পাহাড় বিষয়ক মনোলগ

পাপড়ি রহমান



জীবনের শ্রেষ্ঠ, নিখাঁদ ও সত্য প্রেমের মুখোমুখি দাঁড়ানোর প্রাক্কালে পাহাড় আর নদীর ঘোরপ্যাঁচে মারাত্নকভাবে পতিত হয়েছিলাম। ওর ভাল লাগে পাহাড় আর আমার নদী। ওর অঞ্জন দত্ত আর আমার সুমন চট্টোপাধ্যায়।( তখন তিনি কবীর সুমন হননি)। ওর প্রিয় ঋতু শীত আর আমার কিনা ঘোর বর্ষাকাল! এই রকম নানাবিধ গরমিলে আমি চিন্তিত ! ভাবছি কিভাবে বা কিসে কি? ওপাশে পাহাড় আর এপাশে নদী! ও পাশে অঞ্জন আর এপাশে সুমন!ওপাশে শীত আর এপাশে থইথই বর্ষা! এরকম আরও কিছু অমিল একেবারে কাঁটার মতো তীক্ষ্ণ হয়ে বিঁধেছিল! যেমন কালো-ফর্সা, লম্বা-বেঁটে, কবিতা-গদ্য, সাবিনা ইয়াসমিন-রুনা লায়লা, হাসান আজিজুল হক-সৈয়দ শামসুল হক ইত্যাদি।
আমি বরাবরই আশাবাদি মানুষ। জানতাম অমিলের মিলঝিল হতে টাইমক্ষেপন জরুরি। আর সত্য প্রেমের কাছে কাঁটা তো কাঁটা, পাহাড়ও ডিঙিয়ে বাঘ ধরা যায়! ফলে ওই কাঁটার পাহাড়, অমিলের নদী মিলিয়ে-মিশিয়ে এক মোহনাতে ধরা খেয়েছিলাম! আহা! কতই না মধুর সেই ধরা খাওয়া! ওই মধুরিমা প্রকাশের ভাষা আমার জানা নাই!
তবে পাহাড় আর নদীর ব্যারাচ্যারায় আশৈশব আমাকে বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছে! আমার সাথে তো নদী ছিল, গহন আর গহীন আর স্রোতস্বিনী—নদী সে সুরমা! একেবারে নয়নের কাজলের মতো লেপ্টে থাকা ওই নদী! বাদলার কালে তার যৌবন আর রোষ দুইটাই ছিল দেখবার মতো! প্রশস্ত সুরমার রূপ-রোষ দেখেও তো নিস্তার কিছু ছিল না, কারণ পাশেই ছিল পাহাড় সারি সারি! ওই সারি পাহাড়ের ভেতর দিয়ে পাকা রাস্তা ছুটে গেছে তামাবিল—জাফলং অভিমুখে! ওই রাস্তা ধরে একবার খালি পিয়াইন নদীর কাছে যেতে পারলে হয়! স্ফটিক জলে পা ভিজিয়ে চারপাশে তাকালেই তো ফের পাহাড় আর পাহাড়! পাহাড়ের সারি একেবারে খলখল করে হেসে উঠবে! তবে পাহাড় ছিল আমার কাছে স্বাধীনতার মতো! পাহাড় মানেই তো মুক্ত আনন্দ! একেবারে উদ্দাম উচ্ছাসের আকর ! একবার ছুঁতে পারলে তার শরীর, কাকে বুঝানো যাবে সেই অনাবিল খুশির অনুভব?
বহুদূর থেকে যা দৃষ্টিগোচর হয়—তা পাহাড়! পাহাড়ই। নদী নয় কোনোভাবেই। বহুদূর থেকে নদীকে দেখায় ধূ-ধূ বালিয়াড়ির মতো। ওতে যে প্রাণ আছে, প্রাণের হিল্লোল আছে তা বুঝার সাধ্য দূরের মানুষদের কিছুতেই হয়না! দূরপাহাড় হলো কায়ার মতো! দৃশ্যমান! আর দূরনদী হলো ছায়ার মতো! কায়াতে কি আছে তার একটা স্ট্রাকচার দিব্যি বুঝা যায়। কিন্তু ছায়া হলো অস্পষ্ট! যেন প্রথমার চাঁদ, আছে কি নেই ধরা মুশকিল! ছায়া হলো মিসটাআরিয়াস! অনন্ত মিসটারি ! পাহাড় নিঝুম আর নদী বেগবান! পাহাড়ের নিঝুমতা নিয়ে বুরবুরি কেটে ম্যালা দূর চলে যাওয়া যাবে! আর যাহা নিঝুম তাহাই স্থবির! আর তাহাই মৌন! শুনশান! ঋষি যেমন বোধিপ্রাপ্ত হওয়ার পূর্বে মৌন হয়ে ওঠে! অতঃপর স্থবির! মৌনতা মানে চিন্তারাজ্যের রাজা তুমি! যতকাল তুমি মৌন থাকিবে ততকালই চিন্তারাজ্যের মুকুটখানি তোমার শিরে !শিরে রাখিতে সংকোচ জন্মিলে উহা শিয়রেও রাখা যাইবে হে বৎস !

নিজের মৌনতা বা ধ্যানের জন্য এক্ষণে যে ইতিহাস উদগীরন হবে, তার সাথে যদি ওই পাহাড় সারির সাযুয্য খুঁজতে যাই, তাতে তাদের উচ্চতার সামান্য কিছুই খর্ব হবার নয়!
নিজের ইতিহাস মানে, নিজেরই নিঝুম হবার ইতিহাস। তা ক্ষণে ক্ষণে নিঝুম যদি নাও হই, কালেভদ্রে তো তবদা মেরে যেতেই হয়, নাকি?তবদা না মেরে উপায়ই-বা কি? যখন কেউ অকারণে ভুল বুঝে আর মিথ্যা দোষারোপ করে! খালি খালি যন্ত্রণার হুলে বিদ্ধ করে! যে অপরাধে আমার কণামাত্রও দায় নাই---সেইসব নিয়াই কেউ কেউ বজ্রনিনাদে পৃথিবীর গহবর পরিপূর্ণ করে তোলে ! ওইসব কলংকিত মুহূর্তে আমিও মৌনব্রত পালন করি। একেবারে বোবা হয়ে, স্থবির হয়ে অপমানের শিলাবৃষ্টি হজম করি! করে করে নিঝুম নির্বাণে যাই। তখন সমস্ত শরীর ভেঙে আসতে চায়। মনে হয়-- ছিঃ এইরকম দুরাচারগ্রস্ত দুনিয়া?মনে হয় জগতের সব থোকনা-ঝাড়ি আমিই বুঝি দক্ষিণা হিসেবে পাওয়ার জন্য জমিয়ে রেখেছি?
বেদনায়, অপমানে, মনের কষ্টে, নিজের অপারগতা, অক্ষমতায় আর অন্যের বিষনিঃশ্বাসে নির্বাক হয়ে যাওয়া ছাড়া আর উপায় কি?
ধারণা করি, মানুষের দেয়া অপমান, মিথ্যাচার, সন্দেহ, কৌটিল্য, অধর্ম, অবিশ্বাস, অনাচার আর বেদনা সইতে না পেরে পৃথিবীর কিছু মাটি পাহাড়ে পরিণত হয়েছে। অতঃপর শুনশান নিরবতা!নিঃসাড় হয়ে থাকা! পৃথিবী এইভাবে অনাচারে ও পাপে পরিপূর্ণ না হলে পাহাড়েরা হয়তো কথা বলতো! অথবা খুব ধীর লয়ে সুর গুনগুনিয়ে যেত। হতে পারত সেসব কোনো মেলাঙকলি সং!


০২.
একদা অন্ধকারের গর্ভ থেকে ক্যায়োস দেবতার জন্ম হয়। আর ক্যায়োস থেকে জন্মায় ইউরোনোমে। ফলে ইউরোনোমেকে বলা হয় ক্যায়োসের কন্যা। জন্মের পর সারা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কোথাওসেমেয়ে তার পা রাখার কোনো জায়গা খুঁজে পেলনা। কারণ তখন যে আকাশ ও সমুদ্দুর মিলেমিশে এক হয়ে ছিল।ফলে ইউরোনোমে আকাশের কাছ থেকে সমুদ্দুরকে বিচ্ছিন্ন করে দিল। আদি পুরাণ মতে অই সমুদ্দুর ছিল একেবারে জলধারার মতো। আর জলধারার দেবতার নাম ওসিনাস। অতঃপর সেই মেয়ে সাগরের তরঙ্গমালার উপরএকাকী নৃত্য করতে লাগল। ইতোমধ্যে ক্যায়োসফের অন্ধকারের সাথে মিলিত হল আর জন্ম দিল-– রাত্রি, দিন, অন্ধকার আর বাতাস। ইউরোনোমে যখন নাচতে নাচতে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হল, তখন তার অনুগামী হলো বাতাস। অতঃপর সেবাতাসের গতিকে নির্ধারণ করে দিল। এরপর ইউরোনোমে উত্তরের বাতাসকেহাতের মুঠোতে আবদ্ধ করলআর দুই হাতের তালুতেঅইবাতাসকে সজোরে ঘর্ষণ করল! অতঃপর ক্যায়োস থেকেই জন্মানো ওফিয়োন নামক বিশাল সর্পকে দেখতে পেল সে!সাপ দেখার পর-পরইইউরিনো্মের নাচের গতি বেড়ে গেল আর বিশাল অঞ্চল জুড়ে উন্মাতাল নাচতে শুরু করল সে।তারনাচের ছন্দের সাথে সাথেওফিয়োন ক্রমান্বয়ে তার প্রতি কামাশক্ত হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড কামার্ত হয়ে নিজের কুণ্ডলী দিয়ে সে ইউরোনোমেকে আকর্ষণ করে। এতে করে ইউরিনোমে এক ঘুঘুর রূপ ধরে ডিম প্রসব করে আর ওফিয়োন সাতটি পাকে কুণ্ডলি তৈরি করেসেই ডিমে তা দিতে থাকে। অবশেষে ডিমটি দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়!আর সেখান থেকেই তৈরি হয় সূর্য, চন্দ্রসহ অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্র। একই সাথে ক্রমে ক্রমে পৃথিবীপাহাড়, নদী- সাগর ইত্যাদি দ্বারা সুসজ্জিত হয় আর সৃষ্টি হয় বিভিন্ন গাছপালা ও প্রাণীকুলের।
(প্রাচীন গ্রীকপুরা্ণের কাহিনী)


০৩.

পাহাড়ের সৌন্দর্য বা রূপ নিয়ে যে যত কিছুই বলুক না কেন, পাহাড়ের সৌন্দর্য আদতে তার আচ্ছাদন! বাকল, বাকলা, গিলাব কত নামেই না ডাকা যায় এই আচ্ছাদনকে! আর পাহাড়ের বাকলা মানেই তো উদ্ভিদ শ্রেণী! অই তরুশ্রেণী, তরুবর, গাছ-গাছালি, গুল্মলতা, ঘাসঘাসালি আর পাখপাখালি! বাকলা খুলে নিলে পাহাড়কে কেই-বা আর অমন করে চাইবে? সুন্দরী নারীর কংকালের কি কোনো কদর আছে? কংকালে প্রেম দেবার অভিলাষ ছিল শুধু রবীবাবুর, অন্য কারোরই নয়!আর তাঁর মতো মহান প্রেমিকও তো আর ভূভারতে নাই! ফলে বাকলাহীন পাহাড় কিন্তু বাদামি মাটির কবর! কবর ছাড়া আর কি? যেখানে নৈঃশব্দ সেখানেই সমাধি! গোরস্তানে কি গান গাইবার অভিলাষ কারো হয়? সমাধিতে গিয়ে যিনি পুস্পাঞ্জলী দিয়ে আসেন, তিনি জানেন ওই ফুলস্তবকের পাপড়ি আর পাতায় পাতায় আঁকা থাকে অশ্রুচ্ছবি! লুকানো থাকে অপ্রাপ্তির হাহাকার আর বেদনা! ‘জীবন এত ছোট কেনের’ গুমরানো কান্না ঢেকেই তো সমাধিস্থলে যাওয়া।
পাহাড় ঢেকে রাখা গুল্মলতা আর তরুরাজিই আসলে পাহাড়ের জীবন। আর ওতেই কিনা জমে ওঠে জীবনের মচ্ছব! গুল্মের গুচ্ছসবুজ, আর তরুরাজির অক্সিজেন বিস্তারে ছুটে আসে পাখ-পাখালি। ছুটে আসে মানুষ—আহা! কি প্রশান্তি! কি প্রশান্তি! কি নয়াভিরাম দৃশ্য ! তখন পাহাড়ে নামে ঝর্ণাধারা, রিয়েল এ্যাপ্রিসিয়েশনে না কেঁদে থাকতে পারে নাকি কেউ? সরল ও সত্য প্রশংসা্র ধারাজলে ভিজে যায় সবুজ বনানী। ভিজে যায় পাহাড়ের শুস্ক বুক। পাহাড় নিজেই কেবল জানে কোন বেদনায় সে পাহাড় হয়েছিল? কোন বেদনায় সে মৌন, নিঝুম, নির্বাক হয়েছিল?

০৪.
কেউ পাহাড়েবেড়ানোর কথা বললেই আমার কেবল মনে পড়ে যায় এক দৃশ্য। হয়তো দূরদর্শণের কলাণ্যেই দেখেছিলাম ওই চিরসুন্দর ছবিটি। যা কিছু সুন্দর তাতেই তো বিরাজ করে প্রেম, প্রণয় আর ভালবাসা! বিরাজ করে জীবনের কঠিন কোনো গল্প,কাহানী। সে কোন যুগে-- বয়সে আগানো এক নারীর প্রেমে মজেছিল এক যুবা। নারীটিও তাকে দিয়েছিল প্রেম, উত্তাপ আর ভরসার অভয়। অতঃপর তাদের প্রেম সমাজে বেমানান ঠেকলে তারা পাহাড়ে পালিয়ে যায়। আর বাঁধে ঘর। বাঘের ভয়ে তারা ভীত ছিলনা, যতটা না মানুষের ভয়ে ভীত ছিল! ফলে লোকালয় ছেড়ে বহুদূরের এক উঁচা পাহাড়ের ডেরায় জীবন বুনেছিল তারা! নারীটিকে অনেক নিচুতে গিয়ে পেয়জল তুলে আনতে হতো। প্রেমিকার কষ্ট লাঘব করার জন্য যুবাটি কত বছর লাগিয়ে যেন প্রায় ১৫০০ সিঁড়ি কেটে দিয়েছিল। যাতে নারীটির জন্য জল তোলা সহজ হয়। যাতে নারীটি বিপদাপন্ন না হয়ে পাহাড়ের তলায় নেমে যেতে পারে। আর তুলে আনতে পারে আহার আর বেঁচে থাকার অন্যান্য উপকরণ! সেই ঘোরানো সিঁড়ির ছবি টিভি পর্দায় দেখে আমি চমকে উঠেছিলাম। ভেবেছিলাম কে বানিয়েছে এই সমাজ? বাঘের ভয়, জন্তু-জানোয়ারের ভয়ের চাইতে সমাজের ভয় মানুষকে কতোটাই অসহায় করে রাখে! আর অসম প্রেমের আশ্রয় হয়েছিল যে পাহাড়টি, তাতে নিশ্চয়ই খুব পাখ-পাখালি রব তুলত, আর গুল্মরাজি সবুজ থেকে সবুজতর হয়ে গেয়ে যেত কোনো গান এবং তা মেলাঙকলি সং ছাড়া আর কিইবা হতে পারে?

০৫.
নানা পাহাড়ের চড়াই-উৎরাই দেখে দেখে নজর আর সহসা অবাক হতে পারে না।থমকে দাঁড়াতেও পারেনা কোথাও ! তবুও এক পাহাড় আমাকে এখনো ভীষণ হাতছানি দিয়ে ডাকে। সে ছিল রাঙামাটির পাহাড়। নার্ণিয়ার চরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কয়দিন থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল। সবুজের মাঝে খুব নিবিড় হয়ে থাকা, একাত্ন হয়ে থাকা। প্রকৃতিকে খুব কাছে থেকে জীবনকে দেখা আর উপভোগ করা। সেই সাথে জীবন পালিয়ে যাবার দীর্ঘশ্বাস জড়ো করে রাখা। কী অপরূপ ছিল যে, প্রতিদিনই গুনগুনিয়ে গেয়েছি---এমন দেশটি কোথায় খুঁজে পাবে নাকো তুমি...
ওই পাহাড়ের চেহারা বেশ দূর থেকেও স্পষ্ট বুঝা যেত। একদিন ঘুম ভেঙে দেখি কোথায় পাহাড় আর কোথায়ই বা সেই হরিৎ ক্ষেত্র? সব ঝাপসা! যেন কোনো ম্যাজিক। কোন সে যাদুকর যিনি একরাত্তির মাঝে পাহাড় হাওয়া করে দিয়েছে! জানলার ধারে বসে, ভাল করে তাকিয়ে দেখি অঝোর বাদলে ঢাকা পড়ে গেছে সেই ধুম্রপাহাড়! প্রবল বারিপাতে আকাশ পর্যন্ত নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে! এমন দৃশ্য আমি এ জীবনে খুব কমই দেখেছি। বাদলের অমন মনোরম ছবি আমাকে মূক করে দিয়েছিল। তখন বুঝেছিলাম পাহাড়ের মৌনতার সাথে মানুষের সখ্য চিরকালের !

০৬.
পাহাড়কে দেখার বা বুঝার বা অনুভব করার সঠিক দৃষ্টি পাঠককে দিয়েছিলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘আরণ্যকের’ লবটুলিয়ার কথা এখনো বেশ জ্বলজ্বলে হয়ে আছে। এখনো যেন সেই পাহাড়ি সবুজ হাওয়ার টানে এসে ঘরে ঢুকে পড়ে। আর বনজ ঘ্রাণে চৌপাশ আমোদিত করে দিয়ে যায়।
‘শেষের কবিতার’ অমিত আর লাবণ্যকেই বা কিভাবে বিস্মৃত হলে চলে? রবীবাবু বলে কথা! তাদের আনপ্যারালেল প্রেমের প্যারাডক্স ! চিরকালসমুদ্দুরের জল হয়ে থাকা! আরশিলঙপাহাড়ের অপরূপ রূপ মাধুরীমা।
For God’s sake, hold your tongue
And let me love!
শিলঙপাহাড়ের ওই লাভট্র্যাজেডি বাঙালি পাঠককে চিরকাল কাঁদাবে।
পাহাড়ের প্রেম যেমন অবিনশ্বর, পাহাড়চূঁড়ায় ওঠার কষ্টও তেমনি অবিনশ্বর!

‘শ্বাসকষ্ট উঠলেই বুঝতে পারি ফুলডুঙরি পাহাড় আর বেশি দূরে নয়
নইলে এমন হাঁপাচ্ছি কেন? কেন ওষুধে সারে না?
ঐ পাহাড়ের মাথায় উঠলে এ-বছর কী দেখব কে জানে--
যে পাথরে আমরা সবাই নাম লিখিয়েছিলাম সেটি হয়ত
নিচে গড়িয়ে পড়ে গেছে,
(সলমা জরির কাজ, উৎপলকুমার বসু)


০৭.
পাহাড়ের সবুজগিলাব সরিয়ে দিলে যে লালমাটির নিঝুম হয়ে থাকা, আমি নিশ্চিত জানি,ওই মাটির রঙ কোনো একদিন সফেদ ছিল। আগুনের তাপে উনানের মাটি যেমন রক্তবর্ণ হয়ে ওঠে, তেমনি কারো বুকের হলাহলে পাহাড়ের মাটি পুড়ে গেছে। আর হারিয়েছে তার স্ববর্ণ। হয়তো কোনো বিরহী নারীর বেদনার উত্তাপেক্রমে লোহুবর্ণ হয়ে উঠেছে পাহাড়। যে নারী তার প্রেমিককে বাহুডোরে বাঁধতে পারেনি চিরকালের জন্য। থাকতে হয়েছে দূরে, বহুদূরে!ফলে পাহাড় সয়েছে সেই দুঃখভার, আর অমিমাংসিত প্রেমের বেদনা লুকাতে গায়ে চড়িয়েছে আচ্ছাদন—গুল্ম,ঘাস আর তরুপল্লবের বাকল!