অ-ক্যাননীয় নবারুণ

শতাব্দী দাশ

“যে পৃথিবী রয়েছে আমাকে ঘিরে, আমি তাকে লেজিটিমাইঠœà§â€Œà¦¡ হতে দিতে চাই না। অতএব আমি এটাকে সারাক্ষণ আক্রমণ করি ও করব”।


নবারুণ নিঃসঙ্গ নিশানের মতোই উড়বেন, স্ব-সাহিত্ঠকে বলবেন গেরিলাযুদৠà¦§ বা ‘মলোটভ কক্‌টেলের ফর্মুলা’ বা ‘পাটা মাইনের ডিটেইল্‌ড ডিজাইন’। সাহিত্যের ‘ক্যানন’ (Canon) বা কানন নিয়ে তাঁর ‘চুদুরবুদৠর’ থাকার কথা নয়। ছিলও না।

বাংলা সাহিত্যের ক্যানন-মানঠšà¦¿à¦¤à§à¦° নির্মাণের রাজনীতিটি বড় আলাদা কিছু নয়। মান্য লেখক, মান্য লেখা, মান্য ভাষা স্থির হয় নির্দিষ্ট প্রকাশন-à¦¸à¦‚à ¸à§à¦¥à¦¾à¦°/গুলির কাচঘরে। জাতি-বর্ণ-লঠ¿à¦™à§à¦—ের চেনা ছকে খেলা চলে। এমনও শোনা যায়, ‘একজন সংখ্যালঘু লেখক’ ‘দুজন মহিলা কবি/à¦”à¦ªà¦¨à§à¦¯à¦¾à ¸à¦¿à¦•â€™ ইত্যাদি সহজ ফর্মুলায় ‘পলিটিক্যঠ¾à¦² à¦•à¦¾à¦°à§‡à¦•à§à¦Ÿà¦¨à§‡à ¦¸â€™ রক্ষাও করা যায়। মান্যরুচির ড্রয়িংরুমৠতা নিয়ে কান্নাকাটঠ¿, হল্লাহাটি হয়। কারণ সে-হেন সাহিত্যের অলিন্দে বিচরণ করাও একরকম প্রিভিলেজॠকিন্তু অদ্বৈত মল্লবর্মণ বা কমলকুমার, জগদীশ গুপ্ত বা অমিয়ভূষণ, সন্দীপন চট্টোপাধ্ঠায় বা দেবেশ রায়, গীতা চট্টোপাধ্ঠায়, অতীন বন্দ্যোপাঠ্যায়, স্বপ্নময়, ঝড়েশ্বর –এঁদের মেধা ও মননের ধাক্কায় জল-অচল-বর্গ ভেঙে যেতেও সময় লাগে না।

আর নবারুণ তো ঘোষিত ভাবেই,à¦¸à§à¦¬à¦­à ¾à¦¬-স্পর্ধায় অ-à¦•à§à¦¯à¦¾à¦¨à¦¨à§€à§Ÿà ¥¤ রাজনীতিটাঠপ্রত্যাখ্ঠানের, à¦…à¦¸à§à¦¬à§€à¦•à¦¾à¦°à§‡à ¦°, বর্জনের। শুধু প্রতিষ্ঠান ের মুষ্টিমেয় কয়েকজনকে ‘লেখক’ বলে à¦•à§à¦®à§€à¦°à¦›à¦¾à¦¨à¦¾à ° মতো বারবার তুলে ধরার রাজনীতিকে প্রত্যাখ্ঠান নয়, চারপাশের ভুল ঘটমান, ভুল বিশ্বায়ন, ভুল সাংস্কৃতিঠ• উপনিবেশবাঠ¦, ভুল এলিটিস্‌মৠ‌, ভুল বামপন্থা— নিরন্তর বর্জন করতে করতে এগোচ্ছেন তিনি— একক র্যা ডিক্যাল। কখনও হারছেন, কোণঠাসা হচ্ছেন— ‘ভাসান’-এর পাগলের মতো, ‘বিকল্প রণনীতি’র অধ্যাপকের মতো, যারা পিছু হঠতে হঠতে ব্যক্তিগত পরিসরটুকুঠে একান্ত নিজস্ব রণনীতির আশ্রয় নেয়। আবার কখনও জিতছেন— সেই জিতে যাওয়া আনরিয়েল, ম্যাজিক-রিৠŸà§‡à¦², পোষ্টমডারৠন, মেটাফিজিকৠà¦¯à¦¾à¦²â€” যাই হোক্‌ না কেন। কারণ ফ্যাতাড়ুদৠর ডিরেক্টর-à¦œà ‡à¦¨à¦¾à¦°à§‡à¦²à§‡à¦° মাথার ভেতর ‘ড্যামেজ করতে হবে সুযোগ পেলেই’ এই বোধ কাজ করে। এঁকে ক্যাননচ্যৠত করতে তাই কোনো বহিঃ-রাজনীঠ¤à¦¿à¦° দরকারই বা কী? তিনি প্রতীতিগত ভাবেই, নিজ আয়াসেই বা অনায়াসেই, ‘নিজের মুদ্রাদোষৠ’ অ-à¦•à§à¦¯à¦¾à¦¨à¦¨à§€à§Ÿà ¥¤

সত্তরের নক্‌শাল আন্দোলনকে রাষ্ট্রশকৠতি থেঁতলে দেওয়ার পর রাজ্যে এল সংসদীয় বামপন্থা। কিছু প্রতিস্পর্ ধী স্বর তাও থেকে গেল, বিপ্লবের ভূত যাদের ঘাড় থেকে নামানো রেজিমেন্টৠ‡à¦¡ বামদলের পক্ষেও অসম্ভব। ক্রমে সোভিয়েতের পতন ঘটল, বিশ্বের রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হল, বিপক্ষবিহৠন প্রথম বিশ্বের হাতে জমতে লাগল পুঁজি। তৃতীয় বিশ্বে সেই ক্যাপিটাল চালানোর নাম হয়ে গেল বিশ্বায়ন। এমন কি, রাজ্যের বামেরাও কেন্দ্রীয় উদারনীতিতৠ‡ সায় দিলেন ১৯৯৪-এ। এই লক্ষ্যভ্রঠ্ট, আদর্শভ্রষৠট পৃথিবীতে নবারুণ তাঁর â€˜à¦¬à§à¦¯à¦•à§à¦¤à¦¿à¦—à ¤ ফিউচারিজ্†Œà¦®â€™-এর একটি রূপরেখা আঁকলেন অগত্যা। এই উলটপুরাণেঠ° পাল্টা ইমেজ তৈরি করাই হয়ে গেল শিল্পী হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক দায়িত্ব। উড়ালপুল আর শপিংমলের শহরকে তিনি শুধু বর্জনই করলেন না, বিপ্লবের স্ফুলিঙ্গ খুঁজতে লাগলেন অটোস্ট্যাঠ¨à§à¦¡, রিকশাস্ট্ঠান্ড, আদিগঙ্গা, চোলাইয়ের ঠেকের মানুষজনের মধ্যে। এই অনুসন্ধানৠর ভূগোল-ইতিহ ¦¾à¦¸ তো আছেই। মার্ক্স-এর কথা, তাঁর বিপ্লবতত্ত ্ব ও রাষ্ট্রতন্ ত্রের প্রয়োজনীয় ও আবশ্যিক সংযোজন হিসেবে গ্রামশি ও আলথুসার-এর তত্ত্বাবলৠ— সবেতেই à¦ªà§à¦°à§‹à¦²à§‡à¦¤à§‡à¦°à ¿à§Ÿà§‡à¦¤à¦°à¦¾à¦‡ বিপ্লবের পুরোধা। সাবঅল্টারৠন সাহিত্যিক হিসেবে নবারুণ সবচেয়ে বেশি আলোচিত এবং ‘সাবঅল্টাঠ°à§à¦¨â€™ শব্দটির গ্রামশি-à¦•à§ƒà ¤ ব্যবহারটিঠনবারুণ-সাহঠত্যের জন্যে সুপ্রযোজ্ঠ। অর্থাৎ, যে র্যানন্ডম জনতাকে পলিটিসাইজ করা যায় ও করতে হবে, যাদের রাজনৈতিকরঠকরতে হবে বৃহত্তর বিপ্লবের স্বার্থে। এই ‘সাবঅল্টাঠ°à§à¦¨â€™ শব্দটিই আশির দশকে ভারতীয় তাত্ত্বিকঠা ব্যবহার করেন à¦‰à¦ªà¦®à¦¹à¦¾à¦¦à§‡à¦¶à§‡à ° ঔপনিবেশিক শোষিতদের বোঝাতে। কিন্তু এই সাবঅল্টারৠনদের মোবিলাই্জ করে কারা? সাবঅল্টারৠনরা যেহেতু ক্ষমতাবৃতৠতের বাইরে, তাই তাদেরকে দিনবদলের/ পরিবর্তনেঠএজেন্ট হিসেবে দেখেন à¦‡à¦¨à§à¦Ÿà§‡à¦²à¦¿à¦œà§‡à ¨à§à¦¸à¦¿à§Ÿà¦¾ এবং তাকে রোমান্টিসঠইজ করার প্রবণতাও বিরল নয়— এমনটাই দাবি করেন গায়ত্রী স্পিভাক্। নবারুণের প্রতিরোধেঠ° সাহিত্যধার াটিও মোটামুটি এই পথের অনুসারী।

নবারুণের প্রথমদিকেঠ° সাহিত্যে আমরা পাই বিপ্লববোধঠম্পন্ন আপোষহীন চরিত্রদের†” ‘ভাসান’-এর পাগল বা ‘বিকল্প রণনীতি’র à¦®à¦¹à§€à¦¤à§‹à¦·à§‡à¦°à¦¾à ¤ আবার অদ্ভুত একলা মানুষেরা— বারেন, সদাশিব, চিতামানুষ†এদের একাকীত্ব ‘মার্ক্সিঠ¸à§à¦Ÿ এলিয়েনেশন⠙ মনে করিয়ে দেয়। à¦¸à¦¿à¦¸à§â€Œà¦®à§‹à¦—à§à °à¦¾à¦«à§‡à¦° মতো à¦¸à¦‚à¦¬à§‡à¦¦à¦¨à¦¶à§€à¦²à ¤à¦¾à§Ÿ নবারুণ নতমস্তক মানুষের প্রতিটি হেরে যাওয়া আর অসহায়তার হিসেব রাখেন। ‘নস্ত্রাদঠমুসের আত্মহত্যাঠ’র লেখক মেলান অতিকায় বালক আর তার পিতার অসহায়ত্বেঠ° সাথে বিশ্বজনীন ক্যাটাস্টৠরফিকে। ‘আমার কোনো ভয় নেই তো?’ আর্তনাদে সমবেদনার হাত রাখেন।

অন্যদিকে, ‘এ মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’ বিপ্লবী উচ্চারণ হিসেবে একটা মিথ হয়ে ওঠে। এর সূত্রে হিন্দিবলয়ৠও সর্বভারতীৠস্তরে তাঁর বিপ্লবী পরিচিতি। ‘আটজন মৃতদেহ আমার চেতনার পথ জুড়ে শুয়ে আছে’— এই আটজনকে কিন্তু বরানগর বারাসতে মেরে রেখে গিয়েছিল নক্‌শালরাঠ‡, রাজনৈতিকভঠবে যাদের নবারুণের সমর্থন করার কথা। বাঁধাধরা রাজনীতির গতে তাঁকে ফেলা মুশকিল। আশির দশকের মাঝামাঝি, আরনাল ও কানসরার গণহত্যা নিয়ে আবার লিখেছেন ‘পুলিশ করে মানুষ শিকার’। তাঁর কবিতায় সাম্প্রতিঠতা আছে, কিন্তু প্রোপাগানৠà¦¡à¦¾ নেই, রাজনৈতিক মেসেজ আছে, কিন্তু শ্লোগানধরৠà¦®à§€à¦¤à¦¾ নেই। বরং আছে অদ্ভুত সব পোয়েটিক ইমেজারি। ‘এ মৃত্যু উপত্যকা’র একটি কবিতায় মানুষরা দেশলাই বাক্সের মধ্যে এক একটি কাঠির মতো শুয়ে থাকে (ম্যাচবাক্ঠ¸à§‡à¦° মানুষ) :

বারুদ-মাখাঠ¨à§‹ তাদের ঘরের দেওয়াল
সেই দেওয়ালেতে মাথা ঠুকে কী যে চায়
অর্থহীন ও নিতান্ত বরবাদ
ফ্যাকাশে আগুনে নিজেরাই জ্বলে যায়।

কিন্তু নাশকতার ইন্ধন থেকেই যায়। পেট্রোল দিয়ে আগুন নেভানোর স্বপ্নের দেখা মেলে তাঁর এক ছোট নন-à¦«à¦¿à¦•à§â€Œà¦Ÿà¦¿à ¸à¦¾à¦¸à§â€Œ গদ্যে। বা ‘পেট্রোল আর আগুনের কবিতা’য়। পরে ‘পারিজাত ও বেবি-কে’-তৠএই তরল যাদুবাস্তব ের বিধ্বংসী উপাদান হয়ে ওঠে।

আবার কবি নবারুণের রূপকল্প সবক্ষেত্রৠ‡à¦‡ নাশক নয়। ‘আকাশ তখন আমার লেখার টেবিল/ ঠাণ্ডা পেপার-ওয়েট হবে চাঁদ’ আমাদের অভিভূত করে। ‘লুব্ধকে’ দেখি— ‘অলৌকিক ভিক্ষাপাতৠরের মতো চাঁদ/ দাঁতে কামড়ে ছুটে যাচ্ছে রাতের কুকুর...’

কবিতার পথটি কিন্তু এরপর তিনি তাঁর গদ্যের জগতেও খোলা রাখবেন। বরং সেখানে বাস্তব থেকে পরাবাস্তবৠতাঁর যাতায়াত আরও সহজ হবে। কবিতায় যদি বা তিনি মূলধারার আঙ্গিক ও ভাষার প্রভাব এড়াতে পারেন না, বা চান না, গদ্যে তিনি তা দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্ঠান করেন। কবি হিসেবে যেমন তিনি নিজেকে ‘এলিয়টের প্রভাবমুকৠত’ বলে ঘোষণা করেন এবং নেরুদা-এলুৠŸà¦¾à¦°-মায়াকভ্⠀Œà¦¸à§à¦•ি-হিকমৠ‡à¦¤ এর আন্তর্জাতঠক পরিসরটি বেছে নেন, গদ্যেও তিনি ছকে বাঁধা রিয়ালিজ্‌ঠ্‌-এর বাইরে একটা রাস্তা খুঁজে নেন গ্রসম্যান বা বুলগাকভ-এর মাধ্যমে— সোভিয়েত পর্যায়ের সাহিত্যিক হয়েও যাঁরা তথাকথিত রিয়ালিস্ট না। নব্বইয়ের দশকে ইলিয়াসের â€˜à¦–à§‹à§Ÿà¦¾à¦¬à¦¨à¦¾à¦®à ¾â€™ আর নবারুণের ‘হারবার্ট†™ অভ্যস্ত নিশ্চিন্তত াকে আঘাত করল। হারবার্ট বুজরুকির সার্কাসকে বুজরুকি দিয়েই ভ্যাঙায়। একটি বহুস্তরী ন্যারেটিভৠনবারুণ অবলীলায় ভিন্ন ভিন্ন মেরুতে যাতায়াত করেন— রিয়াল-আনরিৠŸà¦¾à¦², লজিক্যাল-à¦‡à ²à§â€Œà¦²à¦œà¦¿à¦•à§à¦¯à¦¾ ¦²à¥¤ একদিকে হারবার্টেঠপরলোকগত জীবনের রহস্যানুসন ্ধান, অন্যদিকে কমিউনিস্ট-à ªà¦¾à¦°à§à¦Ÿà¦¿à¦° অনুষ্ঠানে ‘ফল অফ্‌ বার্লিন’ ডকুমেন্টাঠ°à¦¿ দেখা। যুক্তিবাদৠরা ভূতকাল নিয়ে হারবার্টেঠনাড়াচাড়া বিদ্রূপ করে, অথচ হারবার্টকৠআসলে চালিত করে নক্‌শাল আমলেরই ভূত। সে র্যাতশনালি স্টদের কাছে হেরে গিয়েও আদায় করে সমবেদনা। পুঁজির আগ্রাসনে দ্রুত বদলে যাওয়া চারপাশের বিরুদ্ধে হারবার্টেঠপ্রতিবাদ অতি ভঙ্গুর। তাও বিনুর লেপের তলায় বেঁধে রাখা ডিনামাইট ইলেকট্রিক- ¦šà§à¦²à§à¦²à¦¿à¦¤à§‡ বিস্ফোরণ ঘটায়। লেখক তাঁর প্রতীতি জানান— কখন কে কোথায় বিস্ফোরণ ঘটাবে রাষ্ট্রযন্ ত্রের তা বুঝতে এখনো বাকি আছে।

দেবেশ রায় এক আশ্চর্য দৃপ্ত ভঙ্গি লক্ষ্য করেন উপন্যাসটিঠে, যেখানে “এইটুকু আয়তনের একটি উপন্যাসে এত বংশলতিকা, বাড়িঘর, শহর, মানুষজনকে যে ঔপন্যাসিক আঁটাতে পেরেছেন তার প্রধান কারণ তাঁর ভাষা। শহুরে খিস্তি, রাস্তার বুলি, বাড়িঘরের সেকেলে বাচন, কথাবলার তেরছা ঢং মিলিয়ে ...একটা বিশিষ্ট ভাষারীতি তৈরি করেছেন। ঔপন্যাসিকৠ‡à¦° ক্ষমতা আঙুলের ডগায় না থাকলে ভাষাকে দিয়ে এ কাজ করানো যায় না”। গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক্‌ঠ“ এই ভাষাকে বলেছেন : ‘a daunting mix of street slang, deadpan reportage and nineteenth century spiritual prose’.

‘ভোগী’তে গঠনশৈলী একরৈখিক, তুলনায় সরল। কিন্তু হারবার্টেঠমতো সে-ও এক বিপন্ন লুপ্তপ্রায় জীব— সে ভুবনায়িত সময়ে বিপজ্জনক সারল্য নিয়ে দাঁড়িয়ে। ‘অটো’তে আবার অসহায় মানুষটিই হয়ে ওঠে ঘাতক। কারণ ‘যে মৃত্যু উপত্যকায় নবারুণের চরিত্ররা অনবরত ঘোরাফেরা করে, সেখানে মানুষের দুটোই চেহারা— হয় নিঃশব্দ ঘাতকের, না হলে অসহায় আত্মহননকাঠ°à§€à¦° বা à¦ªà¦°à¦¾à¦œà¦¿à¦¤à§‡à¦°â€™à ¤

হারবার্টেঠপর নক্‌শালবাৠœà¦¿à¦° বিপ্লবী রাজনীতি সরাসরি ফেরে ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি†তে । প্রৌঢ় রণজয়, একদা গেরিলা যোদ্ধা, বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহৠন, স্বয়ং বিপ্লবী à¦†à¦•à¦¾à¦™à§à¦•à§à¦·à¦¾à ¦° এমবডিমেন্ঠউদারনৈতিক অর্থনীতির যুগে সে গেরিলা বিপ্লবের স্বপ্ন দেখে। নবারুণ একরৈখিক ন্যারেটিভ, এমন কি, কাহিনীও বর্জন করেন। রণজয় ও অন্যান্যদৠর টুকরো টুকরো কথা ও চিন্তারাশি র কোলাজ একটি পরিস্থিতি গড়ে দেয়— যুদ্ধ পরিস্থিতি।

‘লুব্ধকে’ কুকুরেরা রাতের অন্ধকারে ধ্বংসাভিমৠখী শহর ছেড়ে চলে যায়। প্রাণমন্ডল ের সাম্যবাদেঠসাথে আমরা অন্ত্যজের প্রত্যাখ্ঠানের স্পর্ধার ফ্ল্যাশও দেখতে পাই কি? ‘খেলনানগর⠀™-এ তেজস্ক্রিৠŸ নিরীক্ষায় ধ্বংসপ্রাঠ্ত শহরের কঙ্কালের সামনে প্রথমেই পাঠককে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়, শক্‌-à¦¥à§‡à¦°à¦¾à¦ªà ¦¿à¦¤à§‡ লেখক অবিচল থাকেন।

‘ফ্যাতাড়ু†™à¦¦à§‡à¦° আবির্ভাব যখন হল, ততদিনে সংঘবদ্ধ à¦¶à§à¦°à§‡à¦£à§€à¦¸à¦‚à¦—à §à¦°à¦¾à¦®à§‡ বোধহয় আস্থা হারিয়েছেন লেখক। কিন্তু বিশ্বায়ন বা নব্য-উপনিবৠ‡à¦¶à¦¬à¦¾à¦¦à§‡à¦° একবগ্গা মাস্তানিও মেনে নেওয়া যায় না। পুঁজিবাদ মানুষকে একই মাপে ছেঁটে ফেলবে, সাম্রাজ্যব াদ স্থির করবে কিভাবে প্রতিটি মানুষ ভাববে, দেখবে, রিঅ্যাক্ট করবে (বা করবে না), এই নিয়ত স্ট্যান্ডা র্ডাইজেশনৠ‡à¦° সময়, উন্নয়নের নামে মানুষের অপমানের সময় লেখক তো মেটাস্টেটঠ®à§‡à¦¨à§à¦Ÿà¦‡ দেবেন। রাজনৈতিক ব্যঙ্গের চোখে রিয়েলিটিকৠ‡ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি ম্যাজিক রিয়েলে à¦ªà§Œà¦à¦›à¦šà§à¦›à§‡à¦¨à ¤ আন্তর্জাতঠক জোট নয়, ছোট প্রেক্ষিতৠ‡ অন্তর্ঘাত†” যে কোনো মূল্যে স্থিতাবস্থ াকে ডিস্টার্ব করাই উদ্দেশ্য হয়ে ওঠে: ‘কিছুই দেখিনা মোরা, শুনি আর খাই/ ওই একটাই কাজ— ঝামেলা পাকাই’। যা কিছু প্রাতিষ্ঠা নিক, রাজনৈতিক, সামাজিক বা সাংস্কৃতিঠ•— সব কিছুকেই ফ্যাতাড়ুরা সন্দেহের চোখে দেখে। তারা নৈরাজ্যবাদ à§€, কিন্তু মে-দিবসের বিদ্রোহীরঠ¾à¦“ কি ছিল না অ্যানার্কঠ¿à¦¸à§à¦Ÿ? তারা অস্বীকার আর অসন্তোষের স্বর। প্রকৃতই, তাদের শৃঙ্খল আর à¦ªà¦²à¦¿à¦Ÿà¦¿à¦•à§à¦¯à¦¾à¦ à¦•à¦¾à¦°à§‡à¦•à§à¦Ÿà¦¨à§‡à ¦¸ ছাড়া হারানোর কিছু নেই। শুধু ফ্লোটেলে, সভা-সমিতিতৠ, ফ্যাশন প্যারেড, আই-পি-এল-এ, এমন কি সুশীল মিছিলে ভাঙচুর করা আর হাঙ্গামা বাধানো তাদের প্রিয় বিনোদন। ‘জীবন্ত উড়ুক্কু মানুষ’দের ‘ওড়া’র ক্ষমতা থেকেই শুরু হয় মুখ বন্ধ করে দেওয়ার বিরুদ্ধে সাবভার্সান । একে পোষ্টমডারৠন বলেছেন অনেকে। অনেকে বলছেন বাখতিনিয়াঠ, কারণ ইন্দ্রিয়গৠà¦°à¦¾à¦¹à§à¦¯ কার্নিভ্যঠলের এ এক লাগাতার উদ্‌যাপন, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেও আমোদগেঁড়ে ¦° মতো বেঁচে থাকার রাজকীয় উৎসব। কিন্তু ত্রৈলোক্যঠ¨à¦¾à¦¥à§‡à¦° পর এমন উদ্ভটরসই বা আমরা কবে দেখেছি বাংলা গদ্যে? অবশ্যই ‘ফ্যাতাড়ু†™ বিনাশবাদী, গঠনবাদী নয়। এ হেন অন্তর্ঘাতৠর তীব্রতা, ব্যাপ্তি ও ফলাফল নিয়ে আদপেই নবারুণ ভাবিত নন। কিন্তু ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বুর্জোয়া সমাজের উপর এই শেষ পদাঘাতটিরঠপ্রয়োজন ছিল। তারা অতীন্দ্রিৠŸ, কিন্তু রিয়্যালিটি ব্যাপারটাঠকি প্রশ্নাতীঠ? কলকাতা শহরের যে মানচিত্র আমরা জানি, তার ঠিক উল্টো মানচিত্রেঠসন্ধান দেয় তারা, এবং কোনটি বাস্তব— তা সফলভাবে গুলিয়ে দেয়।

‘কাঙাল মালসাট’-এ আর ‘মসোলিয়াম⠙-এ ফ্যাতাড়ুর গল্প ধীরে ধীরে বহুস্তরিক হয়, চোক্তাররা আসে, আসে দাঁড়কাক, বেগম জনসন â€˜à¦¬à§à¦²à¦—à¦¾à¦•à¦­à§‡à ¦° মাস্টার অ্যান্ড মার্গারিটঠ’র ছায়া স্পষ্টতর হয়। যেখানে প্রফেসর উল্যান্ড আর তাঁর à¦¸à¦¾à¦™à§à¦—à§‹à¦ªà¦¾à¦™à §à¦—রা মস্কো দাপিয়ে বেড়ায় আর গুঁড়িয়ে দেয় শহুরে এলিটিজ্ম্, যাদের মধ্যে আছে বেহেমথ নামের খিস্তিবাজ কালো বেড়াল, যে ভালোবাসে দাবা, ভোদকা আর পিস্তল। বেজডম নামের পাত্তা-না-পঠ¾à¦“য়া কবিও আছে, খানিক আমাদের পুরন্দর ভাটের মতো— পুরন্দর, যার প্রতিটি কবিতা আসলে নবারুণের রাজনৈতিক প্যামফ্লেঠ।

এইভাবে নবারুণের সাহিত্যকোঠ·à¦Ÿà¦¿à¦•ে যদি আমরা একটি ইউনিট হিসেবে দেখি, তবে তাঁর বহুমুখী দর্শনের উদ্ভাস হয়তো আমরা পাব, কিন্তু প্রতিষ্ঠান -বিরোধীতার অবাধ্য একবগ্গা একটানা রেওয়াজ চলতেই থাকে। এবং ক্যানন সংক্রান্ত আলোচনাই à¦…à¦ªà§à¦°à¦¾à¦¸à¦™à§à¦—à ¿à¦• হয়ে পড়ে।

নবারুণের ভাষা তাঁর রাজনৈতিক স্ট্র্যাটৠজিরই আরেক দিক। অদ্বৈত মল্লবর্মন, দেবেশ রায়, দীপেন বন্দ্যোপাঠ্যায় বা ইলিয়াসের মতো এক নিজস্ব ভাষা তৈরি করে নেন তিনি। আদপে যা à¦¹à§‡à¦Ÿà¦¾à¦°à§‹à¦—à§à¦²à ¸à¦¿à§Ÿà¦¾à¥¤ তৈরি করে নেন, কারণ ‘লেখকের যদি তিলমাত্র à¦…à¦¥à§‡à¦¨à§â€Œà¦Ÿà¦¿à¦¸à ¿à¦Ÿà¦¿ থাকে, তাকে নিজের ভাষায় কথা বলতেই হবে। সাহিত্যে খিস্তির ব্যবহার নিয়ে যেকোনো সমালোচনাই তিনি অপ্রাপ্তবৠস্ক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ক্যাননীয় সাহিত্যে যা মান্য ভাষা, তাকে â€˜à¦¸à¦¿à¦¨à§â€Œà¦¥à§‡à¦Ÿà ¿à¦•â€™ ভেবে বর্জন করেছেন। যে ভাষায় মিউচুয়ালমৠযান হারবার্ট, ফ্যাতাড়ু, চোক্তাররা কথা বলে, সেই লক্ষ মানুষের কথ্যভাষা, জীবনধারণেঠ°, আনন্দের, দুঃখের ভাষা দিয়েও তিনি তথাকথিত মান্যভাষাঠে চ্যালেঞ্জ করেন। বলেন, ‘আমি আমার সাহিত্যে খিস্তি ব্যবহার করি মানুষকে সম্মানিত করতে’। ‘আমি ব্যক্তিগতঠ­à¦¾à¦¬à§‡ মনে করি আমি কোনো ভাল্‌গারিঠŸà¦¿ করিনি’। হারবার্ট-এ প্রতিটি à¦ªà¦°à¦¿à¦šà§à¦›à§‡à¦¦à§‡à ° শুরুতে ব্যবহার করেন অষ্টাদশ বা ঊনবিংশ শতকের বাংলা কবিতা, কারণ সেই ভাষায় মানকুমারী বসু, বা à¦…à¦•à§à¦·à§Ÿà¦•à§à¦®à¦¾à ° বড়ালের ভাষায়, তিনি â€˜à¦à¦¨à¦¾à¦°à§à¦œà¦¿â€™à ° একটা স্রোত দেখতে পান, যে ‘এনার্জি’ সাধারণ যাপনের নিত্যনৈমিত ্তিকতা থেকে আসে।

আমরা নবারুণের ‘ফর্ম’ বা ভাষা নিয়ে উল্লম্ফন করতেই থাকি, করাটা অস্বাভাবিঠও নয়, কিন্তু তিনি বার বার মনে করিয়ে দিতে থাকেন যাবতীয় ফর্ম, যাবতীয় কৃৎকৌশল তিনি শুধুমাত্র à¦•à¦¨à§â€Œà¦Ÿà§‡à¦¨à§à¦Ÿà ‡à¦° প্রয়োজনে আনেন। তাঁর সৃষ্টিকর্ঠএকটি ইন্টারডিসঠপ্লিনারি প্রসেস। অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজনীতিকৠ‡ বাদ দিয়ে যা পড়া যায় না। তা ফর্ম নিয়ে নিরীক্ষামঠ¾à¦¤à§à¦° যে নয়, তা প্রাতিষ্ঠা নিক à¦…à§à¦¯à¦¾à¦•à¦¾à¦¡à§‡à¦®à ¿à¦¶à¦¿à§Ÿà¦¾à¦•à§‡ হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দেন।

ক্যানন ও নবারুণ সংক্রান্ত এই আলোচনায় মৃত্যু-পূরৠà¦¬à¦¬à¦°à§à¦¤à§€ সময়ে যে কাল্ট ফিগার, রক্‌স্টার নবারুণ— তাঁকে নিয়েও দু’চার কথা বলতে হয়। ফ্যাতাড়ু-উঠ¤à§à¦¤à¦° সময়ে বাংলা সাহিত্যে তিনি নিজেই এক প্যারালাল প্রতিষ্ঠান । আসলে এই ফ্যাতাড়ুইঠ্‌ম্‌ বা ফ্যাতাড়ুডম েরও একটা কমোডিটি ভ্যালু আছে, তা লেখকের অভিপ্রেত হোক বা না হোক। কারণ, ফ্যাতাড়ুরা উইশ-à¦«à§à¦²à¦«à¦¿à¦²à ®à§‡à¦¨à§à¦Ÿà§‡à¦° দ্যোতক। সমাজতত্ত্ব ের রিলেটিভ ডিপ্রাইভেঠ¶à¦¨ নীতি অনুসারে ফ্যাতাড়ুদৠর রগড়ে অনেকেই ডিপ্রাইভেঠ¶à¦¨à§‡à¦° সাময়িক উপশম খোঁজেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বা বাস্তবে, স্বঘোষিত ফ্যাতাড়ু যেসব যুবা ও যুবতী, তারা ফ্যাতাড়ুর রগড়ের আড়ালে তার কান্না, তার ট্র্যাজিক মুখ দেখে কি? নবারুণের কথায় যা â€˜à¦…à¦¨à§à¦¤à§à¦¯à¦œà§‡à ° স্পনটেনিয়ঠস এক্সপ্রেশঠ¨ অফ প্যাশন’ তা à¦‡à¦¨à§à¦Ÿà§‡à¦²à¦¿à¦œà§‡à ¨à§â€Œà¦¸à¦¿à§Ÿà¦¾à¦° খিস্তিবিলঠসে পরিণত হয় না তো? নবারুণ কিন্তু রাজনীতির পথ ধরে তাঁর বিপ্রতীপ সাংস্কৃতিঠ• (Counter Cultural) উচ্চারণে à¦ªà§Œà¦à¦›à§‡à¦›à¦¿à¦²à§‡à ¦¨à¥¤ ফ্যানডম উল্টো পথে হাঁটে— সৃষ্ট ভাষা ও ভাষ্য ধরে রাজনীতিতে পৌঁছতে চায়, বা চায় না। বাংলা সাহিত্যে প্রতিস্পর্ ধী সংস্কৃতি কেন পুরুষালি ও পুরুষ-প্রধঠন, এবং তা হলেও তা কেন বিশ্লেষণযৠগ্য নয়, তা আলোচিত হয় না। কিউ-এর ছবিতেও নবারুণ বলেন, রবীন্দ্রনঠথ বাংলাভাষাঠে emasculate করেন, অর্থাৎ রবীন্দ্র-পৠ‚র্ববর্তী পৌরুষের ভাষাই তিনি ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, কারণ তাঁর শৈল্পিক স্ট্র্যাটৠজিতে সেটাই প্রয়োজনীয়ॠ¤ এইভাবে যে শুধু ‘অটো’, ‘ভোগী’ বা ‘যুদ্ধপরিঠ্থিতি’র নবারুণ ঢাকা পড়ে যান তাই নয়, গৌণ হয়ে যান মহাজানিক নবারুণ, হারিয়ে যান কেঠো মার্ক্সবাঠকে অস্বীকার করা নবারুণ। চরাচরের প্রতিটি জীব ও জড়ের বেঁচে থাকা বা টিকে থাকা নিয়ে উৎকণ্ঠিত ইকো-কমিউনি স্ট নবারুণ হারিয়ে যান, যিনি মার্ক্সীয় সাম্য-কে বৃহত্তর জগতের প্রেক্ষিতৠ‡ দেখেন—


গাছেদেরও কি শীত করছে এমন
কুকুরদেরও কি করছে এমন
রাস্তা, সিনেমাহল, টিপকল, রেস্তোরাঁ
বিউটি পার্লার
সকলেরই কি শীত করছে এমন ?

(শীতে জমে যাওয়া মরা ভিখিরির গান)

আইকন নির্মাণের প্রক্রিয়াৠএই বহুস্তরী নবারুণ হারিয়ে যান বলেই মনে হয়। কেন? সহমর্মিতা, ভালোবাসা ততটা ম্যাস্কুলঠইন নয় বলে?

অবশ্য শুধু লিঙ্গ-à¦°à¦¾à¦œà¦¨à €à¦¤à¦¿ নয়, যৌনতা থেকেও নবারুণ-সাহঠত্য যোজন দূরত্ব রক্ষা করে। আর এখানেই হাংরি প্রজন্মের প্রতিষ্ঠান -বিরোধীতার সাথে তাঁর তফাৎ তৈরি হয়। তুষার রায় থেকে সমীর রায়চৌধুরী থেকে মলয় রায়চৌধুরী†” এঁরা জোরালো ভাবে প্রতিষ্ঠান কে আঘাত করেছিলেন। তাঁরা যৌনতা নিয়ে মুখর, অস্তিত্ববঠদী সংকট নিয়েও। বিশ্ব-রাজনৠতির টানাপড়েন সেখানে ব্যাকড্রপॠকিন্তু নবারুণের সাহিত্য তাঁর রাজনৈতিক সচেতনতারই প্রসারণ। নবারুণের বিষয়, আঙ্গিক, ভাষা সবই যে ভয়ংকর রকম প্রকাশ্যভঠবে নাশকতাবাদৠ, তার স্পষ্ট উচ্চারণ :


কত জায়গায় তো ফেলি আমি দেশলাই
একবারও ভুল করে নয়,
যদি কেউ আগুন
জ্বালায়...
(পাঠকের কাছে প্রশ্ন)

তাঁকে নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা তাই দিনের শেষে বৃথা মনে হয়। কারণ যখন শুধু প্রায়োগিক নয়, তাত্ত্বিক-ঠœà¦—তেও মার্ক্সবাঠধাক্কা খাচ্ছে, পোস্টমডারৠনিজম্, পোস্টস্ট্ঠাক্চারালিঠœà¦®à§-এর ছেনি-à¦¹à¦¾à¦¤à§à§œà ¿ নিয়ে ভাঙাচোরা হচ্ছে, বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতি, তখনও নবারুণ এসবকে ‘দু’দিনের ভাইরাস’ বলছেন; বলছেন, যেমন বলেছিলেন সার্ত্র– ‘সবই আছে মার্কসে’। খুঁজে নেওয়ার অপেক্ষা। বলছেন, আদর্শবাদকৠ‡ ‘ফালতু’ বলে নাকচ করতে তিনি দেবেন না। তিনি মানবেন না যে, ‘মতাদর্শ নিছকই হাত উড়ে যাওয়া মানুষের ফাঁকা আস্তিন যা গুটিয়ে ফেলে কোনো লাভ নেই’। তিনি অন্ধবেড়ালৠ‡à¦° মতো ঝঞ্ঝার রাতে বিধ্বস্ত হোটেলের মাটি আঁকড়ে পড়ে থাকবেন। যদিও আবার বলবেন, ‘অথচ কথা ছিল গল্প শোনার ও শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ার... কিন্তু সব শেষ হয়ে যাচ্ছে’ (সব শেষ হয়ে যাচ্ছে)— যা প্রায় প্রলাপের মতো শোনাবে, কিন্তু আমরা মাথা নত করে শিখব ‘না’ বলতে, আপোষহীন প্রত্যাখ্ঠান শিখব। এবং ক্যাননে বা প্রতিষ্ঠান ে তাঁর অনুপস্থিতঠনিয়ে মাথাটি ঘামাব না। কারণ এ নিয়েও মোক্ষম কামানটি দেগে গেছেন তিনি:

নিউক্লিয়াঠ° যুদ্ধে
বিশ্ব যেবার ধ্বংস হয়ে যায়
গোটা মানব সংসারই যখন
ছাইয়ের গাদা
সব দেশ যখন শেষ
তারও পরে বেরিয়েছিল
শারদীয়া দেশ
অপ্রকাশিত, এক আঁটি
রাণুকে ভানুদাদা।

‘Manuscripts do not burn’— বুলগাকভ-এর এই আত্মজৈবনিঠবচনের অনুবাদ করে কাঙাল মালসাটের এপিগ্রাফে লিখেছিলেন⠀” ‘পান্ডুলিঠিরা পোড়ে না’। ক্যানন-কে পদাঘাত করার কাজটি কি তখনই সুসম্পন্ন হয় নি?