সময়ে বিলীন কিংবা ইতিহাসের খন্ডাংশ

সংহিতা মুখোপাধ্যায়


মাস খানেক আগের কথা। ভারতীয় দুই ভূ-বিজ্ঞানী ডঃ জয়দীপ মুখোপাধ্যায় আর ডঃ গৌতম ঘোষ ছিলেন খবরের শিরোনামে। তাঁরা ওড়িশার কেওনঝাড় শহরের কাদাপাথরের খনিতে দু স্তর পাথরের মধ্যে রয়ে যাওয়া ল্যাটেরাইটে খুঁজে পেয়েছেন এমন যৌগ যার থেকে প্রমাণিত হয় যে তিনশো কোটি বছর আগেও পৃথিবীর বাতাসে অক্সিজেন ছিল। এর আগে অবধি মনে করা হত বাতাসে অক্সিজেনের দেখা মেলে দুশো চল্লিশ কোটি বছর আগে। কিন্তু ডঃ মুখোপাধ্যায় ও ডঃ ঘোষের আবিষ্কার অনুসারে বাতাসে অক্সিজেনের বয়স বেড়ে গেল ষাট কোটি বছর।
সে অক্সিজেন তো তখনও ছিল, এখনও আছে। ‘নেই’ প্রসঙ্গে তার কথায় কেন? কারণ কোনো একসময় অক্সিজেন ছিল না বাতাসে। কিন্তু এখন আছে। অর্থাৎ এটা ‘ছিল কিন্তু নেই’-এর একদম বিপরীত ঘটনা, ‘আছে কিন্তু ছিল না’। এতে মানুষের মনে বিশেষ করে ‘খারাপ লাগা’ ভরে যায় না। বরং ‘আছে’ ভাবলেই বেশ নিশ্চিন্ত লাগে, ভরসা জাগে। কিন্তু ‘নেই’ মনে হলে দুঃখ হয়। আর বিদ্রোহবাজ মানুষ ‘নেই’-কে কেন্দ্র করে অশান্তি ঘনিয়ে তোলার ফিকির করে মিথ্যার জাল বুনে, যাতে অশান্তির রাজত্বের মালিকানা বিদ্রোহবাজের কুক্ষিগত হয়। অথচ একটা সত্যিকে সযত্নে ঢেকে রাখা হয় যে ‘ছিল কিন্তু নেই’-এর মতোই সত্যি ‘আছে কিন্তু ছিল না’। কারণ ‘আছে’ অভাব ঢেকে দেয়, দুঃখ জাগায় না। তাই ‘আছে’ দিয়ে কোনো বিদ্রোহের রাজনীতি করা অসম্ভব। বিদ্রোহের সুবিধে নেওয়ার ছলে আরও বলা হয় না যে ‘ছিল কিন্তু নেই’ এবং ‘আছে কিন্তু ছিল না’ দুটোই প্রাকৃতিক ঘটনা। তার সপক্ষে প্রথম উদাহরণ পরিবেশে বা পৃথিবীর বাতাসে অক্সিজেনের অস্তিত্বের বয়স সংক্রান্ত আলোচনাটি।
ব্যক্তিগত পরিমন্ডলে ‘ছিল কিন্তু নেই এবং ‘আছে কিন্তু ছিল না’ দুটো পরিস্থিতির সঙ্গেই মানুষ মানিয়ে নেয়। নিজেকে বোঝায় ‘চিরকাল কারও বাবা-মাই থাকে না’। আশ্চর্য! প্রত্যেক মানুষের জীবন শুরুর আগে যে দুজন মানুষ না থাকলে মানুষটার জীবনটাই শুরু হতো না কখনও সেই দুজন মানুষের ‘ছিল কিন্তু নেই’ অবস্থাটা মানুষ মেনেই নেয় চুপচাপ, হয়তো নির্বিবাদে নয়, অনিবার্যতার আড়াল দিয়ে। আবার সন্তানের ‘আছে কিন্তু ছিল না’ ব্যাপারটা বাবা-মা যেভাবে যাপণ করেন, ‘ছিল কিন্তু নেই’ অবস্থাটা সেভাবে কিছুতেই যাপণ করতে পারেন না। আবার ব্যক্তি জীবনের এই ক্ষতিগুলো মানুষ, অঙ্গহানির মতোই, মানিয়েও নেয়। অথচ এই থাকা না-থাকাগুলো সবসময়ে বাতাসে অক্সিজেনের উপস্থিতির মতো প্রাকৃতিক ঘটনা নয়। রোগ, শোক, অপঘাত অসময়ে ‘ছিল’ থেকে ‘আর নেই’ করে দিতে পারে।
আবার ‘ছিল কিন্তু নেই’ অবস্থার অনেকটার জন্য দায়ী উপযোগিতা। যেমন গরুর পাচনতন্ত্রের যন্ত্রগুলোর মধ্য অ্যাপেন্ডিক্সটা আছে। গরু যে ঘাস বা কাঁচা গাছ খায় তার কোষ পর্যায়ের সেলুলোজ হজম করতে এখনও যন্ত্রটা ব্যবহার হয়। তাই সেটা বেশ বহাল আছে। কিন্তু মানুষের অ্যাপেন্ডিক্স যন্ত্রটা শুকিয়ে ছোট্টো হয়ে গেছে। সেটা সংক্রমণাক্রান্ত হলে কেটে বাদ দিয়ে দেওয়া হয় অক্লেশে। সেটা না থাকার জন্য কারুর দুঃখ হয় কী? আরেকটা উদাহরণ হলো মানুষের লেজ। লেজ অঙ্গটা মানুষের শরীরে কখনও কাজেই লাগে নি। মনুষ্যেতর থেকে মানুষ হওয়ার সময় লেজের উপযোগিতা ক্রমে এতো কমে গিয়েছিল যে আদিমতম মানুষেররও লেজ নেই, মেরুদন্ডের শেষে লেজের আভাস মাত্র আছে। মনে করা হয় যে দরকার পড়া মাত্র যাতে মানুষের লেজ গজাতে পারে, তার জন্যই ঐ আভাসটুকু রয়ে গেছে। যেমন বাংলা বর্ণমালার ‘৯’-কার। দরকার লাগে না তাই নেই। কিন্তু গল্পকার অচিন্ত্য কুমার সুরাল লিখিত “ঝিনির মনখারাপ” পড়লে মনে হয় যে এই সত্যি কথাটা ‘ইতি গজ’-র মতো করে বলে বড়ো করে দেখানো হলো যে ইংরেজির আগ্রাসনেই ‘৯’-কার গেছে, হয়তো বাকি বাংলা ভাষাটাও যাবে। এই একটা প্রায় ‘ছিল কিন্তু নেই’ বিদ্রোহ/ বিরোধ/ বিপ্লব বানিয়ে তোলার ফিকির। প্রয়োজন-উপযোগিতার স্বাভাবিক প্রাকৃতিক কার্যকারণকে ছাপিয়ে, মানবিক রাজনৈতিক প্রয়াস স্পষ্ট।
জীবজগতের বাইরে, মানুষের জগতের বাইরে তো বটেই, এইসব ‘ছিল কিন্তু নেই’ অবিরাম ঘটে চলেছে, কোনো প্রয়োজন-উপযোগিতার কার্যকারণগত যোগাযোগ ছাড়াই। তাই, সুখের কথা, সে সব ‘ছিল’ থেকে ‘নেই’ হয়ে যাওয়া নেই কোনো রাজনৈতিক বিলাস নেই, তাই ঘরোয়া বৈঠকের চায়ের পেয়ালায় তুফান ওঠে না সে প্রসঙ্গে। শুধু প্রকৃতিবিজ্ঞানীদের বৈঠকে হঠাৎ হঠাৎ তুফান ওঠে শিহরণ খেলে যায় যখন এক অপূর্ব মূহুর্ত সাক্ষী হয়ে যায় কোটি বছরের কোনো আবহমানতার, ঘটে যায় নতুন আবিষ্কার, যেমন অ্যান্ড্রোমিডা কিংবা আলফা সেঞ্চুরি কিংবা টেথিস সাগর।
এই আবহমানতার রসায়নের অন্যতম নবীন উপাদান স্টিমবোট অ্যারাবিয়া। নবীন কারণ কোটি বছরের নিরিখে দু শতক খুব কম সময়। পঁচিশ বছর তো কিছুই না। আজকের যুক্তরাস্ট্রের ক্যানসাস রাজ্যের পুবসীমায় এক ভুট্টা খেতে দীর্ঘদিন ধরে জমির ওপর ফুটে উঠত একটা জাহাজের আদল। ক্যানসাসের পুবসীমা জুড়ে বয়ে চলেছে মিসৌরি নদী। মিসৌরি নদীর অববাহিকায় জমজমাট খেতখামার। সেই এলাকাতেই ভুট্টাখেতের মধ্যে ফুটে উঠত স্টীমবোটের আদল। এরোপ্লেন থেকে আদলটা খুব স্পষ্ট বোঝা যেত ভুট্টার গাছের সারি থাকলেও, কিংবা খেত নিড়ানোর পর আরও স্পষ্টভাবে। আবহাওয়া মানচিত্রের সাহায্যে অবস্থাণ নির্ধারণ করে মেটাল ডিটেক্টরের সাহায্যে খেতের নিচে ডুবে যাওয়া জাহাজের অস্তিত্ব সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল। ১৯৮৭ সালের হেমন্তে খেত নিড়ানোর পর শুরু হয়েছিল মাটির স্তর খুঁড়ে জাহাজ বার করার কাজ। প্রবল শীত, তুষারপাত আর ভূগর্ভস্থ জলের উপস্থিতির সংকটে খরচ দাঁড়িয়ে ছিল যাবতীয় কল্পনার সীমার বাইরে। শুধু পুরোনো খবরের কাগজ থেকে জানা যাচ্ছিল যে মাটির নিচে নিশ্চিত আছে অ্যারাবিয়া, স্টিম ইঞ্জিনে চলা এক জাহাজ যার দুপাশে দুটো বড় চাকা ছিল, যে চাকা ঘুরিয়ে জাহাজ চালানো হত। আরও জানা গিয়েছিল যে জন এস, প্রিঙ্গলের জাহাজ কারখানায় বানানো এই স্টিম বোট ১৮৫৩ সাল থেকে ১৮৫৬ সালে মিসৌরি নদীতে ডুবে যাওয়া পর্যন্ত মাল বইত, মানুষ বইত মিসিসিপি, মিসৌরি এমনকি নর্থ ডাকোটার ইয়েলোস্টোন নদীতে অবধি। ১৮৫৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৫ তারিখেও অ্যারাবিয়া চলছিল উত্তরে। ডোবার আগে শেষবার থেমেছিল সেন্ট লুইতে। সেখান থেকে যাত্রী আর মাল বোঝাই করে, উত্তরের মানুষদের শীতের মাসগুলোর জন্য খাবার আর অন্যান্য সরবরাহ নিয়ে চলার পথে ভাসমান সিকামোর গাছের গুঁড়ি ফুঁড়ে দেয় অ্যারাবিয়ার কাঠামো। একশো তিরিশ জন যাত্রী আর দুশো টন মাল নিয়ে এক মিনিটের মধ্যে ডুবে যায় অ্যারাবিয়া।
‘ছিল কিন্তু নেই’ শুধু অ্যারাবিয়ার গল্প নয়, গল্প মিসৌরি নদীটারও। কেন? কারণ জাহাজটা ডুবে ছিল নদীতে আর পাওয়া গেল তাকে তার শদুয়েক টন মালশুদ্ধু ভুট্টা খেতে। অবাক কান্ড? না। নদী পাড় ভাঙে, তার চলার পথ জুড়ে। ভেঙে পড়ে পাড়ে থাকা গাছ-গাছালি, বাঁধাঘাট, ঘর, খেত, খামার। তাই মিসৌরির পাড় ভাঙার ফলে পাড়ের সিকামোর গাছ ভেঙে পড়েছিল মিসৌরির জলে, আর ভাসতে ভাসতে সেই গাছের গুঁড়ি ক্ষয়ে ক্ষয়ে হয়ে উঠেছিল বিশাল একটা শলাকা কিংবা বর্শার ফলার মতো। সেটা যখন জলের তোড়ের থেকে শক্তি নিয়ে ধাক্কা দিয়েছিল অ্যারাবিয়ার খোলে, তখন অ্যারিবিয়ার খোল ফুঁড়ে দিতে পেরেছিল সেটা।
আবার নদী যেখানে বাধা পায় সেখানে স্রোতের জোরে বাধা পেরোতে না পারলে পথ ঘুরিয়ে জায়গা করে নেয়। তৈরি হয় নদী বাঁক। বাঁকের যেদিকে স্রোত আছড়ে পড়ে সেদিকে চলে নদীর ভাঙনের উচ্ছাস আর তার উল্টোদিকের পাড়ে নদী জমাতে থাকে পলি। এভাবে পলি আর ডুবে যাওয়া জাহাজের মতো ভারি ভারি বড়ো বড়ো জিনিস জমে জমে নদীর গর্ভ এমন ভরাট হয় যে নদী আর সেই বোঝা ঠেলে নিয়ে যেতে পারে না মোহানার দিকে। তখন জল বাড়লে এমন বাণ ডাকে নদী যে ছিটকে নদী সরে যায় অনেক, অনেক দূরে। ১৯৮৭ সালে অ্যারাবিয়াকে পাওয়া গিয়েছে মাটির থেকে পঁয়তাল্লিশ ফুট নিচে, আর মিসৌরির নদীর বর্তমান খাতের থেকে আধ মাইল দূরে। তার মানে ১৮৫৬ সাল থেকে ১৯৮৭ সাল অবধি একশো একত্রিশ বছরে (১৩১) বছরে মিসৌরি নদী উত্তরে আর পুবে সরে গেছে আধমাইলটাক! তার মানে একশো একত্রিশ বছর আগে নদীটা যেখানে ছিল, আর সেখানে নেই।
নেই তো টেথিস সাগরও। সেই যে গন্ডোয়ানা ল্যান্ডখানা ঠেলেঠুলে মিলতে চাইল টেথিস পেরিয়ে অপর পাড়ের আঙ্কারা ল্যান্ডের সাথে, আর হিমালয় পাহাড়টা তৈরি হয়ে গেল টেথিস কি এক্কেবারে উবে গেল? শুকিয়ে গেল? না আজও টেথিস রয়ে গেছে। তাকে আমরা ভূমধ্যসাগর বলি কিনা......
একই ভাবে পৃথিবীর যা অবস্থা, মানে যে ভাবে সব চলছে, সেভাবে চললে প্রশান্ত মহাসগর শুকিয়ে ভূমধ্যসাগর দুই হবে। শাস্ত্র মতে (এই শাস্ত্র পৃথিবীর হাল হকিকত দেখে লেখা, এই শাস্ত্র পৃথিবীর হাল হকিকতে থেকে থেকে হেঁচকি তোলে না ‘গেল, গেল, স-অ-ব গেল’ বলে) ইউরেসিয়া আর আমেরিকা মহাদেশ দুটো জুড়ে যাবে, হয়তো এশিয়ার দিকে হিমালয় পর্বতমালা বহুগুণ তৈরি হবে। এই শাস্ত্রমতেই পূর্ব আফ্রিকার বিস্তীর্ণ শ্রেণীজ মালভূমির কেন্দ্রীয় স্রংস উপত্যকাটি আগামী কয়েক কোটি বছরে হয়তো মহাসাগরের চেহারা নেবে। আর আটলান্টিক মহাসাগর আরও বড়ো হবে আরও ছড়িয়ে যাবে পুবে-পশ্চিমে। তাতে হাইতি ডুবে গেলে সেটা গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর দোষ নাকি পৃথিবীর জঙ্গমতার অংশ হিসেবেই ধরা হবে সে নিয়ে কোনো তর্কই এখনও শুরু হয় নি। কিন্তু এতো সব ‘আছে কিন্তু ছিল না’ ফর্দটি বানানো গেছে অনেক ‘ছিল কিন্তু নেই’ থেকেই। সমুদ্রের গভীরের পাথর খুঁড়ে তুলে এনে দেখা গিয়েছিল যে তাদের মধ্যেকার চুম্বকের নতি কোণ ও চ্যুতি কোণ যেমন হওয়ার কথা তার থেকে একদম আলাদা। নতি কোণ মানে যে কোনো চুম্বককে উল্লম্বতলে তার ভরকেন্দ্রে মুক্তভাবে রেখে দিলে তা অনুভূমিক তলের সঙ্গে যে কোণ উৎপন্ন করে তা। চ্যুতি কোণ হলো কোনো চুম্বককে অনুভূমিক তলে তার ভরকেন্দ্রে মুক্তভাবে রেখে দিলে তার উত্তর মেরু ভৌগোলিক উত্তর মেরুর সাথে যে কোণ উৎপন্ন করে তা। কোনো কোনো পাথরে নিহিত চুম্বকের এই নতি আর চ্যুতি থেকে বোঝা যায় যে ঐসব পাথর সংস্লেষের সময় পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র তার বর্তমান চৌম্বকক্ষেত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল। সন্দেহ ছিল যে লোহা আর টাইটানিয়ামের বিশেষ ধর্মের জন্য তারা এজাতীয় উলটো পুরাণ যেহেতু গাইতেই পারে, তবে কি কোনো কোনো প্রস্তরীভূত লাভায় যে বিপরীত চৌম্বক ধর্ম দেখা যাচ্ছে তা আদপেই পৃথিবীর চুম্বক মেরুর বৈপরীত্যের ইঙ্গিতবাহী নয়? কিন্তু বিভিন্ন বয়সের পাথর গভীর থেকে গভীরতর স্তর থেকে তুলে এনে দেখা গেল যে সমবয়সী সামুদ্রিক আর স্থলজ পাথরের মেরুকরণ একই এবং বিভিন্ন বয়সী পাথরের চৌম্বকত্ব বারবার প্রায় সমপর্যায়ক্রমে দিক বদলেছে সামুদ্রিক আর স্থলজ পাথরে। [সামুদ্রিক পাথর মানে সমুদ্রের জলের নিচের যে জমি, তার গভীরতর অংশ থেকে ড্রিলিং করে তুলে আনা পাথরের স্তম্ভ।] অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর আর দক্ষিণ মেরুই বদলেছে বারবার। তাতে মানুষের কেন, কোনো ধরণের জীবনেরই কোনো ভূমিকা নেই। বিভিন্ন সময়ের পাথরের চুম্বকত্ব থেকে বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীতে যে চুম্বকক্ষেত্রের বিন্যাস ছিল তার ধারণা পাওয়া গিয়েছিল। তার থেকে দেখা গিয়েছিল যে মহাদেশগুলো সতত সঞ্চরণশীল। তার ফলে মহাসাগরও শুকিয়ে যায় কিংবা বড়ো হয়। এই জঙ্গমতা নিতান্ত স্বয়ংক্রিয়।
তাই বার বার পৃথিবী বদলে যাবে। শুধু মানুষের ইতিহাসের অংশ হিসেবে দেখলে এইসব বদলের জন্য ‘ছিল কিন্তু নেই’ বলে আপশোশ করবে কেউ। কেউ হয়তো ভাববে যে কত কী আছে যা আগে ছিলই না। আবার পৃথিবীর বা মহাবিশ্বের বা কালের ইতিহাসে ক্ষণিকের খণ্ডাংশ ভাবলে এই সব বদলই মনে হবে এক একটা ঘটনা যা সময়ের বুকে জেগে আবার সময়ের বুকেই মিলিয়ে গেছে মাত্র।
তথ্যসূত্রঃ
http://www.presiuniv.ac.in/web/oxygenation.php, যেমন পড়া গেছে অক্টোবর ২৮, ২০১৪, সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে প্যাসিফিক স্ট্যান্ডার্ড টাইম
http://rii.ie/currently-active-projects/tcd-current-projects , যেমন পড়া গেছে অক্টোবর ২৮, ২০১৪, সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্যাসিফিক স্ট্যান্ডার্ড টাইম
http://1856.com/the-steamboat-arabia/, যেমন পড়া গেছে অক্টোবর ২৮, ২০১৪, সকাল ১০টা ০৫ মিনিটে প্যাসিফিক স্ট্যান্ডার্ড টাইম
প্লেট টেক্টোনিক্স এন্ড ক্রাস্টাল ইভোল্যুসন, কন্ডি, কেন্ট সি, চতুর্থ সংস্করণ, বাটারওয়ার্থ-হেইনেম্য ন, ১৯৯৭, পৃঃ ১৭-২০, ৩০-৪০, ১২০ – ১৩৫, ২৬২-২৭৪ এবং অন্যান্য।
ঝিনির মনখারাপ, অচিন্ত্য সুরাল, http://www.joydhak.com/joydhak/Article/22/jhini.html, যেমন পড়া গেছে অক্টোবর ২৮, ২০১৪, সকাল ৭টা ১০ মিনিটে প্যাসিফিক স্ট্যান্ডার্ড টাইম
উপসংহারের বিনোদন – স্টিমবোট অ্যারাবিয়ার ছবি। ঠিকানাঃ https://plus.google.com/u/0/photos/111700916413123025968/alb ums/6075310596884617569