ধাক্কা লাগুক

তানিয়া চক্রবর্তী


যেন গোমুখে বসে গঙ্গাপ্রাপ্তি --- যেন জীবনের শেষ ললিতকলায় পাগল হয়ে নূপুর পড়ে গেল মাটিতে --- যেন নূপুর পড়ার পর মাটি অর্গ্যাজমে পুড়ে যাচ্ছে আর শোণিত রঙে ক্রমাগত লালাভ হয়ে উঠছে স্তর! বাঙালী চামড়ার রক্ত পড়ছে শব্দ চুঁইয়ে --- শরীর চুঁইয়ে। মন আমি প্রান্তিক ঘরের আটচালার দোভাষী আমাকে “আহা” উচ্চারণে বাংলা অক্ষরে চেপে ধরো। চেপে ধর বাংলা নদীর চরে --- চরের চরৈবেতি ---আমের মুকুলে,মায়ের আচলে, মেটে গন্ধে, সিগারেটের পেট চিঁরে বেরোনো তামাক গুড়োয় শূন্য থেকে শুরু করে শূন্যে ঘুরপাক খাওয়াও প্রতিফলনে...
শব্দ, অহং, সুর, লয়
বুকের ভেতর থেকে ঠেলে দিচ্ছে স্তন
উথলে যাচ্ছে চামড়া আর ইহজন্ম
কেউ জ্বালিয়ে দিচ্ছে --- কেউ নিভিয়ে
কেউ জন্ম দিচ্ছে --- কেউ মৃত্যু
এ সমাহিত সঙ্গমে লেপটানো পৃথিবী
আভোগ কলঙ্কে ধুঁকছে
শ্বাসঘাত পড়ে পড়ে মাত্রাহীন হয়েছে সব
অযুতে-নিযুতে যুতসই চামড়ায়
একত্রে উল্কি আঁকছে সাধক ও ডাকিনী
ডাকিনী রক্ত নিচ্ছে চেপে ধরে
সাধক পরাগ দিচ্ছে চেপে ধরে
সমস্ত গর্তে পৃথিবীর জৈব সার
স্থানে-কালে শব্দের শরীরে জন্মাব নারীর পাতলা জরায়ু থেকে --- জন্মাব না টেস্টটিউবে --- বিকল্পহীন যোনিমুখে এসে হব প্রকৃতির প্রকৃত তর্জমা! বৃন্ত থেকে ঝরে পড়া বিন্দু নিয়ে স্তন্যপায়ীর জীবনে সকৃৎগর্ভার গায়ে বুনব অক্ষরের নকশা! তেমনি এ শব্দ মা--- এ আঞ্চলিক মা --- এ আধুনিকা মা --- দ্রাঘিমার ঘনত্বে বীতরাগে আসবে না --- এ এক ঐহিক যার জালে ঘুরপাক খেয়ে তরল হচ্ছি না! আমার শব্দ--- নটরাজ --- ঈশ্বর --- মা--- জিভ --- তীব্র চুম্বনের তাগিদ --- একান্ত মৌলিক পোশাক--- পুরুষ--- এ ভাষা বলছে আমরা বৈধতার সন্তান ---উচ্চারণে ঠোঁট নাবিক হয়ে গ্যাছে --- কম্পাস ছাড়া এক ধাত্রে এসে বসেছি! ক্রন্দসীর কাছে বিনাকাপড়ে দাঁড়িয়ে বলছি খোঁজো অলঙ্কার আর অহঙ্কার !
সমস্ত ভাঁজ বাংলার জনুতে --- গর্ভকেশরে বসে পর্বমধ্যের পাতা খুঁজি, বাকসঙ্গমে পাতার গায়ে লিখে আসি শব্দের গন্ধ যার ব্যাপন আর কেউ খুন করতে পারবে না!
তেহাই তে এসে বিমূর্তের ঘরে তাল বসেছে
সংবেদী হয়ে ছুঁয়ে দ্যাখো লিপি
তোরণের মুখে বাংলার আত্মা...
লোলুপ উদগ্রতায় এ রিকথ (উত্তরাধিকার) নিরন্তর পাকরীতি জানে তারুণ্যের জিভে! অঙ্গে, জিভে, ভাঁজে, নামে-বদনামে, প্রশ্নে-উত্তরে, হাতে-পাতে এ রাজযোটকীয় ভাষা অন্তরে লালিত হয়ে মিশে যায় । যত ঘাত দেবে তত বাড়বে অনুরণন, কিঙ্কিণী ---ক্রেঙ্কার --- টুঙ্কারে মিশে যাক উচ্চারণ --- দুহাতে ফাগ গুঁড়ো মেখে যেমন যোগিনী মাটিতে এলিয়ে বসে গান গায় --- সন্তানকে আলাদা করে দিলেও যেমন নাড়ির অভ্যস্ত গতিপথ তারা ভাষা ভোলে না --- অবয়বহীনতাতেও চূড়ান্ত টান হয়ে খেলে --- এ বাংলা ভাষা এমন...
বসন্ত ভঙ্গিমায় চিরহরিৎ
জরিপ করে শব্দশরীর
ভাষা, ঋতু --- বহতায় ডালিম গাছ থেকে
আলো এসে ঢুকে যাচ্ছে লোহিতকণায়---