রুটির দাম

মালিনী ভট্টাচার্য

দম্পতিটি জোর গলায় প্রতিবাদ জানাচ্ছিল। রোজ রোজ তাদের মুখের গ্রাস ছিনিয়ে নিয়ে যাবে - এ কি মামদোবাজি নাকি? কিন্তু দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার ব্যতিক্রমী ঘটনা তো নয়- একটু পরে পাড়া পড়শিরা ভিড় হাল্কা করে সরে পড়েছিলো যার যার মতন। আজও রুটি জুটল না। বাসায় ছানাপোনারা খেতে পাবে না বলে পরস্পরের দিকে একটা হতাশ দৃষ্টি দিয়ে আবার খাবার জোগাড় করতে বেরোয় তারা। শালিখ দুটোকে উড়ে যেতে দেখে নিশ্চিন্তে রুটিটা তারিয়ে তারিয়ে খেতে শুরু করে কাকটা।

ফের দুপুরের দিকে চেঁচামেচি শুনে যারপরনাই বিরক্ত হয় বড়, ভাঙা বাড়ির ফোকরে আশ্রয় নেওয়া বুড়ো প্যাঁচা। মুখ বার করে আধবোজা চোখে দেখে শালিখ মাগীটার পায়ে কিভাবে না জানি একটা লাল সুতোর ফাঁস আটকে গেছে। নিজেরই বাসার ডাল থেকে বেকায়দায় ঝুলছে সে। আর কিছুক্ষণ গেলে মরা গ্যারান্টীড। মদ্দাটাকে দেখা যাচ্ছেনা। অসহায় বাচ্চাগুলো কিচমিচ করছে। মজা দেখতে ভিড় জমিয়েছে পায়রা আর চড়াই কলোনি। জিভে জল চলে আসে। দিব্যি ডাগর বাচ্চাগুলো- বড়টা বিশেষত। কড়মড়িয়ে খেতে যা লাগবে না! উফ! মাগীটা যে কখন মরবে! সন্ধেটা যে কখন নামবে! কোত্থেকে একটা কালো ঝড়ের মতো এসে কাকটা পাখা আর ঠোঁটের সাহায্যে ছিঁড়ে দেয় সুতোটা। হঠাৎই।

শালিখটা সেদিন মৃত্যুর কিনার থেকে ফিরে এসেছিলো। যেমন ফিরেছিলো ফুলওয়া- রিকশাওয়ালা ছেদিলালের বউ। যাকে তখনকার মতো দারিদ্র্য আর ল্যাম্পপোস্টে ঝুলতে থাকা শাড়ির সাঁড়াশি আক্রমণ থেকে ছাড়িয়ে যাকে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করেছিলো বস্তিতে ‘হপ্তা’ আদায়কারী তোলাবাজ ছকু। বনেদী বড়লোক লাহিড়ী বুড়োর লাম্পট্যের মুখে ছাই দিয়ে।