ফিরে এসো আগুন

অদ্বয় চৌধুরী

বিরাট, আদিগন্তবিস্তৃত কাচের দেওয়াল। ওপারে, হাজার হাজার কাক আছড়ে পড়ে সেই দেওয়ালের ওপর। কাচে ঠোকরায়, ডানা ঝাপটায়, ধাক্কা মারে, অথচ শব্দহীন। সেই অসংখ্য কাক ক্রমশ একটি দাঁড়কাকে রূপান্তরিত হয়। হারবার্ট এসে দাঁড়ায়। স্থির, অবিচল। তারপর, প্রচণ্ড এক শব্দে, এক ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে, ভেঙে পড়ে সেই কাচের দেওয়াল।

হারবার্ট ফিরে আসে।



“এর অনেক আগেই বিনুর কথামতো চিলছাদে হারবার্ট অনেক কিছু পুড়িয়েছে। দেশব্রতী, দক্ষিণ দেশ, চট্টগ্রামে ছাপানো একটি গেরিলা যুদ্ধের বাংলা ম্যানুয়াল, কিউবার ট্রাইকন্টিনেন্টাল পত্রিকা থেকে সংগৃহীত মলোটভ ককটেলের নকশা, রেড বুক, কিছু চিঠি। একটু একটু করে পুড়িয়েছে যাতে ধোঁয়া কম হয়। কেউ বুঝতেও পারেনি।”

হারবার্ট পুড়িয়েছিল। মলোটভ ককটেলের নকশা। একটু একটু করে। যাতে কেউ বুঝতে না পারে।



বুঝতে পারি না। আমরা কেউ। কিন্তু, নবারুণ? তিনি বুঝেছিলেন,
“সবকিছুই পুড়ছে।
যদিও আগুন দেখা যাচ্ছে না।
তবে একসময় তা দৃশ্যমান হবেই।”



হারবার্টও পুড়ছে। চিলছাদে জ্বালানো আগুনে। যে আগুনে সে একদিন পুড়িয়েছিল মলোটভ ককটেলের নকশা। এখন, ধিকিধিকি জ্বলা সেই অদৃশ্য আগুনের মাঝে সে খোঁজে সেই নকশা। তবেই তো নেভানো যাবে অদৃশ্য আগুন। মলোটভ ককটেলের দৃশ্যতঃ ঝলসানো আগুন দিয়ে—



হারবার্ট ফিরে এসেছে। নবারুণ ভট্টাচার্যর প্রথম মৃত্যুদিনে। ‘মলোটভ ককটেল’ সংখ্যায়। এখানে, মলোটভ ককটেলের নকশা সন্ধান জারী থাকে। হারবার্ট জারী রাখে। নিজের হাত পুড়িয়ে— শরীর পুড়িয়ে। সে আগুনে আমরাও, হারবার্টের মতো, হাত পোড়াব— পোড়াব শরীর, মন, মনন। তবেই তো আগুন নিভবে। তবেই তো ঘটবে এক প্রচণ্ড বিস্ফোরণ।

‘মলোটভ ককটেল’।