বিবলিওম্যানিয়াকের ডায়েরী

স্বাতী ইন্দু



লেখাগুলো গেঁজিয়ে ওঠে বদ্ধ খাতার মধ্যে অক্সিজেনহীন । তবু মাঝে মঝে খুলে দেখি নিজের পাপের পরিমান । বাকদেবী কি বিকলাঙ্গ হয়ে যাচ্ছেন এইসব অপভাষা ,অপচিন্তনে ? নিজেকে
ব্যবচ্ছেদ করে যা পাওয়া যায় তাকে কি চল্লিশ শতাংশ ফর্মালিনে চোবানো কোন সিক্ত কাগজ ধরতে পারে ? কি জানি ! কিছুই না জেনে বরং শব্দের তড়িতচুম্বকীয় ক্ষেত্রে টিকে থাকা যাক আরো কিছুকাল ----- বিকৃত বস্তু পৃথিবীর কেউ ।
১।
ঘুম নিয়ে যা পড়েছি ----ঘুম আসলে সরল না লেখা কবিতা । ড্রাউজিনেস ,আচ্ছন্নতা এইসব শব্দের মধ্য দিয়ে বেড়ে গেল একটা শহর ,বাল্যকাল । ইলেকট্রিক আর টেলিফোন লাইনের লোকজনেরা বকুল আর কৃষ্ণচুড়ার ডাল ছাঁটে নির্মম ভাবে । তারপরতো পাড়ায় ভিড় বেড়ে গেল ---- আমিও অনেকদিন দূরে থেকে টেকে বাড়ি ফিরে এলাম স্থায়ীভাবে যেন ঘুমের মধ্যে হেঁটে
এলাম কদ্দুর ---- দূরত্বও তবে একটা কাল্পনিক ব্যাপার !

২।
তিনটে ডায়েরী ছিল। একটা সে কি ভেবে কাজের ওখানে নিজস্ব ড্রয়ারে রেখে আসে । যা ব্যক্তিগত তাই পবিত্র । তাই তা আড়াল চায় অথচ প্রকাশ মানে আলো । আলো নিয়ে আলোচনা পড়ে যায় গল্পের চক্করে । যে গল্প তার দু'চক্ষুর বিষ ! সুতরাং সেখান থেকে কেটে পড়াই বিধেয় ।

৩।
ছলাত ছলাত শব্দে জেগে গেলে মনে হয় অন্ধ সে কিভাবে ভাববে ! কাঠেরপচনশীলতা ? কিন্তু বাতাসে তো জলের প্রলেপ নেই --- শুকনো সে ধু ধু । তবে কি মাটির কলসীর মধ্যে জিওল মাছ ; অস্তিত্ব আন্দোলন ,সীমাবদ্ধ স্তোক ! ওহে ওয়াটসন , একে বলে হিউম্যান এরর !