আমি এক ড্রপআউট ঘোড়া (অংশ)

মজনু শাহ



তোমার সূক্ষ্ম-সত্তা গিলে খায় আমার সমস্ত সৃষ্টিকে।

আরো এক অন্তর্মুখী বাগানের দেখা পাই। স্বপ্নেরা ঘুরছে। থম মেরে আছে পাখিদের রঙ শুষে নেয়া গাছ। কেউ একজন উন্মাদকণ্ঠে ডেকে চলেছে, ধ্রুবতারা, ধ্রুবতারা...

হয়রান হলে তুমি অস্পষ্ট সাপের তাৎপর্য ভেবে।

এক মহাকাশ ঘুম জমে উঠছে কোথাও, আর একটা ঝুঁটিবাঁধা কবুতর ছটফট করছে আমার ডার্ক চেম্বারে।

আমি ধীরে ধীরে সারিয়ে তুলি স্বপনপারের পাতাহারা মেহেদীগাছ।

দরবেশ আর নীহারিকা, কে কাকে একটুখানি করে তোলে জাগতিক?

কোনো কোনো বিকেলে দুই দিক থেকে ভাষাশত্রু আর ভাষানর্তকী এসে ধুতুরা ফল আঁতিপাঁতি খুঁজতে থাকে।

বিশ্বব্রহ্মাণ্ড আমার কাছে শব্দই একটা কেবল। এক কণা স্বর্ণধূলি নিয়ে বসে আছি।

পাঠোদ্ধারে আমি তার সমকক্ষ নই। তার অভিপ্রায় সিদ্ধ হয়ে এলে, কেন সে তবু আমাকেই উপহার দিতে চায় প্রভাতকুন্দ?
১০
কেন লিখি? ...সমাধিপাথর খুঁজে বেড়ানোর অবসরে মূলত এও এক যৌনভাবুকতা।
১১
নির্বাণের সুরা ও গোলাপ যদি-বা অন্তর্হিত হয় দৃশ্যজগৎ থেকে, কী আমার করণীয়, আমি কতটুকু তোমার কাছে ট্র্যাজিক মাপে ঋণী!
১২
ছিপ ফেলে বসে আছ তুমি। কিছুক্ষণ পর পর পদ্মকে মৃদু ধাক্কা দিচ্ছে একটি বৌমাছ। সবই কত পরিমাপহীন, চূড়ান্ত পার্থিব!
১৩
যেই তুমি এক রাজহংসীর মতো এলে, রক্তমাখা পাতা কুড়ানো শুরু করলাম ফের।
১৪
তোমার মশলাবাক্সের গায়ে ফুঁ দেই, ফুটে ওঠে রাতের নির্মম গদ্য।
১৫
জনশূন্য আয়নাস্টেশন। অদ্ভুত যাত্রীর মতো দাঁড়িয়ে আছে কয়েকটি দেবদারু।
১৬
পাঠকের মনোবিকলন, পাঠকের পাখিআত্মা আমি স্বীকার যাই।
১৭
রামপ্রসাদ গাইছে কেউ। তোমাদের দুই বোনের কণ্ঠস্বর প্রায় একইরকম। এখন গান ও গরম ছাই উড়ে আসছে তোমাদের বাড়ি থেকে।
১৮
হে নক্ষত্র, আর কতকাল আমার জুতোহীন পায়চারি?
১৯
স্বপ্নের দায়িত্ব মাঝে মাঝে দুএকটা যৌন-খরগোশ সহজে ধরে আনা।
২০
একেকদিন ও-বাড়ির ছোট বৌদির হাত ফসকে সিঁদুরকৌটো পড়ে গিয়ে তার সারা পৃথিবী মেখে যায়।