জমিগাছ

রত্নদীপা দে ঘোষ

এক খণ্ড জমিগাছ । অথবা গাছজমি । তাকে কেউ কখনো আদর করেনি । সন্তানও হয়নি তার । আমি বুঝি তারি অধীনে আছি ... ভোরের আজান , দেবদূতের মিথ ... তার সাথে ছবি তুলি ... যেন আমার সাঁতারের নেশাটি ... ফসলের লাঙল ... হালচাষ ... সুকুমারি বারান্দা যা কিছু নিঃস্ব ... আমার স্বপ্নআঁকা টুটাফাটা ......


ডেকে বলি , তুমি একবার এসো , আগুনদেবতার বৃষ্টিরেস্তোরাঁ হয়ে একবার এসেই যাও ... সীমান্ত করে রাখব না , বিবাহ করাবো





তোমাকে ... শ্যামাবিয়ের বেনারসি , হলুদ ছাপার অক্ষর ... গড়ে দেবো অখণ্ড ময়ূরদুর্গ ... আশ্চর্য ক্যানভাসটি কাঁপিয়ে ঝুলনপূর্ণিমাময় চোখ হবে তোমার ... সাইক্লোনের পাপড়িগুলি বাসর দেবে ... সাদা অংশগুলিতে দুলবে শ্বাসপ্রশ্বাস ... শ্লোকের নুন ঝরবে একটু একটু করে , হে জমিগাছ ... তুমি সমস্ত দিন সমস্তখানি সীমারেখার রাত ...

আমি বিষ উঁচু রাখবো দু’ হাতে ... যাতে নদীরা ডানা ঝাপটাতে পারে কুসুমসুখে ...যাতে ছিটমহলের প্রতিটি চুড়ি-গড়া হাত গর্জে উঠতে পারে সামরিক বিপ্লবে ... যাতে প্রতিটি মহালের কুঁড়েঘর মায়াবী ঘরে-ফেরা হতে পারে ... যাতে প্রতিটি ঘরে- ফেরা ঈশ্বরের পাখিরা বাজতে পারে ... যাতে প্রতিটি কুয়ো সস্নেহ কলকল সকাল ... বেড়ে উঠতে পারে ...

আর আমি সেই জলজ সঞ্চারীতে সূর্যের গলুই দিই ... ... বিলাসের চড়ুইতে লিখি ক্ষণজন্মা চিঠি ... তোমাকে ডাকনামে ডাকি ... তোমাকে ভালোনামে রাখি ...

হে উঁচুপলাশের ছায়া , হে বিগতশস্যের মেঝে ... আর কোথাও কোনো যুদ্ধ নেই ...কোথাও কোনো শ্যাওলা-তরবারির ঝিঁঝিঁধার নেই ...

ওগো তনহা জমি , শোনো তুমি ...
ওগো ধানগাভীর এক ইঞ্চি জমি ...
শোনো তুমি ...
প্রণামের স্বরে আজ তোমার জন্যেই আকাশের দুধে পরমান্ন রাঁধি ...