২১ শে ফেব্রুয়ারি / শ্রীচরণেষু মাকে

রাণা রায়চৌধুরী


বাংলা ভাষাই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। মায়ের পেট থেকে পড়েই আমি বাংলাতেই মা বলে ডেকে উঠেছিলাম। মা, আমি চিৎকার করে এই বাংলা অক্ষর উচ্চারণ করি।
রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে, আমি নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলি। মনে মনে বলি, ‘ভালবাসি’। একদিন আবিষ্কার করলাম এই যে, আমি তোমায় ভালবাসি – বাংলা ভাষাতেই সবচেয়ে আন্তরিক এবং মধুর শোনাচ্ছে। আহাঃ ভালবাসা আমার! প্রেম আমার! বাংলা ভাষা না থাকলে এত প্রেম আমার কোথায় থাকত?
যেহেতু দীর্ঘ বছর ধরে আমি গ্রামে, বাংলার গ্রামে গঞ্জে থেকেছি – মাস্টারি করেছি, পড়িয়েছি গ্রামের বাঙালি গরীব-নিম্নবিত্তের সন্তানদের - ফলত, তাদের মেঠো-ধুলোভরা-কাদাভরা সেই বাংলাভাষা আমাকে আকর্ষণ করে, টানে বেশি। “ছার ফাঁকে যাবো” – “ছার মকবুল আমারে মেরতেছে” – “ছার তোমার প্যাট হয়েছে?” – আমি পেটের দিকে তাকিয়ে দেখি আমার বাঙালির ভাত খাওয়া ভুঁড়ি মুখ টিপে হেসতেছে!
আসলে গ্রাম-গঞ্জের বৌরা, কোনো রমণী অন্তঃসত্ত্বা হলে, তারা আড়ালে ফিসফাস করে – “ছাবিরের বৌয়ের প্যাট হয়েছে”! – বালকেরা মায়ের মুখের সেই সংবাদ শোনে। তারা মনে মনে ভাবে পুরুষ-রমণী নির্বিশেষে পেট বড় হলেই, তাদের বুঝি “প্যাট হয়”! আমার ছাত্রগণও ভেবেছে স্যারেরও বুঝি প্যাট হয়! রাকিবুল বললে, ‘ইমরান বলেছে স্যার’! আমি ইমরানকে ডাকি – সে স্বীকার করে যে, সেই বলেছে “স্যারের প্যাট হয়েছে”! আমি মনে মনে হাসি, ভাবি যে আমি পুরুষমানুষ, আমার পেটে কোনো বাঙালি সন্তান ভ্রুণ হয়ে কী করে ঢুকল? আসলে আমার প্যাটভর্তি চর্বিতে ইমরানের ভ্রম হয়। আমি ইমরানের শিশুমনকে ক্ষমা করে দিই।
তো, এই “প্যাট হয়েছে”ই, আমার মাতৃভাষা! এই “প্যাট হয়ছে”ই আমার বাংলার সহজসরল বাংলাভাষা – আমি তাকে প্রণাম করি।
ছোটবেলায় দেখতাম বাবা বাঙাল ভাষায় কথা বলে! “আইজ একটু পিঠা বানাইবা নাকি?” – বাবা মাকে বলছেন। “বাজার থিক্কা কইমাছ আনছি”, “পোলাডা গেল কৈ?” – এই ছিল বাবার মুখের মিষ্টি ভাষা! আমি ভাবতাম এই বিচ্ছিরি ভাষায় আমি কোনোদিন কথা বলব না! এ-ভাষা গরীব, অশিক্ষিতের ভাষা! না বুঝেই এইসব ভাবতাম! বাবার ভাষায় কথা বললে বন্ধুরা “বাঙাল” বলে প্যাঁক দেবে – এই ভয়ে আমি শুদ্ধভাষার দিকে ঝুঁকে পড়ি বালকোচিত সারল্যে। বাবা ফরিদপুরের লোক। বাবার মন যেদিন খুশিতে ডগমগ, সেদিন বাবা আনন্দ প্রকাশ করত বাঙাল ভাষায় – আমার বাবাকে তখন প্রত্যন্ত-অন্তজ গ্রামের মানুষ মনে হত। পরে বড় হয়ে বুঝলাম ব্যাপারটা তা নয়! বাঙাল ভাষায় অনেক বিখ্যাত-বড় মানুষেরাই কথা বলেন। যেমন রবীন্দ্রসংগীত গায়ক দেবব্রত বিশ্বাস বাঙালভাষায় অদ্ভুত মিষ্টি করে কথা বলতেন। তখন বাবার জন্য খারাপ লাগত আমার! ভাবতাম – আমি বাবাকে ভুল বুঝেছিলাম।
এই বাংলাভাষার ভিতরেই কত আরও রঙিন – মিষ্টি বাংলা ভাষা যে লুকিয়ে আছে – যত বড় হয়েছি ততই তা টের পেয়েছি। ওপার বাংলার মানুষের একরকম বাংলা, আর এপারের, আমরা যাঁদের ‘ঘটি’ বলতাম, তাঁদের আরেকরকম ভাষা – অথচ বাংলাই বলছেন তাঁরা। “বাবু পড়তে বয়েচ? বাবু আমি আজ চিংড়ি খেয়েচি, মা তুমি যাচ্চ কোতায়? এই তো বাজার থেকে এলুম গো” – এই হল আমাদের মোহনবাগানীদের ভাষা!
আর বাংলা খিস্তি খেউড়! আমি লেখাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্কুল লেবেলেই ঐসব খুব যত্নে নিমাই বাগদি, নিনি হাঁড়িদের কাছে শিখেছিলাম। গ্রামীণ বাংলা খেউড়-খিস্তি শিখেছিলাম বাঙলা ভাষাকে আরও ভাল করে শিখব বলেই, হা হা হা!
মায়ের স্কুলের চাকরিসূত্রেই আমরা উত্তর ২৪ পরগনার এক ‘ঘটি’ এবং ‘কায়েত’- সমৃদ্ধ, অধ্যুষিত গ্রামের, একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতাম। সে বিশাল বাড়ি, ভুতুরে, অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং ঠান্ডা ভয়ের। সে বাড়িতে বাঙালি ভূত এবং বাঙালি বিষধর সাপও থাকত আমাদের সঙ্গে।
একদিন সেই বাড়ির একটি লম্বা টানা করিডরের দেয়ালে দেয়ালে, নিনি হাঁড়ি তার নতুন শেখা বাংলা ভাষার বিদ্যা জাহির এবং প্রয়োগ করতে, আমের কুঁষি দিয়ে দেয়ালে দেয়ালে লিখে দিয়ে গেল – ‘ঢ্যামনা, বোকাচুদি আর নদী’ । এই তিন শব্দবন্ধ জ্বলজ্বল করতে লাগল ঐ ঠাণ্ডা ভুতের দেয়ালে।
ব্যাস! চারিদিকে রব উঠল দিদিমণির ছেলেই এইসব লিকেচে! বাড়িওলা এদেশিয়! তিনি মা-কে ডেকে বললেন, ‘দেকেচেন দিদি, আপনার ছেলে বিবলক কী সব লিকেচে’? – আমার ভাল নাম বিপ্লব! আমাদের বাড়িওলা মায়ের কাছে আমাকে পুরো লক করে দিয়ে গেলেন! সঙ্গে আমার প্রাইভেট মাস্টারও যোগ দিলেন! – আমি বাংলা ভাষার প্যাঁচে পড়ে গেলাম! মা বললেন, ‘লিখে দেখাও, যে এ তোমার হাতের লেখা নয়?’ আমি যত বলি, ‘আমি লিখিনি, এই লেখা আমার নয়, নিনি এইসব লিখেছে বলছি!’ – কিন্তু কেউ মানতে নারাজ, মা অপমানে কাঁদতে লাগল। আর আমি বারবার ছুটে যাই ঐ ঢ্যামনা, বোকাচুদি আর নদী শব্দগুলোর দিকে – দেখি। মেলাই নিনির চ, নিনির ঢ, নিনির দ, নিনির ব, নিনির ন-র সঙ্গে আমার ঢ, আমার চ, আমার ন, আমার নদীর কোনো মিল আছে কিনা দেখতে?
শেষমেশ নিনির নদীর সঙ্গে আমার নদী মেলে না। আমি রেহাই পাই নিনির ঢ, নিনির ন, নিনির দ, নিনি হাঁড়ির চ-এর বিপদ থেকে; এই হল, আমার ছোটবেলার বাংলা ভাষার বিপদ। এ আমার বাংলা ভাষার আনন্দও বটে!
আমারই বাংলা ভাষা, অথচ আমি তার মানে বুঝি না? আমারই কেলাস থিরির এক ছাত্র যখন আমারে কয় – ‘ও ছার, তোমার বাড় কমনে?’ – আমি বোকার মতন সেই অবোধ বালকের দিকে তাকিয়ে থাকি! আমি তার সরল মুখের মেঘাচ্ছন্ন ভাষার মানে বুঝি না! – কারণ, আমি শহুরে, আমি মেকি, আমি অহংকারী - আমি সেই বালকের বাংলার মানে বুঝি না! সহকর্মী বললেন, ‘আপনার বাড়ি কোথায় জিগ্যেস করছে আকবর!’ – ‘বাড় কমনে’ র মানে ‘বাড়ি কোথায়’? নিজের অজ্ঞতার জন্য আমি লজ্জা পাই।
আমি বলি, ‘সম্রাট আকবর, আমার বাড়ি অনেক দূর, অনেক অনেক দূরে! আমি তোমার থেকে দূরে থাকি বলেই না তোমার ভাষা বুঝি না’? – আমার ছাত্র, ‘সম্রাট আকবর’ সম্বোধনে ঈষৎ কুঞ্চিত হয়, ভ্যাবাচ্যাকা খায়, তার পরনে হাট থেকে কেনা – সস্তার নীল প্যান্ট। প্যান্টের খোলা জানলা দিয়ে তার পোস্টাপিস দেখা যাচ্ছে। আমি তাকে কাছে ডাকি। আদর করি। আসলে আমি এক সরল বাংলা ভাষাকেই কাছে ডেকে ভালবাসি, আদর করি। এই বাংলাভাষাই আমার মা, আমার জীবন। আমি বাংলা ভাষাকেই বলি, ‘মা আজ খিচুড়ি, মা আজ ইলিশ মাছ, মা আজ অবাধ বৃষ্টির দিন’!
বাংলার বাইরে গেলে আমার শ্বাসকষ্ট হয়। দম আটকে আসে। বাংলার বাইরে গেলে, কোনো বাংলাভাষী মানুষকে দেখলেই আমার ভিতরের দরজা জানলা খুলে যায়। আনন্দ হয়। মনে হয় আত্মীয়কে পেলাম নিকটে।
আমাদের জোজো বাংলাই জানে না। কারণ সে চাকরি করবে বলে হিন্দী আর ইংরেজই শুধু শিখেছে। সে শরৎচন্দ্রের নাম শোনেনি, সে জীবনানন্দ দাশের নাম শোনেনি। সে রবীন্দ্রনাথের নাম জানে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ খায় না মাথায় দেয় তা জানেনা আমাদের জোজো। সে এইভাবে কথা বলে, ‘মামা আমাকে পুছো আমি এগরোল খাবো কি না? পুছো না? রবীন্দ্রনাথের গান তার কাছে প্যানপ্যানানি, গায়কের ক্রন্দন শুধু! সে বলে, ‘সুবিনয় রায়, রমা মণ্ডল’? ইয়ে ক্যায়া চিজ?’ সে অবশ্য বাংলা ব্যান্ড ফসিলের গান শোনে, কানে সুতো লাগিয়ে। আমি বুঝি না এই বাঙালি কতদূর যাবে? রূপম ইসলামের গান অব্দি? না কি চাঁদের আলো অব্দি? না কি শ্যামবাজার পাঁচ মাথার ছাড়িয়ে কর্পোরেট-এর কোনো হলুদ জগতে?
আমার জোজোর জন্য কষ্ট হয়। বেচারা, ‘হায় চিল সোনালি ডানার চিল’ -এর মানে বুঝল না! ‘নিজেরই মুদ্রাদোষে আমি হতেছি একা’ এই শব্দবন্ধের মানে বুঝল না। জোজো হানি সিং জানে। জোজো, ‘চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা’ বোঝে না।
জোজো আমার আত্মীয় হয়েও, আমার ভাষার আত্মীয় সে হতে পারল না।
কিন্তু, এই দেশের বাইরের বাংলা ভাষাকে যখন পড়ি? সেও এক আনন্দময় অভিজ্ঞতা!
বাংলাদেশের লেখক শহীদুল জহির আমার প্রিয় লেখক। তাঁর গল্প-উপন্যাসের চরিত্ররা যে বাংলা ভাষায় কথা বলেন – তা পড়ে এবং জেনে আমি তো বাংলা ভাষার দিগন্তবিস্তৃত মিষ্টতা, মধুরতাকে উপলব্ধি করি। আমি গর্বিত হই। শহীদুল জহির বা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বা হাসান আজিজুল হকের চরিত্রদের ভাষাও তো বাংলাই! সে বাংলা ভাষাও আমার আত্মীয়। এইসব লেখকদের লেখা পড়লে আমি বাংলাভাষায় আরও গ্রস্ত হই; একদম ঐ সব চরিত্রদের মত কথা বলতে থাকি বেশ কিছুদিন ধরে।
“ডলি আক্তার পরে ভেবে দেখার চেষ্টা করে যে, প্রথম দিন দুইটা বাচ্চার দিকে সে যখন তাকায় তখন তার মনে হয় একদম কচি আব্দুল ওহাবের পাশে মেয়েটাকে কেমন ডাঙ্গর দেখায়, ঝরঝরে লাগে; কথাটা সে হয়তো আম্বিয়ার মাকে বলে, তার মনে হয় যে, আম্বিয়ার মা তার কথা শুনে কেমন ঘাবড়ায়া যায়, অথবা হয়তো বিষয়টা তার মনের ভুলই ছিল, আম্বিয়ার মা তার কথা শুনে বলে, অ’নে ইন হতা ন কইওন, মাইয়া পোয়াতো ইবা আগে হৈয়ো দে! ডলি আক্তারের মনে হয় যে, আম্বিয়ার মার যুক্তিটা শক্ত না, তার কাছে মেয়েটারই কাটা নাড়ি বেশি শুকন লাগে; ছেলেটার নাড়ি একদম কাঁচা – এরকম কি হয়? তখন ডলি আক্তার বেগম পুনরায় আম্বিয়ার মাকেই বিষয়টা জিগাস করে, আম্বিয়ার মা তার কথা শুনে পুনরায় আকাশ থেকে পড়ে, বলে, ইন গম নঅয় বাবি, অ’নে মাইয়া পোয়া চাইলেনদে আল্লায় অ’নেরে মাইয়া পোয়া দিইয়্যে, অ’নে ইন হতা পুছাললদ্দে কিয়া?” – শহীদুল জহিরের “মুখের দিকে দেখি” উপন্যাসের আম্বিয়ার মা-র এই বাংলা ভাষা – “ ইন গম নঅয় বাবি, অ’নে মাইয়া পোয়া চাইলেনদে আল্লায় অ’নেরে মাইয়া পোয়া দিইয়্যে, অ’নে ইন হতা পুছাললদ্দে কিয়া?” – এই বাক্যবন্ধের মানে কী? আমরা কলকাতার মানুষেরা কী এই বাংলা ভাষার মানে বুঝব? আমি আপ্রাণ বোঝার চেষ্টা করি। আনন্দ পাই, ভাল লাগে, এই বাংলা ভাষাকে জড়িয়ে ধরি আমি, মা বলে!
আমাদের বর্ধমানের বাংলাভাষা, চিটাগাঙের বাংলাভাষা, শান্তিনিকেতনের বাংলাভাষা, উত্তরবঙ্গের দেহাতি বাংলাভাষা, ঢাকা-রাজশাহী-যশোর-ফরিদ পুর-বরিশালের বাংলাভাষা মাটিতে পেতে আমি শুয়ে থাকি, স্বপ্ন দেখি, ভাবি মরণের পর আবার এই পোলা হইয়াই জন্মামু, মাইয়া হইয়াই জম্নামু – এই বাংলা মায়ের কোলে। আমি ঈষৎ আবেগপ্রবণ, কিঞ্চিৎ সেন্টিমেন্টাল হইয়া পড়তেছি হয়ত!
এই ভাষার জন্য আমার ভাইয়েরা, দাদারা প্রাণ দিয়েছে – বাংলাদেশে- শিলচরে।
কিন্তু আমি কী দিলাম বাংলাভাষা তোমাকে? আমি এক ভিতুর ডিম! প্রাণের ভয়ে দৌড়াই। কবিতা আউড়াই। আমি বাংলাভাষা তোমারে কিছুই দেই নাই গো! শেষমেশ আমি এক অক্ষম কবি, কবিতা লিখছি একখান ‘বাংলাভাষা’ তোমাকে নিয়ে! একুশে ফেব্রুয়ারি তোমাকে নিয়ে। -
কবিতার নাম ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।
কবিতাটা এইরকম –
সৌরভ আর ডোনাকে নেমন্তন্ন করেছি আজ।
বলেছি চাউমাউ, বোনলেস, ফ্রায়েডরাইস – এসব
পারব না ভাই – বানাতেই জানি না- তো খাওয়াব
কি! শুক্তনি করেছি ঃ সজনে ডাটা, কাঁচকলা,
বড়ি আর উচ্ছের আনন্দ। সঙ্গে সরু ঝুরঝুরে
রক্তের মত সাদাভাত। আহা, সৌরভ কতদিন
ভাত খায়নি! শুক্তনি খায়নি! আমার পরান কাঁদত;
আজ তাই ডেকে এনেছি – সঙ্গে মাছের মাথা
দিয়ে মুগডাল, বেগুনভাজা, ফুলকপি, আলুপোস্ত,
তারপর থৈ থৈ পুকুরের আনন্দিত মাছ, দই দিয়ে
মুরগি – মুরগি পাতে পড়তেই,
যেন সরলা বালিকাটি কিতকিত খেলছে সাথীদের
সঙ্গে। এরপর নলেন গুড়ের রোদ্দুর।
এরপর ছানাগোল্লা, চাটনি, পাঁপড়।
সৌরভ নতুন ধুতিতে সুতির ব্যাটসম্যান আর
ডোনা শান্ত, তাঁতের ফার্নিচার। ওরা খেতে
বসেছে – আমি ক্ষেত থেকে, পুকুর থেকে,
গোয়ালঘর থেকে তুলে আনছি প্রাণ, ঠাট্টা,
খুশি, অভিমান – ওদের পাতে পাতে মন
প্রাণ হয়ে লাফাচ্ছে। আমার হাতে বাংলার মাকু।
আমি বুনছি – ওরা খাচ্ছে। ওরা সবুজ
হয়ে যাচ্ছে। ওরা রংবেরঙ হয়ে যাচ্ছে। আমি
মাকুতে গল্পগুজব লাগাই, অলসতা লাগাই,
লাগাই হেঁটো ধুতি, লাগাই সান্ধ্যপ্রদীপ, আর
ওরা দু’জন হয়ে যায় শান্তিপুর-ধনেখালি, মুর্শিদাবাদ-ঢাকা,
ওরা হয়ে যায় রূপসীবাংলা, আমার মজা লাগে –
হেবি মজা!
বাংলার পুকুর, মেঠো পথ, আমবাগান, বাঁশ বাগান, তাঁতের শাড়ি, ধনেখালি ফুলিয়ার শাড়ি পরা মেয়ে - এইসবই আমার বাংলাভাষা। কত অনটন, কত দুঃখ, কত বেদনা, তবু এতো সবুজের মাঝে সেই সব দুঃখ বড়ই ম্লান।
বাংলা ভাষায় কবিতা লিখি বলে আমার খুব গর্ব হয়। কি লিখি জানিনা। কিন্তু লিখিতো বাংলায়? এই আমার আনন্দ! এই আমার বেঁচে থাকা!