রাজকন্যা

মাসুদুজ্জামান



আমি ওই রাজকন্যার কাছে রেখে এসেছি আমার হৃদয়
সে এক সমুদ্র, ঢেউয়ে ঢেউয়ে মিশে যায় দিগন্তে
আমার পায়ের নিচে ভেঙে পড়ে নোনা জল, কাঁকড়ার ঝাঁক
তৃষ্ণার্ত আমি উৎক্ষিপ্ত পাঠাই শূন্যে তাকে
ফুটে ওঠে তারাপুঞ্জ, ওঠে চাঁদ সেই মেয়ে

আমারি রক্তবিন্দু নিয়ে আকাশে ছড়িয়ে পড়ে

নক্ষত্রের হৃদয় আমি দেখিয়াছি, বলেছিল একজন বুকের ঝরণা খুলে

আমি তখনও তস্য বালক, অরণ্য থেকে অরণ্যে ঘুরে বেড়াই
হরিণ মর্মরিত হয়ে পায়ে পায়ে ওড়ে
গাছের বাকলে আমার জন্মচিহ্ন
সেই থেকে তৃণভুক আমি
ব্যাধপুত্র কালকেতু জনক আমার ফুল্লরা জননী

শ্বাপদের শব্দে সচকিত বাল্যকাল অরণ্যে অরণ্যে বিচরণ
ভাত নেই হাড়িতে শূন্যতা জমে হিম নিতি আবেশি
দত্ত ভাড়ু যত্রতত্র ঘুরে বেড়ায় আমাদের কুঁড়ে ঘরে একদিন
শুনেছি মায়ের কাছে তার রূপটানে মুঠোভর্তি কড়ি ও কঙ্কন ছড়িয়ে দিত
পথে পথে
পিতা তখন জলাভূমি আর পাহাড়ের খাড়ি পেরিয়ে অরণ্যলীন অন্ধকারে জীর্ণ
কুয়াশার ফেনায় ফেনায় লুপ্ত আমাদের বাল্যকাল
তৃণভুক বলে আমি শুধু জেগে থাকি, মাটি ফুরে উঠে আসি

আরেক মানবজন্ম বুঝি রাজকন্যা দিল আমাকেই