স্মৃতি-যোদ্ধা নবারুণ

হিন্দোল পালিত

“১৯৯২ সালের মে দিবস। রাশিয়াতে বরিস ইয়েলৎসিন জব্বর ভুতের জলসা বসিয়েছেন। লাখ লাখ কমিউনিস্ট ক্যাপিটালিজমের ভুত দেখছে। সলঝেনিৎসিনের ছদ্মবেশে রাসপুটিন ফিরে আসছে। যুগোসশ্লাভিয়া ভেঙ্গে পড়ছে। ক্রোশিয়ান টেনিস খেলোয়াড় গোরান ইভানিসেভিচ ভাবছে প্রচণ্ড গতিতে সার্ভ করে জিম কুরিয়ার বা আন্দ্রেই আগাসিকে পুঁতে ফেলবে। শেষবার এক দেশের দল হিসেবে সুইডেনে খেলতে যাবে বলে তৈরি হচ্ছিল কমনওয়েলথ্ অফ ইন্ডিপেনডেন্ট স্টেটস বা প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন। একীভূত জার্মানি ভেবে পাচ্ছে না কাদের দিয়ে দল গড়বে— পূর্ব না পশ্চিম? বম্বেতে বসে হরশদ মেহতা বলে একটা লোক দিল্লি থেকে ছক অনুমোদনের টেলিফোন পাবে বলে অপেক্ষা করছিল। পোল্যান্ড, চেকোস্লোভাকিয়া, বুলগেরিয়া, রুমানিয়া, আলবেনিয়া জুড়ে মহা হট্টগোল। কমিউনিজম কেলিয়ে পড়েছে।”
(ভট্টাচার্য, ২০১০:৪৯)

সময় যখন সত্যিই ‘out of joint’, বছরান্তের মস্কোতে যখন একটাও আস্ত চকোলেট থাকে না, চিনে যখন মাঠে শস্য খেয়ে নেওয়ার অপরাধে রাষ্ট্রীয় অভিযান চালিয়ে চড়াই পাখিদের দেদার খুন করা হয়, যখন লিবেরাল ডেমক্র্যাটদের শীর্ষমুখ ফুকুয়্যামা সদম্ভে আস্ফালন করেন, ‘End of History is here’, তখন বোধহয় আত্মবিস্মৃত হওয়াটাই শ্রেয়। তবে সবাই যে এমনটা পারেন, তা নয়। নবারুণ ভট্টাচার্য যেমন পারেননি।

নবারুণের নিজের কথায়, “গোলকায়নের অশুভ আবর্তের আবহাওয়ায় অঙ্গীকারের ফলায় সুখী মরচে ধরতে পারে। লেখক হিসেবে আমার কাছে এটা গোল্লায় যাওয়া। অথচ কর্মসূচীতে ছিল কেল্লাদখল।” কিন্তু কেল্লাদখলের অস্ত্র কোথায়? কোথায় সেই চেতনার শমী গাছ? ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র রণজয় যেমন মাটি খুঁড়ে চলে অস্ত্রের সন্ধানে, নবারুণ ডুব সাঁতারে স্পর্শ করেন তাঁর স্মৃতির তল, কুড়িয়ে আনেন অস্ত্রে শান দেওয়ার পাথর। অঙ্গীকারের ফলা আলোর বর্শা হয়ে ওঠে। নিউক্লিয়ার উইন্টার চিরে কুচকাওয়াজ করতে থাকে নবারুণের স্মৃতি-যোদ্ধারা।

নবারুণের প্রায় প্রতিটি লেখাতেই এই স্মৃতি-যোদ্ধাদের অনায়াস যাতায়াত। আলোচনার সুবিধার্থে আমরা বরং বেছে নিই তাঁর উপন্যাস দ্বয়ীকে – ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি’ ও ‘লুব্ধক’। প্রথমে আসি ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি’র কথায়। ‘প্রতিক্ষণ’ পত্রিকায় ১৯৯৫ এর শারদ সংখ্যায় এই উপন্যাস প্রকাশিত হয়। উপন্যাসের নক্ষত্র চরিত্র রণজয় সত্তরের রহস্য জ্যোৎস্নায় রাইফেল কাঁধে হাঁটার দুর্জয় স্পর্ধা দেখিয়েছিল। প্রত্যাশিত ভাবেই ‘সন্ধ্যার মুখে নামা ছায়া গুপ্তচরেরা’ তাকে রেয়াত করেনি। তীব্র আলোর আলপিন বা গোপনাঙ্গে অজস্র সিগারেটের ছোবল তাকে অব-ব্যক্তি বা না-মানুষ বানানোর চেষ্টা করে। কিন্তু রণজয় হার মানেনি।

যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও রণজয় খুঁজে চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি। নব্বই এর সুখী সময়েও সে বাতাসে বারুদের গন্ধ পায়, আতশবাজি উদ্ভাসিত কালীপূজোর রাতে তার লড়াই চলে ছায়া-স্নাইপারের সাথে। ঘাঁটি এলাকা বাঁচানোর মরিয়া যুদ্ধে সে খুঁজে চলে গোপন অস্ত্রাগার। রাইফেলগুলোর ওপর বাড়ি উঠে যাওয়ার বাস্তবতা তাকে স্পর্শ করতে পারে না। এই উপন্যাস পাঠকালীন আমাদের একটা বড় ঝাঁকুনি লাগে। আচ্ছা, সময় রণজয়কে অস্বীকার করল, নাকি রণজয় সময়কে?

নবারুণ যেমন প্রতিমুহূর্তে জানান দেন, “চেতনা থেকে যদি সত্তর অন্তর্হিত হয়, তাহলে আত্মপরিচয় বলে আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে না।” ঠিক একই ভাবে রণজয় তার কোমরে থাকা তিনফলা নিড়ানিকে আঁকড়ে ধরে বাঁচে, বুকের ভিতর নিরন্তর স্তালিনগ্রাদের তুষারপাত অনুভব করে। যোদ্ধার সেরা যোদ্ধা রণজয় চ্যালেঞ্জ করে বসে time – space co-ordinate কে। প্রবল ঘৃণা ভরে বর্তমানকে প্রত্যাখ্যান করে আঁকড়ে ধরে অতীতকে। কলকাতার উত্তাপে অনুভব করে সাইবেরিয়ার শীতকে।
প্রখ্যাত সোসিওলজিস্ট Maurice Halbwachs-এর ‘On Collective Memory’ নাম্নী গ্রন্থের নিবিড় পাঠ হয়ত আমাদের রণজয়ের মহাকাব্যিক লড়াইকে আরেকটু বুঝতে সাহায্য করবে। Halbwachs বলছেন, “whereas in our present society we occupy a definite position and subject to the constraints that go with it, memory gives us the illusion of living in the midst of groups which do not imprison us, which impose themselves on us only so far and so long we accept them… Not only we roam freely within these groups, going from one to another, but within each of them— even when we have decided to linger with the main thought— we will not encounter this feeling of human constraints in the same degree that we strongly experience today. This is because the people whom we remember no longer exist or, having moved more or less away from us, represent only a dead society in our eyes— or at least a society so different from the one in which we presently live that most of its commandments are superannuated.” (Halbwachs, 1992:50)

উপন্যাসের একটি অংশে আমরা রণজয়কে দেখতে পাই যাদবপুরের অতিপরিচিত লেনিন মূর্তির সামনে। কমরেড লেনিন বক্তৃতা করছেন। সামনে জনসমুদ্র। ব্যানার, পতাকা, ফেস্টুন উড়ছে। রনজয়ের হাতে ঝুলন্ত পলিথিনের নোংরা প্যাকেটে পাউরুটি। সে লেনিনের মূর্তির সাথে কথা বলছে, তার গাল গড়িয়ে জল নামছে। বারংবার পড়া সত্তেও উপন্যাসের এই অংশটুকু আমাদের বিহ্বল করে। স্মৃতি-যোদ্ধা রণজয় এক লাফে টপকে যায় বর্তমান–অতীতের বাইনারিকে। সকল ঘেরাটোপের বাইরে দাঁড়িয়ে সে নিজের বাস্তবতা নির্মাণ করে। সময়-ঘোড়াকে নিজস্ব লাগামে ছোটায় সে। সে শুধু অতীত-কারাগারের অন্ধ বাসিন্দা নয়। অজস্র পড়া বইয়ের স্মৃতি, অসংখ্য সাদা-কালো ফোটোগ্রাফের স্মৃতি, অগুন্তি ফিল্মের মন্তাজের স্মৃতি তার চেতনার মগ্ন-মৈনাককে ভাসিয়ে তোলে। গড়ে তোলে সে বিকল্প বাস্তব। অন্য খাতে বইতে থাকা পৃথিবী রণজয়ের কাঁধে হাত রেখে বলে ‘এ বাবু, বাবু! ও তো সিরিফ স্ট্যাচু আছে। আপনি ডাকলে কথা করবে! কেয়া বেকার লেনিন, লেনিন করছেন।’ রণজয় সামান্য হাসে। Time–Space নিয়ে এমন ট্র্যাপিজের খেল সবার কম্মো নয়।

আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ‘লুব্ধক’। ‘দিশা’ সাহিত্য পত্রিকায় ২০০০ সালে এই উপন্যাসটির আত্মপ্রকাশ। এই উপন্যাসটি আমাদের নিয়ে যায় নতুন সহস্রাব্দের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা নার্সিসাস শহর কলকাতায়। সৌন্দর্যের একটি নিজস্ব ধাঁচা এই শহর নির্মাণ করে এবং যে বা যারা এই ধাঁচাকে অস্বীকার করার প্রতিস্পর্ধা দেখায়, তাকে বা তাদের যেতে হয় শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত পিঁজরাপোল নামক Waste Land-টিতে।

শহর জুড়ে চলতে থাকা নিধন যজ্ঞের প্রথম বলি হয় রাস্তায়, অলিতে গলিতে, পার্কের ভাঙা বেঞ্চের তলায় বা মন্দিরের চাতালে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য কুকুরেরা। প্রতিরাতে অন্ধকার বেয়ে নেমে আসে কুকুর ধরার গাড়িগুলো। প্রতিটা কুকুর-ঠাসা গাড়ি পৌঁছে যায় পিঁজরাপোল নামক মৃত্যু উপত্যকায়। প্রতিটা পিঁজরাপোলে মৃত, মৃতপ্রায়, অর্ধমৃত কুকুরেরা তাকিয়ে থাকে নবাগত অতিথিদের দিকে। ‘মৃতের সঙ্গে থাকলে মৃত্যুর চৌম্বকক্ষেত্রের ঠাণ্ডা টান না চাইলেও অনুভব করতে হয় ও স্নায়ুতে স্নায়ুতে ধীর লয়ে অবশ সঙ্গীতের মত ছড়িয়ে পড়ে আত্মসমর্পন’।

শহর জুড়ে এই অপূর্ব হত্যা কার্নিভাল থেকে বাঁচতে অসহায় সারমেয়রা আশ্রয় নেয় তাদের নিজস্ব উপকথায়। যে উপকথায় বলা আছে যে, যখনই কুকুরেরা বিপদে পড়বে, কুকুর-তারা লুব্ধকের নির্দেশে ছায়া-কুকুরেরা ছায়া-মেঘের আড়াল সরিয়ে নেমে আসবে কুকুরদের বাঁচাতে। যদিও ছায়া-কুকুরদের কেউ কখনও দেখেনি বা কেউ দেখেছে বলে শোনেনি, তবুও এই হিবাচি-প্রহরে এই প্রাচীন উপকথাই কুকুরদের ভরসা দেয়।

আসলে শুধু পানীয় জল, খাবার বা আশ্রয়স্থল নয়, প্রতিটি কমিউনিটি গড়ে ওঠে একটি নিজস্ব স্মৃতি-ভাণ্ডারকে সম্বল করে। কমিউনিটির শুরুর গল্প, বেড়ে ওঠার গল্প, চলার গল্প কিছুটা বাস্তব আর অনেকটা কল্পনার মিশেলে রচনা করে এই স্মৃতিকাব্য। কাহিনীসূত্র এক মুখ থেকে আর এক মুখে ছড়ায়, এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে গড়ায়, কল্পনার জল-বাতাস লাগে, আরো সমৃদ্ধ হয় স্মৃতিকথা। অস্তিত্বের সংকটকালে এই স্মৃতিরাই ব্যুহ নির্মাণ করে, অ্যাসিডে জ্বলতে থাকা কানকে জলে ডোবানোর তৃপ্তি দেয়। Halbwachs সাহেব আরো নিখুঁত ভাবে এই Phenomenon বর্ণনা করেন তাঁর ‘The Collective Memory of the Family’ নামক রচনায়: “In the most traditional societies of today, each family has its proper mentality, its memories which it alone commemorates, and its secrets that are revealed only to its members. But these memories, as in the religious traditions of the family antiquity, consist not only of a series of individual images of past. They are at the same time models, examples, and elements of teaching. They express the general attitude of the group, they not only reproduce its history but also define its nature and qualities and weakness… Sometimes it is the place or the region from which the family originated or it is the characteristic of this or that family member that becomes more or less mysterious symbol for the common ground from which the family members acquire their distinctive traits. In any case, the various elements of this type that are retained from the past provide a framework for family memory, which it tries to reserve intact, and to which, so to speak, is the traditional armour of the family.” (Halbwachs, 1992:57)

গোটা শহরটাই যখন প্রায় পিঁজরাপোল হয়ে উঠছে, বাকি থাকা কয়েকটি কুকুর ও বেড়াল যখন হন্নে হয়ে আড়াল খুঁজছে, তখনই আরেকটি অভাবনীয় ঘটনা ঘটে:
“বিভিন্ন পাড়ায়, গুরুত্বপূর্ণ সব মোড় ও দরকারি রাস্তার মাঝখানে ধরা দেবার জন্য জ্ঞানবৃদ্ধ কিছু কুকুর হয় বসে বসে ঝিমোচ্ছে, গায়ে মাছি বসলেও তাড়াচ্ছে না বা সামনের দুই থাবার মধ্যে মাথাটা রেখে দু-চোখ মেলে নির্লিপ্তভাবে বিশ্ব-সংসারে কি ঘটে চলেছে দেখছে এবং অজানা কোনো শব্দতরঙ্গের সংকেত ধরার জন্যেই যেন তাদের কানগুলো রাডারের মতো দিক পাল্টাচ্ছে। কুকুর ধরার একটা বিশাল অভিযান চলছে। সেটা সকলেরই জানা। তার মধ্যে এই প্রবীণ কুকুরদের আগ বাড়িয়ে ধরা দিতে আসা কারো কারো চোখে তাজ্জব ঠেকলেও ঠেকতে পারে। এবং সবচেয়ে যেটা আশ্চর্যের সেটা হল কুকুর-ধরা গাড়ি এসে দাঁড়াতেই এরা গাড়ির দিকে এগিয়ে আসছিল।” (ভট্টাচার্য, ২০১০:৪০২)

এই বৃদ্ধ ‘সূর্য উপাসকরা’ তীব্র গরম, জলাভাব, মৃত্যু চৌম্বক, আকাশে চিল-শকুনের ঘুণচক্করকে উপেক্ষা করে ঘোলাটে চোখে কুকুর-মণ্ডলের দিকে তাকিয়ে ছিল। আমাদের প্রশ্ন জাগে— আসন্ন মৃত্যুকে উপেক্ষা করার এমন শক্তি তারা পেল কি ভাবে? তবে কি বৃদ্ধেরা আগেই ঝড়ের আওয়াজ শুনতে পেয়েছিল? তাদের ছানিতে নিভে আসা চোখে কি আগেই ধরা পড়েছিল ছায়া-কুকুরদের ছায়া-মরুতে বালি ওড়ানোর দৃশ্য? অজস্রবার রোদে ভিজে, বৃষ্টিতে পুড়ে, বুটজুতো পড়া পা, বড় গাড়ির রাক্ষুসে চাকা সামলে, আঁধলা ইট বা শীতের দিনে বালতি ভরা ঠাণ্ডা জলের রসিকতা এড়িয়ে এই বৃদ্ধ সারমেয়রাও আজ স্মৃতি-যোদ্ধা। এই Plague নগরীর আধুনিক Tiresius তারা।

নবারুণ বারংবার আমাদের মনে করান, “আন্দোলনটাকে ভুলে যাওয়া, ভুলিয়ে দেওয়ার মধ্যেও একটা রাজনীতি আছে”। Claudius-ও Hamlet-কে তার পিতৃশোক ভুলতে বলেছিল। শোকের কালো আলখাল্লা খুলে মদের ফোয়ারায় ভাসতে বলেছিল। Hamlet তা করেনি। তাই এখনও Elsinore এর সন্ধ্যায় সে তার বাবাকে খুঁজে বেড়ায়। তিনফলা নিড়ানি দিয়ে রণজয় তার অতীত খুঁড়ে চলে। বৃদ্ধ কুকুরেরা অমোঘ মৃত্যুর সামনেও তাকিয়ে থাকে বৃহৎ কুকুর-মণ্ডলের দিকে। স্মৃতি-যোদ্ধাদের বুটের আওয়াজ থামার নয়।

“ওরা কারা যারা রাইফেল কাঁধে হাঁটছে
তারা সারা রাত রাইফেল কাঁধে হাঁটছে
পায়ে ব্যাথা নিয়ে রাইফেল কাঁধে হাঁটছে
জ্যোৎস্নায় ওরা রাইফেল কাঁধে হাঁটছে” (ভট্টাচার্য,২০০৯:৮৬)

সহায়ক গ্রন্থ
১। নবারুণ ভট্টাচার্য। ‘উপন্যাস সমগ্র’। কলকাতা: দে’জ পাবলিশিং, ২০১০, মুদ্রন।
২। Maurice Halbwachs. ‘On Collective Memories’.
Ed. And Trans. Lewis A. Coser. Chicago: University of Chicago Press,
1992.Print.
৩। নবারুণ ভট্টাচার্য। ‘রাতের সার্কাস’। বিজয়গড়: ভাষাবন্ধন, ২০০৯, মুদ্রন।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার
পিনাকী দে
সম্রাট সেনগুপ্ত
প্রিতেশ চক্রবর্তী