প্রেমিকা বললে রাগ করবে...

অগ্নিজিৎ


জড়ো হতে থাকি, ভিড়ের মতো মৃতদেহের পাশে। নম্বরের পর আরও একটা নম্বর হয়ে ওঠা। যে গুমটিগুলো ঠিক ভোরবেলায় শুয়ে পরে, চল্লিশ পাওয়ারের বাল্ব যেখানে রোদ ঢুকতে দেয় না, নতুন ভিড় আরও একবার চা চায় সেখানে। ঠিক সেই সময় ডমরু সেদিনের মতো প্রথম স্নান পায় টাইমকলের জলে। তিরিশ কিলোমিটার দূরে জয়ন্তীর মার তখন ফার্স্ট লোকাল ধরার রাজধানীর গতি। টুকুনের ইস্কুলে গরম পাওয়ার ছুটি। তাই বিছানায় হিজিবিজি আলসেমি। চোখ জুড়ে ঘুম বুজে আসে তার।

হারান চাচার ঘরের উঠোন দিয়ে আর তিন বগির রেলগাড়ি যায় না। কেউ আর বাড়ি থেকে পালাবে না ঐ গাড়িতে। তাই ধানক্ষেত উপুর করা সামনে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে। রসুল মিঞার সঙ্গে তার আড্ডাও বেড়েছে আবার পাহারাও। যে বিপ্লবীর বউ শাঁখা-পলা খুলে রেখেছিল স্বামীর মানতে, সে এখন ছোট রেললাইনের ওপরেই ঝাড়াই করে ধান। পলখড় মাড়াই দেয়। আর ছোট ছেলেটা সতেরো ঘরের নামতা ভুলে যায়।

দিবাকরের ঠেকে যে লোকটা প্রতিদিন ওর বউএর স্টোভ বার্স্ট করে পুড়ে মরার গল্প বলত, সে কতদিন আসে না। ছিঃ!!! গল্প না, ঘটনা। দুর্ঘটনা। তুমি শুধরে দিয়েছিলে। রোজ ও চলে যাওয়ার সময় গলিগুলো ছোট হয়ে আসত। অথবা লোকটা আরও ছোট হয়ে যেত পেরোতে পেরোতে। মল্লিকবুড়ো কখন ঘুমায় আজকাল আর জানা যায় না। তবে রেডিওটা এখনও বাজে। কলকাতার একাধিক ব্যাঞ্জনবর্ণে। দিবাকরের টিনের চালে বৃষ্টির ফুটো। আঞ্চলিক অঘটন পেরিয়ে এ সপ্তাহের সেরা জ্যোৎস্না এখানেই চুঁইয়ে। মহালয়ার ঘুম ভাঙাত মহল্লা। ধার করা পূজাবার্ষিকী ওলটপালট তখন এবাড়ি ওবাড়ি। শুভ বিজয়া বীরেনবাবু!!

তবু চাবুক। প্রতিটা আঘাত, চিহ্নে স্পষ্ট হয় নিয়মিত। ফেটে যাওয়া চিৎকারের গলাতেও। তাও ঘাতকের হাতের ব্যথায়ও তুমি। তুমি - ই তো চিনিয়ে দিয়েছিলে আমার ভেতরের গাঁ। মফস্বলের গুপ্তচর। তুমি - ই তো হেঁটেছিলে সেইসব গলি ধরে ধরে, ভিড়ে মিশে যেতে, খুঁজে নিতেও। দেখা শিখিয়েছিলে। দাঁড়াতে। তোমারই জন্য অপরিচিত কত আমার পরমাত্মীয়। মুহূর্তের আয়ুহীন দৃশ্যের জন্মদিন পালন দিলে। তবু এত নিখুঁত অভিমান যে ভাঙাই কীভাবে!!!!

সত্যি বলছি, আমার যে আর কোনও ভাষা নেই......