ভ্রমণিকা

প্রান্ত পলাশ



‘ইশ, ইস্প্রিডের গন্ধ ক্যান?’ এই প্রশ্ন ভেসে আছে দেয়াং পাহাড়ে।
আমি ও সে। মানে ও আর-কি। মরিয়ম আশ্রম ঘেঁষে আমরা দুজন। ওর নাম... থাক। নামটাই তো, বায়ুবুদ্বুদের মতো অপ্রকাশ্য অঙ্গুলিহেলনে উঠি-নামি, নাচি-গাই, সদাই গোপন রাখি ওর নাম। ভেতরে হরিনামপ্রায়। গোপন পরিত্রাতা। রমণীগোসাঁই। গলা শুকিয়ে আসে।

‘ইশ, ইস্প্রিডের গন্ধ ক্যান?’ এই প্রশ্ন গিলে খাচ্ছে দেয়াং পাহাড়।

যেখানেই বসি বাদামের প্রেমখোসা ছড়িয়ে রয়েছে। পাহাড়দেয়ালের কাচঘরে মাতা মেরি ফিক করে হাসে। প্রার্থনাসঙ্গীতের মতো সবুজ বাতাস আমাদের ওষ্ঠ ছুঁয়ে যায়। শুকিয়ে আসে।

‘ইশ, ইস্প্রিডের গন্ধ ক্যান?’ দেয়াং পাহাড়ে শুধু এই প্রশ্ন ভাসে।

‘দ্যাখেন, আমি কিন্তু কবিদের পছন্দ করি না। খাইসটা। হাজার মাইয়্যা। শোয়। ম ছাড়া কিছুই বোঝে না। যারে দ্যাখে তার প্রেমে পড়ে। ভরসা পাই না’... ‘দিবসে উঠেছে দ্যাখো দিবসশর্বরী, বাহুল্যবর্জিত ব্যতিক্রমী চাঁদ... এই মুহূর্ত, এই মুহূর্তের ওপর’... আমি ওকে এইটুকু বলি। ও ঘাস ছেঁড়ে, বাদামের প্রেমখোসা ছেঁড়ে, বলে, ‘আজাইরা, মাথার উপর দিয়া যায়, কবিকথা মনে ধরতে নাই।’

‘ধুর, ইস্প্রিডের গন্ধ ক্যান?’ দেয়াং পাহাড়ে এর উত্তর ভেসে যায়