২টি গল্প

সংহিতা মুখোপাধ্যায়

মুমূর্ষু পশ্চিম শহর

নিভন্ত চিতার ধোঁয়ার মতো এখন ধুঁকে চলেছে কিছু চিমনি ওহায়ো নদী আর তার সমান্তরাল রেললাইনের মাঝে। সারাদিনে গোটা চারেক মালগাড়ি গুমগুমিয়ে যায়।
১৮৬০ থেকে ১৯৬০ চওড়া হয়েছিল রেললাইন বরাবর পূব-পশ্চিম জোড়া রাস্তাটা। তার উত্তর- পশ্চিমের বাড়িগুলোর অর্ধশতক যাবৎ তক্তাঢাকা, কাঁটাতারমোড়া জানলাগুলো খসে পড়েছে রোজ।
শহরটা শুকিয়ে দক্ষিণ-পূবে সরে যাচ্ছে একটু করে।


মুমূর্ষু পূবের শহর

প্রত্যেক বর্ষায় ফুট দু-আড়াই করে ভরে যাচ্ছে জয়ন্তীর খাত। সভ্যতার কঙ্কাল রেলব্রিজটা পাথরে তলিয়ে যেতে দেরি নেই। রেলস্টেশন নেই, কিন্তু রেলক্যান্টনটা এখনও আছে আকাশবানী নিয়ে।
বাঘ নেই; বেড়ানোর বনও বন্ধ হয়ে যাবে। ফাঁকা হয়ে যাবে ফরেস্ট-ভিলেজ, ইকোকমিটি, চালতা-পাকুড়-ওদাল- পিটালি-করঞ্জ-হলুদ- জারুলের বন ওয়ার্কিং প্ল্যানের আওতায়।
ক্ষণপ্লাবী নদী বর্ষার অপেক্ষায়; নিশ্চিহ্ন করে দেবে সমনাম শহরকে।