হারিয়ে যাওয়া '৯' কার

রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য সান্যাল


সময় বয়ে চলে যায় । নিয়ে যায় জীবনের কর্মক্ষমতা, অনেক সময়ে বোধবুদ্ধি । চলচ্ছক্তিহীন বা হীনা হয়ে কাটাতে হয় বিছানায় ।

“আঠারো বছর বয়স কি দুঃসহ স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি” – কবিতা আছে, কিন্তু আশী বা নব্বই বছর নিয়ে নেই । হয়তো আছে, আমি জানি না ।

এই বয়সে স্পর্ধা থাকে না । অজস্র ভয়, পুরোনো স্মৃতি, আজন্ম পালিত সংস্কার নিয়ে অক্ষম ভাবে বেঁচে থাকতে হয় ।

পদে পদে আশঙ্কা- এই বুঝি পড়ে গিয়ে হাত বা পা ভাঙল ।

বিনিদ্র রজনী কাটে- কখন ভোর হবে । কেউ খেয়ে ভুলে যায় আর আবার খেতে চায়, কেউ বা খায়ই না ।

এক বুক ভর্তি অম্বল আর অসহায় সন্দেহ নিয়ে বলে
ও মনু ! আমার নস্যির ডিবাটারে তোর পোলা চাডা দিছে । দ্যাখ কত্তখানি কইম্যা গেছে ।

ছুটছে সবাই- জীবন আর জীবিকার প্রয়োজনে । সময় নেই- এই সব বৃদ্ধ বা বৃদ্ধার জন্য ।
সে কথা কি এঁদের বোঝানো যায় ?

বাড়ী বাগিয়ে নিয়ে- ঠেলে সরিয়ে দেওয়া হয়, বৃদ্ধাশ্রমে ।

না হলে, মাটিতে পড়ে থাকা এক কণা ভাত তুলে, মুখে দিয়ে বৃদ্ধ বা বৃদ্ধা অতিথির সামনেই বলে বসবে :- ভাতের যে কি কষ্ট, হেয়া তুমি কি বুঝবা ?
সমাজে যে প্রেস্টিজ থাকবে না ।

এই ভাবেই হারিয়ে যায় সব কুব্জ ৯ কার ।
দেশ ভাগ হয়েছে সেই কবে,তবুও কোলকাতার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে টুকরো টুকরো ওপার বাঙলা।

আমাদের মত যারা বয়স্ক, তাদের মধ্যেও যেমন আছে স্মৃতি মেদুরতা, তেমনই যাদের এই পারে জন্ম, জীবনে ওপার বাংলা দেখে নি, তাদের রক্তের মধ্যেও স্রোতের মত সেই পূব বাংলার জোয়ার অব্যাহত ।

এই পূব বাংলার লোকেদের বেশীর ভাগই নিজেদের ভাষায় কথা বলেন । হাজার চেষ্টা করেও কোলকাত্তাইয়া ভাষা আয়ত্ত করতে পারেন নি এখনও । সেই তাগিদও অনুভব করেন না আর ।“মাতৃভাষায়” কথা বলে গর্ব অনুভব করেন তাঁরা।
এপার বাংলায় যে সব কথা “ অশ্লীল” ভেবে প্রকাশ্যে বলা হয় না, সেখানে অনায়াসে সেই শব্দ বাবাক্য বন্ধ ব্যাবহার করেন তাঁরা, একফোঁটা সংকোচ না রেখে। অনর্থক স্নবারি তাঁদের নেই ।

তাই এই সব “ ভাষা”কে বড় নিজের মনে হয়। বুকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করে সেই সব শব্দের,নেই- অবয়বকে ।

এখনও কোলকাতার আশে পাশে কিছু অঞ্চল আছে ( যেমন বেলঘরিয়া এক্সপ্রেস ওয়ের ধারে ),বিশ্বাস না করলেও করতে পারেন- তবে সেখানে এখনও চপ, ফিস ফ্রাই বা চাউমিন জাতীয় ফাস্টফুডের দোকান নেই । কারণ, মুড়ি, চিঁড়ে, কাঁচা মরিচ, নারকেল কোরা দিয়ে সকাল বা বিকেলেরখাবার খান ওনারা । বাড়ীতে অতিথি এলেও একই ব্যবস্থা ।

কোলকাতা সবাইকে জায়গা দিতে পারে নি, বলে অনেকে ভারতের পশ্চিম বা অন্য কোনো প্রান্তেচলে গেলেও, সেখানেও একই ধারা প্রবহমান ।

বাড়ীতে অতিথি এসেছেন পশ্চিম থেকে । রাত্তিরে ঘুমোবেন । চোখে আলো লাগছে । সেইআলোটাও একটা পাঁচ ওয়াটের সিএফএল ল্যাম্প। সেটাও সহ্য হচ্ছে না অতিথির।

বাড়ীর কর্তাকে বললেন:-
- ও মনু !
- কি অইসে?
- চক্ষ দুইডা দুখায়, বাত্তি বুজা! (বাত্তি বুজাদে-র হিন্দী প্রভাব)
- ক্যান! আন্ধারে তো দ্যাখবা না কিসু
- সে আমি বুজুমনে ! বাত্তি বুজা !
কত্তা রেগে নিজের ছেলেকে ডেকে বললেন – ! যা এক কাম কর, এখান কিছু নিয়া, গরুর “ পোন্দে”ধর গিয়া। গোবর আইনগ্যা এক ধ্যাবরা দেয়ালে দে, হ্যার লগে দুইডা যোনাকি...হালায় ৫ওয়াডেও চক্ষু দুহায়( পাঠক, ক্ষমা করবেন, অশ্লীল শব্দের জন্য)
-
ঠাকুমার “ প”কে “ ফ” বলা দেখে নাতি বলল- ওরম কও ক্যান ?
- কি কইলাম ?
- অই, “প” রে “ফ” কইত্যাসো!
- “ফ” রে “ফ” কমু কিয়ার লাই ? আমারে কি ফাগলে ফাইলো ?
-
বাজারে গেছেন কত্তা
জিজ্ঞাসা করলেন মাসীকে:-
- অ মাসী! শশা তোমার তিতা হইবো ?
- কি যে কন!!
- কইত্যাছিলাম, তিতা শশা বাইচ্ছা দাও । বাড়ীত শুক্তানী করুম আর মুড়ির লগেও খাম্ ।করলার যা দাম!

-
কুইর্যাা মরা গরু, মাগ্গো লাড়তে উদয় চাঁদ ! কিছু বুঝলেন ? এটা বরিশালের খাস গালাগাল ।
একদা বরিশাল নিবাসী একজনের বাড়ীতে এই গালাগাল এখনও দেন ৮৭ বছর বয়সের ঠাকুমা ।
কারণ ? নাতিকে জল চেয়েছেন, আর নাতি দিতে দেরী করেছে ।
মানেটা হলো – কুঁড়ে মরা গরু, পেছন নাড়াতে নাড়াতেই আকাশে চাঁদ উঠে যায় ।মানেটা শুনে, সিতু মিঁয়ার কথা মনে পড়ল । তিনি হলে বলতেন :-
ফরাসিরা বলেছিল, ‘এপাতাঁ!’ ‘জর্মনরা, ‘ক্লর্কে!’ ইতালিয়ানরা, ব্রাভো!’ স্প্যানিশরা, ‘দেলিচজো,দেলিচজো।’ আরবরা, ‘ইয়া সালাম, ইয়া সালাম!’

সরস হাস্য রসের বন্যা বয়ে যায়, যখন এই সবের চুটকি শুনবেন । আপাতত নোয়াখালির একটা চুটকী দিচ্ছি ।

একবার এক দোয়ানদার দোয়ানে ওগ্‌গা ছোডো হোলা রাইখলো। একদিন হেতে দোয়ানে হোলারে থুই বারে যাইব, হিয়ারলাই হোলারে কইলো,"কেও কিচ্ছুরলাই আইলে যদি ন থায় অইন্য কিচ্ছু দিবি। যদি তিব্বত সাবান চায়, ন থাইকলে লাক্স সাবান দি দিবি।"
কতক্ষন হরে দোয়ানে এক বেডা আইলো। বেডা কইলো," এরে ছুটকিয়া, লেট্রিনের টিস্যু কাগজ আছেনি?" হোলা কইলো ,"হেই কুম্পানিরগিন নাই গো কাগা, শিরিষ কাগজ আছে, আইজ এগিনদি কাম চালান হরে হেগিন আইলে নিয়েন।"

ওগ্গা = একটা । হোলা = ছেলে । হিয়ার লাই = এজন্য । এবারে বুঝে নিতে পারবেন আশা করি ।

গুরুদেব এসেছেন এক বাড়ী । প্রচুর লোক এসেছেন তাঁর কথা শুনতে । সবাই তাঁকে চেপে ধরল:- আপনার কাছে শাস্ত্রের কথা কিছু শুনবো ।
গুরুদেব রাজী হলেন , তবে সর্ত নোয়াখালির কেউ থাকলে কিছুই বলবেন না ।
বললেন :-“নোয়াখালির কেউ কি আছেন? যদি থাকেন তাইলে এখনই বলেন, পরে নোয়াখাইল্লা পাওয়া গেলে আমি আর শাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করব না।”কেউ দাঁড়ায় না দেখে গুরুদেব শুরু করলেন।
এক পর্যায়ে গুরুদেব বলছেন, “বুঝলেন, শ্রীকৃষ্ণের এমনই লীলা গাছের পাতা মাটিতে পড়লে বিশালবাঘ হয়ে যায় আর জলে পড়লে বিরাট কুমির হয়ে যায়……”
এমন সময় একটি লোক দাঁড়িয়ে বলল, “গুরুদেব আমার একটা প্রশ্ন আছে।”
কী প্রশ্ন? – গুরুদেব বললেন ।
লোকটা বলল, “যদি অর্ধেক পাতা মাটিতে আর অর্ধেক পাতা জলে পড়ে তাহলে কি হবে ?”
গুরুদেব বললেন “আমি আগেই বলেছিলাম নোয়াখালির কেউ থাকলে আমি শাস্ত্রালোচনা করব না”

(এর আরও একটা গল্পান্তর আছে, হজুরকে নিয়ে)

অনেক হারিয়ে যাওয়া ৯ কারের মধ্যে আছে সিনেমা দেখা । আজকাল আর রিল ঘোরে না হলে ।

ভি স্যাট দিয়ে সিনেমা দেখানো হয় ।

আগে একটা সিনেমা রিলিজ হলে, গোটা পাঁচেক সিনেমা হলে এক সঙ্গে দেখানো হতো রিল দিয়ে ।

বড় বড় ক্যানে ভরা থাকতো ফিল্মের পজিটিভ । সাইকেল নিয়ে রেডি থাকত একজন।
এই হলের রিল শেষ হলেই ঐ রিলের ডাব্বা নিয়ে দৌড় মারত, সাইকেল ওয়ালা ।

আমার কথা, এই রিল নিয়ে নয়, সিনেমা দেখার উত্তেজনা নিয়ে ।

এখন অখণ্ড অবসরের জীবন । সংসারে হোল টাইমার । গিন্নির সাথে বিয়ে হয়েছিল তখনকার নিয়ম অনুসারে, বিয়ের পাটিপত্র করে । এদানীর তিনি আমার হাতে সওদাপত্র ধরিয়ে দেন বাজার করার জন্য ।

হাজারটা ভুল হয়, তাও ! কি করবো বলুন ? লজঝড়ে ১৯৪৫ মডেল । গাড়ী টাড়ী হয়ে জন্মালে, কবে কাটাই হয়ে লোহার দোকানে বিক্রি হয়ে যেতাম ! নেহাত, অমানুষ হয়ে জন্মেছি । তাই আর কাটাই না হয়ে কথার জাঁতাকলে পেষাই আর জবাই হই নিত্য ।


তিনি, উপরওয়ালা- আর আমি তেনার আশ্রয়ে থাকি । দুবেলা দুটো গুড- ব্যাড খেতে দেন দয়া করে । তাই, বেঁচে আছি ।


ফাঁকে ফোকরে মনে পড়ে- বাল্য, কৈশোর আর যৌবনের কথা । আর সেই কথা গুলো আমার অপটু হাতে লিখে থুক্কু কিবোর্ড দিয়ে টাইপ করে রাখি । মাঝে মাঝে ভাগ করে নেই আপনাদের সাথে । ৯ কারের খেল আর কি !
আজ একটা ঘটনার কথা বলবো আপনাদের ! বন্ধুটি এখন থাকে, লন্ডন শহরে । তার ফচকেমি এই বয়সেও যায় নি !

সাহেবদের সাথেও ফচকেমি করে ! চাড্ডিখানি কথা ? আমার তো ভাবলেই গা শিউরে ওঠে । এককালের শাসকদের এখনও আমি ভয় পাই রীতি মত । তার ওপর ওই আংরেজী জবান ! ওরে বাপরে !

ও ব্যাটা কিন্তু ফরফর করে ইঞ্জিরি বলে । কথ্য- ককনীও নাকি বলতে পারে । তা, সে যাকগে ! ওর সাহেবদের সাথে সাহসী ফক্কুড়ির গপ্পো না হয় পরে একদিন বলা যাবে ।
আজ বলি আমাদের কৈশোরের কথা । তবে, ঠিক কৈশোর নয় তখন ! যুবকত্বে প্রোমোশন হচ্ছে সবার । মাথায় কিলবিল করে নানা বদমাইশি । বন্ধুটার মাথায় কিলবিল করত এর ইনফিনিটি টাইমস ।
খবর পেলাম, কয়েক ষ্টেশন পরেই একটা শহরে দেবানন্দের একটা নতুন বই রিলিজ হয়েছে । নাম – লাভ ম্যারেজ । নামটা শুনেই নেশা লেগে গেল, আমাদের কয়েকজনের । একে দেবানন্দ তার ওপর লাভ ম্যারেজ ! ভাবা যায় না মাইরি !
আমাদের পাঁচজনের পকেট ঝেড়েঝুড়ে বেরুল, সর্বসাকুল্যে পাঁচটি টাকা । ট্রেনের টিকিট, সিনেমার টিকিট, খাবারের খরচা, বিড়ির দাম সব ফুর্তির পয়সা ওতে কুলোয়ে না !
বন্ধুটি হিসেব করে বলল- ট্রেনের টিকিট যদি না কাটি, তবে বাকী সব কুলিয়ে যাবে। ভয় হল মনে । বন্ধুবর বলল- চল ম্যানেজ করে নেব ! ডরপুক বাঙালি হয়েই রয়ে গেলি তোরা !
সদলবলে রওনা দিলাম ষ্টেশনে । ষ্টেশনে গিয়েই বন্ধুটি একটা ব্যবহৃত পুরোনো টিকিট জোগাড় করে ফেলল । তার পর জলে ভেজা রুমালে সেটিকে জড়িয়ে পকেটে রেখে সঙ্গী হয়ে ট্রেনে চাপল আমাদের সাথে ।
গন্তব্য ষ্টেশনে পৌঁছে, ও আমাদের বলল- তোরা গেট দিয়ে বেরুবি, এক এক করে । চেকার টিকিট চাইলেই পেছনে আমার দিকে দেখিয়ে দিবি ।
সেই নির্দেশ মত বেরিয়ে গেলাম আমরা চারজন । চেকার ওকে ধরল – টিকিটের জন্য ।
তাকিয়ে দেখি, দুটো দেশলাই কাঠি দিয়ে ব্যালেন্স করে ধরে আছে পুরোনো ভেজা টিকিটটা । চেকার টিকিট চাইতেই নাক হাত দিয়ে বন্ধ করে, মুখ কুঁচকে এগিয়ে দিল চেকারের দিকে ।
চেকার বলল- একি ? টিকিটের এই অবস্থা কেন ?
- স্যার ! এটা বাথরুমের জমে থাকা নোংরা জলে পড়ে গেছিল । টিকিট বলে কথা ! ওই নোংরা জল ঘেঁটেই তুলে এনেছি । অবশ্য পরে হাত ধুয়ে নিয়েছি । তাই দেশলাই কাঠি দিয়ে ধরে আপনাকে দিলাম । হাজার হোক, বিনা টিকিটে তো আর ট্রেনে চাপতে পারি না ! ( কাঁদো কাঁদো মুখে )
- যাও যাও, বাইরে বেরিয়ে যাও ! ওই নোংরা টিকিট আর দিতে হবে না ‍!


বেরিয়ে এসে ,প্রত্যেকে দু পয়সা প্লেট ঘুগনি খেয়ে রওনা দিলাম, সিনেমা হলের দিকে ।

শেষ করি সেই হারিয়ে যাওয়া ৯ কারের একটা পুষে রাখা বেদনা দিয়ে ।

ইদানীং একটা এফ. এম. রেডিও কিনেছি । কিনবো কিনবো মন করছিল- কিন্তু সেটা আর হয়ে উঠছিল না !!!

সেলুনে দাড়ী কাটতে গিয়ে মনটা ভারি উদাস হয় গেল একদিন ।
রামাইয়া ওস্তাওইয়া
মৈনে দিল তুঝকো দিয়া

বেজেই যাচ্ছে
অপর্ণাদি কি সুন্দর দেখতে ছিল । বাঘাযতীন কোলোনীর হার্ট থ্রব । মরাল গ্রীবা, পটল চেরা চোখ, ধবধবে ফর্সা !!!
আমরা ক্লাস টেনে পড়ি । অপর্ণাদি তখন প্রেসেডেনসিতে ইংরেজী অনার্স নিয়ে ফাইনাল ইয়ার ।
অপর্ণাদি একদিন একটা চিঠি আমাকে দিয়ে বলল – এই চিঠিটা মন্টুদাকে দিস তো !
আর এই নে চার আনা পয়সা- কোকাকোলা বা যা ইচ্ছে কিনে খাস !!!! খবরদার বিড়ি খাবি না !

হঠাৎ একদিন খবর এলো মন্টুদা এইটবির চাকার তলে !!!!!!
অপর্ণাদির সঙ্গে দেখা হলো, অনেকদিন পর । বাহাত্তর পেরিয়ে গেছে । সটান ঋজু চেহারা !!! আরও আভিজাত্য ময়ী ।
কেন্দ্রীয় সরকারের মোটা মাইনের চাকরী থেকে অবসর নিয়েছেন বহুদিন আগে ।
সঙ্গে এক যুবক !!!!

পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলল – এ আমার ভাইপো !!!!! ইলেকট্রনিকস নিয়ে পড়ছে যাদবপুরে।
সেই যুবকের সঙ্গে কিছুদিন আগে দেখা হয়েছিল । হাউহাউ করে কাঁদছিল নেতাজী ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ।
অপর্ণাদিকে জড়িয়ে ধরে বলেই চলেছে- তোমার জন্যই আমি বিদেশ যেতে পারছি পিসি মণি ।
আমার দিকে তাকিয়ে বলল – মাঝে সাজে ফোন করে পিসির খবর নিও রামদা !!! বিয়েই তো করলো না !

আমাদের মানুষ করেই কাটালো সারাজীবন !!!

আমার এফ এমে গান:-
রামাইয়া ওস্তাওইয়া
মৈনে দিল তুঝকো দিয়া