নো ম্যানস ল্যান্ডে বারীন

বারীন ঘোষাল



এফ আই আর

ভেতরের মানুষটা বেরিয়ে আসতেই
আবার ফাঁপামানুষ হয়ে পড়ল সে
হোর্ডিং-এ কাট-আউটে কেউ মানলো না
একটু ফিসফাস
একটু ক্রিসমাস
টগর ফোটা বৃদ্ধাশ্রম ঋতুবন্ধে পড়েছে


সুরের বেতারগুলো যে ভাবে গিটারে
যেভাবে স্টেজে দাঁড়িয়ে গলায় গিটার ঝুলিয়ে জ্যামিং চলছে
সবটাই এফ আই আর-এ তোলা
অমলজানের ওপরটায়
গহরজানের তলায়
সং-এ সাংলায় হাপরের শব্দে চাদর মোড়া রোদ


অন্ধকারের পাপড়ি খেলায় আমি আর স্নো মাখি না গো
জানালার আকাশ না আকাশের জানালা নিয়ে
উপাসনা আর প্রবালদ্বীপের ক্যামেরা নিয়ে তর্ক
‘টং’ হলেই বাচ্চারা গুরে দেখছে ফাঁপামানুষটাকে


প্রিজম
আক বাক ডুম মেশানো মোকামের কথায়
ওগো ধোঁয়াময়
খোলামেলা বারিশ-ধনুর ধূন
বোজা চোখপালকে পেখম
পালকে বুদবুদ
পালকে আলতো আঙুল
ট্রিগারে
ভয়ে প্রাণ উড়ে যায়
পাখি তার অবোধ ছায়াটাও নিয়ে গেল


হাফটাইমের ঘন্টা বাজে বধির স্কুলে


টিকিট কাউন্টারের ভেতর থেকে খালি আত বেরিয়ে এল


চালকহীন গাড়ি
স্ট্রেচার ট্রলি অলেস্টার
এসবে ভয় পাই
ভয়ে আমার রংপ্রিজমটা ভেঙ্গে গুঁড়োময়
তোমার প্রিজমটা থাক না থাক না



সাউন্ড সার্কাস

ছায়া ছলছল গাছ
এবং কুয়ো না বিয়ার হো হো
পান্থের গোপন বেয়ালা
আররম পাররম
রঙের পুনর্জন্ম হচ্ছে


বুদ্ধির কুডাকগুলো হেঁটে গেল পাটিগণিতের ছকে
কেয়সে জোর খাটাচ্ছে কেউ
সব সরলরেখায় নকের টার্ন
সাউন্ড সার্কাস
সব মাইরি করে দিচ্ছো অল গায়েব


একটু জড়িয়ে আছি
অংশত ভাবো
কয়লার মধ্যে হীরে মানলো না
পান্থের কাট-আউট
ফসিল
মানলো না


হাওয়া
আসতে দিও
আস্তে পাললিকাল চুমুটাও খেয়ো



রংমিলান্তি খেলা

ইলেকট্রনের ট্রেন চেপেছে গুরাশ চোখের টুরিস্ট
সাইট সিইং-এ বেরিয়ে কবিতার অপরিসীমে তারা থামতেই পারলো না
ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে গেল বিবনে
গুলির আরো কাছে এল প্রাণ
সবুজ-লালে না নীল-সবুজে
গায়ে হলুদের বেনে বৌ
ফুলেদের কাছে ফুলেরা খেলছে হেলিয়া
ফুট ফূট করছে ফুলগণনার মানুষহীন জীবন
শুধু প্রজাপত্নীর নবীন প্রজাপতি
এ রূপ রূপোমার
ওং ব্রহ্ম


দেয়ালের কান বদলে যায় খুকির আঁকিবুকি গানে
বছরের ক্যালেন্ডার
বয়সকাল
রেডিওর আধোগান কাঁপছে নদীর বাতাসে
কাশ উপমার অবকাশে বিরক্ত হয় সে


বাজনবীণায় টান তান সেট করছে না কিছুতেই
নারীস্বনে ধোঁয়া বৃষ্টির ওভার ভার
এলো ফাগাম
নাকি লাল নীল রঙের শব্দে রংমিলান্তি খেলছে রামধনু



উলফত কি আর
বাক্কানো ওয়াক্কানো লাগছে দেখতে
তুমি কি গারদ
ঝর্না
জলের গরাদ


তখন বর্শা না
বর্ষানাচায় চা চা
হুলা হুলা
রক্তে ধোয়া পার্টিগণিতে পিরিয়ড আঁকা চেপে ধরেছো
তখন পতাকা গোঁজার ক্লাস শুরু হয়েছে মেয়ে লেগুনের গুহায়


সেদিন আদুরে মাদুরে রোদ পোয়ালো আমার মরাল
ড্রপ খেতে খেতে আকাশ বানালো মেঘ
মেঘ ফেঘ বর্ণালী গোপন করতে পারল না
পাহাড় লেখার পরে
পাখি আঁকার আগেও
কী রঙ যোনিপথের যুদ্ধে
উলফত আর কি


শীতের শেষে কেবল বাক্কা ওয়াক্কা
উলমেষ
আর মেগুলান এসে মুছে দেয় শ্লেটের মেমরি



কোয়ার্কের গলি

নতুন মেঘের মন
ভাবি
আলোর নির্বাণ কার অন্ধ


কোয়ার্কে বিদ্যুৎ লেখা গলি
নেই
ডাকেনা শুনলাম


আঁকা বাঁকা তরলরেখা
আমরা ঠোঁট মেলাচ্ছি
এক জোনাকি
দুই জোনাকি
তিন
পকড়ের হরকত ধরো ধরো
তর সয়না তার
মেঘেরা পুরনো হয়না মনে
-------------