিয়া অকূলে বহিয়া যায়
আগুন-ডানার পাখি ফল ভেবে সূর্য ঠুকরে খায়


ঔম্ প্রাঙ্মুখ
তেপান্তরের টিলা—
বাতাস ঘিরে পাখির চংক্রমণ
অন্ধ-পীরের দরগায় একা গেরুয়া নিশান ওড়ে

ঢেউয়ে ভর করে ভেসে যায় নদী
দীর্ঘ শুষ্ক অনাবৃষ্টির দেশে
ফেলে দিয়ে আসা বস্তার মুখ খুলে যায় অবশেষে

বিপরীত স্রোতে মার্জার সাঁতরায়