মেজদাদা

নাসরিন


সকাল ৮ টার সময় যদি স্বয়ং ভূতের রাজা এসে বর দিতে চায় আমি বলব , “থাক রাজামশাই !সে সব পরে হোক”। কোনোরকমে মুখে খাবার গুঁজে বেরিয়ে পড়তে হয় ‘ডেলি প্যাসেঞ্জারির’ প্রথম ঘরের নামতায়। এই রকম এক ব্যাস্ততম a.m – এ আমি ছুটছিলাম ওভারব্রিজে । হঠাৎ পিঠে হাতের ছোঁয়া । ঘুরে দেখলাম রিঙ্কি। প্রতিবেশী ছিল। এখন এ শহরে থাকেনা । বলল, “ কি রে কেমন আছিস?

“ভালো”

“ জানিস, আজই এলাম এখানে । তোর নাম্বারটা দিবি”।

“পরে দেখা হলে দেব, আজ খুব তাড়া রে”

“কিন্তু পরে হবে কি করে দেখা?”

আমার সান্তনা .... “ সে হবে ক্ষন”

“ জানিস একটা খারাপ খবর ছিল!সাধুদা গত সপ্তাহে মারা গেছে । রোড অ্যাক্সিডেন্টে”।

হঠাৎ গাটা গুলিয়ে গেল। তাও সামলিয়ে নিলাম । আজ তো ৬টাই ক্লাস আছে “ রিঙ্কি, আমার সত্যিই তাড়া আছে। চলি রে’।

সারাটা পথ গা গোলাচ্ছিল, তবু মন টাকে খুঁজে দেখলাম যে সেটা ব্ল্যাঙ্ক স্লেটের মতই আছে। তবু কি একটা যেন নেই। তবু নিজেকে সামলিয়ে নিলাম।

আমারা ২০১৪ এর ছেলে মেয়ে । আশেপাশের ইঁদুর দৌড়ের সদস্য আমরাও। সারা বছর ব্যাস্ততা , একে অপরকে গুঁতো মেরে, ল্যাং মেরে প্রমোশন – এই তো আমাদের অ্যালকেমি। খবর শোনার ‘মন’ কি আর আছে আমাদের । এক কম্পার্টমেন্ট আমিত্ব আর সাত স্টেশন স্বার্থপরতা ডিঙিয়ে স্কুলে পৌঁছালাম । প্রথম ক্লাসটিই বাংলার । বোর্ডে পাঠ ঘোষনা লিখলাম, “ শ্রীকান্ত”।

“ আমরা তিন ভাই মেজদার কঠোর তত্ত্বাবধানে নিঃশব্দে বিদ্যাভ্যাস করিতেছি ... গম্ভীর প্রকৃতির মেজদা বার দুই এন্ট্রাস ফেল করিবার পর গভীর মনোযোগের সহিত তৃতীয়বারের প্রস্তুত হইতেছেন।তাঁহার প্রচন্ড শাসনে একমুহুর্তে কাহারো সময় নষ্ট করিবার জো ছিলনা”।

পড়তে পড়তে আর পড়াতে পড়াতে গলার কাছটা দলা পাকিয়ে এল। ছাত্রীদের বুঝতে দিলাম না । পরের ক্লাস তিন পিরিয়ডে । মাঝের সময় টা ফাঁকা। স্টাফরুমে গিয়ে ব্যাগে মাথা গুঁজে দিলাম। প্রচন্ড অস্বস্তি হচ্ছে । আর পারলাম না । আমি তো আর সাইবর্গ নই। মাথা নীচু করেই আছি। ঝরঝর করে চোখের জল পড়ছে। ফ্ল্যাশব্যাকের উপগ্রহ আমার দুই চোখ , স্মৃতিও জীবনের অনূসূর অবস্থানে পৌঁছাচ্ছে । ওভারব্রিজে শোনানো রিঙ্কির গল্পের ‘প্রোলোগ’-এ পৌঁছালাম – স্বাধীন গাঙ্গুলী। তাকে সবাই দাদা বলত । নামটা সংক্ষেপে স্বাধু থেকে ক্ষয়ে ক্ষয়ে শেষে ‘সাধু’ – দা হয়ে ওঠে । আমার ছোটকাকু বলত – ‘ এ বাউন্ডুলের সাধু নামটাই চলে। সংসার কি সে তো জন্মে জানলও না। বাপ- এর কথা শোনেই না। মা সেই যবে থেকে গঙ্গাস্নান করতে গিয়ে আর বাড়ী ফিরল না । তবে থেকে ছেলেটা বখে গেল। হাড়-পিত্তি জ্বলে যায়। কোনদিন দেখবি চুরির দায়ে জেল খাটছে’।

পাড়ার বয়ঃজেষ্ঠদের চক্ষুশূল , জিহ্বাশূল অথবা বাক্যশূল হওয়া সত্ত্বেও এই সাধুদা ছিল ছোটদের সবার প্রিয়। এমনকি বড়োদের বিপদ-আপদেও এই আনুমানিক, কাল্পনিক আসামীরই তলব পড়ত।

ছেলেবেলার সেই সব দিনে N.G.O কি বস্তু? সুলভ, সুষম, সমসত্ত্ব দ্রবন নাকি দুর্লভ পরশপাথর তা তো জানতাম না । আজ এই পঁচিশ- ছাব্বিশের ফুলফর্ম জানা অভিজ্ঞতায় বুঝতে পারি যে , যদিদং N.G.O তবঃ, তদিদং ‘সাধুদা’ মমঃ, সাধুদাই ছিল N.G.O- এর ‘সাধু’-নাম। পাড়ার গরীব বাচ্চাদের জন্য কম্বল বিতরণ হোক অথবা কারনে-অকারনে অন্নকূটের আয়োজনই হোক- সাধুদা সবসময় দায়িত্ব নিতে এগিয়ে থাকত।

বছর কুড়ি আগেও আমাদের আশে পাশে , আড়ালে-আবডালে, পাশের বাড়ী- পাশের পাড়ায় মেজদাদা-ইন্দ্রনাথদের মত মানুষরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকত। আর ভরিয়ে রাখত আমাদের জীবন এক ওমে- স্নেহের ওমে, ভালবাসার ওমে, আর আমাদের জীবনও সেই ওমে হাত-পা সেঁকতে সেঁকতে এক নিরাপদ উষ্ণ শীতকালের সন্ধান পেত। এরা ঠিক যেন বসন্তের প্রকৃতি, বর্ষার সজীব সজল বৃষ্টি ধারা অথবা গ্রীষ্মের সবুজ গাছ-গাছালির স্নিগ্ধ ছায়া- এক অদৃশ্য ছাঁকনিতে ছেঁকে জীবনের শুধু ‘শুভ’ গুলো, শুধু ‘মঙ্গল’ গুলো , শুধু ‘পজিটিভ’ গুলোকে আমাদের কাছে পরিবেশন করত।

আমাদের বাঙালীর ‘কালেক্টিভ আনকনসাসে’ দানশীল মানুষের উদাহারণ হিসাবে বিদ্যাসাগর- ভগবতী-দেবী, মাদার টেরেসার বাইরে আমরা কিছু ভাবতে পারিনা । কারন আমাদের কাছে আজকে কারোর জন্য ভালো করা বলতে শুধু ভারচুয়াল নেটওয়ার্কে একটি লাইক=একটি ডলার সহযোগিতা বুঝি।

আমাদের মন সেই সব প্রতিপাদ স্থানে তাই পৌঁছাতে পারেনা।যখন আমাদের পাড়ার দাদারা তার পাড়াতুতো ভাই-বোনদের জীবন ঘিরে রাখত একটা সুরক্ষার লক্ষন গন্ডীতে।

আমার ছোটোবেলাটা মফঃস্বলে কেটেছে।কিন্তু গ্রামের নদীর মত জীবনের সহজ , অনায়াস গতি ছিল। স্কুলে দিদিমনিরা কান মুলে দিলে বা ‘বাঁদর’ ‘গাধা’ বললে মা-বাবারা ছুটে যেত না জনৈক টি.ভি চ্যানেলের দপ্তরে । এই ভাবে কখনো ,কখনো আদরে আমাদের বাড়তে দেওয়া হত। আর এই বকুনি দেওয়ার দায়িত্বে কোনোরকম ফাঁকি দিত না আমাদের ‘সাধুদা’।

একদিন স্কুলের বাস মিস্ করেছি। আমি আর আমার কাকার মেয়ে ,ঠিক করলাম যে আজ হেঁটেই যাব। বেশ একটা ফা-হিয়েন- হিউয়েন সাঙ ভাব এল। গলি-টলি দিয়ে শর্টকাট নিতে নিতে দেখি সাধুদা এক গলিতে একটা ইংরেজী বই মুখে ঢাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে- ‘The Complete Poems of John Keats’ বইটার চারদিকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। আমার দিদি বলে ওঠল, “ সাধুদা! তোমার বই থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে কেন?”

সাধুদা দাঁত খিঁচিয়ে বলে উঠল- ‘ তা চম্পাবতী-১ আর পারুলবতী-২ , মামনিরা স্কুল না গিয়ে গোয়েন্দাগিরি করা হচ্ছে ? দেব একটা গাট্টা’। কোনোরকমে ছুটে পালিয়ে গেলাম । পরে বলেছিল, “ কোনোদিন বাস না পেলে বলবি , সাইকেল করে দিয়ে আসব । তোদের দুই খুদে শয়তানকে"।

এই ভাবে আমরা সাধুদা-র সাধু সঙ্গে বেড়ে উঠছিলাম। আমার এক ছোট্ট খাতা ছিল । স্ক্র‍্যাপবুকের আদলে আমি রঙীন আর্টপেপার দিয়ে বানিয়েছিলাম খাতাটা । আমার আইডিয়াল ‘হিরো-হিরোইন’ দের ছবি ছিটিয়ে রাখতাম সেখানে। তাতে ছিল আমার ‘বড়মামা’, ‘টিনটিন, ফেলুদা,টম ক্রুজ, মাদার টেরেসা, শক্তিমান ইত্যাদি। খাতার শেষ পাতায় একটা ছবি এঁকেছিলাম। .... ‘সাধুদার’ ছবির তলায় লিখেছিলাম ‘Messiah-Man’ .

হ্যাঁ আমার কাছে সাধুদা ছিল একটা রক্তমাংসের মসীহা, পাড়ার কেউ অসুখে-বিসুখেই পড়ুক বা মারা যাক , এই ‘মসীহা ম্যান’ ঝাঁপিয়ে পড়ত সবার আগেই।আজ যখন বাবার পায়ে ব্যান্ডেজ নিয়ে বাড়ী ফিরি আর রিক্সা থেকে নামাতে গেলে বাবা বেকায়দায় পড়ে যায়,তখন খুব ফাঁকা লাগে ভিতরটা।

দশ আর তিনে তেরো আর একে চোদ্দো। সন্ধিপূজোর অকাল বোধন ঘটল আমাদের । এই সময় যা হয় আর কি ? ছয় মাস ফাগুন আর ছয় মাস চৈত্র। বসন্তক্রান্তির দেশ। এই সময় এমন একটা ঘটনা ঘটল যার জেরে আমার বন্ধু রিঙ্কি সাধুদার সাথে কথা বন্ধ করে দিয়েছিল বেশ কয়েকমাস।

আর পাঁচটা ছেলে-মেয়ের মত প্রেমে পড়েছিল রিঙ্কি অথবা ‘ইনফ্যাচুয়েশনের সিচুয়েশন’। ওর চেয়ে বছর পাঁচ ছয়ের বড়।নাম প্রণব । বাংলা শব্দকোষে এই নিউক্লিয়াসেরও মানে খুঁজে বের করল। প্রণব (বিশেষ্য)-সৃষ্টির মূল ধ্বনি- ওঁ। নিজের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু ভেবেছিল প্রণবকে। রোজ সামনের পাড়ার খেলার মাঠে প্রণব খেলতে আসত । আর রিঙ্কিও পৌঁছে যেত খেলার মাঠের সোজাসুজি বাড়ীর ছাদে। প্রানও চাইত , চক্ষুও চাইত, তবু দুস্তর লজ্জা ও থাকত। এই সবের মাঝে একদিন বকাও খেল সাধুদার কাছে । একদিন গলির মোড়ে বলল “ছুটকীমালা!কি সব শুনছি। পড়াশোনা কর। না হলে বাড়ীতে খবর যাবে”। প্যার কি দুশমন ! যত্ত সব।মনে মনে ‘মসীহা’ কে ‘মশালমুখো’ বলে রিঙ্কি চলে গেল।

তা সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এল। ডাক পড়ল রিঙ্কির। একটা আর্চিস কার্ড আর একটা লাল গোলাপ নিয়ে ছুটল সে যমুনা থুড়ি ডোবার ধারে,সন্ধে সাড়ে ছটা। প্রণবও এসেছে শার্ট ইন করে আর ব্লু-ডেনিম জিন্স পরে । হঠাৎ প্রণব এগিয়ে এল। এত কাছে যে , ওর খোলা চুল ওর মুখে ঘোরাফেরা করছে। হঠাৎ ‘ ব্যাটাচ্ছেলে’ বলে চিৎকার। সাধুদা এক ঘুষি মেরে প্রণবকে পাশের ঝোপে ফেলে দিল। আর রিঙ্কিকে বলল ‘যা বাড়ী যা’। জীবনের প্রথম প্রেমের এই রকম পরিণতিতে চোখের জলে-লজ্জায়-অভিমানে একেবারে মাখো মাখো অবস্থা। সাধুদার সাথে মুখোমুখি কথা বন্ধ। আমিও সব শুনে জোর ক্ষেপে গেলাম। সাধুদার ওপর খাতায় আঁকা পাতাটা টেনে ছিঁড়েও ফেললাম। পরে ছয় মাস পরে একটা খবর পাড়ায় দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ল। প্রণবের কীর্তি । পনেরো- ষোলো বছরের মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়েও সে তাকে বিয়ে করেনি। প্রণব চম্পট।খবরটা শুনে নিজের ওপর ও রিঙ্কির ওপর রাগ হল প্রচুর। ছুটে গিয়ে দাদার কাছে বললাম “ ক্ষমা করে দাও আমাদেরকে”

দাদা মাথায় হাত দিয়ে বলল “ পড়াশোনায় মন দে।যা তোরা"

সাধুদা এরকমই ছিল । জিভে কুইনাইনের ছোঁয়া। আর অন্তরে স্নেহের কল্পতরু। নিজে পড়াশোনা কতদূর করেছিল কে জানে। তবে আমাদের পড়াশোনার কজে সব সময় সাহায্য করত। আর কত কত গল্পের বইয়ের ভাঁড়ার ছিল তার বাড়ী। প্রায়ই পেতাম সন্দেশ, কাকাবাবু, গোগোল, ফেমাস ফাইভ সিক্রেট সেভেন, ট্রেজার আইল্যান্ড.........

আজকালকার যুগে সিনিয়র দাদা-দিদিরা, হোমওয়ার্কের খাতা ও এগিয়ে দেয়না, গল্পের বই তো দূরেই থাক।

কিন্তু তখনকার সময়ের সাধুদার মত দাদারা সবসময়ই হাজির থাকত আমাদের সাহায্য করতে । ঠিক যেন , যাদু-প্রদীপ। যখনই দরকার যা কিছুর , প্রদীপ বুঝি আপনা আপনিই জিন কে নিয়ে আসত।

মনে আছে , একবার স্কুল থেকে ‘জুরাসিক পার্ক’ দেখাতে নিয়ে গিয়েছিল শহরেরই এক সিনেমা হলে। আমার এমন ধূম জ্বর যে যেতে পারলাম না । মন খারাপ, মা মশারি টাঙিয়ে বাইরের ঘরে গেছে।সাধুদা এল দেখতে , এসে বলল ‘ জানিস ডাইনোগুলোকে আজ কেউ দেখতেই পেলনা’, বললাম , ‘কেন?’ বলল ‘ জানিস না ? ওরা তো সেই কবে মারা গেছে । কঙ্কালগুলো খালি দেখাবে সিনেমাতে; জানিস না’। সাধুদার এই গুল আমার মনে গুলবাহার নিয়ে এল , ভাবলাম ‘ ইস! জ্বরটা হয়ে ভালোই হল, কঙ্কাল দেখে না বুঝি কত ভয় খেতাম’।

এই ভাবে জুরাসিক পার্ক, টয় স্টোরি ১-২-৩, ফেমাস ফাইভ, পূর্বরাগ, প্রণব সব পিছনে ফেলে এসে আমরা কখন সত্যিকারের বড়ো হয়ে ওঠলাম।প্রবেশ করলাম এমন এক জগতে যেখানে সম্পর্কগুলো জীবন্ত জীবাশ্মের মত শীতল আর নিষ্প্রান। সিনডারেলার জুতোটা যে আমার ছেলেবেলার বলরুমেই ফেলে এসেছি । ঘন কৃষ্ণসম রাত্রি এখন । সম্পর্কগুলো আস্তে আস্তে ‘হারাধনের দশটি ছেলে’ –এর মত একে একে হারিয়ে গেছে । এই উষ্ণতাহীন বিশ্ব উষ্ণায়নের আমরাও অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাশের বাড়ীর বিপদের খবর মেলে ফেসবুকের স্ট্যাটাস আপডেটে। আর আমরাও একটার পর একটা লাইক দিয়ে আশ্বাস জানাই, “ হ্যাঁ, আমরা তোমার পাশে আছি”। দিল্লীর নির্ভয়ার জন্য মোমবাতির এক্সিবিশন করি কিন্তু পাড়ার বোনটির চিৎকার বা আর্তিতে হোম থিয়েটারের শব্দটা আরেকটু বাড়িয়ে দিই ।

এই তো সেদিন ...... দু মাস আগের কথা ..সন্ধ্যার ঠিক আগেই । একদল ছেলে প্রচণ্ড টিজ করছিল । আমিও একগলা অপমান দাঁত চিপে গেলবার পাত্রী নই। “ বাঁদরেরা তোদের বাইকের নাম্বার নোট করেছি । জেলের ঘানি ঘোরাবই’।

একটা ছেলে বাইক থেকে নেমে খুব কাছে এসে বলল , “ খুব সাহস দেখছি খুকু ! পরের দিন অ্যাসিড নিয়ে আসব নাকি ?’

মাথাটা দপ করে জ্বলে উঠল। ঠাটিয়ে একটা চর মারতে ইচ্ছা করল। হাতও উঠতে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে পড়ল খুব কাছের মানুষের একটা কথা “ তোর এই প্রতিবাদী সত্তাটাকে একটু সময় সুযোগ বুঝে ব্যাবহার করিস”।

আশে পাশে তাকালাম। দশ-বারো হাত দূরের চা-এর দোকানে পাড়ার কয়েকটি ছেলে সিগারেট খাচ্ছে, পুরো ব্যাপারটা দেখেও না দেখার ভান করছে।

শয়তানেরা সংখ্যায় বেশী। অপমানটাকে বাধ্য হয়ে গিলে উল্টোদিকের গলিতে ঝটপট ঢুকে পড়লাম। ছেলেগুলোর হাসি আর কথাগুলো তখনো ভেসে আসছে , “ কাল অ্যাসিড নিয়ে আসব ..... দেখি তোর কোন দাদা বাঁচায়?”

সত্যিই তো, দাদা কোথায় ? এক নিমেষে সাধুদার কথা মনে পড়ে গেল। কোথায় তুমি সাধুদা? আজকের এই গ্রহনসর্বস্ব সমাজে তোমাকে খুব দরকার। তোমাদের খুব দরকার। আমরাও কত স্বার্থপর । তোমার খোঁজ রাখিনি। শেষ যেবার শুনেছিলাম তুমি কোথায় একটা চলে গেছ আর কোথাও কোন খবর নেই।আর আজ রিঙ্কি যা বলল....

জানো সাধুদা , আজ এই পোস্ট- মর্ডান যুগে আমরা পোস্ট-মানবিকতায় চলে গেছি। উত্তরাধিকার , মূল্যবোধ, সম্পর্ক, স্নেহ, এসবের ঠাইএখন পোস্ট স্ক্রিপ্টেও নেই। ফিরে এসো সাধুদা...। ফিরে এসো তুমি ... ‘মসীহা- ম্যান’ .....