সেই প্রান্তরের থেকে লেখা চিঠিগুলি

রাজর্ষি মজুমদার

Out beyond ideas of wrongdoing and right doing ,
there is a field. I'll meet you there.
When the soul lies down in that grass,
the world is too full to talk about.
-- Rumi



১.
এরপরেও কি কথাগুলো গান হয়ে উঠবেনা? নীল পাড় থেকে তুমি বলবে কীরকম রেশম রেশম লজ্জা করছিল ...
উষ্ণতা এ বিকেলের ঢেউ হল লহমায়। ডোবার আগে ফেলে যাওয়া গুঁড়ি – কতোটা আসল?
মেয়ে এভাবে ত্রস্ত হলে – আমিও গোপনে ভাঙি
তোমার নামের কাছে ফিরে যাওয়া ভালো
শুধু এই সাদা চাদর, মিহি ব্যালেরিনা - আমাদের মৃত্যুকে স্পর্শ করে যায় যেন।
২.
“ভালোবাসি বলে দূরে যাওয়া ভালো” – এরকম বর্ষাভরা কথা বলা ঠিক নয়। যেটুকু হারিয়েছে চিলেকোঠা ঘুরে খুঁজে দেবো ঠিক।
ড্রাইভ থেকে দেখো, ঘাসবন রঙ সাজাচ্ছে। এই ঘাসবন তোমার কমলালেবুর, এই ঘাসবন আমাদের গড়াগড়ি। যতই ঘনিয়ে আসুক সে যে আসলে হাওয়া ...
সম্ভাবনার কথা ভাব, যেখানে তোমার কলারে নতুন কবিতা লেগে যায়।
এইবার দ্রুত হও – শার্ট ছেড়ে শাড়িতে ফেরো – ফুলের মধ্যে ফিরে এসো অনেকটা।
৩.
যে মুহূর্তে কান্নায় নেমে এলে – তার আগে অবধিও চা খাওয়ার কথা ছিল। ভাবছিলাম দুধের টগবগ, এলাচ ও আদা।
তারা আসলে তোমার দুঃখের দাগ,আতিশয্যের নিলাজ সন্নিবেশ।
মেয়ে, তোমার ধ্বনির সাথে প্রকৃত কিসের মিল – ধারাস্নান হয়ে এই আদর যেমন কণা কণায় ঝাপসা করছে শার্সিদের।
সেই ভেজার ভাষা খুঁজে দেখ – না হওয়া উপত্যকার করুণ – কেমন একা করে দেবে আমাদের। পুরোনো শহরের মনখারাপ সরিয়ে উইকএন্ড আলসেমি ছুঁইয়ে দেবে রোদ।
৪.
চুপ করলেই কি আমাদের ভাষা সম্পূর্ণ বদল হয়? ইশক থেকে , এই ফকিরী থেকে আরো প্রচ্ছন্ন হতে চাই – দেখে নিতে চাই পুরোনো লেকের পাশে তোমার অকপট কথনভঙ্গিমাটি।
তুমি চাইলেও শেষ করা যাবেনা জানালার নরম তান – ঝিরিঝিরি পাতার দূরে অজানা ক্যাফের এক সকাল তোমাকে দেখবে – পড়ে থাকা কাপের তলানিতে।
মেয়ে, এবার মনে হয় তোমার চোখের তারিফ করা উচিৎ। আর আমার দেখা নিয়ে তোমার কি ধারণা তার কথা একটি প্লেটের হয়ে যাক।
খেলার পর যাকে আমরা বিশ্বাসযোগ্যতায় চাপা দেবো।
৫.
এখানে সারাদুপুর কোনো শব্দ ভাসেনা। অল্প শব্দ চাওয়ার ইচ্ছে – আসলে তো সুরেরই অপেক্ষা।
তোমার কথার জন্য পাতারা থেমে আছে – চোখ ব্যাথা করে উঠছে অক্ষরের। অক্ষর তো আসলে দান – মনে না পড়া নদীর গল্পের থেকে আমি তাকে তুলে আনি।
কত জল এভাবে স্নেহকরস্পর্শ ছেড়ে চলে যাচ্ছে – ঘাসের স্মৃতিতে জেগে উঠছে পায়ের পাতার শিশির।
আমার স্মৃতিতে নরম হচ্ছ – মফঃস্বল নেমে যাচ্ছে ঢালে। সূর্যকিরণ থেকে, অদেখা মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি অস্পষ্ট হয়ে আসে – এভাবেই কি দেখা হবার কথা ছিল?
আরেকবার বেঁচে উঠবার আগে সেসব জানা খুব জরুরী।
৬.
এবারেও ভালোপাহাড় যাওয়া হোলোনা, দিনগুলো জটিল হচ্ছে অহেতুক য-ফলার মতই। যেন আমাদের আটকে রাখা কলেজ পাড়ার অঝোর বৃষ্টির পর সমস্ত ছায়া পড়ে পড়ে আশ্বিন আসছে সমতলে - ভেবেছি আরো পশ্চিমে যাওয়ার আশায় রাজি হয়ে যাব তোমার সমস্ত বকুনিতে।
ভ্রমণ তো নয়, আমি পরিকল্পনা করছি এক ঘোরাফেরার। নখ থেকে নেলপালিশে যাবার দূরত্বে।
স্বপ্ন নয় এখানা ঠিক - পবিত্রতা বলা ভালো যার সার্থকতায় নৌকো ছাপিয়ে ভেসে যাওয়া প্রবল হবে আমাদের।
আর পড়ে থাকা কদমগন্ধের মতই প্রশ্ন এড়িয়ে গেলে কষ্ট হবেনা তেমন ...
৭.
প্রান্তরকে তুমি কি রঙ দেবে? দেখেছ , সবুজ বলতেই ঘাসেরা কেমন সাড়া দিচ্ছে চরণশব্দে।
শুয়ে থেকে থেকেই পরিষ্কার দেখতে শুরু করেছি - দূরের আঙুরবীথি ছাড়িয়ে , লাইটহাউস ছাড়িয়ে হাওয়া দিচ্ছে। যেন সমস্ত আসমানী নীল গায়ে জড়িয়ে নেমে আসছ তুমি - যে নেমে আসা বাকি ছিল অনেককালের - অনন্ত থেকে সবুজের পরে ফার্লং ফার্লং দূরত্ব কমছে আমাদের।
মেয়ে , এখনই কি মরা উচিৎ আমার? নাকি এই চরাচর ... শুধু আমাদের হয়ে থাকা ঘাসবনের মধ্যে তোমার এই কাছে আসাটুকু দেখে কাটানো উচিৎ আরো কয়েকটা জীবন?