বাথরুম

সৌপ্তিক চক্রবর্তী

রোমের উপর দিয়ে মৃদু মৃদু জল চলে যাচ্ছে। আমার এই পুরোনো শাওয়ার আর তার নিচে অনিয়মিত মিনিট দশেক। আপনা থেকে এক প্রশান্তিতে চোখের পাতা বন্ধ হয়ে আসে।
না, চোখ বুজলেই অতিকায় এক জলজন্তু সমস্ত আঁশ আঁশ শরীরটা নিয়ে পাক দিয়ে দিয়ে উঠছে। জড়িয়ে নিচ্ছে আমার এই উলঙ্গ শরীর। জল আরো নিচের দিকে নামছে।
এই আমার এক অস্বস্তি, কিছুতেই জলের নিচে চোখ বন্ধ করতে পারিনা। স্নানের সময় কমোড থেকে ওঠাতেও বড় অনিচ্ছা থেকে যায়। আরো কত কী মিথুন হয় জলচারিতায়। এও এক যাপন।
আমার বাথরুমে কোনো বাথটাব নেই। সাবানের ফ্যানা আর বাবল্ বড় ক্রীড়াময় এবং প্রিয়তম।
বাথরুম আর বেডরুমের মাঝে যে অপ্রশস্ত ফাঁক, সেখানে এক শার্শি, যার কিছু নিজস্ব যোগসূত্র থাকে। ডান-বাঁ বোধ এখানেই বিলীয়মান। শার্শি সব জানে তবু চুপ।
কল দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ে। বন্ধ হয়না কিছুতেই। এক টপটপ শব্দ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। আসলে আমার অ্যাটাচড্ বাথ। বিছানা থেকে সোজা বাথরুম।
বিছানার আর্তকাম বাথরুমে মুক্তি পায়। এ এক ঐকান্তিক লাজ ও ক্ষরণ। নিজস্ব ও গোপন। সাদা সাদা মার্বেল ও টাইলস তা জানে। ক্ষরণ বড় প্রাসঙ্গিক। ক্ষরণ বাথরুমেই প্রকট ও এক ক্রিয়া। ক্রীড়াও কি!
এরপর বাল্ব কেটে গেল। এক আধা অন্ধকার, তাতে মার্বেলের সাদা ফুটেছে।
পর্দা সরালে শেষ বিকেলের আলো পড়ে বাথরুমে। তখন আমিও এক সিগারেট ধরাই। ধোঁয়া ধোঁয়া হচ্ছে এই নাতিদীর্ঘ স্নানঘর। এতক্ষণ এই বাংলা প্রতিশব্দ আনা উচিত ছিল। তবু কেন জানি না...............
একজস্ট ফ্যানের দিকে চোখ গেল। এর বাংলা প্রতিশব্দ আমার জানা নেই।
আজ ভুল হয়ে গেছে। স্নানঘরে ঢোকার আগে একজস্ট চালানো হয়নি। এই নীরবতায় এক গোঁ গোঁ শব্দ হতো আর ব্লেডে কাটত ধোঁয়া......