এইসব পাহাড়েরা

কৌশিক দত্ত



সুপর্ণার একটা নিজস্ব পাহাড় আছে। সেখানে সে একা বসে থাকে বিকেলবেলা আর ভাবে, এই তার দুনিয়া। তার একান্ত পরিসর। এইখানে সে গান গায়, কবিতা লেখে। পাহাড়কে শোনায়। পাহাড় একটু একটু করে বাতাস দেয় তাকে। বাতাস তাকে ছোঁয়। তার ভাল কবিতাকে ছোঁয়, তার দুর্বল কবিতাকে জড়িয়ে ধরে আদর করে, তার বেসুরো গানকে চুমু খায়। পাহাড় জানে গান কন্ঠ থেকে আসে না, আসে আরো গভীর থেকে। একমাত্র পাহাড় জানে। ব্যক্তিগত পাহাড় থাকা ভাল। ভার্জিনিয়া উলফ নিজের একটা ঘর চেয়েছিলেন সব মেয়ের জন্যে। আপন পাহাড় অব্দি তিনি যতে পারেননি। সুপর্ণা সেইটে পেয়ে গেছে।
আত্রেয়ী পাহাড় পেয়েছিল অন্যভাবে। সে আসলে পাহাড়-চাপা পড়েছিল। তার বাবা-মা, তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন, প্রতিবেশী, সমাজ... সবাই মিলে ধরাধরি করে গোবর্ধন পর্বতটা উঠিয়ে এনে তার মাথায় চাপিয়ে দিয়ে বলল, “ধর। এটা তোমায় দিলাম ভালবেসে।” আত্রেয়ী দায়িত্ববোধবশতঃ সেটা ধরতে গেল। কিন্তু তার শক্তিতে কুলায় না। পাহাড়ের তলায় সে হারিয়ে গেল। সেই পাহাড়ই হয়ে উঠল তার অস্তিত্বের একমাত্র প্রকাশ। কিন্তু সে জানে সবাই মিলে খুব ভালবেশে তাকে উপহার দিয়েছে এই পাহাড়। তাই সে পাহাড়টাকে ভালবাসতে চেষ্টা করল। একটু একটু করে ভালবেসে ফেলল সত্যি। এক সময় এই ভালবাসার পাহাড়কে নিজের বলে ভাবতে শুরু করল। এই পাহাড়ের জিম্মেদারী এবার একেবারে তার হল। এই পাহাড়ের সম্মান রক্ষায় পাহাড় চাপা পড়া মেয়েটি সব কিছু করতে রাজি। পাহাড়ের নীচে সে এমনকি খুঁজে পেল নিজের সিংহাসন। সেই সিংহাসনে বসে সে প্রচার করতে লাগল পাহাড়ের কানুন, যেমনটা সে ছোটবেলায় শুনেছিল। তারপর একদিন অন্যদের সাথে হাত মিলিয়ে ধরাধরি করে তেমনি এক পাহাড় প্রতিষ্ঠিত করল শিঞ্জিনির মাথায়। তারপর রত্নার মাথায়। তারপর আরো আরো অনেকের মাথায়। এখন সেই সব চাপা পড়া মানুষেরা নিজের নিজের পাহাড়কে ভালবাসে। প্রত্যেকেসেই পাহাড়কে নিজের ভাবতে শিখেছে।
রামগোপালেরও একটা পাহাড় আছে। অনেক উঁচু পাহাড়। সেই পাহাড়ের পুব দিকের ঢালে একটা জায়গা একটু পরিষ্কার করা। পাথর কেটে সিঁড়ি বানানো। কয়েক পা উঠলেই একটা ছোট মন্দির। নিরিবিলি পরিবেশ। বংশপরম্পরায় রামগোপালের পরিবার এই মন্দিরের পূজারী। রামগোপাল কখনো এই পাহাড় পেরোয়নি। পেরোনোর কথা ভাবেনি। এই পাহাড়ের কোলে, এই পুব দিকেই তো আছে তার পৃথিবী। অকারণে একে পেরিয়ে কী লাভ? রামগোপাল এই পাহাড়ের অন্যদিক দেখেনি কখনো। তার প্রয়োজন নেই।
এই পাহাড়ের পশ্চিম দিকে এক মসজিদ। রফিক আলি সেখানে আজান দেয় রোজ সময় ধরে। সে শুনেছে, পাহাড়ের অন্যদিকে কাফেরদের বসবাস... আজগুবি জিন-পরীদের পুজো করে তারা; নামাজ আদায় করে না আল্লাহর দরবারে। কিন্তু তাদের নিয়ে বিশেষ মাথা-ব্যথা নেই তার। আল্লাহ তাকে দিয়েছেন এই মসজিদের ভার। এই নিয়েই তার জীবন। জিহাদের জিম্মা তার নয় আপাতত।
রামগোপাল আর রফিক কখনো পরস্পরকে দেখেনি। চেনে না একে অন্যকে। কিন্তু শুনেছে ভাসা ভাসা। দুজনেই দুজনকে ভয় পায়। আর ঘৃণা করে প্রাণপণে। আক্রমণে যায় না, কিন্তু অস্ত্র শানিয়ে রাখে সম্ভাব্য যুদ্ধে বিধর্মীকে বধ করার জন্যে। দুজনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে পাহাড়। দুজনের মন জুড়ে প্রেম আর ভক্তি ছাপিয়ে বেড়ে ওঠে অজ্ঞান আর ঘৃণা। কেউ পাহাড় পেরোয় না। কেউ আর খুঁজে পায় না নিজের নিজের ঈশ্বরকে। পাহাড়ের একটা ঢালেই কাটিয়ে দেয় জীবন। নিজস্ব পাহাড় তাদের আদর করে। ব্যক্তিগত পাহাড় তাদের ভুলিয়ে রাখে, বড় হতে দেয় না।
পাহাড়ের দক্ষিণে এক উন্নত শহর। সেই শহরে একমাত্র মন্দির বিজ্ঞানের। অসাধারণ সব যন্ত্রে অনায়াসে হয়ে চলেছে অভাবনীয় সব কাজ। দেড় লক্ষ কম্প্যুটারে কাজ করে চলেছে মানুষ। অঙ্কের নিয়মে নির্ভুল নগর পরিচালনা। হাসপাতালে হচ্ছে দুঃসাধ্য রোবোটিক সার্জারি। কারখানায় তৈরী হচ্ছে উন্নত প্রযুক্তির নিত্য-নতুন পণ্য। রাস্তায় গাড়িরা চলে এত দ্রুত, যে তাদের দেখাই যায় না। সেই শহরে বড় হয়েছে অভীক। সেখানকারই এক বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করে সে। পড়ে, পড়ায়, অঙ্ক কষে আর তাকিয়ে থাকে সামনের পাহাড়টার দিকে। এই পাহাড়টার নীচে অফুরন্ত খনিজ, তাদের বিজ্ঞানীরা অবিষ্কার করেছে। আবার আরেকদল বিজ্ঞানী বলেছেন, খনিজের লোভে পাহাড়টাকে ধ্বংস করা চলবে না। কারণ এর মধ্যে আছে অজস্র প্রজাতির পশু-পাখি ও গাছপালা। এই পাহাড় মানুষের একার নয়। সে যাই হোক, অভীক জানে এই পাহাড় বিজ্ঞানের জন্যে এক অসাধরণ মহাবিদ্যালয়। কত কী অবিষ্কার করার আছে এর মাটির উপরে আর নীচে! কিন্তু এই পাহাড়ের পূর্ব আর পশ্চিম দিকে বাস করে ধর্মান্ধ মানুষ, যারা এই পাহাড়ে পবিত্রতা আরোপ করে রেখেছে। তাদের ভ্রান্ত বিশ্ববীক্ষার ভারে স্লথ হয়ে পড়ছে বিজ্ঞানের রথের চাকা। আশ্চর্য! উন্নত দুনিয়ার এত কাছে থেকেও এই সব মানুষেরা কী করে এত পশ্চাদপদ?
অভীক কখনো রামগোপাল বা রফিকের বাড়ি যায়নি। কিন্তু দূর থেকে তাদের খবর সে জানে। বিজ্ঞানের আশীর্বাদে অভীক জানে, এরা সবাই ভুল মানুষ। অবাস্তবে বিশ্বাস করে। বাস্তবকে চিনতে চায় না। ধর্মের নামে মানুষের উপর অত্যাচার করাই এদের একমাত্র কাজ। এদের সবাইকে ঘৃণা করে সে। প্যাগান বা একেশ্বরবাদীতে তফাৎ করে না সে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান... সবার ভ্রান্তি সে বুঝতে পারে বিজ্ঞানের আলোয়। তার জেহাদ সব ধর্মের বিরুদ্ধে। ঈশ্বর হলেন মানুষ আর বিজ্ঞানের শত্রু। তাই অভীকেরও শত্রু। ঈশ্বরকে ধ্বংস করে পৃথিবীকে রক্ষা করতেই হবে। কিন্তু অবয়বহীন ধারণাকে তো আক্রমণ করা যায় না। তাই সে আক্রমণ করে ঈশ্বর বিশ্বাসীদের। সে তলোয়ার ওঠায় না, কারণ ওভাবে জেতা যাবে না এই লড়াই। এখনো তার দলে পেশী-শক্তি বেশী নয়। সে উঠিয়ে নেয় কলম। প্রতিবাদে রফিক আর রামগোপালের দল কখনো ওঠায় কলম, কখনো লাঠি-তরবারী। কেউ কাউকে রেয়াৎ করে না। কেউ কাউকে চিনতেও চায় না।
রামগোপাল আর রফিক অন্ধ। গোটা পাহাড়টাকেও জানতে চায়নি। নিজের নিজের দিকটুকু নিয়েই তৃপ্ত ছিল। আর ভাবত তার দিকটাই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু অভীক বিজ্ঞানী। চক্ষুষ্মান। সবকিছু জানতে চায়। পরীক্ষা করে দেখতে চায়। কিন্তু এমনকি সেও অন্যদের ভুল মানুষ ছাড়া আর কিছু ভাবতে চাইল না। সেও নিশ্চিত জানে যে তার জ্ঞানই শ্রেষ্ঠ। অন্যদের অর্থহীন ভাবনা জেনে সময় নষ্ট করা এক ক্ষমার অযোগ্য অপচয় বলেই সে মনে করে। রামগোপাল বা রফিকের বাড়ির যেতে হলে তাকে অনেক পথ পেরোতে হবে। অতি উন্নত যে সব দূরবীণ দিয়ে তারাদের স্পষ্ট দেখা যায়, তাদের লেন্সে চোখ রাখলেও দেখা যায় না ভুল মানুষদের প্রাত্যহিক ঘর-বাড়ি, অন্দরমহল। কারণ মাঝখানে পাহাড়। তিন পক্ষই ভাবে এই পাহাড় তাদের নিজস্ব। কেউ আর পাহাড় পেরোয় না। পাহাড়কে ঘিরে ফেলে শ্রেষ্ঠত্বের অহংকার আর অসম্পূর্ণ জ্ঞান। পাহাড়কে ছাপিয়ে বেড়ে ওঠে ঘৃণার পর্বত। তার চাপে বসে যেতে থাকে মানুষের পায়ের তলার নরম মাটি।
রেশমার কোনো পাহাড় ছিল না। নিজেরটা সে নিজেই বানিয়েছে। একটু একটু করে স্বপ্নের নুড়ি পাথর জড়ো করে সে বানিয়েছে নিজের জন্যে এক পাহাড়। এই পাহাড়ের নাম সে দিয়েছে “মাউন্ট টার্গেট”। নিজের পাহাড় নিয়ে সকলেরই অহংকার থাকে। সেই পাহাড়কে তাই হতেই হবে আর সবার পাহাড়ের চেয়ে উঁচু। রেশমা, রজত, আয়েশা, প্রবাল, রঞ্জনা, সবাই তাই প্রাণপণে বড় করেছে নিজের নিজের পাহাড়। আড় চোখে দেখেছে অন্যেরটা, আর নিজের পাহাড়ের জন্যে বয়ে এনেছে আরো দু-চার শিলাখন্ড। তারপর নিজের বানানো পাহাড়ে চড়তে আরম্ভ করেছে পরিশ্রমী পিঁপড়ের মতো। পিঠে ভারী রুকস্যাক, মুখে মুখোশ... রেশমা পাহাড় চড়ছে... রজত পাহাড় চড়ছে... ওরা বেয়ে উঠছে অবিরাম। উঠতে উঠতে... উঠতে উঠতে ওদের মিলিটারি পোষাক ভিজে যাচ্ছে ঘামে। হাঁটু কেটে রক্ত পড়ছে। ক্লান্ত, অবসন্ন লাগছে। ক্রমশ ওরা হারিয়ে ফেলেছে রুট ম্যাপ। কোথায় যাবার কথা ছিল, কেন যাচ্ছে, ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর লেখা শিশুপাঠ্য নোট বইয়ের পাতা গেছে ছিঁড়ে। ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে গেছে আত্মপরিচয়। রেশমা ভুলে গেছে সে কে ছিল, কী ছিল। সে এখন মাউন্ট টার্গেট অভিযাত্রী। সে আর ছবি আঁকে না। তার জীবনে অলস সন্ধ্যা আসে না। সে ভুলে গেছে কী করে চুমু খেতে হয়। সে এখন শুধু পাহাড় চড়তে জানে। যতদিন না তার ব্যাটারি ফুরোবে, সে পাহাড় চড়বে। নিজের বানানো পাহাড়। পাহাড়ের তলায় পড়ে আছে ছেড়ে আসা মানুষ রেশমা। ফিরে যাবার পথ নেই। এই ব্যাটারি চালিত যন্ত্র শুধু ওপরের দিকে চড়তে জানে, নেমে আসার অ্যালগরিদম তার কম্প্যুটারে ভরে দেওয়া হয়নি।
ধনপতি সদাগর একটি পাহাড় কিনেছেন। সেই পাহাড়ে তিনি গুপ্তধনের খোঁজ করেন। অরণ্য বা তুষার তাঁর চোখে পড়ে না। প্রমথ বাঁড়ুজ্জেও এক পাহাড় কিনেছেন। তিনি নামকরা প্রোমোটার। পাহাড়ে তিনি শৈলনিবাস গড়বেন। ক্রমশ তা হয়ে উঠবে এক গনগনে শনশনে শহর। সমতল অথবা পাহাড়, যা কিছু তিনি কিনে ফেলেন, সবই নেহাৎ বাস্তুজমি। কোনোটা উঁচু, কোনোটা নীচু। কিন্তু কারো কোনো আত্মা নেই। শরীর আছে। ব্যবহারযোগ্য শরীর। এঁরা সারা জীবন ধরে পাহাড়ের পর পাহাড় কিনলেন। কিন্তু কোনো পাহাড়েরই আত্মা ছিল না। তাই নাটকের শেষ অঙ্কে এসে একটাও পাহাড় পাওয়া হল না তাঁদের। শুধু গুপ্তধন, বাস্তু, সিমেন্ট, পাথর? তোমার পাহাড় নাই?
বিপ্লবের সামনে একটা পাহাড় আছে। ঠিক নিজের পাহাড় নয়। পাওয়া নয়, বানানো নয়, কেনা নয়, দখল করা নয়, ভালবেসে বুকে টেনে নেওয়া নয়। অর্থাৎ কোনো যুক্তিতেই তার নিজস্ব পাহাড় নয়। তবু যেন পাহাড়টা একান্ত তার। কারণ পাহাড়টা তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে চ্যালেঞ্জের মতো। পাহাড়টা তার দিকে তাকিয়ে আছে প্রতিদ্বন্দ্বীর মতো। পাহাড়টা তাই তার, শত্রু যেভাবে নিজের হয়। এই পাহাড় এক মস্ত বাধা। ওপারে সুখ, মুক্তি, সুদিন। এপারে দুঃখ, দুর্দশা। মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এই পাহাড়। পাহাড়টাকে ধ্বংস করাই বিপ্লবের জীবনের ব্রত। এই পাহাড় তাকে নিঝুম নিশুতি গল্প শুনিয়ে বশ করে ফেলতে চায়। কিন্তু বিপ্লব বশ মানবে না। এই পাহাড় চূর্ণ করবে সে। দেখবে না, শুনবে না মায়াবী পাহাড়ের কোনো ছলনা।
এষা, সুশীল, মুস্তাক, আলফ্রেড, চয়নিকা... সবারই একটা না একটা পাহাড় আছে। একেকজনের একেক রকম পাহাড়। পাহাড় তাহলে আসলে কত রকম?
পাহাড় বহু রকম। আদর করার পাহাড়। আশ্রয় চাইবার পাহাড়। দেবতা বানানোর পাহাড়। দখল করার পাহাড়। কিনে ফেলার পাহাড়। লোভের পাহাড়। জমিয়ে তোলা পাথরের পাহাড়। দূরত্বের পাহাড়। চূড়োয় ওঠার পাহাড়। পেরিয়ে যাবার পাহাড়। ভেঙে ফেলার পাহাড়। আরো কত রকম! মানুষ যেন প্যাগান, তার এই পাহাড় উপাসনায়।
তাহলে ব্যক্তিগত পাহাড় নিয়ে এত লড়াই কেন? যার যেমন, তার তেমন... বেশ তো! তোমার আমার পাহাড়েরা কি থাকতে পারে না পাশাপাশি? না, পারে না। কেন? কারণ পাহাড় আসলে দুই প্রকার। আত্মনেপদী আর পরস্মৈপদী। একটা আমার, একটা অপরের। একটা ভাল, একটা খারাপ। একটা সাদা, একটা কালো।
আমরা সবাই পাহাড়ী। আমাদের সবার পাহাড় আছে। বানানো, কেনা, কুড়িয়ে পাওয়া বা চাপিয়ে দেওয়া পাহাড়। এই পাহাড় আমাদের নিয়তি। এইসব পাহাড় নিয়ে আমরা বেঁচে থাকি। এইসব পাহাড়ের জন্যে আমরা বেঁচে থাকতে দিই না। আমাদের পাহাড়েরা সাদা আর কালো। আসলে সব পাহাড় ধূসর। শুধু ধূসর আর ঊষরের উত্তরাধিকার নিয়ে আমরা আর আমাদের যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা। আমাদের কোনো সবুজ পাহাড় নেই। আমাদের কোনো রামধনু পাহাড় নেই। তাই আজীবন পাহাড় চষে, পাহাড় ডিঙিয়ে, পাহাড় হত্যা করে কেটে গেল। পাহাড় পাওয়া হল না।