বাংলা ভাষা

মাসুদ খান


(বাংলা ভাষার আধুনিক যে গড়ন তার গোড়াপত্তন যাঁদের হাতে, তাঁদের মধ্যে তিনিই সর্বাগ্রগণ্য। একে আরো বিকশিত করে তুলবেন, আরো উৎকর্ষের দিকে নিয়ে যাবেন ভবিষ্যতের প্রতিভাগণ—এ ছিল তাঁর আশা ও বিশ্বাস। তিনি জানতেন—ভাষা বহতা নদীর মতো। বহমানতা আর বদলে বদলে যাওয়ার মধ্যেই নিহিত এর শক্তি ও সম্ভাবনা। ...রবীন্দ্রনাথ, সেই মহোচ্চ প্রতিভার উদ্দেশে নিবেদিত আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস...)


নীল নীলিমার নীল
রৌদ্রঝিলমিল
বটবৃক্ষের ছায়া
জোছনারাতের মায়া
বনের অম্লজান
অভিকর্ষের টান
দলকলসের মৌ
মাঠের সবুজ ঢেউ
চাঁদনি রাতের সুর
বিষন্ন-মধুর
কালবোশেখির ক্রোধ
কমলা-পাকা রোদ
মেঘের বরাভয়
ঘুঘু-ডাকের লয়
পাখির কলগান
পাগলাঝোরার তান
বৃষ্টিপাতের যতি
ইচ্ছামতীর গতি
নদীর বাঁকা জল
ঢেউয়ের ছলাৎছল
শিশুর চোখের হাসি
সোনা-ধান্যরাশি—
জিনিয়ে ছিনিয়ে সব
গড়ছো অবয়ব
বাংলা এ-ভাষার
আমার বাংলা মা-র।

সময়যানে চ’ড়ে
অনেক কাল ধ’রে
গ্রহান্তর ঘুরে
বহু জন্ম পরে
আসবো যখন ফিরে
পুনর্ভবার তীরে
চোখ মেলবো ভয়ে
দেখবো অবাক হয়ে—
বদলে গেছে খুব
মায়ের, ভাষার রূপ।

ভাববো কিছুক্ষণ—
কেই-বা সেইজন,
কোন-সে কবির তেজে
নতুন সাজে সেজে
জ্বালিয়ে নতুন আশা
এলো বাংলাভাষা
সুর-স্বর-ভাব যত
পাল্টে অবিরত!
কোন-সে বর্তিকায়
কোন আলো-আভায়
এমন জ্যোতির্মতী
হলেন সরস্বতী!