পাহাড় বিষয়ক দু-একটা কথা যা আমি জানিনা

নীলাব্জ চক্রবর্তী



--- বাবা, পাহাড় মানে কী?

--- উমম... পাহাড় মানে হোলো... এই খারাপ সময়টা... যেটা আমরা সবাই মিলে পার হওয়ার চেষ্টা করছি...

--- যাহ্‌... পাহাড়ে তো সবাই ব্যাড়াতে যায়!

--- ধরে নে না, আমরাও এই খারাপ সময়টার মধ্যে ব্যাড়াতে এসেছি আসলে...

--- ওহ... য্যামোন বাজারে যায় লোকে? কিন্তু বাজারে তো কেউ থাকেনা... পাহাড়ে অনেকে থাকে। আমি জানি। বাবা, বাজার মানে কী?

--- বাজার মানে আসলে একটা দরজা রে... যেটা শুধু একদিকে খোলে...


দুপাশে বাতিল আসবাবের স্তূপ। বাজার ভাবছে কেউ। অপেক্ষা গড়াতে গড়াতে তথ্যচিত্র আর নীলামওয়ালা অবধি। ওই রাস্তা আসলে লাঞ্চথালির দিকে নেমে যাচ্ছে রোজ। উঠে আসছে। দ্যাখো, ভাষা পড়ে আছে। ভাসা। ভালোপাহাড় নামে কোনও নির্মিত স্মৃতি নেই। আমাদের হাতে লেখা ওই প্রাচীন শর্করালিপির কথা ভাবি। ডিকোডিং। ছাপ মারার শব্দ। পরবর্তী শটের আগে ট্রলি ফিরে যাচ্ছে। রিওয়াইণ্ড। ছাপ তুলে নেওয়ার শব্দ। সারা ঘর জুড়ে ভাড়া করা ফোটোগ্রাফ উড়তে থাকবে তখন। দেওয়ালের টেক্সচার তখন মিউট করা। তবুও পাহাড়ের কথা এলেই সাথেসাথে বাদামী উপত্যকার কথা... তার ব্যবহারের গুণাগুণ... বাক্সের ভেতরটা ফাটিয়ে ফেলছে আস্তে আস্তে... অথচ সাবানকারখানা থেকে সেদিন একটাও রঙিন ফ্যানা বেরিয়ে এলোনা...


রহম রহম বলে কেউ ডেকে উঠলে আমি একটা তারিখ হয়ে যাই। দেখি, মাংস ভাবছে আর উড়ছে গোল করে কেটে নেওয়া ক্যালেণ্ডারের মাপ। বাই দ্য ওয়ে, আজ কতো তারিখ? যৌনতা ঝরিয়ে ফ্যালা একটা সাদা রাস্তা উতরাই খুলে রাখছে পিনকোড খুলে রাখছে। ওখানে সবাই মাথার ভেতর কোনও না কোনও প্রতিপাদ্য নিয়ে। এই যে, হ্যালো, শুনছোওওও... তুমি কি পোলিটিক্যালি কারেক্ট? একটা নীল বাড়ি থেকে দলে দলে মাইনে-না-পাওয়া-মানুষের া বেরিয়ে আসছে... ছবির রিভার্স থেকে বেরিয়ে আসছে ছবির ডাকনাম... মনে হয় বাড়ির ছায়াও আসলে বাড়ি... হয়তো ওই বাড়িটার ডাকনাম পাহাড়... পেরিয়ে যেতে চাইছে কেউ কেউ... তখনো ডেলিভারী ডেট আর ম্যান-আওয়ার... জলছবি... কাঁচাপাকা দেওয়াল ফুরিয়ে যাচ্ছে... জানলায় জানলায় স্যালারি স্লিপ... স্থির হয়ে আছে পুরনো সেপ্টেম্বর...

*-*-*-*-*-*
*-*-*-*-*-*

কৃতজ্ঞতা --- জাঁ লুক গোদার
ছবির কারিগরী-সহায়তা --- ইন্দ্রনীল ঘোষ