নাটকে নবারুণ, নাটুকে নবারুণ

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

‘সম্পাদকবাবু কয়েচেন নাটক ও নবারুণ নিয়ে লিখতে; তা নাটক তো নবারুণের সব্বাঙ্গে!’

মৃণাল সেনের বিখ্যাত একটি ছবির প্রথম সংলাপের আদলে এই রচনার প্রথম পংক্তিটি লেখার লোভ সামলাতে পারলাম না, কারণ আকাল যেমন বঙ্গভূশরীরের সর্বাঙ্গে, নাটকও তেমনি ব্যাপ্ত চরাচর হয়ে ছিল নবারুণ ভট্টাচার্যের মন-জমিনে। ছিল... ব্যাকরণ মতে অতীতকাল। এভাবে লিখতে হচ্ছে, কিন্তু খারাপ লাগছে লিখতে, কারণ নবারুণদাকে তো অতীতকালে ফেলা যায় না। যেমন নাটককেও ফেলা যায় না অতীতে। নাটক সবসময় বর্তমানের বুকের ওপর বসে দাড়ি উপড়োচ্ছে, কতকটা নবারুণের মতোই। সুতরাং নাটক-বর্তমান-নবারুণ — এই শব্দবন্ধটি সবসময় যূথবদ্ধ।

যাঁর বাবা ছিলেন বাংলা নাট্যসাহিত্যের এক কর্ণধার, যাঁর মা-র কলমে গদ্যের পাশাপাশি নাটকও ঝরেছে ‘জল’-এর মতো, তাঁর তো নাটুকে হওয়ারই কথা, না টুকেই, স্বয়ম্ভূ বিদ্যমানতায়। রক্তবীজ ছিল তাঁর নাট্যকল্পে। বছর তিনেক আগে বিজন ভট্টাচার্যকে ঘিরে একটি অনুষ্ঠানে নবারুণদা প্রধান অতিথি হয়ে গিয়েছিলেন। একেবারে প্রথম সারিতে বসতে হয়েছিল। সেদিনের অনুষ্ঠানের একটি অংশ ছিল ‘নবান্ন’ থেকে কয়েকটি দৃশ্যের পাঠ। মাইক মুখে নিয়ে অভিনেতাদের দল পাঠ করছেন বিজনবাবুর আইকনিক নাটকের কয়েকটি আইকনিক দৃশ্য। পাঠ যে খুব অসাধারণ হচ্ছে তা নয়। আমি বসে আছি কয়েক সারি পিছনে। ভাবছি নবারুণদার মনে কি প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। প্রতিক্রিয়া হচ্ছে কি আদৌ? নাকি শুনতে হয়, তাই শুনছেন? নাকি অভিনয়ের মান নিয়ে উষ্মায় ছটফট করছেন? বুঝতে পারছি না।

এদিকে নাটকের মূল চরিত্র, অর্ধোন্মাদ বুড়ো প্রধান সংলাপ বলে চলেছে,

“আর কত চেঁচাব বাবু দুটো ভাতের জন্যে! তোমরা কি সব বধির হয়ে গেছ বাবু — কিছু কানে শোন না? অন্তর কি সব তোমাদের পাষাণ হয়ে গেছে বাবু! ও বাবারা — বাবু — কত অন্ন তোমাদের রাস্তায় ছড়াছড়ি যাচ্ছে বাবু, আর এই বুড়ো মানুষটারে একমুঠো অন্ন দিতে তোমাদের মন সরে না বাবু! বাবু তোমাদের কি প্রাণ নেই বাবু!” (‘নবান্ন’, দ্বিতীয় অঙ্ক, তৃতীয় দৃশ্য)

হঠাৎ খেয়াল করলাম, নবারুণদার পিঠটা কেঁপে কেঁপে উঠছে। প্রথম ঝটকায় ঠিক বুঝতে পারিনি কেন। কয়েক মুহূর্ত পরে বুঝলাম, নবারুণ কাঁদছেন...

নাটকের পাতায় বৃষ্টি পড়ছে
নবারুণ কাঁদছেন
নবারুণ কাঁদছেন, সেদিন
নবান্নে ফসল ফলেনি তাই
ছিল না অপ্রতু্ল যদিও
সে যুগের কৃতার্থ নিদান
পিতরৌ সম্ভারে তমোঘ্ন
এ যুগেও কৃতঘ্ন চলেছে তাই...(‘অসম্পর্ক’, সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়; পৃষ্ঠা ৪৪)

পিতার লেখনীর সঙ্গে সেদিন একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন পুত্র। একাত্ম হয়েই তো ছিলেন। বিজন-সংলাপ তাই নবারুণ-সংলাপও। তাই, নাটক না লিখলেও, নবারুণের গদ্যে চরিত্রেরা কথা বলে নাট্য-সংলাপের স্বাভাবিকতায়। বিজনবাবুর লেখন-বীজাণু ভীষণভাবে উপস্থিত ছিল নবারুণের কলমে।
“‘হার্বার্ট’ বা ‘কাঙাল মালসাট’ ছবি ও নাটক করার সময়ে আমায় একটিও সংলাপ নতুন করে লিখতে হয়নি। সব কাজ নবারুণদা করে রেখে গেছিলেন। আমায় শুধু একটু সাজিয়ে নিতে হয়েছিল। কথ্য ভাষার একটা ন্যাচরাল রিদিম, ন্যাচরাল ইডিয়ম থাকে, যাকে সংলাপে ধরতে হয়, নাট্যকারেরা যেটা পারেন। নবারুণদাও সেটা পারতেন। অনায়াসে। সেই অর্থে তিনি তো নাট্যকারই।” --বললেন নাট্য ও চিত্রপরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায়। “আমার অভিনেতাদেরও ওই সংলাপে বিশেষ রদবদল বা ইম্প্রোভাইজ করতে দেখিনি। যেমনটা লেখা, তেমনটা বলা। কোন ফারাক নেই।”

নবারুণের সংলাপ বিষয়ে ‘ফ্যাতাড়ু’ নাটকের পরিচালক দেবেশ চট্টোপাধ্যায়ও একই কথা বললেন। মনে রাখা প্রয়োজন, দেবেশই প্রথম নবারুণের গল্পকে মঞ্চরূপ দিয়েছিলেন, নিরীক্ষার দালান পেরিয়ে ফ্যাতাড়ুদের হাজির করেছিলেন স্টেজে এবং জনপ্রিয় করেছিলেন। ডি.এস বা মদন বা পুরন্দর ভাটের মত চরিত্র যে তাঁদের চোখা ও অকপট সংলাপ নিয়ে, তথাকথিত ‘ভদ্রতা’-র ঘোমটা ছাড়াই, মঞ্চে উঠে আসতে পারে, তাদের কথন যে মঞ্চ-সংলাপ হয়ে উঠতে পারে, গতানুগতিক অর্থে কোনো প্লট ছাড়াও যে ফ্যাতাড়ুদের নিয়ে নাটক করা সম্ভব, এটা দেবেশই দর্শিয়ে দিয়েছিলেন। ফ্যাতাড়ুদের জীবন কেমন হতে পারে জানার জন্য, নিজেকে বিপদে ফেলতেও দ্বিধা করেননি। করতে গিয়ে বুঝেছেন, নবারুণের সংলাপও সেই ‘ডেঞ্জারাস লিভিং’-এরই সংলাপ। তাই ভিন্ন ভিন্ন গল্পকে একসূত্রে বাঁধার চেষ্টাও তেমন করেননি। ফ্যাতাড়ুদের মঞ্চে ছেড়ে দিয়েছেন তাদের সমস্ত anarchy-সমেৎ।
“নাটকটা যেন কতকটা নিজেই নিজেকে গড়ে নিয়েছিল। ইন ফ্যাক্ট, নবারুণদা স্টেজ রিহার্সাল দেখে যখন জিজ্ঞেস করেছিলেন নতুন কোনো ডায়ালগ লিখে দিতে হবে কিনা, তখন শুধুমাত্র নাটকটার শেষে পুরন্দরের একটা climactic কবিতা লিখতে বলেছিলাম ওঁকে। আর কিচ্ছু লেখাতে হয়নি। সংলাপ সব ওই গদ্যের মধ্যেই গাঁথা ছিল।”
বলা বাহুল্য, ২০০৪-এ প্রথম মঞ্চায়নের পর, ‘ফ্যাতাড়ু’ নাটকটি বারবার ফিরে এসেছে বাংলা মঞ্চে। শুধু দেবেশ চট্টোপাধ্যায় ও সংসৃতিই নয়, গোত্রহীন সম্প্রতি মঞ্চস্থ করেছেন ‘ফ্যাতাড়ুর কিস্সা’। বছর কয়েক আগে থিয়েটার ওয়ার্কশপ মঞ্চে এনেছিলেন নবারুণের আর একটি উপন্যাস ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি’-র নাট্যায়ন।

কিন্তু নবারুণ ভট্টাচার্যের এতগুলি কীর্তিকে মঞ্চে ও পর্দায় হাজির বোধহয় সুমনের মতো এমন সফলভাবে আর কেউ করতে পারেননি। তিন-তিনটি ছবি: ‘হার্বার্ট’, ‘মহানগর@কলকাতা’ (যার মধ্যে আবার তিনটি আলাদা অথচ সংলগ্ন গল্প) ও ‘কাঙাল মালসাট’। তিন-তিনখানি নাটক: ‘কাঙাল মালসাট’, ‘যারা আগুন লাগায়’ ও সম্প্রতি দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামায় ‘খিলোনা নগর’ (হিন্দিতে)। এদের মধ্যে দ্বিতীয়টি নবারুণ অনূদিত। এই অনুবাদ নাটকটি সম্বন্ধে দু-চার কথা বলা দরকার। ম্যাক্স ফ্রিশ-এর মূল জার্মান এই নাটকের (Biedermann und die Brandstifter, বা ইংরেজিতে, The Fireraisers-এর) তর্জমা আগেও হয়েছে। সে তর্জমা মূলানুগ ও জার্মান-তথা-ইউরোপীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সসামঞ্জস হওয়া সত্ত্বেও, ছিল কাষ্ঠ ও খটমট, মূলত অ্যাকাডেমিক। কিন্তু নবারুণ ভট্টাচার্যের অনুবাদ, তর্জমাকরণের থিওরির সমস্ত শর্ত বজায় রেখেও, ‘নাটক’ হয়ে উঠেছে। সুমন মুখোপাধ্যায়ের সমকালীন, রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতায় ঠাসা মঞ্চায়নটি দেখতে দেখতে কেবল মনে হয়, শুধু নাটকের বিষয়গুণে বা নির্দেশনার মুন্সীয়ানায় নয়, সংলাপের সমসাময়িকতার জোরেই যেন বিদেশি নাটক কখন স্বদেশী হয়ে উঠেছে। একবারের জন্যেও মনে হয় না নাটকটি ভিন্ন এক কালে, ভিন্ন এক দেশে, ভিন্ন এক সমাজ ওসংস্কৃতির পটভূমিতে লেখা। তার কৃতিত্ব যতখানি নাট্যকারের, যতখানি নির্দেশকের, যতটা অভিনেতাদের, ততখানিই অনুবাদকের। বিশেষকরে তার সংলাপ-লেখন ক্ষমতার জোরে।

পরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায়ের সামনে সুযোগ ছিল দুটি অনুবাদের মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার।
“কিন্তু আমি নবারুণদার অনুবাদটাই বেছে নিয়েছিলাম। নবারুণদার কলমে যেন নাট্যকার স্বয়ং ভর করেছিলেন। ফলত, অনুবাদ তার মূলানুগত্য না হারিয়েও মুখের ভাষা হয়ে ফুটে বেরোচ্ছিল। এই একই ব্যাপার এই নাটকে কোরাসের গানগুলির ক্ষেত্রেও। নবারুণদার মুখেই শুনেছি, উনি নিজেও আগে একবার এই নাটকটি মঞ্চস্থ করেছিলেন। খুব সক্রিয়ভাবে থিয়েটার না করলেও, সরাসরি নাটক না লিখলেও, নবারুণদার একটা বিরাট ইন্টারেস্ট এরিয়া ছিল নাটক। উনি ভীষণভাবে চাইতেন ওঁর বাবার, বিজনবাবুর নাটকগুলো নতুন করে মঞ্চস্থ হোক। একবার আমাদের দলে এসে বিজনবাবুর একটি নাটক পড়েও শুনিয়েছিলেন।”

২০১৩তে এই অধম যখন প্রবাসী জীবন ত্যাগ করে পাকাপাকিভাবে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তখন নবারুণদা শর্ত দিয়েছিলেন, “তুই কলকাতায় এসে বাবার নাটক করবি, নয়তো ঝামেলা হবে। ফ্যাতাড়ুদের লেলিয়ে দেব।” ২০১৪-২০১৫তে বিজন ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে নবারুণদা বলেছিলেন নতুন করে ‘নবান্ন’ করতে। ইতিহাসভিত্তিক এক্সিবিশন সহ নাটকটির পূর্ণাঙ্গ প্রযোজনা। পরিকল্পনা বেশ ভালোই এগোচ্ছিল, কিন্তু মাঝপথে বাধ সাধল নবারুণদার অসুস্থতা ও মাত্র আট মাসের মাথায় তাঁর মৃত্যু। মৃত্যুর কয়েকদিন আগেও — নবারুণদা তখন হাসপাতালে, জ্ঞান আসছে যাচ্ছে — আমার হাত ধরে কানে কানে বলেছিলেন,
“নাটকটা কিন্তু আমরা করবই। তুই ছাড়বি না।”
কাকে নিয়ে করব, নবারুণদা? যখন ‘নবান্ন’ নামটা পর্যন্ত বর্গীরা কেড়ে নিয়ে গিয়ে সরকারী ইমারতের নেমপ্লেটে বসিয়ে দেয়, তখন সাহস দেবে কে? কোথায় তুমি? প্রথম সারিতে তুমি বসে না থাকলে স্টেজে উঠব কোন ভরসায় এই খারাপ সময়ে?

নাটক না লিখলেও নবারুণদা ছিলেন আনখ-সমুদ্দুর একজন নাটকের লোক। নাট্যস্বজন নন, নাটকের স্বজন। নাটকীয়তা ও নাট্যসংলাপের কাঁধে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত, চলত, দৌড়ত, বিপ্লব করত তাঁর কবিতা ও গদ্য। উদাহরণস্বরূপ দাখিল করা যায়, ‘খারাপ সময়’ —

খারাপ সময় কখনও একলা আসে না
তার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ আসে
তাদের বুটের রঙ কালো
খারাপ সময় এলে
রুমাল দিয়ে হাসি মুছে ফেলতে হয়
ফুসফুস গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যায়
জুয়ার বাজার মরা জন্তুর মতো ফুলতে থাকে
ভালোবাসার গলা কামড়ে ধরে
ঝুলতে থাকে ভয়
ল্যাম্পপোস্টের ওপর থেকে
হতভাগ্যরা গলায় দড়ি
দিয়ে ঝোলে
তাদের ছায়ায় কালোবাজারীরা
লুকোচুরি খেলে
ভি. ডি. বেশ্যার দালাল আর
জেমস বণ্ডরা রাস্তায়
কিলবিল করে
ভিড় ঠেলে সাইরেন বাজিয়ে
পুলিশভ্যান চলে যায়
তার মধ্যে পুলিশ বসে থাকে
তাদের বুটের রঙ তাদের
ঠোঁটের মতো কালো
তাদের ঘড়িতে খারাপ সময়। (‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’; পৃষ্ঠা ২৬)

এ কবিতা তো উৎপল দত্তের ‘দুঃস্বপ্নের নগরী’ নাটকের সংলাপ হতেই পারত। আসলে এ নগর, এ রাজ্য, এ দেশ যতদিন দুঃস্বপ্নের কবলে থাকবে, নবারুণের কবিতাও ততদিনই এক অলিখিত নাটকীয় প্লটের বল্গাহারা, ছেঁড়া ও ছুঁড়ে দেওয়া সংলাপ। কারণ,
সবচেয়ে ভাবার কথা হল
ভরসারা নয়
ভয়রাই কথা রাখে... (‘রাতের সার্কাস’, উৎসর্গ)

নবারুণদার গদ্যে, গল্পে, উপন্যাসে চিরাচরিত আখ্যান-ভিত্তিকতার স্থাপত্য বা নির্মিতি নেই। আছে নাটকীয়তার ডেটোনেশন, সংলাপের বিস্ফোটকতা, নাশকতা। চলতি পথের উলটা-পথিক যিনি, যাঁর কাব্যে-গদ্যে সেই বিরোধী স্রোতেরই দিক্‌-তর্জনি, তিনি নাটক লিখলে হয়ত এক বিপরীত ধর্মী নাট্যদ্রোহের হদিশ পাওয়া যেত। একটি radical dramaturgy-র সন্ধান, যার কিছু ইঙ্গিতমাত্র মিলেছে সুমন ও দেবেশের নাট্যরূপে। নবারুণের নিজের কলমে সেই নাট্য-আকৃতির চেহারাটা ঠিক কেমন হতো তা পরখ করে দেখার সুযোগ আর ঘটলনা। ‘লুব্ধক’-এর সুললিত গদ্য থেকে ‘কাঙাল মালসাট’-এর খিস্তি-ঠাস বাক্যালাপ, কিম্বা ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’-এর কাব্যভাষ থেকে পুরন্দরের ন্যাংটা লিরিক — এসবের মধ্যেই তো ভরপুর নাট্যবীজ। তা না হলে ফ্যাতাড়ুদের নিয়ে এতগুলো নাটকই বা মঞ্চে গজিয়ে উঠল কোন বীজের জোরে, কিম্বা ‘হার্বার্ট’-এর মতো দেওয়াল-ভাঙা ছবি? বা ‘কাঙাল মালসাট’-এর মতো উদাহরক-বদলকরা আখ্যানোত্তর চলচ্চিত্র? আফশোস শুধু এই, যে নবারুণ যেন নাট্যসাহিত্যের প্রাসাদগাত্র ভাঙার সমস্ত প্রস্তুতিটুকু করেও, বারুদের স্তুপ সাজিয়েও, বোমার সলতেতে আগুন দেবার ঠিক আগেই চোখ মেরে উঠে চলে গেলেন। উড়ে গেলেন, ইতিহাস-দর্শানো সেই দণ্ডবায়সের মত। দায়ভার পড়ে রইল তাদের কাঁধে, যারা আগুন লাগায়...।