বাংলা যতদূর ভাষা তত রোদ্দুর

বিজয় দে



একটা কাচের বোতলের ভেতরে ভাষাকে চেপেচুপে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে । তারপর’ ছিপি আটকে বোতলটিকে ভাসিয়ে দিলাম সমুদ্রে। এইবার কাচের বোতল ভাসতে ভাসতে, সাত কি সত্তর কিম্বা ধরা যাক,একশ সাতাত্তর বছর পরে , ভাসতে ভাসতে, যেখানে ‘জগৎপারাবারের তীরে শিশুরা করে খেলা’ ,সেখানে এসে পৌঁছুলো। এবং সেই রৌদ্রকরোজ্জল বালুকাবেলায়, একটি শিশু বোতলের ছিপি খুলে দেখলো ,ভেতরে লেখা ‘ বা ঙ্গা লা ভা ষা’ ।
এখন প্রশ্ন, একজন শিশু, যার জ্ঞান এখনও অসম্পূর্ণ ,সে কী করে এটা বুঝলো ? আপাতত প্রশ্নটি সরিয়ে রেখে এই মূহুর্তে বলতে পারি , শিশুটি আসলে বোতলের ভেতরে প্রথম তিনটি শব্দ শুধু দেখেছিলো, ‘ভাষা’কে পায় নি। বোতল উলটেপাল্টেও সে ‘ভাষা’ খুঁজে পায় নি। তাহলে ‘ভাষা’ গেল কোথায়?
‘জগৎপারাবারের তীরে’, ভিড়ে, একটাই উত্তর যেখানে শ্বাস ও প্রশ্বাস নেই সেখানে ‘ভাষা’ নেই

দুয়ার থেকে সমস্ত কুয়াশা সরে গেলে একটি ভাষা প্রকাশ্য । নাম হয় রোদ্দুর এই ভাষা নিয়ে আমরা বিবাহে যাই বিষণ্ণতা চাই
সেই রোদ্দুরের ভাষা কখনও বাংলার হাটখোলা পাটক্ষেতের ভেতরে বিকেল হয় হয় সময় পেরিয়ে গেলে সব অক্ষর মিলেমিশে যেন এক ঘনসবুজ ছাপাখানা
আবার সেই রোদ্দুরের ভাষা কখন যে তেপান্তরের পাঠশালা থেকে পালানো রংচটা ভূগোল-বই আর কখন যে ইতিহাস পেরিয়ে বাংলার আলপথে অজস্র উড্ডীন পতাকা হয়ে যায় জানিনা
এই পতাকা কখনও কোনও কবির না-দেখা নীলফামারি কখনও রোদ্দুরে এই পতাকার নাম নাম রাখা হয় একুশে ফেব্রুয়ারি