“তোমার ভাষা বোঝার আশা”

অমিতাভ মৈত্র


সারা জীবন যে symbolic construction আমাদের ভিতর দিয়ে বহমান তা আমাদের ভাষা।আমরা যখন ‘গাছ’ -এই শব্দটি উচ্চারণ করি, একমাত্র তখনই কোনো একটা কিছু গাছ হয়ে ওঠে। শব্দটি যদি না থাকতো আমাদের পৃথিবীতে গাছ থাকতো না। যা আমাদের কল্পনার বাইরে,এবং যার কোনো নাম নেই,তার কোনো অস্তিত্ত্বই নেই। সৃষ্টির মুহুর্তে ঈশ্বর বলেছিলেন ‘আলো’,এবং আলো আসে তারপরে।কিন্তু একটা ধাঁধা আছে এর মধ্যে। যিনি আলো সৃষ্টি করলেন তিনি নিজেই তো তখন পর্যন্ত অনস্তিত্ত্ব। কেন না আলো তো ঈশ্বর কে কোনো নাম দেয়নি! নামই যখন দেয়নি,ঈশ্বর কিভাবে আসবেন তাহলে? যিনি সৃষ্ট করছেন তার নিজেরই কোনো অস্তিত্ত্ব নেই- এই অপরিসীম ধাঁধার উত্তর ওঁ নিরাময় বহু বছর আগে লেখা অপকৃষ্ট একটি কবিতায় ধরবার চেষ্টা করেছিলাম যেখানে ঈশ্বরের পরিবর্তে অরিসংবেদনশীল এবং অবসাদগ্রস্ত মানুষ একজন তাঁর পৃথিবী তাঁর ভাষা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন। ‘টোটেম ভোজ’ নামক একটি ছোট্ট কবিতার বইয়ে লেখাটি আছে।‘সৃজনমূলক সাতটি দিন’ – এরকম নাম ছিলো লেখাটির
“ডিসভর্তি থক থকে ভারী ঠোঁটগুলোর দিকে তাকিয়ে ম্যাডাম এম.
উচ্চারণ করেছিলেন – ‘আলো’।এবং আলো সৃষ্টি হলো।

দ্বিতীয় দিন একটিভেড়ার রক্ত নিষ্কাশণ করে জল সৃষ্টি করেছিলেন তিনি।
আর আজ তৃতীয় দিন,এক জ্বলন্ত মশাল ও ঘোড়াটিকে নিয়ে স্নান ঘরের দরজা
বন্ধ করে ধ্বনি ও চীৎকার শুরু করলেন।

বস্তু সমূহের স্ববিরোধ - এই হল তার চতুর্থ দিনের বিষয়।
আর পঞ্চম দিন তিনি নিজের মুখ থেকে অন্ধকার সৃজন করবেন।
ষষ্ঠ দিন – আর তার চোখ বরফ হয়ে যাচ্ছে, দ্যাখো।

সপ্তম রাত্রে তিনি নগ্নতাকে গ্রহণ করবেন মাংসের বিরুদ্ধে।অনুভূতি শূন্য এক
পোষাক ,প্রধানত চামড়া দিয়ে তৈরী,গঠন করা হচ্ছে তাঁর জন্য”।
মানুষ সৃষ্টি করেছে যে ভাষাকে,সেই ভাষাকেই আমার প্রণাম। মাঝে মাঝে মনে হয় জ্বর,রক্তচাপ বা রক্তে চিনির মাপের মতো সর্বজনগ্রাহ্য সংখ্যা যদি ভাষায় আনা যেতো এবং আমি বলতে পারতাম – “বহরমপুরে আজ বারো রোদ উঠেছে,বাতাস চব্বিশ” – কেমন হতো তমাল? হতে কি পারেনা এমন?