দাবা

অর্ঘ্য বন্দ্যোপাধ্যায়

চারিদিকে মেঘ। কোথাও জল। বৃষ্টির। সকালে চা, চায়ের আগে চিনি তার আগে জল ফুটছে সসপ্যানে। কাগজওয়ালা, দুধওয়ালা, ময়লা নিতে আসবে, কাজে এলো, রান্নার লোক। আজকের সাদা কালো সকালের খোপগুলোতে দ্রুত চলছে দাবা। ঘুঁটির অবস্থানে সকালের অবস্থানও পাল্টাচ্ছে। চলছে। হাতা কে খুন্তি, সসপ্যানকে হাঁড়ির ঘরে বসিয়ে বসিয়ে খেলা এগোয়। ঘুম ওঠো। ঘুমের জায়গায় বসে আছে চা। চা হলো, তার জায়গায় বসে আছে খবরের কাগজ। খবরকাগজ হলো, কমোডের ওপর নিজেকে আবিস্কার। অন্য কে কে কোন ঘরে ঘুঁটিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে । তাতে নজর রাখো। গত চোদ্দদিনের পেনডিং কাজটা পড়ে আছে। তাকে আজ ধরে করে ফেলতেই হবে। চেকমেট চাই। অথচ আবার সেই একটা ফোন এল। হ্যাঁ বলছি...খেলা ঘুরে গেলো। ঠিক তার পরেই যে ঘরে থাকার কথা, সেখানে নেই। আধঘণ্টা পরে অন্য কোন একটা ঘরে বসে আছি।
মশারী থেকে নেমে প্রথম যে খোপে পা দিলাম, সেই পা থেকে আধঘণ্টা পরে মাইল মাইল দূরের একটা খোপে। সিগারেট টানছি। আর অন্যদিকে? খেলা এগোচ্ছে।