ক্যাপ্টেন

কমল চক্রবর্তী

না, ‘ক্যাপ্টেন’ বলে কিছু নেই। কারণ, সহযোদ্ধা! সবার অস্ত্র, ধাতব। অস্ত্রহীন বা অস্ত্রসজ্জিত! ক্যাপ্টেন কি তাকে চালান? হাঃ! সে তো স্বয়ংক্রিয় ক্যাপ্টেন! ভাবছি, যে যুবক একা বসে পাহাড়ে, নদী ঝরনার, গুহা আঁধারে! সে? সে কার নির্দেশে, লাইফ ড্রিবলিং-এ। আসলে, একজন ‘দারোগা’ বা ‘বড়বাবু’ থাকেন! আসলে যে বেশী বেশী কাগজপত্র গুছিয়ে বা গোছ করে। দেখেছি বড়বাবু ছাড়া অন্য একজন বেশী গোছান! সে সবার কাগজপত্র হাল হকিকৎ। যতক্ষণ জিত, ততক্ষণ ক্যাপ্টেন! যেন আগাপাস্তালা তারই নীরব উপস্থিতি। যেমন অলোক বলে ‘আমার ক্যাপ্টেন’! কথা শেষ, তর্জনী, আকাশে। ওটাও চলবে! তবে আমি যা দেখেছি সাধারণ মানুষের অগোছালো, অসহায়, দায়িত্বহীনতা, বারবার ঐ ‘শব্দটি’। অনিবার্য! এবং আমরা তো আঘাত হানার জায়গা খুঁজি! মানে, আমাদের ব্যর্থতা, অকর্মণ্যতা, ছিঁচকেমি, স্বপ্নহীনতার জন্য কে দায়ী! আমাদের পলায়নগুলি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত, আমোদিত, আহ্লাদে! কারণ আমরা যদি ‘বাঙ্গালী’ তবে, কর্মহীনতার ‘জিন’ আমাদের। স্বাভাবিক ও আদরের, আদরের ও নন-ক্রিয়েটিভ গোষ্ঠী। মানে ক্রমাগত আরও ছোট, আরও ছোট গণ্ডি! এবং একজন, ‘বাবা’ বা ‘গুরু’। ‘কর্তাভজা’ বা ‘গুরু ভজরে’! এই শেষ অবধি ‘জিন’। যাঁরা দু চারজন, দশকে, শতকে, নিষ্ক্রমণ বা ঐ ‘জিন’ ঐ জন্মব্যাধি থেকে। ‘মুক্ত’ তারা ‘বিদ্যাসাগর’। এবং শেষ পর্যন্ত সমাজ দ্বারা পরিত্যক্ত ও পর্যুদস্ত, হ্যাঁ! ‘নায়ক’ উনি! এবং আর কে? এ ভব সংসারে, তাঁর তুল্য! তবু হে নিষ্ঠুর, অকর্মণ্য, দুঃখী, অসভ্য, অসংস্কৃত, হ্যাঁ! সমাজ, তাঁকে, বিদ্যাসাগর, জীবনের শেষ পর্ব, কর্মভূম ছেড়ে যেতে বাধ্য। ফলে অবিসংবাদিত কোন ব্যক্তি বা প্রধান, হয় নাকি! আমরা আরাধ্য মূর্তি দুর্বলতাজনিত বসাই, আবার অন্য দুর্বলতায় ভাঙ্গি। কারণ আমাদের চরিত্র একমাত্রিক। আমরা অবশ্যই মধ্যবিত্ত! না গালাগালি নয়! কারণ মধ্যবিত্তের ভুল বা আবেগই, ‘তাঁর’! কারণ যত ড্রিবলিং, মধ্যবিত্ত মাঠে! তারাই সাতশো কোটি!
হ্যাঁ, ক্যাপ্টেন: অন্ধকার, অনিশ্চয়, অ্যাবস্ট্রাক্ট। কোন মানুষ বা মহামানুষ নয়। কোন অজ্ঞাত, ধারাপাত। সে ধারাপাতে, ভালোপাহাড়। যদি যৎসামান্য কিছু! যদি অজানা, অব্যক্ত কিছু!
ক্যাপ্টেনহীন মহাবিশ্বের, কত সামান্য, কত বিন্দু, উঃ! আসলে একটা রোজকারের জন্য, এই লেখা, এই রক্ত, এই ক্যাপ্টেন, এই এভারেস্ট, এই আঁধার, এই হানিম্যান ফার্মেসি, ‘দোজখ’ নাম্নী দুর্দান্ত যুবতী, এই মাথায় বরের টোপর। বিবাহ-রাত্রির, হ্যাঁ! অনবরত সানাই, যে শুনতে পায় সেই, কাপ্তান! আসলে দ্রৌপদী, পাঁচজন, কৃষ্ণ, কর্ণ এবং ১০০ জন। তাহলে দ্রৌপদী তো?